মৎস ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক আপনাকে বলছি, আমি মুসলিম হলেও ভবিষ্যৎ মালাউন হতে চাই

নাদিরা দিলরুবা/ মৎস ও প্রানীসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল আপনাকে বলছি……আমি মুসলিম হলেও ভবিষ্যৎ মালাউন হতে চাই । আপনি নাকি সব হিন্দু নেতাদের মালাউন বলে কুৎসিত গালি দিয়েছেন !

সম্প্রতি আমার পেশার সুবাদে ভারতের কলকাতাতে স্থায়ীভাবে বসবাস করার কখা । আমি তো সেখানে সংখ্যালঘু মুসলিম হবো তবে কি সেখানে ও আমার মুসলিম মাইনোরিটির কারনে আমাকে মুসলিম মালাউন গালি শুনতে হবে কিনা ? এটা ভেবে আমি যারপর নাই শন্কিত । ভারতে বসবাস করে ভারতের নব্য মুসলিম মালাউন হতে চাই । আপনার স্থানীয় অনেক আওয়ামী লীগ নেতারা, যেভাবে হামলা করে নাসিরনগরে গুড়িয়ে দিয়েছে অনেক বাঙ্গালী -বাংলাদেশী অমুসলিম দের ঘরবাড়ী জিনিসপত্র। সেই সাথে যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশ চালান বলে দাবী করেন আপনার এলাকার আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা সেই বঙ্গবন্ধুর ছবিটা ও ভেঙ্গেচুরে গুড়িয়ে দিল নাসিরনগরের আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চড়ে বসা মৌলবাদী সন্ত্রাসী বাহিনী ।

আপনার এলাকার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের এত ক্ষমতা যে সয়ং আপনার নিজ দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর বাবার ছবিটাকে ও রেহাই দেননি । হতবাক হই, ভীষন কষ্ট পাই, যখন দেখি আমার জীবনের সবচেয়ে শ্রদ্ধাশীল মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর ছবিটি যখন তার নিজ দলের লোক দ্বারা ভেঙ্গেচুরে সংখ্যালঘু র্নিযাতিত মানুষের কাতারে পড়ে বঙ্গবন্ধু নিজেই সংখ্যালঘুদের র্নিযাতনে সামিল হয়ে যায় । তবে বঙ্গবন্ধু ও কি সংখ্যালঘু ?

এ থেকে বোঝা যায় অমুসলিম সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারে কতটা নির্মম ছিলেন আপনার এলাকার কিছু মানুষ রুপি পশু । আপনার নেতারা অতিধার্মিক হিসেবে আল্রাহেকে বলতে ও অনুরোধ করতে পারতেন – যেন পৃথিবীতে আল্লাহ কোন অমুসলিম নারীর গর্ভে কোন সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা না দেন । তারা যদি পারেন পৃথিবীতে অমুসলিমদের জন্মগ্রহন ঠেকান – দেখি কার ক্ষমতা বেশী – সেই ধর্মান্ধদের না আল্লাহর ? নিশ্চয়ই আ্ল্লাহর !

পবিত্র কোরআন এ সয়ং আল্লাহ বলেছেন -” আমি পৃথিবীতে তোমাদের বিভিন্ন জাতিতে গোত্রে ভাগ করে পাঠিয়েছি , যাতে তোমরা পরস্পরকে বুঝতে ও জানতে পারো ” আল্লাহ তো কোরআনের কোথাও বলে নাই অমুসলিম হলে তাকে হত্যা করো ।

সে ক্ষমতা কে আপনার নাসিরনগরের নেতাদের দিলো, উস্কানী দিয়ে বাংলাদেশ থেকে অমুসলিমদের হামলা করে বিতারিত করার ? আমরা মুসলিম রা বলি পৃথিবীর সবকিছু আল্লাহর সৃষ্টি । তবে তো নিশ্চয়ই সব মুসলিম -অমুসলিম সব মানুষ ও আল্লাহর সৃষ্টি ।
কোরআনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে “ যে বিনা কারনে কোন নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করলো সে সমগ্র জাতিকে হত্যা করলো ।”এখানে তো আল্লাহ বলে নাই অমুসলিম না মুসলিম , তিনি বলেছেন “মানুষ” । আল্লাহ যেখানে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেননি, সেখানে কারা বিভেদের দেয়াল তুলে মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িকার বিষবাস্প ছড়ানোর ?

আমরা এদেশের আপামর নাগরিকরা জানতে চাই -পুরো বাংলাদেশটা কি আপনার অনুগত নাসিরনগরের এসব বহিস্কৃত নেতাদের আওয়ামী লীগ নেতাদের বাবার একছত্র পৈত্রিক সম্পদ যে, তাদের অত্যাচারে সব অমুসলিমদের এ দেশ থেকে প্রাণ ভয়ে চলে যেতে হবে ? যদি আপনার নেতাদের কোন বিশাল কোন ক্ষমতা থাকে সে ক্ষমতা টা আল্লাহর সাথে দেখান – দয়া করে অসহায় সংখ্যালঘু মানুষদের সাথে দেখাবেন না । অবাক হই প্রাণী সম্পদমন্ত্রী হিসেবে আপনার অসৌজন্যতা ও দাম্ভিকতা দেখে ।

আপনাকে কি আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রানীসম্পদমন্ত্রী বানিয়েছেন -প্রানীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মনুষ্যপ্রাণ ধংস করার উস্কানী দেবার জন্য, নাকি অযুত প্রাণ ও প্রাণীর ন্যায্য অধিকার সংরক্ষনের জন্য । কি সাংঘাতিক ভয়ন্কর ভূমিকায় ছিলেনে আপনার অনুগত সাবেক ইউএনও চৌধুরী মোয়াজ্জেম ও স্থানীয় প্রশাসন !

যে বাংলাদেশের মন্ত্রী আপনি / সে বাংলাদেশের ৭১ এর মুৃক্তিযুদ্ধে অসংখ্য লক্ষ লক্ষ মালাউনের জীবনের বলিদানে ও অগনিত ধর্ষিতা বীরঙ্গনা নারী মালাউনের সম্ভ্রম হারিয়ে পাওয়া বাংলাদেশ। বিশ্বাস না হলে একবারের জন্য প্রামান্য ও সচিত্র দলিল দেখে আসবেন ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদৃঘরে ।

আপনার দাবীমতে, তো আপনি সাচ্চা মুসলিম । সে হিসেবে তো আপনার ভাবা উচিৎ ছিল – যে দেশটা এত মালাউনের রক্তের বিনিময়ে সেদেশের মন্ত্রী আপনি । কারন যে মন্ত্রী সে তো সারা বাংলাদেশের জনগনের কোন সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘুর মন্ত্রী নয় । অথচ মন্ত্রী ছায়েদুল হক আপনি নিজেকে একজন সাম্প্রদায়িক ব্যাক্তি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন যা সংবিধান বিরোধী । তাই অবিলম্বে আপনার প্রত্যাহার চায় আপামর জনগন । আপনাদের দলের কোন রাজনৈতিক নেতাদের ইন্ধন ছাড়া নাসিরনগরে হিন্দুদের উপর এত বড় তান্ডব কখোনো সম্ভব নয় ।

কিন্তু মন্ত্রী হয়ে তো আপনি সব অমুসলিম বাঙ্গালী শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ও তাদের উত্তরসূরীদের মালাউন বলে গালি দিয়ে তাদের মুক্তিযুদ্ধের সব গৌরবকে ম্লান করলেন । আপনার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কে তো এসব মালাউনরা সব সময় বিপুল সমর্থন ও ভোট দেয় সে কারনে বিরোধি দল দ্বারা নির্যািতত হয় অহরহ তবু এসব অমুসলিম সংখ্যালঘুরা আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধূকে অকৃত্তিম ভালবাসে । অথচ রাজনৈতিক নোংরা খেলায় ফেসেঁ গেলো বেচারা জেলে রসরাজ ।

তবে আপনারা বর্তমান অনেক নেতাই কি মনে মনে সাম্প্রদায়িক জামায়াতি বাহিরের খোলসে আওয়ামী লেবাসের ? আমার দেশের অসহায় অমুসলিম মানুষদের তথা ”মালাউন “ দের উপর হামলাকারী পিচাশরুপি মুসলিমদের জাতি ভাই পরিচয় দিতে ঘৃনা ও লজ্জাবোধ করি ।

অন্যের মতের প্রতি আমার শ্রদ্ধা চিরকালের । কিন্তু সেই মত যদি মানবতার বিরুদ্ধে হয় ,মানবাধিকারের বিপক্ষে দাড়ায় তবে তার প্রতি নূন্যতম সম্মান দেখানোর প্রয়োজন নেই আমার । আমি আজ সাংবাদিক হিসেবে যে অবস্থানে তার পেছনে আমার স্কুলের প্রিয় হিন্দু শিক্ষক শ্যামা প্রসাদ সরকার,বিজন বাবু, মলয় চন্দ্র স্যারের অবদান অনস্বীকার্য । আমার প্রিয় সহপাঠি বন্ধু মনোরঞ্জন ,মনে আছে সে ১৯৯৩ সালে হিন্দু হয়ে ও এসএসসিতে ইসলাম ধর্ম বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছে এরা আমার অমুসলিম আত্মিক স্বজন ।

আমি তুরাগে দীর্ঘ ১৬ বছর যাবৎ বসবাস করছি । তুরাগের প্রায় হিন্দুদের কাছের মানুষ আমি । গতবার তুরাগ থানার তুরাগ নদী সংলগ্ন ঋষিপাড়ার মন্দিরে হামলার আশন্কায় আমি দুদিন সেখানে ছিলাম । আমার প্রতিদিনের অভ্যাস ঘুম থেকে উঠে নামাজের পর কোরআনের বাংলা অনুবাদ পড়া ।

ঋষিপাড়ার বৃদ্ধা কেষ্টা দাসি বললো -তুমি মন্দিরে বসে কোরাান পড়ো । মন্দিরে বসেই কোরআন পাঠ করলাম । নামাজ পড়লাম যমুনা দাসির ঘরে । ৭/৮ বছর আগে বিশ্ব এস্তেমার সময় তুরাগ নদীতে কোরআন শরীফ ভেসে যাচ্ছিলো তখন ঋষিপাড়ার প্রেমকুমার নদী সাঁতরে কোরআন শরিফ উদ্ধার করে রোদে শুকিয়ে যত্ন করে ঘর থেকে পুজার ছবি সরিয়ে চালের উপর রেখে ছিলো পরে তা আমাকে দেয়। সেই কোরআন শরীফ এখোনো যত্ন করে রেখে দিয়েছি ।

সময় পেলে তুরাগের ঋষিপাড়া দেখে যাবেন ,গত তিনবছর আগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন এসেছিলেন এ মন্দিরে । সত্যিকারের হিন্দু- মুসলিম সম্প্রীতি কাকে বলে ! আজ সকালে ঋষিপাড়ার মেয়ে অঞ্জলী এসব ঘটনা শুনে ভয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফি দিতে একা যেতে না চাওয়ায় ওর সাথে গেলাম । ভয় দেখিয়ে , অত্যাচার করে কখোনো কোনো ধর্মের মানুষকে জয় করা যায়না । জয় করতে হলে মমতা , বিনয় ও সহমর্মিতা দরকার । আর সেসব কি আছে আপনার এসব বহিস্কৃত নেতাদের কাছে ? এক নাসিরনগর এর তান্ডব সারা দেশের হিন্দুদের সামগ্রীক অসহায় অবস্থার করুন চিত্র তুলে ধরেছে ।

সৎবাবা বলতেন বাংলাদেশের বর্তমান অনেক প্রভাবশালী মুসলিম হিন্দুদের সম্পত্তি ও টাকা পয়সা লুট করে বর্তমানে ধনী । মৃত্যুর পূর্বে আদেশ করেছেন ধর্ম থেকে মনুষ্যত্বকে প্রাধান্য দিতে । ৯০ সালে ভারতের বাবরি মসজিদ ভাঙ্গাকে ইস্যু করে এদেশের হিন্দুদের র্নিযাতনের প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী আমি ।

আমাদের পটুয়াখালির গলাচিপা থানার ছোট্র গ্রাম লাবনা । সে গ্রামের এক সময়ের প্রতাপশালী হিন্দুধর্মাবল্বী শান্তি মাতবর প্রতিবেশী মোল্লাবাড়ীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে ভয়ে তার ছেলে সমীর কে আমাদের ঢাকার বাসায় পাঠিয়ে দেন । সমীরদা আমাদের বাসায় পুজা করেছেন এবং আমরা নামাজ পড়েছি এক বাড়ির ছাঁদের নিচে । এটা স্বীকার করতে কো অস্বস্তি নেই আমাদের । দাদার পুজোর জন্য আমি তুলসি গাছ লাগিয়েলাম । পাড়ার কিছু উৎশৃঙ্খল ছেলেরা কেন হিন্দু ছেলে বাসায় জায়গা দিলাম এ পশ্ন করার সাথে সাথে আমি দা নিয়ে তাদের পিছু নিয়ে পুরো পাড়াতে দৌড়েছিলাম । পরে তারা বাবার কাছে মাফ চায় ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ক্ষমতায় আসীন হবার পর অনেক অমুসলিম বরেন্য ব্যাক্তিকে প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ন পদ দিয়েছেন । আমরা একজন সাহসী সংখ্যালঘুকে পেয়েছি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে । আমাদের উত্তরা বিভাগে উপ পুলিশ কমিশনার উপজাতীয় অমুসলিম বিধান ত্রিপুরাকে পেয়েছি সজ্জন ব্যাক্তি হিসেবে । অনেক অমুসলিম জেলা প্রশাসক পেয়েছি , অনেক র্উধ্বতন অমুসলিম পুলিশ কর্মকর্তাকে পেয়েছি ,তার মন্ত্রী সভা ও দলীয় কাউন্সিলে অনেক অমুসলিমকে তিনি গুরুত্বপূর্ন পদ দিয়েছেন যা এদেশের সরকার ও রাজনীতিতে বিরল । কারন প্রধানমন্ত্রীর আগে তা কোন রাজনৈতিক দল করেননি ।

বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের গুরুত্বপূর্ন স্বাক্ষী ছিলেন এই ৭১ এ নির্যাতিত অমুসলিম ও তাদের স্বজনরা । অথচ সেই আওয়ামী লীগ দলের মন্ত্রী ছায়েদুল হক আপনার ও নাসিরনগর ইউএনও চৌধুরী মোয়জ্জেম যখন সমাবেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে উগ্র বক্তব্য দেন তখন আপনার এলাকার আওয়ামী লীগ নেতারা এসব অমুসলিম সংখ্যালঘুদের উপর সাম্প্রদায়িক উস্কানী ছড়িয়ে তার লোকজন দিয়ে নির্বিচারে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দির ভাংচুর করে আগুন লাগিয়ে দেন, তখন দলের বিব্রত না হয়ে উপায় থাকেনা ।

আপনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে দম্ভ সহকারে বলেছেনে ‘‘নাসিরনগরের প্রেসক্লাব আগে ২৪ ঘন্টা বন্ধ থাকত, হিন্দুদের উপর হামলার পর এখন তা ২৪ ঘন্টা খোলা। এসব সাংবাদিকদের নাসিরনগরে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা ও অর্থায়ন করে কে?’’

আওয়ামী লীগে যে অনেক মুখোশধারী মৌলবাদী দুর্বিত্ত ভরে গেছে তা সহজেই দৃশ্যমান তাই দলের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদের তার নেতাদের বলেছেন -”এসব আগাছা পরিস্কার করতে হবে । হামলার মূল খলনায়কদের জনগনের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং দোষীরা পার পাবেনা ।”

আমরা কি জাতীয় স্বার্থে, মানবতার স্বার্থে দলের ঊর্ধ্বে উঠে এসব নির্যাতিত অমুসলিম স্বজনদের পাশে দাড়াতে পারিনা , আমরা কখোনো আওয়ামী লীগ হই কখোনো বিএনপি হই ,কখোনো বা ধর্মের লেবাসে মৌলবাদী অসভ্য বর্বর জামায়াত হই ! কিন্তু মানুষ হতে পারি না কখোনো কারন সব ছাপিয়ে মুসলিম – অমুসলিম সবাই আমরা মানুষ এ পরিচয়টি আমরা প্রায় ভূলতে বসেছি।

আমাদের দেশের সংখ্যালঘুরা আমাদের প্রতিবেশী-স্বজন । সংবিধানে আমরা মুসলিম – অমুসলিম সবাই যার যার ধর্ম পালনে স্বাধীন । তবে কেন ধর্মের নামে এই বিভৎসতা । ভয়ন্কর এক সমাজে বাস করছি আমরা । এ সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প থেকে বেড়িয়ে আসাটা আমাদের সামনে বড় চ্যালেন্জ এখন । রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা,আইনি কাঠামো সব কিছুর ভেতর যে মৌলবাদের প্রেতাত্মা ঢুকেছে তা শক্ত হাতে নির্মূল করতে হবে । দোষীে নরপশুদের বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিয়ে উদাহরন সৃষ্টি করতে হবে যাতে এমন নোংরা কুৎসিত হামলা করার সাহস ভবিষতে আর কেউ না পায় ।

সরকারের নির্দেশে উচ্চ পর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিশেষ গোপন প্রতিবেদন দিয়েছে সরকারকে । সেখানে নাসির নগর সাবেক ইউএনও চৌধুরী মোয়জ্জেম সহ স্থানীয় প্রশাসন বিরুদ্ধে গাফিলতি সহ এলাকার কিছু আওয়ামী লীগ নেতারা এসব অমুসলিম সংখ্যালঘুদের উপর সাম্প্রদায়িক উস্কানী ছড়িয়ে তার লোকজন দিয়ে নির্বিচারে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দির ভাংচুর করে আগুন লাগানো সহ বিভিন্ন অপকর্ম করেছে বলে গোপন সূত্রে জানা যায় ।

এ রিপোর্টের ভিত্তিতে নাকি নাসিরনগর সদর থানার ওসি এবং নাসিরনগর ইউএনও চৌধুরী মোয়জ্জেমকে বদলী করা হয় । সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও নাসিরনগর আওয়ামী লীগ সহ সম্পাদক আবুল হোসেন ,হরিপুর ইউপি আওয়ামী লীগ সভাপতি ফারুক আহমেদ ও চাপৈরতলা ইউপি আওয়ামী লীগ সভািপতি সুরুজ আলীকে দল থেকে বহিস্কার করা হয় ।

নিরীহ সংখ্যালঘু জেলে রসরাজের পক্ষে মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে সুপ্রীম র্কোট আইনজীবি সমিতি যে আইনী সহায়তা দেবার উদ্যোগ নিয়েছেন তা প্রশংসনীয় ।এ হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া জরুরী ।

লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে অঞ্জতার সঙ্গে ঞ্জানের , ধর্মান্ধতার সঙ্গে মুক্ত চিন্তার,মত প্রকাশের স্বাধীনতার সাথে প্রতিক্রিয়াশিলতার, অসভ্যতার বিরুদ্ধে সভ্যতার । রুখে দিতে হবে ধর্মের লেবাশে এসব কুচক্রির হাত। নইলে এদের নগ্ন থাবা থেকে কারো পরিত্রান নেই । কারন দুর্বিত্তের কোন ধর্ম নেই, একেক দেশে তার অভিন্ন চেহারা ,বাংলাদেশে হিন্দু খ্রিষ্টানরা সংখ্যালঘু আবার ভারতে ও আমেরিকাতে মুসলিমরা সংখ্যালঘু অর্থাৎ শুধু অসভ্য ধর্ম ব্যবসায়ীরা নিজ স্বার্থে খোলস পাল্টায় ।

19,315 total views, 2 views today

Related Posts

Share

Comments

comments

রিপোর্টার সম্পর্কে

%d bloggers like this: