প্রকাশিত : Mon, Dec 18th, 2017
বিভাগঃ সাহিত্য

শেষ বিকেলের মেঘ- মৃত্যুঞ্জয় সরদার উচ্ছ্বাস (পার্ট-২)-

শেষ বিকেলের মেঘ- মৃত্যুঞ্জয় সরদার উচ্ছ্বাস

পৃতি -অন্য এক দিন বলব। এখন চল ক্লাসে যাই ।
সবাই ক্লাসে চলে যায়। বিকালে রকি তার বন্ধুদের সাথে মিলিত হল সেই হতাশার পয়েন্টে এক পলক পৃতিকে দেখার উদ্দেশ্যে। সেখানে তাদের পরিচয় হল হতাশা গলির সবার প্রিয় শুভর সাথে সে খুব হাস্য উজ্জল। তাকে হতাশা পয়েন্টের নেতা বলা চলে । তবে তাকে দেখে মনেই হবে না সে হতাশায় থাকে। শুভ বিদায় নিয়ে চলে যাওয়ার পরে। রকি অনি ও রবির সাথে কথা বলতে থাকল, সত্য কথা বলতে কি আমি তোদের কথা শুনে মেয়েটির প্রেমে পড়ে ছিলাম ঠিকই। কিন্তু ওর মুখ দেখে আমি পাগল হয়ে গেছি। ভালবাসলে তো ভালবাসাহয় না ভালবাসা তো চেহারায় নয়, সুন্দর মন লাগে সেই মন দিয়ে তোকে মেয়েটার মন জয় করতে হবে বললো, বন্ধু অনি। রবি বললো, সুন্দুরী মেয়েদের একটু দেমাগ বেশি হয়। আমাদের সাবধানে পা এগুতে হবে।’’ বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে রাত দশটার পরে ঘরে ফিরল রকি। পরের দিন বন্ধুরা দুই মটর সাইকেলে করে ভার্সিটিতে চলে গেল। আলতাপ হল এই ভার্সিটির ছেলে সেও পৃতিকে তার প্রেমিকা করতে ওঠে পড়ে লেগেছে। কিন্তু তার সর্ম্পকে ভার্সিটির মেয়েরা অনেকেই জানে। তবে যারা নতুন ভর্তি হয়েছে তারা ওর সম্পর্কে কম জানে। তবে মলি সবজানে। মলিকে লক্ষ্য করলো তারা যে দিকে যায় আলতাপ ও সেই দিকে যায়। তাই সে অনায়াসে আলতাপ বললো- আপনার এখানে কি চাই?
– চাইতো অনেক কিছু পাব কি,না কে জানে!
– আপনি তো অনেক পেয়েছেন আর কত পেতে চান?
– আমি তোমার সাথে কথা বলছিনা। তুমি একদম চুপ কর। আমি পৃতির সাথে বলতে চাই।
পৃতি এক নজর তার দিকে তাকিয়ে দেখল। দেখল চুলগুলো লাল, চোখের নিচে কাল ছাপ। পৃতি দ্রত হেঁটে কমন রুমে চলে গেল। তার বিয়ে শেষ তা সত্তে ও যে চোখে রকিকে দেখছে, সে চোখে রকিকে সে এক মুহত্ব ও ভুলতে পারছে না। বর্তমান রকিকে নিয়ে তার ভাবতে ভাল লাগে। আবার বড় আপার কথা ভেবে নিজে নিজে থমকে যায়। রকিকে কি ভাবে ভুলে থাকা যায় এই জন্য মনে মনে ভার্সিটি বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তা করে। আলতাপ বোকা মুখে চলে যায়। তবে আসা ছাড়েনা। এমন ভাব করে যায় যেন মলিকে কোন এক দিন কাঁচা মরিচ দিয়ে খেয়ে ফেলবে।
প্রতিক্ষা করার মত কষ্ট অভাব কে হার মানায়। রকি যেন উন্মাত হয়ে গেছে। খাওয়া দাওয়া আগের মত নেই। সব সময় যেন কিসের চিন্তার ভিতর ডুবে থাকে। পৃতিকে নিয়ে কল্পনা করতে তার খুব ভাল লাগে। ওকে নিয়ে ওর মা চিন্তায় পড়েছে। না জানি ছেলেটি কি রোগে ভোগছে।
-বাবা শোন্ তোর কি হয়েছে?
-কই কিছু না তো মা।
-তাহলে তুই শুকিয়ে যাচ্ছিস কেন?
-না,মা পড়াশোনার চাপ পড়েছে তো, পরে ঠিক হয়ে যাবে।
-যা বাবা, তবুও তুই ডাক্তার দেখা।
নানান কথায় মাকে ভুলিয়ে রাখে রকি কিন্তু ভিতরটা ক্ষয়ে যাচ্ছে যা কেউ বুঝতে পারে না। পৃতির উদ্দেশে বের হল রকি। হতাশা পয়েন্টে মিলল সকল বন্ধুরা। এখানে যারা পুরানো সদস্য তাদের সাথে বেশ সখ্যতা তৈরি করলো সে। সবার সাথে কথা বলার ভিতর রকির চোখ চলে যায় পৃতিদের ৫তলা ফ্লাটের দিকে। খুঁজে পায়না তাকে। হৃদপিন্ডের চাপ আরো বেড়ে যায়। কষ্টের পাহাড়ে মাথার চুল গুলো তার টেনে ছিড়তে ইচ্ছে হচ্ছে। কষ্টের দেওয়ালে কেটে গেল কয়েক মাস। এই কয়েক মাসে সে কোন ভাবে আসে পাশে যেতে পারিনি। দুঃসহ যন্ত্রনার মাঝে প্রেম আরো গাড় ভাবে দেখা দেয়। চিন্তা রোগের মত এত ভয়াবহ রোগ আর পৃথিবীতে অন্য রোগ নেই। যেমন নেশা, যার অভ্যাস তাকে ছাড়তে চায় না সারা জীবন।
তেমনি পৃতি কে নিয়ে ভাবনাটা তার নেশা থেকে পেশায় দাঁড়িয়েছে। ২৪ ঘন্টা পৃতির সেই নয়ন ভোলানো রূপ কল্পনা করতে ভাল লাগে, কল্পনা করে তার কচি মুখের কথাগুলো। কল্পনা শেষে পাগলের মত হয়ে যায় রকি অট্ট হাসি হেসে ওঠে। এখন তার ইচ্ছে,স্বপ্ন স্বাদ-আহ্লাদ সব যেন তাকে ঘীরে।
‘যখন আপনি কাউকে ভালোবাসেন তখন আপনার জমিয়ে রাখা সব ইচ্ছে গুলো বেরিয়ে আসতে থাকে। এলিজাবেথ বাওয়েন।
*****
অনেক দিন কেটে গেল। ঘরে কত সময় একা একা ভাল লাগে। এখন আর টিভি দেখতে তার ভাল লাগে না। তবে আশিকি ২ ছবিটা তাকে অনেক কাঁদিয়েছে। তবে কি জন্য কেঁদেছে সে নিজে ও জানেনা। নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারছে না। ইচ্ছা করে তার মনটা কারো মনে সপে দিতে। ইচ্ছে করে সে ভাসিটিতে যায় না। আজ পৃতি বহু দিন পরে ভার্সিটিতে প্রবেশ করেছে।
-হায় মলি কেমন আছিস? তোর সাথে কথা বলতে ইচ্ছে নেই আমাদের। মানুষ পাষান হয়, তোর মত পাষান মেয়ে আর কোথায় নেই। ফোন পর্যন্ত রিচিভ করিসনা। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তোর সাথে…….থেমে গেল মলি।
– আমি এত দিন পরে এলাম আর আমার সাথে এমন করছিস কেন? আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা। আর তোরা আমার সাথে …. মিশবিনা। কিন্তু কেন?
– ওই ছেলেটা যে মটরে আসত, চুল লম্বা – রকি ভাই।
– হ্যাঁ বুঝতে পেরেছি। তাই কি বল।
– ওই ছেলেটাকে তুইতো মেরে ফেলছিস। ওর সাথে আমাদের পরিচয় হয়েছে। তুই তাকে এখন দেখে চিনতে পারবি না। ছেলেটার মত ন¤্র, ভদ্র, স্মার্ট মিষ্ট ভাষী আমরা কোথাও দেখিনি।
-থেমে গেলি কেন বলনা ওর সম্পর্কে আমার শুনতে ইচ্ছা করছে।
– শোন ওর সাথে আমাদের পরিচয় হয়েছে, এখান থেকে প্রায় মাস দুয়েক আগে। প্রথম এসে আমাদের দেখে বলছিলো-
-আসসালামু আলাইকুম…….কেমন আছেন আপনারা?
তার ভদ্রতার ভাব দেখে আমাদের মধ্যে আমি বলেছিলাম ভাল। কিন্তু কেন?- আর আপনাকে তো…
– চেনেন না, তাই না!। আমার নাম এম. ডি. রকিবুল রকি। আমি ও অনার্স ৩য় বর্ষে আছি ম্যানেজমেন্টে। ওর নাম রবি, ওর নাম অনি। যদি কিছু মনে না করেন তবে কয়টা কথা আপনাদের সাথে বলব।
শেফালী – বলেন কি বলতে চান শুনি।
– না কর্ম করলে যেমন দুঃখ মোচন হয় না, তেমনি ব্যাথা না বাহির করলে শরীর শোধন হয় না। কিন্তু যার জন্য প্রতিক্ষা করে আছি তাকে তো দেখতে পাচ্ছিনা।
-আপনি কার কথা বলছেন?
– আপনারা নিশ্চয় জানেন তবু শুনছেন। তবে শুনুন, আমি পৃতির কথা বলছি।
– কেন পৃতির সাথে আপনার কোনপরিচয় আছে?
– না, নেই।
-তবে তার সাথে কি?
– আমি যে কি করে বলব তার সাথে আমার কিসের সম্পর্ক। মনে করেন মেঘের সাথে যেমন জলের সম্পর্ক, তারার সাথে রাতের সম্পর্ক ঠিক তেমনি। জীব যেমন নিশ্বাস ছাড়া এক মুহূর্ত্ব বাঁচতে পারে না। ঠিক এ মানুষটি তাকে ছাড়া বাঁচবে না।
লুপিয়ানা- এটা সিনেমার ডায়লক; না সত্যি?
– আপনাদের বান্ধবীকে আমাকে নিয়ে পরীক্ষা করতে বলবেন। দেখবেন সমাধান পেয়ে গেছেন।
মলি – আপনি আমাদের সিনিয়র ভাই আপনি আপনি করছেন কেন?
সরি তুমি-তোমরা।
-মৃদ হেসে শেফালী বললো,সে আপনার মনের কথা তাকে বলেছেন?
তিনি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বল্লেন তাকে বলতে পারলাম কই। শুধু তাকে একবার দেখেছি সেখান হতে আমার যে কি রোগ হল তা আমি নিজেই জানিনা কিন্তু সেই রোগ সারাতে পারলাম না। তার চিন্তায় চুল ওঠতে শুরু করেছে। শরীর যেন আগের চেয়ে দুর্বল লাগে। তিলে তিলে নিজে শেষ হয়ে যাচ্ছি। তবে একটা সত্য কথা বলি আল্লাহ কিন্তু ওর জন্য আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তানাহলে আমি কেন প্রতি রাতে ওকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। ওর সাথে আমার কোন প্রকার কোন সম্পর্ক তৈরি হয়নি। তবে তাকে কেন আমি এক মূহত্ব না ভেবে থাকতে পারিনা। বিধাতা হয়ত আমাকে দিয়ে প্রেমের পরীক্ষা চালাচ্ছেন। সে কালের লাইলি-মজনু হতে পারবো না, তবে তাদের নমুনা স্বরুপ কিছু করতে পারি কিনা চেষ্টা করছি। আমি বুঝি আমি যা ভাবছি তোমরা আমাকে পাগল বলবে। সত্যি কেন জানি আমি পৃতির জন্য পাগল এর মত হয়ে গেছি।
পলি- নিজে কে নিজে নিজে শেষ করা তো পাপ।
– কোনটা পাপ কোনটা পুণ্য জানিনা। জীবনের অন্তরালে পৃতি আমার স্বপ্ন স্বাদ তাকে ঘিরে।
জানিস পৃতি, সে দিন সে আরো অনেক কথা বলেছিলো সে আমাদের মনে নেই। মনে হয় মানুষটার কঠিন রোগ হয়েছে। নয়ত আমাদের ভার্সিটিতে আসা যাওয়া শেষ হত কিন্তু তার আসা মিথ্যা হত না। প্রতি দিনিই এসে তোর অপেক্ষায় বসে থাকত। প্রতি দিনই তোর কথা আমাদের কাছে শুনবে এমন কি তোর বাসা পর্যন্ত ঘুরে আসবে কিন্তু তোকে পেত না । প্রতি দিন তোর কথা জিজ্ঞাসা করবে। প্রতি দিন তোকে নিয়ে একটি করে কবিতা আমাদের এসে শুনাবে।
তোকে নিয়ে ওর কবিতা শুনলে তুই অবাক হয়ে যাবি।
অবাক হওয়ার কথা তা না হলে মনিষিদের বানি তো বৃথা হয়ে যাবে।
প্রেমের পরশে প্রত্যেকেই কবি হয়ে ওঠে। প্লেটো
এত সুন্দর কবিতা সে কিভাবে লেখে। তার কবিতার কাছে নাম করা কবি সাহিত্যিক ফেল হয়ে যাবে। সত্য কথা বলতে কি পরে কেন জানি ওর জন্য খুব মায়া হত। আমরা ভেবেছিলাম তোর বাসায় যাব। বিশ্বাস কর আর এক দুদিন দেখে তোর বাসায় যেতাম। কয়েকদিন তাকে দেখছিনা। মনে হয় মানুষটির কঠিন কোন রোগ হয়েছে। তোরা বল এখন আমি কি করতে পারি?
তোরা যদি আমার ব্যাপারটা জানতিস তাহলে তোরা আমাকে এত কিছু বলতিস না। মলি বললো, জানার দরকার নেই সে কথা। শুধু মানবিক দৃষ্টিতে এটুকু জানি কারও জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা তোর আমার কারও অধিকার নেই।
তুই তো আর ছোট না তোকে উপদেশ দিয়ে রকি ভাইকে ছোট করবোনা। এখন ভেবে দেখ তুই কি করবি? পৃতি যেন সাময়ীক কালের জন্য হতবম্ব হয়ে গেল। তার চোখের কোনে যেন সামান্য বেদনার অশ্রু দেখা দিল। পলি বললো, তোকে যে ছেলেটা কত ভালবাসে তা কেবল আমরাই জানি ।তোকে নিয়ে আমাদের সাথে যখন কথা বলতে বসত তখন ওর চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ত। তোকে নিয়ে লেখা একটি কবিতা এখনও আমার কাছে আছে। ভেনেডি ব্যাগ হতে কবিতা টা বের করলো । কবিতা টি হাতে নিয়ে পড়া শুরু করলো পৃতি।

যদি সত্য হত।

আমার স্বপ্ন গুলো আমার ঘুমাতে দয়েনা
যদি রাত ৩টায় ও ঘুমাই;ঘুম ভাঙে ৬টায়।
আজ সকালে যখন ঘুম ভাঙলো
তখন চোখ পড়লো অন্য ফ্লাটরে টপরে দকি।ে
দখেি টপরে গাছ গুলো তব্রি বাতাসে নুয়ে পড়ছ।ে
বুঝলাম ঝড় বগেে বাতাস হচ্ছ।েএকটু পরে বৃষ্টি ও শুরু হল-
এটা আমার জানার বাইরে ছলি কারণ..
আমার ফ্লাটরে কাঁচরে জানালাটা লাগনো ।
হঠাৎ দরজায় তব্রি আওয়াজ।
তাকয়িে দখেি পৃতি তুমি আসছো..
আমি তো খুশতিে আত্ম হারা
বহুদনি পরে তোমাকে দখেবো হয়ে দষিহোরা।
এসইে বল্ল,েরকি শুরু করো..
আমি কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললাম, ক?ি
অঙ্ক করাও..
আমি অঙ্ক করানো রখেে তাকয়িে রইলাম
ওই কাজল কালো চড়ুই পাখরি ডমিরে মত চোখরে দকি।ে
ভূরু যনে ইডনে গাডনেরে সবুজ ঘাসরে মত
যখোয় সম্য সরকার খলো কর।ে
নাক তার মউ চাকরে মত সুশ্রী,রসে টই টুম্বুর
চোখ ফরোনো যায়না।
দুটি ঠোঁট যনে জাফলংয়রে ডন্ডায়মান দুটি পাহাড়।
যার টানে যাকে ছুঁতে মানুষ থাকে ব্যকুল।
আর গুলো বণনা না করাই ভাল স-ে
গুলো তো ওই বকিালরে আকাশে
ভসেে যাওয়া লাল মঘেরে মত। যাকে ধরা দুঃসাধ্য
উপভোগ করা খুবই চমক প্রদ।
সব কছিু ঠকি আছে যদি
দরজার তব্রি আওয়াজরে পর থকেে সব গুলো সত্যি হত!
পৃতি আমার তুমি, তুমি আমার এটা যদি মিথ্যা না হত।

মলি-শুধু বলত পৃতিকে ভাল বাসি কিন্তু ওকে কোন দিন বলতে পারলাম না। পৃতির মাথা নিচু হয়ে গেল। প্রশ্ন করল নিজের কাছে। কি করবে সে। মেয়েদের বিষয় একটা কথা বলি-কথাটি হয়তো মিথ্যা হতে পারে তবে মেয়েরাই স্বিকার করে তাদের চিন্তা ভাবনার যায়গা টা একটু দূর্বল। একটু চিন্তায় অবতিন্ন হল,তারপর চিন্তার অবকাশ কাটিয়ে উত্তর পুব কোন দিক চিন্তা না করে পৃতি বললো, তাহলে চলনা মলি; ওকে একটু দেখে আসি। তোর কথা শুনে আমি খুব সন্তুষ্ট। কিন্তু ওর বাড়ির ঠিকানা পাবি কোথায়? সবাই চিন্তায় পড়লো। শেফালী বললো, আমরাতো উনার আরো বন্ধুরা আছে তাদের কাছ হতে ঠিকানাটা নিতে পারি। মলি বললো গুড আইডিয়া। যে কথা সেই কাজ ওরা রকির ঠিকানা নিয়ে মগবাজার বাটার গলি রকির বাসায় চলে গেল। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পেল রকির কেøাজ বন্ধু অনি ও রবিকে ও তার সাথে তার আরো অনেক বন্ধুরা। পৃথিবীতে কিছু বির্তর্কিত ঘটনা থাকে তার ভিতর মনে হয় এটা একটা ঘটনা। যে মেয়ের সাথে কোন প্রেম নয়,তার কাছ থেকে প্রত্যাখ্যান হওয়ার কোন বিষয় নয়, তার সাথে কোন পরিচয় নেই। একটু দেখাতেই তার প্রেমে পড়ে তার চিন্তায় রোগ গ্রস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হওয়া। এ কোন ধরনের পাগল,প্রেমে পাগল না ভবের পাগল যে পাগল হইছে সে ও বুঝি নিজে ও জানেনা। অনি এদের দেখে অবাক হয়ে গেল। মনষার বাড়ীতে চাঁদের প্রবেশ । সাজুর সাথে সামান্য হলে রকির সুবাদে পরিচয় আছে মলিদের। উভয়ের মধ্য কুষল বিনিময় হল। এক পর্যায়ে পৃতি বললো, রকি কেমন আছে জানেন ভাইয়া? সাজু যেন আকাশ থেকে পড়ল। আমি যা ভেবেছিলাম তার ব্যাতিক্রম দেখছি না। তবে তোমার জন্য বড় আপসোস লাগে আবার দোষ ও দেই না। শুধু জানি রকির যে রোগ তার ঔষধ নেই। পৃতি বিস্ময়ে বিহবাগ হয়ে বললো, মানে কি ?
– রোগটা চিন্তা রোগ হয়ত অবাক হচ্ছো তোমরা, তবে ডাক্তার একে সঠিক নাম বলতে পারিনি তবে তিনি মন্তব্য করেছেন এটা এক প্রকার মানসিক রোগ। কারো নিয়ে চিন্তা করতে করতে এটা এক সময় অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। অভ্যাস থেকে রোগে পরিনত হয়েছে। চলুন না ওর রুমে যাই। চল। ওরা সবাই সাজুর সাথে রকির রুমে প্রবেশ করল। অনি বাইরে রবির সামনে গোবর গনেশের মত বসে আছে। অনি বললো,ছোট বেলার কথা তোর মনে পড়ে রবি । তুই, আমি রকি ফিতা বাটুল নিয়ে যাইতাম হরিসাধন সরদারদের বাগানে। ওর ছোট ভাই হরে কৃষ্ণ কিন্তু মানুষ ভাল তার ব্যাবহারে মন ভরে যেত। কিন্তু একটু বদ মেজাজি স্বভাবের নিজে যাকে শত্রু মনে করে তার পক্ষে যদি হাজার ও লোক থাকে সে তার দিকে যায় না। যাইহোক লোকটির বাগানে রকি যে দিন দুই টি পাখি তার ফিতা বাটুলে মেরে ছিল আমরা কিন্তু সেদিন একটা ও পাইনি। ও আমাদের দুজন কে ওই ২ পাখি দিয়ে কি বলেছিল জানিস? মনে নেই বন্ধু, বললো রবি। বলেছিল এ ২ টা তোদের দিলাম। ও দিতে দিতে আরো কি বলেছিল মনে আছে তোর, আমি অনেক দিন বাঁচবো তোরা বেশিদিন বাঁচবিনা নে তোরা নে। তুই অবশ্য ওর উপর রেগে গিয়েছিলি। কিন্তু আমি রাগি নি। তবে এখন রেগে যাচ্ছি। রবি অভিমানে অনির কথা গুলো শুনছে। চোখ মুখ একে বারে লাল।
কেউ যদি তোমার ভালোবাসার মূল্য না বুঝে তবে নিজেকে নিঃস্ব ভেব না। জীবনটা এত তুচ্ছনা। বসন্ত বাউরি।
রুমে ঢুকতেই দেখা গেল গোটা সাতেক লোক বসে আছে। তাদের মধ্যে ২ জন নামি ডাক্তার। এক জন প্রদীপ মন্ডল আর একজন সাহাবুদ্দিন। রকিকে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কথা হচ্ছে। রকির পিতা শহিদুল সাহেব বুঝতে পারলেন যে রকির ভার্সিটি থেকে তার আরো কিছু সহপাঠীরা দেখতে এসেছে । উনি বললেন, সাজু তোমরা এস। সবাই রকির রুমে ভিতর প্রবেশ করল। কেবল সাজুর প্লান পরিকল্পনা মত পৃতি বাইরে দাঁড়িয়ে রইল। রকি খাটের ধারার গায়ে আধভাঙা শুয়া ভাবে শুয়ে আছে। তবে শহিদুল সাহেব রিতি মত বিস্ময়, ছেলেকে খাওয়ানোর জন্য তুলে বসাতে হয় সে ছেলে কিভাবে নিজে নিজে উঠে আধাশোয়া হয়ে শুয়ে রইলো। গায়ের তথা বুকের হাড় গুলো দেখা যাচ্ছে। চুল গুলো রুক্ষ খুবই পাতলা। মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছেনা এটা রকি। ওর মা দাড়িগুলো আজ সকালে কেটে দিয়েছে। গালের চোয়াল ভিতরে ঢুকে গেছে। সাথে চোখ দুটিও। গায়ের চামড়া একে বারে সাদা হয়ে গেছে। দেখে মনে হচ্ছে এক জন গায়ে হালকা বিদেশী রোগী। কথা বলে ফিস ফিস করে। সাজুর সাথে পৃতির বান্ধবীদের দেখে রকি যেন চোখ একটু বড় বড় চাইলো। কি বলবে তার কোন ভাসা নেই। সে খাড়া হয়ে বসার চেষ্টা করলো এবং বসলো আবেগ আপ্লুত হয়ে হাত পা মুখ কাঁপাতে কাঁপাতে বললো মলি-। রকি কে দেখে চোখে পানি ধরে রাখতে পারলো না মলি। ভেজা ভেজা কণ্ঠে মলি বললো, ভাল আছেন রকি ভাইয়া? রকি ফিস ফিস করে বললো, ভাল,বস বস তোমরা বস,তবে….। ডাক্তার কিছু টা হলেও আঁচ করতে পারলেন তার রোগের তাই তো শহিদুল সাহেব ও আর যারা ভিতরে ছিলেন তাদেরকে নিয়ে বাইরে চলে গেলেন।
যে ভালোবাসা পেলনা,যে কাউকে ভালোবাসতে পারলোনা,সংসারে তার মতো হতভাগা কেউ নেই। কিটস

ডাক্তার বুছি যাওয়ার সময় উপরের কথা গুলি বলার চেষ্টা করেছিল। যাইহোক রকির চেহারা দেখে বান্ধবীরা কেউ বিশ্বাস করতে পারছেনা এটা রকি। মলির চোখের পানি গড়িয়ে নিচে পড়ল। মলি বললো, তবে বলে থামলেন যে, রকি ফিস ফিস করে বললো, না মানে আমার দেখার জন্য তোমরা আসবে তা আমি ভাবতে পারিনি। বলার সাথে সাথে শুকনো বালি থেকে যেন দু’ফোটা জল শূন্য মরু উদ্যানে লুটিয়ে পড়ল রকির। রকির কথা গুলো ঠিক যেন ৮০ বছরের বুড়োর মত। বললো, আমি হয়ত আর বাঁচবো না। তবে এক জনের দেখার সাধ ছিল কিন্তু শরীর আর পারে না। আর বুঝি…….
দরজার বাইরে হতে ভিতরের সব কথা শুনছিল পৃতি । রকির এই কথা শোনা মাত্রই পৃতির চোখে পানি চলে আসল। ও যেন আর দাঁড়াতে পারছেনা ইচ্ছা করছে রকির বুকে দৌড়ে লুকায়ে ওর সকল ব্যাথা দুর করে দিতে। মলি বললো, চুপ করুন আপনি সে ব্যবস্থা হয়ে যাবে। সাজু নিজের চোখের জল মুছে বললো, তুই চুপ কর রকি। রকি একবুক আশানিয়ে বললো, ও কি আর কম্প্যাসে আসেনা মলি? রকির কথা বলার ভঙ্গি দেখে মলির কন্ঠস্বর যেন আরো স্তব্দ হয়ে গেল। দুঃখময় কন্ঠে শেফালী বললো, কেন ও আপনার জীবন বুঝি?
– জীবন না মরণ কি করে বুঝবো। শুধু বুঝি ও আমার অগ্নি শিখা যাতে মানুষ পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। তবু দমবার নয়। জানো মলি আমার ভালবাসায় কোন খাত আছে কি’না এটার পরীক্ষা করছেন আল্লাহ তালা। আশা করি এ পরীক্ষায় আমি পাশ করবো। তবে জান মলি, দোষ আমরাই হয়ত তোমরা বা অন্য লোকে শুনলে আমাকে পাগল বলবে । আসলে ওকে নিয়ে আমার সব সময় ভাবতে ভাল লাগে । তুই না একটু ও কথা বলতে পারিস না এখন গড় গড় করে কথা আসে কথা থেকে ? চুপ। আর ভাবতে ভাবতে কঠিন রোগ বাধিয়ে নিজে ও জলছিস সবাইকে জালাচ্ছিস একটু কান্না জড়িত কণ্ঠে বললো সাজু।
লুপিয়ানা-আপনি ওকে ভুলে যেতে পারেন না?
– ও কথা বলনা লুপি, তাহলে পৃতিকে আমার অশ্রদ্ধা করা হবে। আর আল্লাহ তালা আমাকে দুর্বল ভাববেন।
শেফালী বিষয়টা বুছতে পারলো যত গুলো বন্ধুরা ওরা এক সাথে মেশে তার ভিতর শেফালী খুব চালাক। কাউকে পরোয়া করেনা। একটু দর্জাল স্বভাবের। সে একটু চালাকী করে বললো, আচ্ছা রকি ভাই মনে করেন আপনার পৃতি আপনার সামনে এসে গেছে। তখন আপনি কি করবেন?
– কি করব? যদি দেখার সুযোগ দেয় তা হলে দু চোখ ভরে দেখব। যদি কথা বলার সুযোগ দেয় তবে বলব। কি বলবেন? বলব, জীবনে তো তোমাকে পেলাম না, তবে পরপারে তোমার যেন দেখা পাই। এটাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা । কারণ তুমি আমার ভোগের সমগ্রী নও, তুমি আমার মনের সামগ্রী। একথা বলার পরে রকি আর কোন কথা বলতে পারল না কষ্টে তার চোখ বন্ধ হয়ে গেল। কথা গুলো খুবই আবেগী কিন্তু এই কথা গুলো শোনার পর শেফালী মনে মনে ভাবলো আসলেই রকি ভাই পাগল হয়ে গেছে। ভিতরে ভিতরে হেসে ফেলল। এই কথা শুনে বাইরে আর দাঁড়াতে পারল না পৃতি দৌড়ে রকির সামনে আসার চেষ্টা করল কিন্তু এমন সময় রকির মা ভিতরে প্রবেশ করলো। পিছে পিছে অনি ও রবি প্রবেশ করলো। সবাই উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলো । ঠিক যেন শ্রেনী কক্ষে কোন মেম সাহেব প্রবেশ করেছে। সাজু বললো, কেমন আছেন আন্টি?একবুক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন ছেলে আমার ভাল নেই, আমি ভাল থাকি কিভাবে! তোমরা ভাল আছো তো? সমাবেত কষ্ঠে উচ্চারিত হল,ভাল। তিনি ছেলেকে ঔষুধ খাওয়ালেন। তারপর রবি একে একে সবার সাথে ওনার পরিচয় করিয়ে দিল। শেলিনা বেগম বললেন, একটা মেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে কেন? রকির বুকের ভিতর বিদ্যুতের মত তড়িৎ করে উঠল। ঠিক যেন বাড়ীর তেতুল গাছ থেকে কয়েক শ বক পাখি এক সাথে উড়ে যাওয়ার মত। বক পাখি যখন উড়া শুরু করে সেটা নিজের আনন্দে । কিন্তু যারা দর্শনার্থী থাকে তাদের পরান ফাঠে। সাজু ইনিয়ে বিনিয়ে বললো, আপনি একটু বইরে যান জান আ্যন্টি। কথার ধরণ শুনে মায়ের মন বুঝতে বাকি থাকে না কোথার পানি কোথায় যাচ্ছে। উনি বাইরে চলে আসলেন এক নজর পৃতির দিকে চাইলেন এবং মনে মনে বললেন মেয়েটা তো খুবই সুন্দরী। পৃতি হাত উঁচু করে সালাম দিতে যাবে এমন সময় মুখ ঘুরায়ে চলে গেলেন শেলিনা বেগম। মেয়েটা সালাম দিতে চাচ্ছিল না না হাত উঁচু করছিল বুঝতে ও পারলোনা। রকি ভেজা ভেজা কন্ঠে বললো বাইরে কে অনি ? দুয়ার থেকে এসে পৃতি বললো, আমি তোমার আমি।
ভালোবাসা এবং যতœ দিয়ে মরুভূমিতেও ফুল ফোটানো যায়। ডেভিড রস
হয়ত ডেভিড রসের কথা বাস্তবায়ন হতে চলেছে। পৃতি আবেগ আপ্লত হয়ে বললো, যে বোঝেনি তোমার সেই মনের ব্যাথা আমি সেই। তোমার এ রোগের জন্য আমি দায়ী। তুমি আমাকে মাপ কর না। কিছু কিছু ভাষা সেটা সিনেমার ডায়লগের মত। বাস্তব কে নিয়ে কিন্তু সিনেমা বা নাটক রচিত হয় যেটা আমরা উপলব্দি করলাম।
প্রেম শ্বাশত-পবিত্র কোথাও এর ঘোর পেচ থেকে যায়। রকি যেন পাথর হয়ে গেল। চোখ গুলো যেন দাঁড়িয়ে গেল। মুখে কোন কথা নেই। সে স্বপ্ন দেখছে না আগের মত কল্পনা করছে কিছুই বুঝতে পারছে না। ভাবনা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই দেখল পৃতির চোখ দিয়ে রকির মত জল ঝরছে। মুখে কোন কথা নেই শুধু ঝর্ণার নিকাশ। ব্যথা ভরা হৃদয় নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে আছে পৃতি। পৃতির ইচ্ছা করছে হাত দিয়ে ওর চোখের জল মুছে দিতে। কিন্তু সে তো অন্য সুরে গাঁথা তার কাছে রকি পরপুরুষ। কিন্তু পৃতি দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। পাশে বসে মুছে দিল চোখের পানি। রকির চোখের পানি রোধ করল ঠিকই কিন্তু নিজের চোখের পানি বাধা পেল না । রকি এক নয়নে তাকিয়ে আছে পৃতির দিকে। ইচ্ছা করছে হাত দিয়ে ওর চোখের পানি মুছে দিতে। কিন্তু বাহুতে সে শক্তি নেই । শুধু মুখ দিয়ে কথা বলতে পারে তাও আবার অস্পষ্ট।্্্্্্্্্্্্্ তাও আজ যেন বহু দিন পর বেশি কথা বলছে। আপসোসে আবার ও চোখে পানি এসে গেল। রকি শুধু বিড়বিড় করে বললো,পৃতি। পৃতি ফুপিঁয়ে কেঁদে উঠলো। আপনি এ কেমন হয়ে গেছেন? এমনটি কি কেউ করে। আপনি কেমন ছিলেন আর এ কেমন হয়ে গেছেন? সবাই তাকে তাকে শান্তনা দিতে থাকলো,সবার মুখ দিয়ে নানান কথার ফুল ঝুরি ঝরতে থাকলো। তাতে আর কিছু না হোক একটা বিষয় প্রতিয়মান হলো যে আসলে দুজন দুজনকে অনেক মিস করতো কিন্Íু রকির ব্যাটে বলে টাইমিং না হওয়ার কারণে সে উপস্থাপন করতে পারিনি। আর পৃতির কোথাও একটা বাধা আছে সেটা সে অপ্রকাশ করলো। রবি বললো, তোমরা যদি কিছু না মনে করো তাহলে চল সবাই আমারা একটু বাইরে যাই স্পেশাল কথা আছে। রবির কথা মত পৃতি ছাড়া আর সবাই বাইরে আসল। বাইরে আসার পর রবি বললো, আমার মন বলছে পৃতি যদি বেশ কয়দিন রকির পাশে থাকে তাহলে ওর রোগের অগ্রগতি হবে। কারণ রোগ টা সম্পূর্ণ মেন্টালিটি স্যাটিক্সফেকশন। শেফালী বললো, ঠিক বলেছেন এটা মেন্টালী ছাড়া আর অন্য কিছু নয় আমার ও মন তাই বলছে। সবাই আবার ভিতরে আসল। পৃতি, যা হওয়ার তো হয়ে গেছে, এখন তুই পারিস ওনাকে বাঁচাতে। সে জন্য এখানে তোর কয়েক দিন থাকা দরকার, বললো পলি।তা কি করে হয়, বাসায় কি জবাব দেব। মলি বললো, সে দায়িত্ব আমার। তুই আমাদের বাড়িতে কয়েকদিন আছিস এই বলে আমি তোর মায়ের কাছে ফোন করব।
কিন্তু…
কোন কিন্তু নয়, তুমি ওকে ভাল না হয় নাহি বাসলে তোমার কারণে আমার বন্ধুটা যদি বেঁচে যায়,এই মানব জীবনে তোমার এর চেয়ে বড় পাওয়া মনে হয় আর কিছু থাকবে না। হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টি করে কথা গুলো বললো অনি। অনি সে খাট করে মুখে দাড়ি আবুনূর আলম ভুলুর ছেলে। গ্রামের বাড়ী শ্যামনগর থানার রমজাননগর ইউনিয়নে, ইউনিয়নে যদি ধণি নির্নয় কারা হয় ওরা সেরা তিনে অবস্থান করবে। একটু কম কথা বলে তবে মাঝে মাঝে এমন মূল্যবান মূল্যবান কথা বলে যে কথার ফেলে দেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই। পৃতি আরো অনেক সময় ভাবান্বিত হল তার আস্তে আস্তে বললো, ঠিক আছে। রবি বললো, তাহলে কোন কথায় নেই আমার বন্ধু এবার চরম লেবেলের ভাল হয়ে যাবে। রবি কিন্তু খুব দুষ্টু প্রকৃতির কথা টা বলে গোপে একটা হাসি দিল। পৃতি কিছু বলতে পারলো না। বসে রইল রকির পাশে। সবাই বাইরে চলে গেল।
পৃতি ভেনেডি ব্যাগ হতে কমলা ও আঙ্গুর বের করল। রকি তাকিয়ে আছে অপলক দৃষ্টিতে, ভাসা সেখানে নিস্তব্দ, এখানে অন্য কিছু নেই আবেগ ছাড়া। যে আবেক সাগর সম। সেখানে পৃতি নদী হয়ে বয়ে গেলে সব দুঃখের তবেনা অবসান ঘটবে।
জীবন যেন একটা ফুল আর জীবনের ভালোবাসা হলো মধু স্বরুপ। সেকেনা
রকির জীবন যেন ফুলে পরিনত হয়েছে মধূ মাখা হয়েছে ভালোবাসা। শেফালী আর একবার রুমে ঢু মেরে বললো, পৃতি তুই এখানে থাক আমরা প্রতি দিন এখানে আসব। পরে সবাই রকির বাবা মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল। যাওয়ার আগে রকি ও পৃতির বিষয় টা বাস্তবিক কথার মাধ্যমে শহিদুল সাহেব ও শেলিনা বেগমকে বুঝিয়ে দিল অনি। স্বামী-স্ত্রী দুজন রকির রুমের দিকে এগিয়ে গেলেন। জানালার ফাঁক দিয়ে দেখলেন পৃতি রকিকে আঙ্গুর খাওয়াচ্ছে। শহিদুল সাহেব বললেন,দেখ আমার ছেলের সব রোগ ভাল হয়ে যাবে।
-তুমি বুঝলে কিভাবে?
-যে রোগের সেই ্ঔষধ পড়ছে।
-মানে
– ওদিকে তাকিয়ে দেখ।
ছেলের রুমের দিকে তাকিয়ে দেখে শেলিনা বেগম মুখে আঁচল দিয়ে ফিক করে হেসে পড়লেন। মায়ের মনে বহুদিন পর প্রশান্তির হাসি। মা বললেন, এখন তাদের সামনে যাওয়া যাবে না চল নিচে যাই । প্রেমের নেশা না মানে না লাজ লজ্জা, না বোঝে মান, না সম্মান, না মানে ভয়। তখনও রকির চোখ যেন ফেটে যাচ্ছে। সে যেন পৃতিকে দেখার নেশা কাটাতে পারছেনা। আসলে মেঘ না চাইতেই জল! কেনা হতাশ হয়। ও কি ভেবে উঠেছিল যার সাথে কথাবার্তা নেই, নেই কোন প্রেম-ভাল বাসা,অথচ তাকে এত নিবিড় করে কাছে পাবে। রোগের লক্ষণ দেখে ঔষধ দিলে দ্রত কাজ হয়। যেমন খরা যায়গায় হঠাৎ পানি পেলে মাটি গলে চাষের উপযোগি হয়ে যায়। রকি শরীরের দিক থেকে না হোক মনের দিক থেকে সুস্থ তা বোধহয় বোঝাই যাচ্ছে। আগের চেয়ে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। পুবের আলো পশ্চিমে যেতে না যেতেই ধীরে ধীরে আঁধার ঘনিয়ে আসল। রকির মা রুমে প্রবেশ করলেন। পৃতির সাথে অনেক সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হল। কথার বলার সময় উপলব্দি করলো তার ছেলের শরীরে আর কোনা রোগ নেই, দেখে মনে হচ্ছে সারাদিন খুব পরিশ্রম করছে তাই শুয়ে আছে। হঠাৎ রুমে প্রবেশ করল শহিদুল সাহেব। তাকে দেখে উড়নাটা মাথায় দিল পৃতি। মনে হচ্ছে নিজের হবু শ্বশুর মহাশয় ।
শেলিনা-কখন আসলে তুমি ?
শহিদুল সাহেব-কেবল তো আসলাম,রকি কি ঘুমিয়ে গেছে?
– হু।
-ও আচ্ছা চল খেতে দেবে।
– চল।
এর ভিতর কখন যে রাত ১১:৩০ বেজে গেল কেও খেয়াল করল না। শেলিনা বেগম বললেন,পৃতি মা চল খাবে। পৃতি বললো, রকি খাবে না? তুমি ভাত নিয়ে এসে যদি পারো রাতে একবার খাওয়াইও, হয়ত খাবে না তবে তুমি চেষ্টা করো। লজ্জায় মাথাটা আস্তে আস্তে নিচু করলো পৃতি।
ডাইনিং টেবিলে খাওয়া শুরু হল । খেতে খেতে শেলিনা বেগম বললেন, তুমি আমাদের একটা কথা রাখবে?
– বলুন ।
– তুমি কিন্তু ভাত খেতে খেতে বলছ।
– আচ্ছা ঠিক আছে বলুন।
– আমি জানি আমার ছেলে সুস্থ হওয়ার পথে। মা তুমি আমার ছেলের জীবন ফিরিয়ে দিয়েছ। তাই তুমি ওকে বিয়ে করবে…..। কথাটা শোনার পর পৃতির পৃথিবীটা যেন লাটিমের মত ঘুরতে থাকলো। গালে যেন ভাত আর উঠছে না হাত টা থর থর কাঁপতে শুরু করেছে। কি বলবে না কিছুই ভেবে পাচ্ছেনা। এক দিকে রকির অসুস্থতা এক দিকে স্বামি, মা-বাবা।
-আপনি আমার বিষয়ে কিছু জানেন না। জানলে আপনি আর……………
-কিছু জানতে চাইনা শুধু জানি আমার ছেলে তোমাকে ছাড়া বাঁচবে না। মা তুমি কিন্তু আমায় খেতে খেতে কথা দিয়েছ। যে তুমি আমার কথা রাখবে। শহিদুল সাহেব বললেন,পৃতি জীবনে চলার পথে অনেক ঘটনা ঘটে যায়। সব কিছু মনে রাখতে হয়না। তাহলে জীবন সুন্দর ভাবে চালনো যায় না। জীবনটাকে সুন্দর ভাবে গড়তে হলে অনেক সময় অনেক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়। তোমার কারণে যদি আমার ছেলে তার সুখ স্বপ্ন ফিরে পায়। তাহলে আমাদের মত খুশি আর কেহ হবে না। কে’না চায় তার সন্তানকে সুখি দেখতে। পৃতি আবার ভাবতে শুরু করল। কিছুক্ষণ ভেবে বললো আঙ্কেল-আন্টি আমি আপনার ছেলের বউ হব, আল্লাহ আমায় যে কয়দিন বাঁচিয়ে রাখে তার একদিন হলে ও আগে। শেলিনা বেগম ভাবলেন মেয়েটা পড়াশুনায় ভাল তাই পড়াশুনার জন্য ও তার আবেগের কথাই বলছে। তাই তিনি আর কিছু না বুঝে হাসতে হাসতে বললেন আচ্ছা ঠিক আছে। কিন্তু পৃতির কথাটি শহিদুল সাহেবের মনে খটকা লেগে গেল। তবে তিনি চেপে গেলেন। রাতে অন্য রুমে ঘুমালো পৃতি। ঘুমে যাওয়ার আগে রকি কে খাওয়ানোর খুব চেষ্টা করেছিল কিন্তু রকির ঘুম ভাঙাতে পারিনি। পরদিন সকালে ভোরের আগে ঘুম ভেঙ্গেছে রকির। তার বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা তার পাশে আছে। রাতে ভাবতে চাইলেও ভাবতে পারেনি রকি। এখন সে অনেকটা সুস্থ। খাটে বসে থাকার সক্ষম হয়েছে। কিন্তু হাঁটার ক্ষমতা নাই। পৃতি সকাল সকাল উঠেছে তখনও পাখি ভালোভাবে ডাকা শুরু করেনি। পৃতি রকির রুমের সামনে এসে দেখল রকি বসে আছে। পৃতি বললো গুড মরনিং -রকি বললো গুড মরনিং
– তুমি বসতে পারছো?
– তুমি পাশে থাকলে বসতে কেন, আমি উড়তে পারব। পৃতি রকির পাশে বসল। পৃতি বললো, তুমি খুব ভালো। নাও ব্রাশ কর। পৃতি তাকে নিজ হাতে ধরে ব্রাশ করাচ্ছে। রকি ওর মুখের পানে দাঁত বের করে ডাগর ডাগর চোখে চেয়ে আছে। পৃতি তার চোখের নেশা রাখতে পারল না বললো,অমন করে কি দেখছো। রকি কিছু বলেনা। কেন জানি রকিকে ছোট্ট করে চুমু একে দেয়ার চিন্তা করে, চোখের কাছ হতে মুখ ফিরিয়ে আনল। রকি বিহবলে আত্মহারা হয়ে গেল। তারপর পৃতি খুব ভাল করে মুখ ধৌত করে দিল । হাঁটি হাঁটি পা পা করে পৃতির দিন ফুরিয়ে এল। এই ভাবে কখন যে ৪ টা দিন কেটে গেল তা সে নিজে ও জানেনা।
রবীন্দ্রনাথের কথা -যেতে নাহি দিব হায়,তবু যেতে দিতে হয়।
বুক ফেটে কান্না আসছে পৃতির। এত দিন সে যে মায়া মমতায় ডুবে গিয়েছিল তা সে কি ভাবে ভুলবে। এ ভাষা, এ কথা, এ দৃশ্য কি ভোলার যা কোন নারী বিয়ের পরেও করার সুযোগ পায়না। বাড়ী যাওয়ার প্রশ্ন তুলতে রকির বুকটা পাথর হয়ে গেল। বিকালের অস্ত যাওয়া সূর্যের মত হয়ে গেল। বিস্ময়ে মুখটা যেন বিহলিত । ঠিক যেন রবীন্দ্রনাথের অপুর ন্যায়্ বারে বারে চায় । যেন এ দেখা তার শেষ দেখা আর বুঝি তার সাথে আর দেখা হবে না। মন মানে না অনেক কারণ। তবুও মানতে হয়। চলে যাওয়ার আগে পৃতি রকির পাশে বসল। কারও মুখে কোন কথা নেই। শুধু দুজনার চোখে জল টলমল। আবেগেই রকির বুকে ঝাপিয়ে পড়ল পৃতি। জড়িয়ে ধরল রকি পৃতিকে। কাঁদ কাঁদ সুরে পৃতি বললো কথা হবে দেখা হবে ভার্সিটিতে ঠিক মত এস। হঠাৎ রকির মা রুমে ঢুকার আওয়াজ পেয়ে দু’জন সরে বসল। এর পর সবার কাছ থেকে ব্যাথা ভরা বিদায় নিয়ে বাসার পথে পা বাড়াল পৃতি। যে ব্যাথায় মা বাবা দুজনই কাঁদতে হল । রকি নির্বাক।
*****
বাড়ীতে এসে উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সবকিছু ঠিক করে নিল পৃতি। সব কিছু ঠিক রাখতে তাকে বেশি সাহয্য করেছে তার বন্ধুরা। তবু পৃতিকে মা শাসনের সুরে বললো এত স্বাধীনতা ভোগ করা তোমার উচিৎ নয়। কারণ তুমি ভুলে যেওনা তুমি কারও ঘরের ঘরনী। কথা উঠতেই মনের ঘরে বিদ্যূতের মত তড়িৎ করে উঠল পৃতির। মনে পড়ে গেল ভাত খেতে বসে রকির মাকে দেওয়ার কথা। বাতাসের ঝড় এক সময় না এক সময় থামে। কিন্তু মনের ঝড় থামতে দেরি হয়। ঝড় বয়ে চলছে পৃতির বুকে। তাকে তার মা আনন্দের সহিত জানাল অচিরেই তার স্বামী তাকে দেখতে আসবে। এই আনন্দের সংবাদ তার অন্তর বেদনায় ক্ষত বিক্ষত হল।
রকি এখন পুরোপুরি সুস্থ। তবে তার স্বাস্থ্য এখনো ভালো ভাবে ঠিক হয়নি। সে ভাবতে লাগল রবিবার মানে আর দুদিন পর পৃতির কথা অনুযায়ী ভার্সিটিতে যাবে কথা হবে। পৃতির সাথে দেখা করার, অপেক্ষার দিনগুলি যেন ফুরাতে চায় না। রবিবার দিনটা ঠিক মত এসে গেল রকি ভার্সিটিতে চলে বন্ধু অনি ও রবিকে সাথে নিয়ে। কিন্তু ভার্সিটিতে এলনা পৃতি। আঘাতের ভাঙ্গা বুক যেন আরো ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেল। তার স্মৃতির কোষ গুলো যেন অকেজো হয়ে পড়ছে। দেখা হল শেফালী বাহিনীদের সাথে । মলি বললো, পৃতি আজ আসবে না। রকি বললো, কি কারণ? মলি বললো, তার নাকি কি কাজ আছে তাই আসতে পারবেনা। ক্ষত মন তার বিকল হয়ে গেল। রকি মলির কাছে পৃতির ফোন নাম্বার চাইল। মলি বললো, লাভ নেই কারণ ও ফোন ব্যাবহার করেনা।
-বড় বিশ্ময়কর বিষয় এযুগের মেয়েরা ফোন ব্যাবহার করেনা। এটা কোন কথা বললে মলি?
– কি বলবো বলেন রকি ভাই। এক জন আর এক জনের যতই ক্লোস হইনা কেন তার সম্পর্কে কিন্তু সব কিছু জানা যায়না। আর সব সময় হাসি খুশি থাকলে ও ওর ভিতর কোন এক সমস্যা মনে হয় আছে। যেটা সে আমাদের সাথে সেয়ার করেনা।
বন্যা-আমি যেন ওর হাসি খুশি দেখে মনে করি ও এসব জোর করে করছে।
অন্ধভাবে কাউকে ভালবাসলে তার ফল শুভ হতে পারেনা। কারলিন
রকির জীবনে তাই ঘটেতে চলেছে বুঝি- রকির আবার শুরু হল অপেক্ষা করার পালা। বেদনার নীল আকাশ আবার যেন তার জীবনে এসে ধরা দিল। যে আকাশে নেই কোন তারা। শুধু কালো আঁধারের ছড়াছড়ি। দিনের পর দিন রকি ভার্সিটিতে এসে ফিরে গেল। প্রতি দিন বনশ্রী ই বল্কে হতাশা গলির আস-পাশে ঘোরা ঘুরি করে কিন্তু একটি বারের জন্য ও পৃতিকে দেখতে পাইনি। আজ রকি ভার্সিটিতে আসেনি। কিন্তু পৃতি বাসার সবার বাঁধ অপেক্ষা করে ঠিক ভার্সিটিতে এসেছে। কিন্তু রকির দেখা পেল না। মলি বললো ও প্রতিদিন এসে ফিরে যাচ্ছে। তোর জন্য বেচারাটা পাগলের মত তুই কি রে পৃতি তোর সমস্যা কি? পৃতি কথা ঘুরায়ে বললো ও বুঝি আগের মত হয়ে যাচ্ছে। মলি বললো ঠিক তাই। তোরা এখনই ওর বাড়ীতে যেয়ে ওকে নিয়ে আয়। ওর বাড়ীতে না যেয়ে ওর কাছে ফোন করলেই তো হয় বললো শেফালী। মলি বললো, ওনার কাছে যে ফোন করবো ওনার নং আছে কারো কাছে? কেউ কোন কথা বলেনা। পৃতি বললো, ওর বাসায় যা এই নে টাকা ওকে নিয়ে আয়না দোস্ত। বন্যা বললো তোর কাছে কি টাকা চেয়েছি। মলি বললো, চল আমরা এক সাথে ওর বাসাতে যাই। আমি যেতে পারবোনারে আমার অনেক সমস্যা, বললো পৃতি। বন্ধুর কথা রাখতেই মলি ও বন্যা রকির বাড়ীতে গেল। সেখানে গিয়ে তাকে পেল না। রকির মা বললো রকি বাড়ী নেই, আজ কয়দিন হল ছেলে আমার যেন আবার কেমন হয়ে যাচ্ছিল। তাই ওর নানার বাড়ী পাঠিয়েছি। পৃতি মা কেমন আছে ও আসল না যে? বন্যা বললো, আন্টি ও আপনাদের এখানে বেশ কিছু দিন ছিল তো এই কারণে ওকে বাসা থেকে একটু চাপ দিয়েছে তাই আসতে পারিনি। মলি রকির ফোন নং নিয়ে রকির আম্মুর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ভার্সিটিতে আসল। বিস্তারিত সব খুলে বললো পৃতিকে। পৃতি বললো,ফোন নং নিয়ে এসেছিস ফোন কর। মলি বললো, সে কথা তোর বলা লাগে আমি কয়েক বার ট্রাই করেছি। কিন্তু নং বন্দ পাচ্ছি মনে সে নেটের বাইরে আছে।—

শেষ বিকেলের মেঘ- মৃত্যুঞ্জয় সরদার উচ্ছ্বাস (পার্ট-৩)-

12,189 total views, 2 views today

Related Posts

Share

Comments

comments

রিপোর্টার সম্পর্কে

%d bloggers like this: