প্রকাশিত : Tue, Oct 17th, 2017

যদি মানবতাই না থাকে তবে; ধর্ম, জাতি- এসবের কিইবা দরকার: আশরাফুল আলম আশরাফ

asra

লাশ দেখতে দেখতে, মানুষের মৃত্যুর খবর শুনতে শুনতে, মানুষের নির্যাতনের দৃশ্য দেখতে দেখতে আজ কেন যেন চোখ বুঁঝতেও বড্ড বেশি ভয় হয়। কারণ চোখ বন্ধ করলেই এসব দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠে। আবার চোখ বুঁঝে থাকলে এসব দৃশ্য পড়ে হরহামেশায়। বনের পশুরা সাধারণত অন্য পশুকে হত্যা করে নিজের ক্ষমতাকে অন্যের মনে ভীতির সঞ্চার সৃষ্টি করতে, নিজের পেটের ক্ষুদা নিবারণ করার জন্য অন্য পশুকে তারা হত্যা করে। তারাও পেট ভর্তি থাকলে অন্য পশুকে হত্যা করে রাখে না পরবর্তী মজুদ হিসেবে। আর আমরা মানুষ, নিজেকে পরাক্রমশালী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য, সমাজে একমাত্র ক্ষমতাবান হিসেবে প্রমাণ করার জন্য পশুর মত; এমনকি পশুর চেয়ে ভয়ঙ্কর, হিংস্রকান্ড ঘটিয়ে বসি। প্রচুর পরিমাণ সম্পদ মজুদ থাকা স্বত্ত্বেও আরো মজুদ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠি; যা সাধারণত পশুরাও করে না কিন্তু আমরা করি।

ইসলাম ধর্মমতে, মানুষকে আশরাফুল মাকলুকাত বলা হয়েছে। অর্থাৎ মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব। কিন্তু এই শ্রেষ্ঠ জীব আজ নিকৃষ্ট পশুর মত আচরণ করছি।

সাম্প্রতিক সময়ে আমার নিকট প্রতিবেশী মায়ানমার থেকে লাখো লাখো মানুষ মনের মাধুরী মিশিয়ে তৈরী করা বাড়ী ছেছে, বাপ দাদার চৌদ্দ পুরুষের ঐতিহ্যে নিদর্শন ছেড়ে হাতের কাছে যৎসামান্য যা পেয়েছি তাই নিয়ে বেরিয়েছে জীবনকে বাঁচাতে। বনের শক্তিশালী,সামর্থ্যবান পশুর আচমকা ধাওয়ায় অপেক্ষাকৃত দূর্বল পশুরা যেমন দৌড়ায়। ধাওয়া খেয়ে বনের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পালিয়ে বা ঝোঁপের আড়ালে নিজেকে আড়াল করে।  আজ মায়ানমারের রোহিঙ্গারা সেনাবাহিনীর জান্তাদের ধাওয়া খেয়ে পড়ি কি মরি দৌড়িয়ে নিজেকে আড়াল করার জন্য বাংলাদেশসহ পার্শ্ববর্তী বা দূরবর্তী কোন দেশে আশ্রয় চাচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা, বাংলাদেশের মাননীয় প্র্র্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্রয়, প্রশয় , খাদ্য, বস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এই নগণ্যের আন্তরিক অভিন্দন।

যে মানুষগুলো বছরের পর বছর পরিশ্রম করে গ্রামকে সাজিয়েছে, যে গ্র্রামে তাদের বাবা মা আত্মীয় স্বজন চৌদ্দ পুরুষের ঠিকানা ছিল এবং মরার পরও যাদের ঠিকানা হয়েছে; সেই গ্রাম থেকে শুধু মাত্র জাতিগত কারণে তাদের উচ্ছেদ করা হল! শুধু তারা মুসলমান বলে, হিন্দু বলে, রোহিঙ্গা বলে। কি আছে এই জাতিতে! আমরা কি এটা ভাবতে পারি না যে, আমরা মানুষ জাতি। আমাদের একটা পরিচয় আমরা মানুষ। কেন এই জাতিগত বিদ্বেষ। এই জাতিগত বিদ্বেষের কারণে একসময় পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু কি পেয়েছি এই জাতিগত বৈষম্যের ফলে সৃষ্ট দেশ থেকে। যে জাতিগত বিদ্বেষ আমাদের কিছুই দিতে পারল না আমাদের, শুধু মাঝখান থেকে ঝড়ল এদেশের লাখো মানুষের জীবন। অসহায় জীবন যাপন করছে অসংখ্য মানুষ। শুধু আমরা মুসলমানিত্বের দোহাই দিয়ে যে পাকিস্তান নিয়েছি তার পরিণতিতে ঝড়ে গেল অসংখ্য তাজা প্রাণ। আফসোস হয় সেই জাতিত্বে।

আচ্ছা, আমরা যদি শুধু জাতি নিয়েই গর্ব বোধ করি; কেন আজ রোহিঙ্গাদের এই দুঃসময়ে মুসলমানেরা একতাবদ্ধ হচ্ছে না। আজ ধর্ম কেন নিশ্চুপ হয়ে আছে। রোহিঙ্গারা কি শুধুই মুসলমান? তাদের মধ্যে হিন্দুসহ অন্যান্য জাতিও আছে। তবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত কেন নিশ্চুপ আজ? গোটা বিশ্বের হিন্দু সমাজ আজ নিশ্চুপ কেন? বিশ্ব মানবতা কেন আজ নিশ্চুপ কেন?

আর বসে থাকার সময় নেই। আমাদের জাতি হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে জাগ্রত হতে হবে। তবেই এই হিংসা, বিদ্বেষ, হানা হানি বন্ধ হয়ে যাবে। অস্ত্রের খেলা বন্ধ হবে। হতে হবেই এই অমানবিকতা। নইলে গোটা বিশ্ব ব্রহ্মান্ড ধ্বংস হয়ে যাবে।

আজ বড্ড বেশি পড়ছে-

কোথায় জাতি? কোথায় সমাজ?
বিবেক কি জাগ্রত হবে না আজ?

আর কত?
আর কত??
ধ্বংস কত চাই আর?
আর কত মৃত্যু চাই?

লাশের গন্ধে বাতাস ভারী আজ
ধর্মের নাসা পায় নি কি ঝাঁঝ?

জাত পাতের বিচার কোথায়?
ধর্ম কেন নিশ্চুপ আজ?
আর কত?
আর কত???
…………….

আর কত ধ্বংস হবে মানবতার?
মৃত মানবতার-
কিইবা ধর্ম, কিইবা সমাজ?

 

আর তাই প্রশ্ন জাগে- যদি মানবতাই না থাকে তবে; ধর্ম, জাতি- এসবের কিইবা দরকার?

7,851 total views, 3 views today

Related Posts

Share

Comments

comments

রিপোর্টার সম্পর্কে

-

%d bloggers like this: