কর্মজীবি নারী বহুগামী পুরুষের চোখে যেন বিকল্প যৌনকর্মী !

নাদিরা দিলরুবা/ সম্প্রতি নারী নির্যাতনের হার বাংলাদেশে মারাত্মক ভাবে বেড়েছে।ধর্ষণ, খুন,অপহরন,নারী-শিশু পাচার ও যৌতুকের সমস্যায় নারী নির্যাতিত হচ্ছে হরহামেশা।

প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশে কর্মজীবি নারীদের মধ্যে গার্মেনটস শ্রমিকরা বেশী অসহায় । অনেক সময় এসব নারী শ্রমিকদেরকে তাদের সহকর্মী ও র্ঊধতন কর্মকর্তারা প্রলুব্ধ করে বেশী আয়ের পথ দেখিয়ে উত্যক্ত করে,অনেক ক্ষেত্রে ব্লাকমেইল করে ধর্ষণ করে ও অপহরন করে খুনের ঘটনা ও ঘটেছে ।যার অধিকাংশই দৃষ্টিগোচর হয়না, পত্রপত্রিকায় শিরোনাম হয়না। অনেক নির্যাতিত নারী চাকুরি হারানোর ভয়ে, লোকলজ্জা ও সামাজিকভাবে মান সম্মান হারানের ভয়ে ,অনেক ক্ষেত্রে সংসার ভেঙ্গে যাবার ভয়ে স্বামীর কাছে ও যৌন হয়রানীর কথা গোপন রাখে ।

নির্যাতন ও বঞ্চনার রোসানলে পড়ে অনেক নারী এটাকে মেনে নেয় র্দুভাগ্য বলে । অনেক নারী শ্রমিকের চরিত্রের নৈতিক স্খলন ঘটে হয়ে যায় পার্ট টাইম পতিতা ।এরা নিজের অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরবর্তিতে এসব বিপথগামী নারীরা অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে ।কেউ বেছে নেয় মাদক ব্যবসা,কেউ বা প্রতারণা সহ নারী-শিশু পাচার ও দেহ ব্যবসায় ।

এসব নারী শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে শ্রম বঞ্চনার কথা । নারী শ্রমিকদের অধিকাংশ ই প্রায় মন্তব্য করে ,”যত প্ররিশ্রম করিনা কেন যদি কর্মকর্তাদের মন রাখতে পারি তবেই বেতন বাড়বে, প্রমোশন হবে ।”

সুন্দরী নারী শ্রমিকদের বিড়ম্বনা অরো বেশী ।অসাধু কর্মকর্তারা অনেক সময় সুন্দরী নারীকর্মীদের সঙ্গ পেতে প্রচুর টাকা খরচ করতে দ্বিধা করেনা ।এসব কতিপয় গার্মেন্টস কর্মকর্তারা অনেক সময় শোবিজের প্লেবয়কে ও হার মানায় । গার্মেন্টস কর্মীদের মধ্যে যৌন হয়রানি,ধর্ষন, লিভ-টুগেদার সম্পর্ক,বহুবিবাহ,পরকিয়া অধিক হারে লক্ষনীয় ।

এসব নারী শ্রমিকরা সমাজের নিম্ন স্তরের বাসিন্দা হবার কারনে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও কম থাকে ।এদের স্বল্প আয়ের কারনে তাদের কে অনেকটা পথ পায়ে হাটতে হয় ফলে প্রায় ইভটিজিং,অপহরন সহ ধর্ষন,ধর্ষনের পর হত্যা এবং গুপ্ত হত্যার ঘটনা ঘটে ।

অনেক সময় গার্মেন্টস র্কমীরা থানায় গেলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি সহ নানা কটুক্তি ও তাচ্ছিল্য করে। এলাকার অনেক বাড়ীর মালিকগণ এদের কে বাড়ী ভাড়াদিতে চান না অজুহাত হিসেবে জানান, গার্মেন্টসের মেয়েদের বাড়ী ভাড়া দিলে বখাটেদের উৎপাত ও দৌরাত্যসহ অসামাজিক কার্যকলাপ হয়,অনেকে মাদক ও দেহ ব্যবসার জড়িত থাকে বলে ঝামেলা এড়াতে তারা বাড়ী ভাড়া দেননা ।

৮০র দশক থেকে গার্মেন্টস শিল্পে আজ অবধি নারী শ্রমিকরা এভাবেই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে ।

সাধারন পেশা থেকে শুরু করে ভিন্নধর্মী পেশায় ও যৌন হয়রানী বৈষম্যের ঘটনা ঘটছে অহরহ। যেসব পেশাজীবি পুরুষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্ত্রী,বোন,মেয়ে সন্তান পেশাজীবি ,তাদের প্রত্যেকের কর্ত্ব্য নিজ অফিসের নারী শ্রমিকদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া ও সহযোগিতা করা । যার যার অবস্থান থেকে তাদের হয়রানীমূলক সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করা ।নিজ পরিবারের নির্যাতিত নারীর পাশে দাড়ানো ও সহযোগিতা করা।
২০০২ সালে আমি নিজেই ইভিটিজিং এ নিহত সিমির মত বিব্রত পরিস্থিতির স্বীকার হতাম প্রতিনিয়ত। ব্র্যাকে বদলীর চাকুরির কারনে তুরাগে বসবাস করতে লাগলাম । অফিসে যাবার পথে বিভিন্ন অশ্লীল মন্তব্য শোনা যেতো ,অশালীন ইঙ্গিত, বখাটেদের উৎপাত,চরিত্রহীন গ্রাম্য প্রধানদের লোলুপ দৃষ্টি কিছুই বাদ যেতোনা ।
জীবনটা এতই বিষিয়ে উঠেছিলো যে ,মেয়ে হিসেবে জীবনকে অর্থহীন মনে হতো ।

এমন সময় সারা দেশ তোলপাড় করে খবরের শিরোনাম হলো চারুকলার ছাত্রী ও কর্মজীবি নারীর নিরব অথচ প্রতিবাদী ভাষা ,যা তার আত্মহত্যার মধ্যে প্রকাশ করেছে সিমি বানু। তার অপমৃত্যু সমগ্র সুশীল সমাজ ও কর্মজীবি নারীদের মর্মাহত করেছিল । অামাকে অনূপ্রাণিত করেছিলো সিমিদের জন্য কিছু করবার ।

কৈশর থেকে যৌবন অবধি আমরা নারীরা প্রকাশ্যে সর্বত্র হয়রানি ও ইভটিজিং এর শিকার । রাস্তায়,পথে-ঘাটে,মার্কেটে,অফিসে, পাড়া-মহল্লায় সর্বত্র স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে কর্মজীবি নারীদের অশ্রাব্য মন্ত্ব্য শুনতে হয় ।নিহত সিমি, পুলিশ দ্বারা ধর্ষিতা নিহত ইয়াসমিন, কালিগঞ্জে নিহত এসিডদগ্ধ ডেইজি আমার এ লেখার প্রেরনা ।

সাধারনত কিছু ভিন্নধর্মী পেশার কারনে পুরুষ শাষিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গীর কারনে কর্মজীবি নারীদের আরো বেশী বিব্রত পরিস্থিতি ও যৌন হয়রানির শিকার হতে হয় । এসব নারীরা পেশাগত আইনগত জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারনে যথাযথ কতৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করে প্রায়:শ কোন সুবিচার পায়না।পরিবার ও নির্যাতিতার পাশে না দারিয়ে উল্টো দোষারোপ করে । তাই ঐ নারী আরো কোনঠাসা হয়ে পড়ে।

ভিন্নধর্মী পেশার মধ্যে এনজিও,পুলিশ,নার্সিং,আইনজীবি,চিকিৎসক, সংস্কৃতিকর্মী,ব্যাক্তিগত সহকারি, বিমানবালা,খেলাধুলা ও বিমান-নৌ-সেনা বাহিনী,সাংবাদিকতা উল্লেখযোগ্য।এ ধরনের পেশার মধ্যে অনেকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া রয়েছে প্রশাসনিক জটিলতা,তীব্র প্রতিযোগিতা,অভিঞ্জতা সনদ সংক্রান্ত জটিলতা ।

তবু ও নারীরা স্ব স্ব ক্ষেত্রে মেধার স্বাক্ষর রেখে সন্মান ও সুনামে অর্জন করছে । এটা সমগ্র কর্মজীবি নারীর জন্য সুখবর । কিন্তু এ পেশাগুলোতে নারী তাদের অভিঞ্জতাকে কাজে লাগাতে গিয়ে প্রবল প্রতিবন্ধকতার সমুক্ষীন হচ্ছে । ঘরে-বাইরে নারীকে স্বভাবতই বেশী শ্রম দিতে হয় । তাছাড়া ঊর্ধতনের অহেতুক খবরদারি , হয়রানি ,কুঈঙ্গিত সহ ঘটে যৌন হয়রানির ঘটনা ।

এক্ষেত্রে কিছু ঘটনা তুলে ধরা হলো –

১৯৯২সালের ৬ এপ্রিল ঈদের পরদিন স্থান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,সেখানে রোড এক্সিডেন্টে আহত আমার ছোট বোন সামিরার মাথায় অস্ত্রপ্রচার শেষে ওটির পাশের রুমে আনা হয় ।রাত দুইটা।পাশর বেডে অঞ্জাত ছুরিকাহত রোগীর অবস্থা ছিল আশংকাজনক,কর্তব্যরত নার্স এক পর্যায়ে কির্তব্যরত ডাক্তারকে ফোনে কল করে । ডাক্তার তাকে বিরক্ত করতে নিষেধ করে । কতক্ষন পর ফোন টি বেজে উঠলে নার্স ব্যস্ত থাকয় ফোনটি অামি রিসিভ করি ।ফেনে অপর প্রান্তের কথা শুনে শরীর হিম হবার যোগাড় । রোগী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে আর ডাক্তার ঐ মূহুর্তে কুপ্রস্তাব দিচ্ছে নার্সকে । নার্সকে জানালে সে বললো – “এভাবে বিব্রত অবস্থার মধ্যে তাদেরকে অনেক সময় কাজ করতে হয় ।”

নার্সদের মত জুনিয়র নারী ডাক্তারদের ও নারী ইন্জিনিয়ার ও শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবিদের ও ইন্টানশীপ করার সময় বিব্রত ও যৌন হয়রানির মুখোমুখি হতে হয় । কয়েক বছর পূর্বে সাভারের গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরউল্লাহ র বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলে ঐ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক নারী কর্মী।

২০০৪ সালে বরিশালে পুলিশের আইজি প্রিজন সরদার আবুল হোসেন ওএসডি হন নারী কেলেন্কারীর কারনে ।কয়েক বছর আগে নারী কন্সটেবল বিমানবন্দর থানার সাবেক ওসি হেলালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনেন।

খেলাধুলা যাদের পেশা তারা ও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন ।বেশ কয়েক বছর আগে প্রয়াত এথলেট লাভলী বিদেশের মাটিতে ইভেন্ট খেলতে গিয়ে তার সফরকারী টীমের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন । এবার জুনিয়র ফুটবেল দলের মেয়েরা দেশের মুখ উজ্জ্বল করে আন্র্তজাতিক ম্যাচ জিতে লোকােল বাসে করে বাড়ী ফেরার সময় নিজ এলাকার যাত্রীদের দ্বারা ইভটিজিং এর শিকার হয়েছে ।

বিমানবালা পদটি স্পর্শকাতর পদ । অনেক সময় ঊর্ধতনের মন মত না চললে যৌন হয়রনি সহ চোরাই পন্য দিয়ে তাদেরকে ফাসিয়ে দেবার ঘটনা ও ঘটেছে ।

সাংবাদিকতা একটি গুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশা।এ পেশায় ইদানিং নারীদের সরব উপস্থিতি।নারী সাংবাদিকরা এ পেশায় দায়িত্ব পালণকালে বিভিন্ন ক্ষমতাধর ব্যক্তি ও মুষ্টিমেয় রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা হয়রানী হচ্ছে অহরহ । যার জলন্ত উদাহরন হেফাজত ইসলামের কর্মসূচিতে দায়িত্ব পালণের সময় সাংবকি নাদিয়ার উপর হামলা ।কিছুদিন র্পূবে ইউপি নির্বাচনের সময় ৭১ টিভির নারী সাংবাদিকের চুলের মুঠি ধরে মারধোর করে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ।এছাড়া অনেক সময় কিছু নামধারী হলুদ সাংবদিক সাংবাদিকতার নাম দিয়ে অনেক সময় নারীকে যৌন হয়রানির ফাদেঁ ফেলে ।তাই এ পেশায় নারীদের আরো সতর্ক হওয়া জরুরী।

এভাবে কর্মজীবি নারীরা হরহামেশাই কর্মস্থলে বৈষম্য ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। প্রশাসনের কিছু চরিত্রহীন কর্তাব্যাক্তি ও ভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মুষ্টিমেয় কর্মকর্তা- কর্মচারিদের অনৈতিক ও অশালীন আচরনের মাধ্যমে অযাচিত যৌন সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে যৌন ঞয়রানি করে থাকে ।চরিত্রহীন ও বহুগামী পুরুষের চোখে এসব কর্মজীবি নারীরা যেন তাদের বিকল্প যৌনকর্মী ! ধিক্কার জানাই এসব পুরুষ নামক নারকীয় পশুর মানষিক বিকার কে

9,112 total views, 2 views today

Related Posts

Share

Comments

comments

রিপোর্টার সম্পর্কে

%d bloggers like this: