তুরাগে হাবিবুল্লাহ সাকের গং কর্তৃক জোসনার পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

নাদিরা দিলরুবাঃ  গত ২৪/৪/২০১৭ থ্রীঃ সন্ধা অনুমান ৬.৪৫ মিনিটে তুরাগ থানার ওসির কক্ষে জমি সংক্রান্ত ঘটনায় জোসনার পরিবার ও সফিউল্লাহ এবং বিবাদী হাবিবুল্লাহ জাকেরগং সহ উভয়পক্ষের লোকজন উপস্থিত হলে পুলিশ কর্মকর্তা র্এডিসি উত্তরা শাহানশাহ বাদী বিবাদীর কাগজ দেখার সময় এস আই সুমন এডিসিকে জানান যে,জোসনার ভাই বাদী নুরুল হকের পক্ষে সার্কল এ মিসকেসের আপীল রায় আছে জানালে র্এডিসি উত্তরা শাহানশাহ ক্ষ্রিপ্ত হয়ে জমির কাগজ ছুড়ে ফেলে তুরাগ থানার ভেতরে ওসির কক্ষে বসে ওসি তুরাগ ও এস আই সুমনকে গনমান্য লোকজনের মনে বাদী সহ জোসনার পরিবারকে জমিতে গেলে গুলি করার নির্দেশ দেন ।
বাদীপক্ষ জোসনা বেগম আবুল হোসেন , ,সোহানা আক্তার ও নুরুল হক প্রতিনিধিত্বকারী আমমোক্তার মোঃ সফি্উদ্দিন বাদী হয়ে পিটিশন মামলা নং – ১০২/২০১৭ ধারা – ১৪৫ ফৌঃকাঃবিঃ বলে জমিতে আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা মামলা করেন । যার তফসিল হচ্ছে – জেলা ঢাকা ,থানা-তুরাগ,ঢাকা মৌজা-ধউর এর অধীন সিএস খতিয়ান নং-৬৮,এসএ ৯১ আর এস ১৩১ ঢাকা সিটি জরিপ১৬০ দাগ নং সিএস/এসএ ২৭৪,২৯৯ আর এস ৬৫৪,৬৫৫ ঢাকা সিটি জরিপ ১৭০২,১৭০৬ দাগে মোট নালিশি জমির পরিমান ৫৮ শতাংশ । চৌহদ্দি – উত্তরে উত্তরণ প্রপার্টিজ লিঃ দক্ষিনে রফিকুল ইসলাম পূর্বে আঃ রর্উফ পশ্চিমে লালমিয়ার বিক্রিত জমি ।

বিবাদী আনসার বেগম ও হাবিবুল্লাহ গং আদালতের মাধ্যমে – ২৩/২০১৭ ধারা – ১৪৫ ফৌঃকাঃবিঃ বলে উক্ত জমিতে আরেকটি নিষেধাজ্ঞা মামলা করেন। যার তফসিল হচ্ছে – জেলা ঢাকা ,থানা-তুরাগ,ঢাকা মৌজা-ধউর এর অধীন সিএস খতিয়ান নং-৬৫ ও ৬৮,এসএ ৮৬ আর এস ১১৩ ও ১৩১ নং খতিয়ানে লিখিত দাগ নং সিএস/এসএ ২৭৪,২৭৬,২৭৭,২৯৯ আর এস ৬১৯,৬২০ নং ০২টি দাগে মোট জমির পরিমান ৪৯.৫০ শতাংশ । চৌহদ্দি – উত্তরে উত্তরণ প্রপার্টিজ লিঃ দক্ষিনে বরকতউল্লাহর বাড়ী পূর্বে আমির মাষ্টারের খালি জায়গা পশ্চিমে আমির হোসেনের খালি জমি ।

ডাঃ মোঃ হাবিবুল্লাহর থেকে যথাক্রমে ২৮৩৬ নং সাফ কবলা দলিলে নুরুল হকের পিতা লালমিয়া ২৭৪,২৯৯,২৮৮ দাগে জমি , ২৮৩৯নং সাফ কবলা দলিলে নুরুল হক ও তার ভাই নুর মোহাম্মদ ২৭৬,২৭৫,২৭৭ দাগে জমি ,২৮৪০ নং সাফ কবলা দলিলে নুরুল হকের দুই ভাই নুরুল ইসলাম ও দীন ইসলাম ২৭৬,২৭৫,২৭৭ দাগে জমি ক্রয় করেন ।

বাদী ও বিবাদিদের জমির দাগ ও চৌহদ্দী ভিন্ন তবু ও হয়রানী করার উদ্দেশ্যে বিবাদীরা ১ন! যুগ্ন জেলা জজ আদালতে ৭৯৭/১৩ ন! পিটিশন মামলা করে । নুরুল হক বাদী হয়ে মিরপুর (ভুমি) সার্কেলে সহকারী কমিশনার বরাবরে ১৯৯/১২ মিস কেস করে । এর বিরুদ্ধে বিবাদী হাবিুলাহ যাকের গং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ঢাকা বরাবরে ৪৭/১৩ আপীল মামলা করে ।

নুরুল হক বাদী হয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি ) মিরপুphoto-josna-1র সার্কল এ মিসকেস নং – ১৯৯/২০১২ দায়ের করেন আমমোক্তার মোঃ সফি্উদ্দিন এর আপীলের প্রেক্ষিতে এডিসি রাজস্ব ঢাকা ( মোঃ আবুল ফজল মীর) আদালতে রায় দেন যে,

“ ১/ নুরুল হক ২/ আবুল হোসেন ৩/ জোসনা বেগম ৪/সোহানা আক্তার গন এর প্রতিনিধিত্বকারী আমমোক্তার মোঃ সফি্উদ্দিন পক্ষে আপীল আবেদনটি মন্জুর করা হলো ।এই মামলায় এবং ১৫/০১/২০১৩ ইং এর মিসকেস বাতিল করা হলো ।তৎপ্রেক্ষিতে নামজারী সহ সৃজিত জোত বাতিলপূর্বক নালীশি জমি মূলজোতভুক্ত করা হলো ।নিন্ম আদালতের নথি ফেরত প্রদান করা হোক । স্থগিতাদেশ থাকলে তা প্রত্যাহার হোক “।
মিসকেস আপীল বর্ননায় জানা যায়, ডাঃ এ ইউ হাবিবুল্লাহ অত্র নালিশী জমি ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে ভোগ দখলে থাকা অবস্থায় বিগত ৮/৭/১৯৯৪ তারিখে রেজিষ্ট্রিকৃত ২৮৩৬নং সাফকবলা দলিলমূলে লাল মিয়া বরাবরে বিক্রয় করে চিরতরে নিস্বত্ববান হন ।লাল মিয়া ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে ভোগ দখলে থাকা অবস্থায় মহানগর রেকর্ড এ তার নাম শুদ্ধরুপে রেকর্ড প্রকাশিত হয় ।
অতঃপর মহানগর রেকর্ডীয় মালিক লাল মিয়া বিগত ৩১/১২/২০০৯ ইং তারিখে ১৩০১৬ নং হেবাবেল এওয়াজনামা দলিলমূলে নালিশী মহানগর ১৭০২ নং দাগে .০৩৩ শতাংশ জমি তার ঔরষজাত পুত্র মোঃ নুরুল হক হৃদয় বরাবর হস্তান্তর করে চিরতরে নিঃস্বত্ববান হন । মোঃ নুরুল হক হৃদয় হেবা দলিলমূলে নালিশী জমির মালিক হয়ে বিগত ৭/৬/২০১১ তারিখে ৭২৩৭ নং ব্যাপক ক্ষমতা সম্পন্ন আমমোক্তারনামা দলিলমূলে ” দি নর্থ স্টার প্রোপাষ্টিজ লিঃ “ এর পক্ষে ব্যবস্থ্যাপনা পরিচালক ইন্জিনিয়ার মোঃ সফিউদ্দিন কে আমমোক্তার নিয়োগ করেন । আমমোক্তার ক্ষমতা বলে গনমান্য ব্যাক্তিদের উপস্থিতিতে নালিশী জমিতে বাউন্ডারী ওয়াল দিয়ে সকলের জ্ঞাতসারে ভোগ দখলে আছেন।অপরদিকে রেসপনডেন্ট পক্ষের দাতাগন ভিন্ন ভিন্ন নামে মহানগর জরিপ ১৬০, ৯৭৩,১০০৬,১৫৩৮,১৭০২,১৭০৬,১৭১১,১৭৩২,১৭৩৬ নং দাগে মোট ১.৫০ একর জমি রেকর্ড হলে ও রেসপনডেন্ট পক্ষ শুধুমাত্র ১৬০ নং খতিয়ানে ১৭০২ ও ১৭১১ নং ৯৯ শতাংশ জমি খারিজ করে নিয়েছেন । যা অযৌক্তিক ও বেইমানী । রেসপনডেন্ট পক্ষ যে নামজারী করে নিয়েছেন তাতে সিএস,এসএ, ও আরএস দাগের কোন ধারাবাহিকতা নেই বলে উল্লেখ করেন।
বিবাদী আনসার বেগম ও হাবিবুল্লাহ গং এডিসি রাজস্ব আদালতে মিস আপীল মামলা ৪৭/১৩ হেরে যাওয়ায় পূনরায় এডিসি রাজস্ব ঢাকার আদালতে আপীল মামলা ৭৮/১৭ দায়ের করেন ।
জমি সংক্রান্ত মামলাটি বর্তমানে প্রথম যুগ্ম জেলাজজ ,ঢাকার আদালতে বিচারাধীন আছে । তা স্বত্বেয় র্এডিসি উত্তরা সবার সামনে হাবিবুল্লাহ জাকেরগং কে জমিতে বাউন্ডারী করার নির্দেশ দেয় ও নির্মাণ কাজে বাঁধা দিলে মোঃ সফি্উদ্দিন ও জোসনার পরিবারকে জমির কাছে গেলে গুলি করার অন্যায় আদেশ করেন ।
এ ব্যাপারে প্রতিবেদক র্এডিসি উত্তরার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান যে, ”তিনি তুরাগ থানার পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে তিনি গুলি করার নিদের্শ দিয়েছেন একথা সত্য তবে বাদী বিবাদী উভয় পক্ষের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় না রাখলে ও জমিতে গিয়ে বিবাদে জড়ালে উভয় পক্ষকে গুলি করার নিদের্শ দেন ।”
কিন্তু জোসনা দাবী করেন যে, আদালতে মামলা চলমান থাকার পর ও এডিসি শুধু জমির কাছে গেলে বাদীগনকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেন অথচ বিবাদী হাবিবুল্লাহ জাকেরগং কে কাজ করার আদেশ করেন ।জোসনাকে তার স্বামী ও ভাইবোন সহ গন্যমান্য লোকের সামনে অকথ্য ভাষায় কুরুচির্পূন কথা বলেন এডিসি উত্তরা শাহানশাহ।এ কারনে জোসনা জানান তিনি ও তার পরিবার সহ মোঃ সফি্উদ্দিন আতন্কগ্রস্থ হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ।
হুমকির প্রেক্ষিতে জোসনা পুলিশ সদরদপ্তরের আইজি ও ডিএমপি কমিশনার বরাবর কাছে এডিসি উত্তরার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন । উক্ত অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করছেন রাজারবাগ পুলিশ লাইনের ডিসি জাকির হোসেন মজুমদার (ওয়েলফেয়ার ও কল্যান ) । গত ৩০ মে তিনি জোসনার পরিবারকে কে থানায় হুমকির অভিযোগের ব্রাপারে সাক্ষ্য নেন ও এডিসি উত্তরাকে এ ব্যাপারে অভিযোগকারী জোসনার উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ।

17,993 total views, 2 views today

Related Posts

Share

Comments

comments

রিপোর্টার সম্পর্কে

%d bloggers like this: