প্রকাশিত : Thu, Aug 17th, 2017

জেনে নিন, খাঁটি মধু চেনার ৯ উপায়

goold-34

লাইফস্টাইল ডেস্ক,  ~  মধু হল এক প্রকারের মিষ্টি ও ঘন তরল পদার্থ, যা মৌমাছি ও অন্যান্য পতঙ্গ ফুলের নির্যাস হতে তৈরি করে এবং মৌচাকে সংরক্ষণ করে। মধুতে উচ্চ ঔষধিগুণ সম্পন্ন একটি ভেষজ তরল বিদ্যমান এবং এটি সুপেয়।

বিভিন্ন খাদ্য প্রস্তুতিতে মধুর ব্যবহারে চিনির চেয়ে অনেক সুবিধা রয়েছে। মধুর বিশিষ্ট গন্ধের জন্য অনেকে চিনির চাইতে মধুকেই পছন্দ করে থাকেন। বাংলাদেশের সুন্দরবনের মধু স্বাদ, রং, হালকা সুগন্ধ এবং ঔষধিগুণাবলীর জন্য প্রসিদ্ধ।

সুন্দরবনের বেশীরভাগ মধু কেওড়া গাছের ফুল থেকে উৎপন্ন। সুন্দরবনের মাওয়ালী সম্প্রদায়ের লোকেরা মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে এবং তা বিক্রয় করে জীবন নির্বাহ করে। মধুর অন্যান্য গুণ হল এটি কখনো নষ্ট হয় না৷

মানব দেহের জন্য মধু খুবই উপকারী এবং গুরুত্বপুর্ণ উপাদান। তাই নানা প্রয়োজনে একটুখানি খাঁটি মধুর খোঁজ অনেকেরই করতে হয়। ভেজাল মধুর ভীড়ে খাঁটি মধু পাওয়া খুবই কঠিন। মধু দেখতে একই রকম হওয়ায় বোঝা দায় কোনটি আসল, কোনটি নকল। তাই খাঁটি মধু চেনার উপায় জানতে হলে আপনার কিছু কৌশল জানা থাকলে, এক মিনিটেই চিনে নিতে পারবেন আসল মধুটি।

  • মধুর পানি পদ্ধতি

এ পদ্ধতিতে আপনাকে এক গ্লাস পানির মধ্যে মাত্র এক চামচ মধু মিশাতে হবে। এক গ্লাস পানির মধ্যে আস্তে আস্তে নাড়ুন। যদি দেখেন মধুর সাথে পানি মিশে যাচ্ছে, তাহলে বুঝতে হবে এই মধুটি আসল মধু না। আর যদি মধু আসলই হয়ে থাকে, তাহলে মধু পানিতে মিশে যাবে না, বরং ছোট ছোট দলা আকারে পানির মধ্যে ছড়িয়ে যাবে। তবে এই পদ্ধতিতে আসল মধুর সাথে কিছুটা ভেজাল মেশালে তা সহজে বোঝা যাবে না।

  • মধুর পিপড়া পদ্ধতি

পিপড়া মিষ্টি জিনিস পছন্দ করলেও মধু পছন্দ করে না। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা থাকতে পারে, তবে আমরা সেদিক যাবো না। এক টুকরা কাগজে কিছু মধু লাগিয়ে যেখানে পিঁপড়া আছে সেখানে রেখে দিন। যদি পিঁপড়ারা এই কাগজের দিকে আকৃষ্ট হয়, এবং এটিকে ঘিরে ধরে, তাহলেই বুঝতে হবে এই মধূ আসল না! আর যদি পিঁপড়ারা পাত্তাই না দেয়, আপনিই বুঝবেন যে এটা আসলেই আসল মধু।

  • মধুর কাপড়ে দাগ পদ্ধতি

এ পদ্ধতিতে পরীক্ষার জন্য প্রথমেই এমন এক টুকরা সাদা কাপড় নিন যেটি আপনি হয়ত আর পরে ব্যবহার করবেন না। এবার কাপড়ে সামান্য মধু সরাসরি লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। যদি পানিতে ধুয়ে ফেললে দাগ চলে যায়, তাহলে বুঝবেন এটি আসল। নকল মধু/ভেজাল মেশানো মধুতে থাকা জিনিষ আপনার কাপড়ে দাগ ফেলবে, যা আসল মধু করে না।

  • ডিপ ফ্রিজ পদ্ধতি

মধু একটি কিছুতে নিয়ে ডিপ ফ্রিজে একদিন রেখে দিন। একদিন পর মধু বের করে দেখুন, যদি আসল মধু হয়, তাহলে এটির সামান্যতম অংশও জমবে না। যদি পুরোটা জমে যায় কিংবা কিছু অংশ জমে কিংবা নিজের অংশ জমে আসছে এমন হয়, তাহলে বুঝবেন যে এটিতে ভেজাল আছে। আসল মধু ঠাণ্ডায় জমে যায় না।

  • মধুর অগ্নি পরীক্ষা

এ পরীক্ষার জন্য আপনাকে এক টুকরা কটন উয়িক নিতে হবে। কটন উয়িক কি জিনিষ? ডান পাশের ছবিতেই পাবেন। এর এক প্রান্তে একটু মধু লাগিয়ে নিন। এবার এখানে আগুন ধরিয়ে দিন। এখান থেকে তিনটি ফলাফল আসতে পারে।

১. আগুন জ্বলবে না : এতে করে বুঝবেন যে মধুটি পুরাটাই নকল এবং এতে প্রচুর পরিমাণে পানি আছে। ফলে আগুন জ্বলছে না।

২. আগুন জ্বলবে, কিন্তু পটপট শব্দ হবে : এতে বুঝবেন যে মধুটি আসলই, শুধু ভিতরে পানি মেশানো আছে আরকি। শব্দ যত বেশী, পানি তত বেশী।

৩. আগুন জ্বলবে, শব্দ হবে না : আমার মনে হয় আর বলে দিতে হবে না যে এমনটা হলে আপনি বুঝবেন যে এই মধু আসল মধু, এবং ভেজাল মুক্ত মধু।

  • মেথিলেটেড স্পিরিট পদ্ধতি

এর জন্য প্রথমেই আপনাকে যে কোনো সাইন্স ইকুইপমেন্ট স্টোর থেকে মেথিলেটেড স্পিরিট কিনে আনতে হবে। পরীক্ষাটি সতর্কভাবে করবেন এবং হাত দিয়ে সরাসরি ধরবেন না। সমান পরিমাণে মেথিলেটেড স্পিরিট এবং মধু নিতে হবে এবং নাড়তে থাকতে হবে। যদি দেখেন মধু তলানী হিসাবে জমা হচ্ছে, তাহলে বুঝবেন মধু আসল। আর যদি স্পিরিটের রং সাদাটে হয়ে আসে, তাহলে বুঝবেন মধুটি নকল।

  • মধুর ব্লটিং পেপার পদ্ধতি

এই পরীক্ষার জন্যও আপনাকে কোনো সায়েন্স স্টোর থেকে ব্লটিং পেপার কিনে আনতে হবে। ব্লটিং পেপারের উপরে কয়েক ফোঁটা মধু নিন। যদি মধু ব্লটিং পেপারের ভিতরে আস্তে আস্তে ঢুকে যায় বা মিশে যায়, বুঝবেন এটি আসল মধু নয়। কারণ আসল মধু ব্লটিং পেপারকে ভেজায় না।

  • বুড়ো আঙুলের পরীক্ষা

সামান্য মধু নিন বুড়ো আঙুলে। দেখুন, এটি অন্যান্য তরলের মতো ছড়িয়ে পড়ে কি না। মধু খাঁটি না হলে তা অন্য তরলের মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু আসল মধু ঘন হয়ে আটকে থাকবে। সহজে ছড়াবে না। আবার একটু বেশি পরিমাণ মধু নিয়ে বুড়ো আঙুল উল্টো করে ধরে রাখলে তা সহজে ফোঁটা আকারে পড়বে না।

  • তাপমাত্রার পরীক্ষা

খাঁটি মধুতে তাপ দিলে তা খুব দ্রুত কেরামেলের মতো হয়ে যাবে। এটা ফোমের মতো ফেনিল হবে না। কিন্তু ভেজাল মধু কেরামেলের মতো ফেটে ফেটে যাবে না। এতে কেবল বুদবুদ উঠবে।

2,519 total views, 2 views today

Related Posts

Share

Comments

comments

রিপোর্টার সম্পর্কে

%d bloggers like this: