প্রকাশিত : Wed, Mar 8th, 2017

মাদকাসক্ত-ফেসবুক : ধ্বংসের  দিকে উঠতি বয়সের তরুন সমাজ

46_322

 

ফেরেদৌস ওয়াহিদ: মানুষের সংঘবদ্ধভাবে একসাথে জীবন যাপন করাই হলো সমাজ। সমাজে মানুষ একে অপরের দেখে শিখবে, জানবে, অনুকরন করবে, আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কে, সমাজের কার্যাবলী সম্পর্কে জানবে এটাইতো স্বাভাবিক। যাইহোক আর সমাজের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট না দিয়ে বর্তমান সমাজ থেকে আমরা কি পাচ্ছি সেটা সম্পর্কে একটু ধারনা নেওয়া যাক। সমাজে যারা উঠতি বয়সী তরুন/তরুনী যুব  সমাজ এরাই তো আগামী দিনের নেতৃত্ব দিবে। আর এই তরুন/তরুনী তাদের উঠতি বয়সে সমাজ থেকে যা পাবে অর্থ্যৎ সমাজে বসবাসকারী মানুষের কাছ থেকে যা দেখবে, জানবে, শিখবে সেটাই সে ভবিষ্যত জীবনে তার বাস্তবায়ন ঘটাবে। আমাদের সমাজ ব্যবস্থার অন্যতম  খারাপ অভ্যাস হলো প্রকাশ্য ধুমপান। রাস্তাঘাটে, বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে, এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও বর্তমানে প্রকাশ্য ধুমপপান চলছে। গত কয়েকদিন আগে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেলাম সেখানে যেয়ে দেখি শিক্ষক ও ছাত্ররা একসাথে ধুমপান করছে সেই সাথে ক্লাস চলাকালীন অবস্থায় শ্রেণি শিক্ষকের পাঠদানের প্রতি মনোযোগী না হয়ে শিক্ষার্থীরা ফেসবুকের দিকে মনোযোগী হয়ে পড়াশোনার আগ্রহটা হারাচ্ছে। এই ফেইসবুক নামক নেশাটা  বর্তমানে তরুন উঠতি বয়সী যুব সমাজ ও বিভিন্ন বয়সের মানুষেরা মাঠে, ঘাটে, চলার পথে বিভিন্ন যানবাহনে  অফিস আদালতে যেখানেই যখনি একটু সুযোগ পাচ্ছেন তখনই ফেইসবুক নামক সামাজিক নেশাই ঢুকে আসক্ত হয়ে তাদের জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে। শিক্ষার্থীরা তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে টাকা নিয়ে সামাজিক নেশা ফেসবুকের প্রতি আসক্ত হচ্ছে সেইসাথে এই যুবসমাজকে এতটাই ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাচ্ছে যে, যারা মানুষ তৈরির কারিগর (শিক্ষক) যারা সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তনে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তারাই যদি প্রকাশ্য ছাত্রদের সাথে নিয়ে ধুমপান করে তাহলে ঐসব ছোট তরুন বয়সী ছাত্ররা কি শিখছে আর ভবিষ্যতে তাদের দ্বারা সমাজ কী পেতে পারে? এই বিষয়টি সম্পর্কে তরুন ধুমপায়ী ছাত্রদেরকে জিজ্ঞেস করা হলে তোমরা ধুমপান করছ কেন? তখন ছাত্ররা বলে যে, স্যার আমাদেরকে প্রায়ই দিনই বাজার থেকে সিগারেট কিনে নিয়ে আসতে বলে  এবং স্যার আমাদের সামনেই সিগারেট খায় । তাই আমাদেরও সাহস হয়ে গিয়েছে তাই আমরাও ধুমপান করি। ধুমপায়ী ঐ শিক্ষকের সাথে কথা বলতে গেলে মুচকি হেসে চলে যায়। স্কুল/কলেজের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ছাত্ররা জমাচ্ছে ধুমপানের আসর। ধুমপানে পিছিয়ে নেই কলেজের মেয়েরাও। তারাও তাদের ছেলে বন্ধুদের সাথে ধুমপানের আসর জমাচ্ছে। এরা শুধুমাত্র ধুমপানের মধ্য সীমাবদ্ধ নেয় বরং ফেনসিডিল, ইয়াবা সহ বিভিন্ন প্রকার নেশা দ্রব্য সেবন করে মাদকশক্ত হয়ে পড়ছে। আর এই নেশা দ্রব্য সেবনের জন্য অর্থের যোগান দিতে তারা সমাজের বিভিন্ন প্রকার অপরাধ কর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ছে। এক চায়ের দোকানে বসে জানা গেল বর্তমানে পূর্ণবয়স্ক মানুষের চেয়ে স্কুল, কলেজ পড়–য়া তরুনরাই বেশি ধুমপান করে।

রাস্তায় দেখা যায় অনেক অজ্ঞ লোকের পাশাপাশি শিক্ষিত বিজ্ঞ লোকেরাও প্রকাশ্য ধুমপান করছে। বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা, অফিসের কর্মকর্তাদের নিজ কর্মস্থলে বসেই ধুমপান করতে দেখা যায়। এ ছাড়াও বিভিন্ন সভা সেমিনারে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকাশ্য ধুমপান করতে দেখা যায়। স্কুল, কলেজের ক্যান্টিনে ও সামনে অবস্থিত বিভিন্ন প্রকার খাবার ও কসমেটিক্স সামগ্রী এর দোকানে প্রকাশ্য তামাক জাতীয় দ্রব্য বিক্রি করা হচ্ছে। ধুমপায়ী ব্যক্তিরা এই নেশাই এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েছে যে ছোট কোমলমতি শিশুদের সামনেই প্রকাশ্য ধুমপান করছে। কোমলমতি ছোট শিশুদের সামনে যদি তার পিতা বা তার ভাই প্রকাশ্য ধুমপান করে তাহলে ঐ শিশু কি শিখছে ? বড় হয়ে কি করবে? ধুমপায়ী ব্যক্তিরা শুধুমাত্র নিজেদের স্বাথ্যরই ক্ষতি করছে না, তারা সেই সাথে নিজের ছোট কোমলমতি শিশু সন্তানের ভবিষ্যত জীবন ও তরুন সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।  তাই সকল বিবেকের কাছে প্রশ্ন রইল আমরা কি পাচ্ছি সমাজ থেকে আর ভবিষ্যতে কি পাব?

 

5,091 total views, 2 views today

Related Posts

Share

Comments

comments

রিপোর্টার সম্পর্কে

%d bloggers like this: