প্রকাশিত : Thu, Aug 17th, 2017

যেভাবে প্লাস্টিকের বা নকল ডিম চিনে নিবেন

Egg-pilastik

 ডিম রোগ প্রতিরোধক ও পুষ্টিকর খাবার। ডিমের দুটি অংশ- সাদা ও হলুদ। ডিমের সাদা অংশের মধ্যে পানি ৮৮.০%, প্রোটিন বা আমিষ ১১.০%, চর্বি ০.২% এবং খনিজ পদার্থ ০.৮%। বিভিন্ন খাবার তৈরিতে সহায়ক উপাদান হিসেবে ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার হয়। যেমন- কেক, পেস্ট্রি, ক্যান্ডি, স্পঞ্জ কেক ইত্যাদি। ডিমের হলুদ অংশ বা কুসুমের মধ্যে ৪৮.০% পানি, ১৭.৫% প্রোটিন বা আমিষ, ৩২.৫% চর্বি এবং ২.০% খনিজ পদার্থ আছে। ডিমের কুসুম কোমল ও সহজে হজম হয়। কুসুমের মধ্যে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও লৌহ আছে। ক্রিমের সঙ্গে ডিমের কুসুম ভালোভাবে মিশে যায় বলে এটা মেয়নেজ, মার্জারিন, আইসক্রিম ও ক্রিমক্রাকার তৈরিতে ব্যবহার হয়।

ডিম বেশিক্ষণ সিদ্ধ করলে কুসুমের বাইরের অংশে একটা কালো স্তর পড়ে, সেটা হলো আয়রন সালফাইড। ডিম যেভাবেই রান্না হোক না কেন ডিমের পুষ্টিগুণ অবিকৃত থাকে।

কিন্তু বাসায় যে ডিম খাচ্ছেন তা আসলে কী, আসল না প্লাস্টিকের একটু সাবধান হলে সহজে নকল ডিম ধরা যায়।

প্লাস্টিকের ডিম বিক্রির ঘটনা নিয়ে পাশের দেশ ভারতের কলকাতা ও হুগলিতে চলছে শোরগোল। প্লাস্টিকের ডিম তৈরি করে আসল ডিমের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

ইন্ডিয়া টুডের এক খবরে বলা হয়েছে, আসল ডিমের সঙ্গে প্লাস্টিক ডিমের পার্থক্য সহজে বোঝা যায় না। ওমলেট করতে গিয়ে পার্থক্যটা ধরতে পারেন এক ভুক্তভোগী। ডিম ফেটিয়ে কড়াইতে দেওয়ার পরই দেখেন শক্ত হয়ে গেছে। পোড়া প্লাস্টিকের গন্ধ বের হতে থাকে। ভালো করে দেখে বোঝেন, ডিমের খোলাটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পুরু।

কৃত্রিম ডিম অনেক বেশি ভঙ্গুর। এর খোসা অল্প চাপেই ভেঙে যায়। এর খোলস বেশি শক্ত। খোলের ভেতর রাবারের মতো লাইন থাকে।

ডিম ঝাঁকালে পানি গড়ানোর মতো শব্দ হয়। আসল ডিম ভাঙলে মুড়মুড়ে শব্দ হয়। কিন্তু প্লাস্টিকের ডিমে তেমন শব্দ হয় না।

আসল ডিম ভেঙে রেখে দিলে পিঁপড়া বা পোকামাকড় আসে। কিন্তু নকল ডিমে পোকামাকড় আসে না।

নকল ডিম ভাজার সময়ে এর হলুদ অংশ না স্পর্শ করলেও ছেতরে যায়। এই ডিম সিদ্ধ করলে কুসুম বর্ণহীন হয়ে যায়।

ভাঙার পর আসল ডিমের মতো কুসুম এক জায়গায় না থেকে খানিকটা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় পুরো কুসুমটাই নষ্ট ডিমের মত ছড়ানো থাকে।

কৃত্রিম ডিম আকারে আসল ডিমের তুলনায় সামান্য বড়। এর খোলস খুব মসৃণ হয়। খোসায় প্রায়ই বিন্দু বিন্দু ফুটকি দাগ দেখা যায়।

রান্না করার পর এই ডিমে অনেক সময় বাজে গন্ধ হয়। কিংবা গন্ধ ছাড়া থাকে। আসল কুসুমের গন্ধ পাওয়া যায় না।

নকল ডিমকে যদি আপনি সাবান বা অন্য কোন তীব্র গন্ধ যুক্ত বস্তুর সাথে রাখেন, ডিমের মাঝে সেই গন্ধ ঢুকে যায়। রান্নার পরেও ডিম থেকে সাবানের গন্ধই পেতে থাকবেন।

নকল ডিমের আরেকটি উল্লেখ্য যোগ্য লক্ষণ হলো ডিম দিয়ে তৈরি খাবারে এটা ডিমের কাজ করে না। যেমন পুডিং বা কাবাবে ডিম দিলেন বাইনডার হিসাবে। কিন্তু রান্নার পর দেখবেন কাবাব ফেটে যাবে, পুডিং জমবে না। নকল ডিমের আকৃতি অন্য ডিমের তুলনায় তুলনামূলক লম্বাটে ধরণের হয়ে থাকে।

নকল ডিমের কুসুমের চারপাশে রাসায়নিকের পর্দা থাকে বিধায় অক্ষত কুসুম পাওয়া গেলে সেই কুসুম কাঁচা কিংবা রান্না অবস্থাতে সহজে ভাঙতে চায় না।

সাধারণ ডিমের চেয়ে এই প্লাস্টিকের ডিম বেশি ঝকঝকে। ডিম ভাঙার পর সাদা অংশ ও কুসুম এক হয়ে যায়।

474 total views, 2 views today

Related Posts

Share

Comments

comments

রিপোর্টার সম্পর্কে

%d bloggers like this: