প্রকাশিত : Wed, Jun 7th, 2017

আদালত সানী-নাসরিনের মধ্যে সমঝোতার পরামর্শ

Sunny_Nasrin_poriborton_picture_1

নিজস্ব প্রতিবেদক : নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার আরাফাত সানী আত্মসমর্পণ করে ফের জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন।

তৃতীয় দফায় আরাফাত সানীর জামিনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ বুধবার। অন্তবর্তীকালীন জামিন শেষ হতে যাওয়ায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ  কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন আরাফাত সানী। আদালত আরাফাত সানীকে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন এবং ওই তারিখের মধ্যে তাদের মধ্যে সমঝোতার পরামর্শ দেন।

সানীর পক্ষে শুনানি করেন কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, এম জুয়েল আহম্মদ ও মুরাদুজ্জামান মুরাদ।

শুনানিতে তারা বলেন, ‘নারী নির্যাতনের মামলায় আপনার আদালত থেকে  আরাফাত সানীর নেওয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমরা আজ তার আবার জামিনের প্রার্থনা জানাচ্ছি।’

সানীর আইনজীবীরা বলেন, ‘আরাফাত সানীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়। তা ছাড়া আরাফাত সানী বর্তমানে লীগে খেলছেন। সেখানে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েছেন। এ অবস্থায় তার জামিন মঞ্জুর প্রয়োজন।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী আতিকুর রহমান জামিনের বিরোধিতা করেন্।

এদিন মামলার বাদী নাসরিন সুলাতানা আদালতে হাজির ছিলেন। তিনি জামিনের বিরোধিতা করেন। নাসরিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে আদালতকে বলেন, ‘আরাফাত সানী জামিন নিয়ে যাওয়ার পর থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছে না। তাকে ফোন দিলে সে ফোন রিসিভ করে না। এরপর একদিন আমি তার বাসায় গেলে তার মা নার্গিস আক্তার আমাকে মারধর করেন। সে আমার সঙ্গে একটি দিনও কাটাচ্ছে না।’

নাসরিন সুলতানা আরো বলেন, ‘আরাফাত সানীর আগে বিয়ে ছিল, সেটা আমি জানতাম না। সেখানে না কি তার একটি বাচ্চাও আছে। তার সঙ্গে যখন আমি দেশের বাইরে ঘুরতে যাই তখন তার পাসপোর্টে অবিবাহিত লেখা ছিল। সে আমাকে ধোঁকা দিয়েছে। আমি তার জামিন নামঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’ একই সঙ্গে নাসরিন সানীর প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাকে ঘরে তুলতে বলেন।

এ সময় সানীর আইনজীবীরা বলেন, ‘তার (নাসরিন সুলতানা) সঙ্গে সংসার হোক আমরা সেটাই চাচ্ছি। এজন্য তাকে আলাদা ফ্ল্যাট ভাড়া করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি সেখানে থাকছেন না। তিনি সানীর প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিতে বলছেন।  কিন্তু এটা সম্ভব না। কারণ নাসরিন সুলতানা আরাফাত সানীর প্রথম স্ত্রীর কথা জেনে-শুনেই তাকে বিয়ে করেছেন। এখন সানীর প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিলে তিনিও মামলা করবেন। আরাফাত সানী এখন দুই স্ত্রীকেই রাখতে চাচ্ছেন।’

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আরাফাত সানীকে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন। ওই তারিখের মধ্যে আরাফাত সানী এবং নাসরিন সুলতানার মধ্যে সমঝোতার পরামর্শ দেন আদালত।

আরাফাত সানীর আইনজীবী এম জুয়েল আহম্মদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

এই মামলায় গত ৯ মার্চ একই আদালত আরাফাত সানীকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর ১৫ মে এবং তারপর আজ ৭ জুন পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।|

গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চার নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন সানীর স্ত্রী নাসরিন সুলতানা। ওই দিন আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর মামলার অভিযোগ মোহাম্মদপুর থানাকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দীন মীর মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে ঢাকা সিএমএম আদালতে নথি প্রেরণ করেন। এরপর আদালত মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলায় বলা হয়, সাত বছর আগে পরিচয়ের সূত্র ধরে আরাফাত সানী ও নাসরিন সুলতানার ঘনিষ্ঠতা হয়। একপর্যায়ে তারা দুজন দুজনকে ভালবাসেন। ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর অভিভাবকদের না জানিয়ে তারা বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের তিন বছরেও সানী দুই পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে নাসরিন সুলতানাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তুলে নেননি। বারবার এ বিষয়ে চাপ দিলেও তিনি কালক্ষেপণ করেন।

এর পর গত বছরের ১২ জুন রাত ১টা ৩৫ মিনিটে নাসরিন সুলতানা (Nasrin Sultana) নামের একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে নাসরিন সুলতানার আসল ফেসবুক মেসেঞ্জারে সানী-নাসরিনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন নাসরিন সুলতানা। ওই মামলায় সানী রিমান্ডে থাকা অবস্থায় গত ২২ জানুয়ারি তার মা নার্গিস আক্তার থানার সামনে বাদীকে মারধর করেন। এ বিষয়ে ওই দিন থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আদালতে মামলা করেন নাসরিন সুলতানা।

উল্লেখ থাকে, আরাফাত সানীর বিরুদ্ধে নাসরিন সুলতানা নারী নির্যাতনের মামলা ছাড়াও যৌতুক আইনে একটি মামলা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় গত ২২ মার্চ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।

চার্জশিটে আরাফাত সানীর সঙ্গে যে নাসরিন সুলতানার বিয়ে হয়েছিল সেটি উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. ইয়াহিয়া।

5,912 total views, 2 views today

Related Posts

Share

Comments

comments

রিপোর্টার সম্পর্কে

%d bloggers like this: