প্রকাশিত : Thu, Aug 24th, 2017

আপনি কি ঝাল খাবারের ভক্ত! বিপদ নয়, আপনার হৃদয় আসলে সুরক্ষিত

jhal-morich-4

আপনি ঝাল খেতে ভালবাসেন। ভাবেন, স্বাস্থ্যের পক্ষে খারাপ? ভুল ভাবছেন।

হৃদ্‌রোগীদের সাধারণভাবে বলা হয় ঝাল মসলাযুক্ত খাবার থেকে দূরে থাকতে। কিন্তু মসলা বা ঝাল কি সত্যিই খারাপ? তেল–চর্বিযুক্ত খাবার খারাপ তো বটেই। কেননা, এগুলো রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ায়, যা রক্তনালিতে বাধা তৈরি করে। কিন্তু ঝালের বিষয় তো আলাদা, তেল বা চর্বির সঙ্গে তো ঝালের কোনও সম্পর্ক নেই।

২০১৫ সালে হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড ও পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক একটি গবেষণা আশার আলো দেখান ঝাল-প্রেমীদের কাছে। তাঁরা গবেষণায় দেখান যে, যাঁরা ঝাল খাওয়া থেকে দূরে থাকেন, তাঁদের তুলনায় যাঁরা প্রতিদিন বা সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ঝাল খান, তাঁদের হৃদ্‌রোগ, ফুসফুস ও ক্যানস্যারজনির রোগের প্রকোপ কম।

আসলে ঝালের মূল উপাদান হলো ক্যাপসেইসিন। এর নানামুখী উপকারিতা আছে। যেমন-

১) এটি পরিপাকতন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সরিয়ে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে ও বিপাকক্রিয়ায় সাহায্য করে।

২)  ডায়াবেটিসের রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ক্যাপসেইসিনের ভূমিকা আছে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ভালো।

৩) ক্যাপসেইসিন একধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও রক্তনালিতে চর্বি জমতে বাধা দেয়।

৪) হৃদপিণ্ড ও রক্তনালির স্নায়ুগুলো ক্যাপসেইসিনে সংবেদনশীল। এই স্নায়ুগুলোর সুস্থতায় ভূমিকা রাখে এই উপাদান।

শুকনো বা গুঁড়া মরিচের তুলনায় কাঁচা মরিচে ক্যাপসেইসিনের পরিমাণ বেশি। কাঁচা মরিচে ভিটামিন সি অনেক। তাই রান্নায় বা স্যালাডে কাঁচা মরিচ থাকলে ভাল। আবার দেখা গেছে, সবুজ কাঁচা মরিচের চেয়ে লাল রঙের তাজা কাঁচা মরিচ আরও ভালো। এই গুণ রয়েছে ক্যাপসিকামেও।

তাই ঝাল মানেই খারাপ, এ ধারণা একদমই ভুল। তেলবিহীন খাবার যেমন চটপটি, কাঁচা ছোলা, স্যালাড, ফল ইত্যাদিতে কাঁচা মরিচের টুকরা দিয়ে খাওয়া হৃদ্‌রোগীদের জন্য বেশ ভাল।

569 total views, 2 views today

Related Posts

Share

Comments

comments

রিপোর্টার সম্পর্কে

%d bloggers like this: