প্রকাশিত : Fri, Sep 1st, 2017

ছারপোকার কামড়ে যেসব জটিল রোগ হতে পারে আপনার! জেনে নিন, পরিত্রাণের উপায়

charpoka-445454

লাইফস্টাইল ডেস্ক: ছারপোকা মানুষ ও উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট অন্যান্য প্রাণীর রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে। বিছানায় বেশি দেখা গেলেও ছারপোকার অন্যতম পছন্দের জায়গা হল ম্যাট্রেস, সোফা এবং অন্যান্য আসবাবপত্র।

নিশাচর প্রাণী না হয়েও এটি সাধারণত রাতেই অধিক সক্রিয় থাকে এবং মানুষের অগোচরে রক্ত চুষে থাকে। দীর্ঘদিন যদি কেউ ছারপোকার কামড় খেতে থাকেন, তাহলে একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক জার্নালের গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন যদি কেউ ছাড় পোকার কামড় খেতে থাকে, তাহলে একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে শারীরের কর্মক্ষমতা এবং আয়ুও কমে।

ছারপোকার কামড়ে যেসব রোগ হতে পারে:

শ্বাসকষ্ট
ঘরের যে জায়গায় ছারপোকারা বাসা বাঁধে, সেখানকার হাওয়া-বাতাসে এত বিষ ছড়িয়ে যায় যে তা যদি একবার শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে যায় তাহলেই বিপদ! এক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে শ্বাসকষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

সংক্রমণ
ছারপোকা কামড়ানোর পর ক্ষত স্থানে মারাত্মক চুলকাতে শুরু করে। ফলে চুলকাতে চুলকাতে যদি একবার কেটে যায়, তাহলে সে জায়গা দিয়ে একাধিক ক্ষতিকর জীবাণু শরীরে প্রবেশ করার সুযোগ পেয়ে যায়। আর এমনটা হওয়া মাত্র শরীরের অন্দরে সংক্রমণ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।

অ্যালার্জি
গবেষণায় দেখা গেছে, ছারপোকা কামড়ালে কারও কারও মারাত্মক ধরনের অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন হয়। সেক্ষেত্রে ব্লাড প্রেসার কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্বাস কষ্টও বাড়তে শুরু করে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ঠিক সময়ে যদি চিকিৎসা শুরু করা না হয়, তাহলে কষ্টটা মারাত্মক আকার ধারণ করে। তাই যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে তারা অতিরিক্ত সাবধান থাকুন।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়ে
বেশ কিছু কেস স্টাডি অনুসারে, ছারপোকার প্রতিনিয়ত আক্রমণের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে শরীরের অন্দরে বেশ কিছু পরিবর্তন হওয়ার কারণে মানসিক চাপ এবং উদ্বেগের মাত্রা বাড়ে।

একাকিত্ব
সবারই মনে ছারপোকাদের নিয়ে একটা ভয় রয়েছে। কেউই এমন বাড়িতে যেতে চান না যেখানে ছারপোকার রাজত্ব রয়েছে। এজন্য এসব বাড়ির বাসিন্দারা একাকিত্বে ভোগেন, যা ধীরে ধীরে তাদের শরীর এবং মনের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অ্যানিমিয়া
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে ছারপোকার কামড় খেয়ে আসছেন তাদের শরীরে লহিত রক্ত কণিকার মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। আসলে বেড বাগের মূল খাবারই হল রক্ত।

ছারপোকা দূর করার কার্যকর কিছু উপায়:

১. তোষক, বিছানা, বালিশ এবং আলমারিতে থাকা সবকিছু পর পর কয়েকদিন কড়া রোদে দিন।

২. প্রতিটি বিছানার নিচে শুকনা নিমপাতা রেখে দিলে ছারপোকা বাড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

৩. চাদর কাঁথা বালিশের কাভার গরম পানি ও সোডা দিয়ে ধুয়ে নিন।

৪. বিছানার নিচে পুটুলিতে করে কালোজিরাও রাখতে পারেন।

ছারপোকার কামড়ে ঘরোয়া প্রতিষেধক:

টুথপেস্ট
টুথপেস্টে থাকা মেনথল কামড়ানো অংশে ঠাণ্ডা অনুভূতি দেয়, যা চুলকানি ও জ্বালাপোড়া কমায়। কামড়ানো অংশে ১০ মিনিট টুথপেস্ট মাখিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে প্রতিদিন তিন থেকে চারবার পেস্ট মাখালে উপকার পাবেন।

লবণ
ছারপোকার কামড় থেকে হওয়া র্যাশ ও প্রদাহ সারাতে সাহায্য করে প্রাকৃতিক ব্যাক্টেরিয়ানাশক লবণ। কামড়ানোর জায়গায় লবণ ঘষলে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া থেকে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে ভালো ফল পেতে দিনে তিনবার লবণ লাগাতে পারেন।

কলার খোসা
কলার খোসায় ‘ক্যারোটেনয়েডস’, ‘পলিফেনলস’ ইত্যাদি জৈব-সক্রিয় ভেষজ উপাদান বিদ্যমান রয়েছে। এর খোসার ভেতরের অংশ কামড়ানো স্থানে ঘষলে জ্বালাপোড়া কিংবা চুলকানির অনভূতি প্রশমিত হয়। পদ্ধতিটি যতবার খুশি অনুসরণ করা যায়।

দারুচিনি ও মধু
প্রদাহরোধী উপাদান থাকে দারুচিনি এবং মধু ত্বকে আর্দ্রতা যোগায়। দুটি উপাদান একত্রে মিশিয়ে ছারপোকার কামড়ের চিকিৎসায় কাজে লাগাতে পারেন। এতেও সংক্রমণের আশঙ্কা কমে যায়। দুই-তিন টেবিল-চামচ দারুচিনির গুঁড়ার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে মাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন তিন থেকে চারবার পেস্টটি প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাবেন।

1,399 total views, 4 views today

Related Posts

Share

Comments

comments

রিপোর্টার সম্পর্কে

%d bloggers like this: