প্রকাশিত : Fri, Oct 13th, 2017

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি- আশরাফুল আলম আশরাফ

asra

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়, আমার এই নগণ্য বেকারখানির পত্রখানি আপনার দৃষ্টি আকর্ষিত হবে কিনা- জানিনা ! হলেও এ সমস্যা সমাধানে আপনি কি আসু পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন তাহাও আমার অকল্পনীয়। তবুও আমার, না শুধু আমার না; আমার মত লক্ষ লক্ষ বেকারের আকুন্ঠ আবেদন যাহা আমি আমার হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছি। জানি আপনার হৃদয়ের মত কোমল, মানবদরদী, পরোপকারী, জনহৈতষী হৃদয় আমার নয়।
শিক্ষানুরাগী শিক্ষামন্ত্রী, আমি বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার সেই শতকরা ৮৫ ভাগ জনগোষ্ঠী যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কৃষির সাথে জড়িত সেই পরিবারে বড় হওয়া শিক্ষিত উদ্যমী, পরিশ্রমী; যে স্বউদ্যোগে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশ্বাসী।
প্রিয় মহোদয়, আইন একটি মহৎ পেশা। আমাদের আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। আমাদের দেশের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম ডঃ কামাল হোসেন স্যারও এই পেশায় নিয়োজিত। বিখ্যাত, খ্যাতিমান মানুষগুলোর বেশির ভাগই এই মহৎ পেশার সঙ্গে জড়িত। আমিও এই স্বপ্ন নিয়ে ২০১৫ সালের ৩০ শে জুলাই বাংলাদেশ ল’কলেজের অন্তুভুর্ক্ত উত্তরা ল’কলেজে ভর্তি হই। আমার মত অনেকেই ভর্তি হয়েছে। এবং ১০ অক্টোবর ২০১৭ সালে প্রথম বর্ষের ফলাফল প্রকাশ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এতদিনে এই সেশনের সমাপ্তি হবার কথা থাকলেও যা সম্ভব হয় নি। আর আমি যদি লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে কোন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতাম তবে এতদিনে আমার এলএলবি- এর কোর্স শেষ হত। আমি কিছু না শিখলেও গায়ে একটা কালো কোর্তা চড়িয়ে হেলিয়ে দুলিয়ে কোর্টে যেতে পারতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, আমি ভর্তি হয়েছি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে।

জনশ্রুতি আছে যে, ‘যার নাই কোন গতি, সেই করে ওকালতি।’ এই জনশ্রুতিকে ভুল প্রমাণ করার দায়িত্ব নিয়ে সরকারী চাকুরীর বয়সসীমা থাকা স্বত্বেও ভর্তি হয়েছিলাম উত্তরা ল’কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। যে কারণে সরকারী চাকুরী গ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশ করি নাই। শুধু আমি না- এরকম প্রত্যাশা নিয়ে হাজারো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।
মান্যবর মন্ত্রীমহোদয়, আপনার বিচক্ষণ নির্দেশনায় আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ম প্রচেষ্টায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে সেশনজট এখন অনেকটাই কম। এবং ভবিষ্যতে সেশনজট মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে উঠুক এই কামনা করি। কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর অর্জন করেছি। আমার মত বা আমাদের মত নবীন শিক্ষার্থীরা যেন সেশনজটের যাঁতাকলে নিষ্পেশিত না হয়। কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত ভর্তি হয় দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী- কৃষককূলের সন্তানরা। না ভাববেন তাদের সকলেই মেধাহীন। তাদের মধ্যে অনেকেরই চমৎকার মেধা আছে যা সময়মত এবং সুযোগমত কাজে লাগাতে পারলে পরিবার, সমাজ, দেশ বা জাতি ‍উপকৃত হতে পারত। কিন্তু তা সাধারণত হবার নয়। কারণ, শিক্ষাজীবন শেষ করতেই তাদের অনেক সময় পেরিয়ে যায়। তার উপর আবার পারিবারিক দায়দায়িত্ব তাদের উপর আপনা আপনি আরোপিত হয়। যাহা আপনাদের মত শিক্ষিত-স্বজ্জন, বিত্তশালীদের পরিবারে হয় না।
আমার জানা মতে, আপনাদের তথা এই মান্যগণ্য, দেশবরেণ্য, স্বজ্জন ব্যক্তিদের পরিবারের সন্তানেরা এই দেশে লেখা পড়া করে না। না- না করে না: তা নয়। করে তবে, এই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মত সেশটজটের যাঁতাকলে নিষ্পেশিত, ভাঙ্গাচোরা আসবাবপত্রের শিক্ষালয়ে পড়ে না। তারা পড়ে ডিজিটাল, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত নামী দামী শিক্ষালয়ে। আমাদের তো আর আপনাদের মত সামর্থ্য নেই! তাই আপনাদের মত আমরা নামী দামী বিদ্যালয়ে না পড়ে- এই সব বিদ্যালয়ে পড়তে হয়। তাই এই আপামর জনসাধারণের তথা কৃষককূলের সন্তানদের এই শিক্ষাব্যবস্থাটা একটু হলেও উন্নত করুন। আপনাদের সন্তানরা তো নামীদামী দেশের নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে শিক্ষিত-স্বজ্জন হয়ে বেশির ভাগ সময় বাহিরেই কাটায়। আর আমরা যেহেতু এই ঘিঞ্জি পরিবেশেই চিরদিন বাস করব, তাই এই ব্যবস্থার উন্নত কল্পে একটু কাজ করুন।
মন্ত্রীমহোদয়, আকুল আবেদন বিষয়টি একটু হৃদয় দিয়ে দেখবেন। ‘যে ক্ষেত্রে আমার কোন প্রাপ্তি নাই, সেখানে আমার দায়িত্বও নাই’ – এ নির্দয় মনোভাব দেখাবেন না।
মাননীয় মন্ত্রীমহোদয় কথায় কথায় মনের অনেক অভিব্যক্তিই প্রকাশ করলাম। দুঃখ পেয়ে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

9,844 total views, 6 views today

Related Posts

Share

Comments

comments

রিপোর্টার সম্পর্কে

-

%d bloggers like this: