প্রকাশিত : Mon, Dec 18th, 2017

শেষ বিকেলের মেঘ- মৃত্যুঞ্জয় সরদার উচ্ছ্বাস (পার্ট-৩)-

পৃতি বাড়ী থেকে এখন বিনা হুকুমে বের হতে পারে না। একদিন এসে ও রকির দেখা পেল না। মনটা খারাপ করে বাড়ী ফিরল। দিন-দিন পৃতির চিন্তা যেন বেড়েই চলছে। রকির বাবা মাকে দেওয়া কথা ও কিভাবে রাখবে। বড় বোনের কথা চিন্তা করলে নিজের অসহায় মা বাবার কথা চিন্তা করলে ও যেন পাগল যায়। আবার তার স্বামীর পরিবার খুব ধার্মিক। তাদের মনে দুঃখ দেওয়ার কথা চিন্তা করলে, মনের মনি কোঠায় স্থানকারী রকির কথা চিন্তা করলে বারে বারে সে যেন দিক বিদিক হারিয়ে ফেলে। সে খুঁজে পায় না কোন দিকটা তার সঠিক দিক। এভাবে তার দিন কেটে যেতে থাকে। সে আবার ভার্সিটিতে য়ায়। দুদিন এসেও দেখা পেল না পৃতি রকিকে। দেখা পাবে কি করে। এদিকে মামার বাড়ীতে আটকা পড়ছে রকি। মামা তার ব্যাক্তিগত কাজে বাইরে গেছে; বাড়ীতে স্ত্রী ও মেয়ে ছাড়া কোন পুরুষ মানুষ নেই। তাই রকিকে থাকতে হবে বেশ কিছু দিন। রকিকে মামির খুব পচ্ছন্দ। সে নাইনে পড়ারত মেয়ে সুলতানা কে তার সাথে বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করে। সুলতানার ও মত সে মনে মনে খুব পছন্দ করে রকিকে। যা রকি, মা মেয়ের আচারনে বুঝতে পারে। কিন্তু রকি সুলতানাকে কোন পাত্তা দেয় না। বাড়ী আসার জন্য তার মন ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। মন মাঝে মাঝে কান্নায় দুঃখে ফুলে উঠে পৃতিকে নিয়ে। না জানি আজ সে কেমন আছে? আবারও দু’দুদিন ভার্সিটিতে এসে ফিরে গেছে পৃতি। শুধু যাওয়ার আগে বান্ধবীদের হাত ধরে কেঁদে বলে ওর সাথে দেখা করার খুবই প্রয়োজন। যা আমার জীবন মরণের। তবু ফেরে না রকি। কর্তব্য বোধে মামার জন্য দু সপ্তাহ পরে বাড়ী ফিরে আসে রকি। মায়ের কাছে খবর পেয়ে পাখির মত ছুটে যায় মটর নিয়ে ভার্সিটিতে। তাকে আবার নিষেধ করা হয়েছে। রকিকে দেখে মলি ছুটে এসে বললো – আপনি মানুষ না অন্য কিছু পৃতি আপনার জন্য প্রায় ভার্সিটে এসে এসে ফিরে । তার নাকি কি সমস্যা আপনার সাথে সেয়ার করবে যে কথা গুলো সে আমাদের ও বলেনা। আর আপনার নং বন্দ কেন? রকি বোকা মত হাবা গোবা সেজে গেল। কিছু সময় পর বললো,আমি নেটের বাইরে ছিলাম। পৃতির আসা যাওয়া এবং কান্নকাটির কথা সব খুলে বললো পলি। রকি পলির সমস্ত কথা শুনে ঝপ করে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল। মলি বললো কি হয়েছে রকি ভাই। রকির মুখে যেন ভাষা হারিয়ে গেছে। সে ভেবেই আকুল হচ্ছে কেন মামার বাড়ী গেলাম। রকির চোখে জল ভাসছে ঠোটটা দূর দূর করে কাঁপতে লাগল। সব খুলে বললো রকি। লুপিয়ানা বুঝে শুনে বললো, আমাদের যতদূর মনে হচ্ছে সব ্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্আপনাদের ভাগ্যর দোষ। সব কথার শেষ নামিয়ে মলি বললো আপনি আজ থেকে ভার্সিটিতে আসা বন্ধ দেবেন না। কারণ আপনি তো জানেন আপনাদের বাসা থেকে ফেরার পর থেকে ও খুবই বিপদে আছে। ফোন তো দূরের কথা ওর লগে লগে এখন বডিগার্ড থাকে। কোন দিন ভার্সিটিতে আসবে সঠিক বলা যায় না। আর ও আমায় শেষের দিন বাসায় ফেরার সময় বলেছিল আপনার সাথে নাকি ওর জীবন মরণের কথা আছে।
ভালবাসা মানুষকে কারনে অকারনে কাঁদায়। তা না হলে যেন ভালবাসা পূর্ণ্যতা পায় না। রকির ভাবার অন্ত থাকে না। রোগ থেকে ফেরার পর আগের সেই চেহারা তাহার নেই। তার পরে চিন্তায় শরীরটা আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছে। ও ভেবেই পেল না এমন কি জীবন মরণের প্রশ্ন।
পৃতির স্বামী আসবে ৮ই সেপ্টেম্বর। আর মাত্র ১০ দিন বাকি। বর্তমান সময় অস্থিরতায় পূর্ণ্য হৃদয়। সব সময় বিরক্তিকর ভাব তার চোখে মুখে। হাসির মাঝে দেখা যায় বেদনার নীল। সব সময় চোখের মাঝে ভেসে থাকে রকির মায়া ভরা শ্রাবন ভরা মুখ। সে মুখ সারা জীবন ও ভোলা যায় না। মায়ের মন তো সে অচিরেই বুঝতে পারে। তার মেয়ে কি সমস্যায় ভুগছে। পৃতির এই অবস্থা দেখে তাকে জিজ্ঞাসা করল, আচ্ছা বলতো পৃতি তোমার কি হয়েছে? সব কিছু আমায় খুলে বল। পৃতি মনে মনে ভাবছে তার মা সব কিছু টের পেয়ে গেছে কি’না। মা ডোনা তো খুব শিঘ্রই আমাদের বাড়ি বেড়াতে আসবে। তা আমার………
– তা আমার বলে থামলি কেন? বল কি বলবি?
– বলছি আমার বন্ধুদের সাথে ওনার কথা বলেছিলাম। ওরা ওকে দেখতে আসতে চায়। বিদেশে থাকার কারনে দেখা হয় না। তাই উনি আসছেন তাই ওদের জানাতে চাই। তাই আমাকে ভার্সিটিতে যেতে হবে।
-ফোন দাও তোমার বন্ধুদের ।
– মা কথাটা মনে হয় ভুল করে বলে ফেলেছো।
– মানে?
– মানে তোমাকে কি বলবো এযুগ হল ফেসবুক,হটসআপ,ইন্টারনেটের যুগ, সেই যুগে তোমরা আমাকে ফোন পর্যন্ত ব্যবহার করতে দাওনা ।
-পৃতি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই তোমার জ্ঞান হয়েছে, তোমায় উপদেশ দেওয়া এবং শাষনে রাখা আমাদের করনীয় নয়। আমরা যা করেছি তোমার ভালর জন্যই করেছি। ভার্সিটিতে যেতে চাচ্ছো যাও বাধা
দেবনা। তবে তুমি সব সময় স্মরণ রেখ ডোনা তোমার স্বামী। আর তোমার বড় বোনের মত কোন কিছু করার আগে তোমার বাবাকে আর আমাকে এক ফোটা করে বিষ দিও। যেন এই পরিবারের তোমার বাপ দাদার গৌরবময় সম্মান থাকার আগে মরতে পারি ।
হঠাৎ হাজার চিন্তার ঘুন বের হতে থাকলো। বার বার মনে পড়তে লাগল বড় বোনের চলে যাওয়ার কথা। আর মা বাবার সেই হাহাকার করে কাঁদার কথা। অচিরেই পৃতি সিদ্ধান্ত নিল সব কিছু খুলে বলবে রকিকে। পৃতি তার মায়ের পাশে বসে মাথায় হাত রেখে বললো মা তুমি আমার উপর বিশ্বাস রাখ। আর আমার তো বিয়ে হয়ে গেছে। ডোনা আমার স্বামি। ওর মত ছেলে এই দেশে মিলবে! পৃতির ভাব দেখে ও কথা শুনে মা ভাবল পৃতি মনে হয় ডোনাকে নিয়ে চিন্তা করে। ওর কথা সবার সাথে বলে। মেয়ের কথা শুনে মায়ের মন তৃপ্তিতে ভরে গেল। মারুফা বেগম বললেন, তোর আর নিষেধ নেই। তুই ভার্সিটিতে যাবি। পৃতি বললো, মা ডোনা আসলে ওর সাথে করে নিয়ে কিন্তু ভার্সিটিতে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াব। তুমি কিন্তু কিছু বলতে পারবে না। মারুফা বিবি হাসতে হাসতে বললেন আচ্ছা, ঠিক আছে।
*****
যখনই মানুষ তার সুখের স্বর্ন শিখরে পৌঁছাতে চায় তখন তার জীবনে বারে বারে আঘাত পেতে থাকে। যে আঘাত আমাদের জীবনে সারা জীনমের জন্য দাগ কাটে। তেমনি ঘটনা ঘটে যেতে থাকলো দুজনার জীবনে। মাকে খুশি রাখার জন্য অনেক কথাই মাকে শোনালো কিন্তু সেটা মুখের কথা না মনের কথা নিজেই জানেনা। আজ পৃতি ভার্সিটির পথে পা বাড়াল। সে বাসা থেকে ভেবে বের হল রকিকে সব কথা খুলে বলবে। তাই তার মন খুব ভারাক্রান্ত। ড্রাইভার বললো, ভাবি আপনার কি মন খারাপ। পৃতি অসস্থি বোধ করে বললো আমি তোমাকে বলেছি না আমার বিষয় কিছু শুনবে না আর এখন ভাবি বলবে না, আগে ‘তার’ ঘরে যাইতো তার পর বল। জলদি চালাও ওরা আবার তোমাকে বকা দেবে। ড্রাইভার পৃতিকে ভার্সিটিতে নামিয়ে দ্রুত চলে গেল। ভার্সিটিতে সবার সাথে দেখা হল। দেখা হলো না সেই ব্যক্তির সাথে যার সাথে পৃতির কথা বলতেই হবে। দোতালার পরে বান্ধবীদের সাথে মিলিত হল। মায়া নামে বান্ধবী বললো তোদের প্রেম ব্যার্থ আছে। কিন্তু সফল হবি। পৃতি বললো কেনরে আমি আসলে ওর যে কি হয়! ওর জন্য আমার বুঝি মরণ হবে। আমি আসলে ও আসেনা ও আসলে আমি আসিনা। মায়া বললো,এই জন্যতো বললোাম তোদের কপালে শনি আছে।
মানুষের বিপদ বলে আসেনা। গতকাল রাতে রকির নানী মারা গেছেন। তাই ওর মাকে নিয়ে নানার বাড়ী যেতে হয়েছে। এই মরা বাড়ী কান্নার সুরের মাঝে রকি মনে করতে লাগল পৃতির কথা।
****
বিষয়টা আমার কাছে হাসি পায়। আমি যখন প্রথম প্রেমে পড়ি তখন অষ্টম শ্রেনীতে পড়ি। তখন পারমিতা রানী খনার প্রেমে হাবু ডুবু খাইতাম। আমার বাংলা গ্রামারের শিক্ষক নিহার স্যারের বাড়ীর সামনে স্বরস্বতী পূজা হত ।নিহার স্যারের বাড়ীর পাশেই আবার খনাদের বাড়ী। আমি সেখানে পূজাতে গিয়েছি,পূজাতো আসলে উদ্দেশ্য হল তাকে দেখা। পূজার সময় প্রনাম করে সবাই বিদ্যাপতি হতে পারে এই প্রার্থনা করে। আর আমি চাইলাম কি ‘হে মা আমি যেন খনা কে বউ হিসেবে পেতে পারি।’ রকির অবস্থা ঠিক আমার মত। নানির শোকের চেয়ে তার কাছে পৃতির শোক টাই বেশি।
বান্ধবীদের সাথে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ওর বান্ধবীদের বললো হঠাৎ করে আমার প্রানে যেন ধাক্কা দিল। মলি,মায়া তোরা যাই বলিসনা কেন, ওর কি কোন বিপদ হয়েছে? । মলি বললো, আরে পাগলি মন খারাপ করিস না। কিন্তু আমি একটা জিনিস কিছুতেই বুচ্ছিনা ও যখন ভার্সিটিতে আসে তুই আসিস না। তুই যখন আসিস ও আসে না। আমি চরম এক বোকার মত কাজ করেছি ওর মোবাইলন নং টা না রেখে । ওই বাদাম ছেলেটা যাচ্ছে চল বাদাম খাই…নেক্সট টাইম এই ভুলটা আর হবে না। কাল সব খবর পেয়ে যাবি। পৃতি বললো, সত্যি বলছিস? মলি বললো হ্যাঁ। পৃতি বললো ডাকদে ওকে। মায়া বাদাম ছেলেকে ডেকে উপরে তুলল। পৃতি বললো, এই খোকা তোর থলি সহ কত? ছেলেটি ভেবে বললো ৫০০। পৃতি বললো সব গুলো নে। মায়া এত কি করবি ভার্সিটিতে আমাদের পরিচিত সবাইকে কে খাওয়াবো। ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে টাকা বের করে দিল পৃতি। এতগুলো বাদাম থেকে পৃতি মাত্র দুটি বাদাম নিয়ে ব্যাগে রাখল। বান্ধবীরা বললো এই কি করছিস আরো নে। পৃতি বললো আমি খাব না। দুই টা রাখলাম একটা আমার জন্য অন্যটা ওর জন্য। ওর সাথে যদি দেখা হয় তবে সে দিন দেব। এর আগে কোন বাদাম খাব না। শুধু পরিচিত না,বাদাম গুলো সামনে যাকে পাবি দিতে থাকবি। প্রেমে অনেক ঘটনাই ঘটে তাই বান্ধবীরা জোরাজুরি না করে বাদামবয় কে সাথে রেখে পরিচিত সবার মাঝে বাদাম বিলাতে থাকল।
ভালবাসা মানুষকে কি দেয় যে তার জন্য মানুষ সারা জীবন ভোগে। এটা তো কঠিন পরীক্ষা। তবে কেন মানুষ এই পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। আজ মহা পরীক্ষার মাঝে দুজন দাঁড়িয়ে। না জানি এই পরীক্ষায় তাদের ফেল না’ পাশ হবে। পাশ করতে হলে ঠিকমত পড়াশুনা করতে হয়। তারা কি ঠিকমত পড়াশুনা করছে? ওরা কি পাশ করবে? পাশ ফেল পরের কথা প্রেমে হাসি আনন্দটাই প্রধান তারা সেটা ও করতে পারছে। তবে হোরেস এর কথা সত্যি ভোলার নয়-
প্রেম ও হাসি ছাড়া আমাদের জীবনে প্রকৃত কোন আনন্দ নাই।তাই যদি বাঁচার আনন্দ নিয়ে বাঁচতে হয় তবে প্রেম ও হাসির মধ্য দিয়ে বাচতে হবে। হোরেস

কি অবাক বিস্ময় তারা না করতে পারছে প্রেম না পারছে হাসতে। বাতাস তার আপন গতিতে বয়ে চলে। ঠিক রকি তার আপন সূরে পৃতিকে নিয়ে গান গেয়ে যায়। সে গানের কথা গুলো কি সার্থক হবে? বাস্তবায়ন হবে কি তার আবেগ? একা বসে ভাবে মরা বাড়ীতে রকি। এমন সমস্যা যে, দুদিন হয়ে গেল কর্তব্য পালনে বাড়ী ফিরতে পারল না রকি। রকির বন্ধু রাসেলের কাছ থেকে সংবাদ টা সংগ্রহ করে পৃতিকে খুলে বললো মলি। পৃতি নিউজটা শোনার পর একটু চিন্তা গ্রস্থ হয়ে পড়ল। আর কোন কথা না বাড়িয়ে ক্লাস শেষে কাওকে কিছু না বলে বাসা চলে গেল পৃতি। ওর সাথে দেখা নাই। অনেক কথা তাকে বলা প্রয়োজন। শুধুই মনে পড়ে যাচ্ছে রকির আব্বু আম্মুকে দেয়া কথাটা। চোখের কোনের পানি গুলো তাকে মাঝে মাঝে খুবই বিরক্ত করে। মাঝে মাঝে চোয়াল বেয়ে নিচে নেমে আসে। পৃতি তার বিবেক কে শুধু বলছে, কেন কথা দিলাম।
*****
মানুষ মরণশীল। মরতে তাকে হবেই। এই মরার আগে সে সুখ পেতে চায়। ভালবেসে সুখি হতে চায়। কিন্তু সুখ নামের পাখিটি যেন বারে বারে বহুদূরে চলে যায়। হন্ত দন্ত হয়ে দুদিন পরে ভার্সিটিতে হাজির হয় রকি। সাথে তার সেই হুন্ডাটা আছে। অসুস্থ হওয়ার পরে এটি খুব কম চালাত রকি। আজ আর ভার্সিটিতে আসেনি পৃতি। কারণ দুদিন পরেই তার স্বামী আসবে। এক ঝাঁক পাখির মত ছুটে এল মেয়েরা রকির কাছে। মলি খুব ভৎসনা করে বললো, আপনি হয়ত পৃতির মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াবেন। রকি যেন হতভম্ভ। পরিস্থিতি কি হয়েছে আন্দাজ করে ফেলে বললো, তোমরা কি বলছো আমি কিছুই বুচ্ছিনা।
– আমরা কি জন্য বলছি তা আপনাকে বলতে পারবো না। যা বলছি শুধু বান্ধবীর জন্যই।
রকি আবদার এবং অভিমানের সূরে বললো ও সব কথা বাদ দাও। আমি এই মুহূর্তে পৃতির সাথে কথা বলতে চাই। আর তোমরা যেভাবে হোক ওর বাড়ী গিয়ে ওকে নিয়ে আসবে। কিভাবে আনবে, কেমন করে আনবে সেটা তোমরা ভাল করে জান, আমি কিছুই বলতে পারবোনা। আমি শুধু অপেক্ষা করব জিয়া উদ্যানে এ টুকু জানি । মলি তার অন্য বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে বুঝলো বিষয়টিতে তারা সম্মতি আছে। তখন সে বললো, আমারা সাথে করে নিয়ে আসব যেভাবে হোক। রকির দিকে তাকিয়ে চার বান্ধবী আর কাল ক্ষেপন না করে চলে গেল পৃতির বাড়ীতে।

কথায় বলে বিদ্যার চেয়ে বুদ্ধি বড়,যদি সেটা প্রপার ভাবে কাজে খাটানো যায়। সেই বুদ্ধি আজ কাজে খাটালো মলি। প্রথমে পৃতি মলি, লতা, জবা,রূপাকে দেখে আনন্দে ফেটে পড়ল। বান্ধবীদের বাসার সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। টুক টাক খানা-পিনার কাজ গুলি ও শেষ। মলিরা পৃতির রুমে বসে রকির বিষয়ে সব কিছু খুলে বললো। পৃতি সব কিছু শোনার পর বললো, আমি এখনই যাব, তুই আমার মাকে ম্যানেজ কর। মলি বললো, আচ্ছা ঠিক আছে। মলি যেয়ে পৃতির মাকে বললো আন্টি এখন আমরা শিশু পার্কে যাব। তাই পৃতিকে নিয়ে যেতে এসেছি। পৃতির মা প্রথমে বাংলা সিনেমার রিনা বেগমের মত সবার দিকে একটু অন্য ভাবে তাকালো কিছু টা অন্য রকম কিছু ভাবার চেষ্টা করল,কিন্তু সবার হাসি খুশি আনন্দের ভাব দেখে পৃতির মা না করতে পারল না,বাইরে যাওয়ার সম্মতি দিল। শুধু দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো, মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে ভুল করেছি। কথা শোনা মাত্রই চার বান্ধবী আকাশ থেকে পড়ল। সাথে সাথে মাথা নিচু হয়ে গেল পৃতির এবং সাথে সাথে মলির গায়ে চিমটি কেটে বললো, এই তোদের সব বলছিলাম না। তোরা ভুলে গেলি না’কি?। মলি অচিরেই বুঝতে পারল পৃতি তার জীবনের মূল্যবান কথা টা এতদিন তাদের কাছে লুকায়েছে রেখেছে। তা তো পৃতির মাকে ব্যাপারটা বুঝতে না দিয়ে বললো,হ্যাঁ তুই তো বলেছিলি ব্যাপার টা ভুলেই গিয়েছিলাম। তখন পৃতি মাগে খুশি করতে গলা বাড়িয়ে জোর করে বললো, আরে ও তো দুদিন পরে আসবে। গাড়ীতে চল সব খুলে বলবো। মা ড্রাইভার কে গাড়ী বের করার কথা বলনা। মা বললো, তুই রেডি হয়ে নে ড্রাইভার মনে হয় গ্যারেজে আছে আমি ফোন করে দিচ্ছি। বান্ধবীরা খাটের উপর বসে আছে । আয়নার সামনে পৃতি নিজেকে অন্য ভাবে দেখছে। কোন সময় হাসিতে তার মুখ রক্ত রাঙার মত হয়ে যাচ্ছে। কোন সময় বিষাধে মায়া ভরা মুখটি যেন কালো হয়ে যাচ্ছে। বান্ধবীর এই মুখশ্রী দেখে লতার বাকি থাকে না তার জীবনে কি ঘটে যাচ্ছে। লতা বললো,বন্ধু তোর জীবনে কি একটা করুন কাহিনী আছে যা তুই আমাদের কাছে লুকায়েছিস? লতার কথা শোনার পর পৃতি লতার দিকে তাকিয়ে পড়ল,কি যেন বলতে গিয়ে বলতে পারলোনা। আর একটু অপেক্ষা করলেই বুঝি শ্রাবণ ঝপ করে ধারার বুকে ধাবিত হবে। চল আমরা বের হই,মানুষের জীবনে কত ঘটনা ঘটে যায়। সব ঘটনা খুলে বলা যায় না। ভেজা ভেজা কণ্ঠে বললো পৃতি।
*****
সবাই মিলে নিচে চলে আসল । ততক্ষনে ড্রাইভার স্ট্রায়ারিং ওয়ান করে বসে আছে। সবাই গাড়ীতে এসে ওঠে। পৃতি ড্রাইভারকে মুভ করার জন্য অর্ডার দেয়। গাড়ী চলতে থাকে। এদিকে পার্কে চাতক পাখির ন্যায় অপেক্ষা করতে থাকে রকি। একবার বাইক চালায়ে মেইন রোড বরাবর চলে আসে, আবার বাইক রেখে হাঁটা হাঁটি করে। আবার বাইকের উপর বসে কিছু সময় সবুজ ঘাসের উপর বসে ইস ফিস করতে থাকে।
ড্রাইভার জিয়া উদ্যানের দিকে গাড়ী চালাতে থাকে। পৃতি তার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো বন্ধুদের মাঝে বর্ণনা করতে থাকে। পৃতির জীবনী শোনার পর বন্ধুদের মাঝে যেন কোন কথা নেই। সবাই হতবাগ । কারো মুখের মাঝে কোন কথা নেই। শুধু নিস্তব্দতা। বন্ধুর জন্য সবার যেন ব্যাকুলিত পরাণ। সবাই চুপ তখন পৃতি বললো, জবা তোরা এবার আমার সৎ যুক্তি দে আমি কি আমার স্বামির কাছে ফিরে যাবো, না রকির হাত ধরবো?।
ভালবাসার জন্য যার পতন হয়,বিধাতার কাছে সে আকাশের তারার মত উজ্জল। বেন জনসন
কোন ভালবাসায় পতন হওয়া ভাল, ভালবাসার মানুষের, না স্বামীর? এখানে ভালবাসার মানুষ ও স্বামীর ভিতর তো পার্থক্য আছে। বন্ধুরা যেন কিছু বলতে পারেনা। মলি বললো,আমি একটা মেয়ে হয়ে আর একটা মেয়েকে কি উপদেশ দিতে পারি,তোর স্বামি ডোনার কথা শুনে আমার মন বলে তার কাছে তুই যাস না। আবার বাঙালী নারী আমাদের সম্মান অন্য রকম। আমরা মরে যেতে রাজি কিন্তু আমাদের স্বামি কে ছাড়তে রাজি নই। আর বিশেষ করে তোর বাবা মায়ের কথা চিন্তা করলে তোর স্বামির কাছে ফেরত যাওয়া ছাড়া আমি অন্য কিছু একে বারে ভাবতে পারিনা। আবার রকি ভাই এর কথা মনে উঠলে…যাক তোর জীবনের ভাল মন্দ তুই ভাল বুঝিস,জীবন তোর সিদ্ধান্ত টা তোরই নিতে হবে। আমি সিদ্ধান্ত অনেক আগে থেকে নিয়ে ফেলেছি। জবা বললো, কি সিদ্ধান্ত? চল আমরা মনে হয় চলে এসছি,আগে ওর ওখানে যাই প্রাকটিক্যালে দেখতে পাবি বললো,পৃতি। পৃতি ড্রাইভারকে সে না আসা পর্যন্ত ওয়েট করতে বললো। কিছুদূর সামনে যেয়ে একটু ব্যাক করে এসে আবার ড্রাইভার কে,যদি আমার আসতে দেরি হয় তাহলে তুমি সোজা বাসা চলে যাবে। যদি আন্টি আমাকে আপনার কথা জিগায় তখন কি কমু,একটু হতাসা হয়ে কথা গুলো বললো ড্রাইভার বিল্লাল।বিল্লাল তাদের বেশ পুরানো ড্রাইভার তার এবং তার পরিবারের অনেক কিছুই জানে সে । এই জন্যই তার সামনে কোন সংকোচ না করে কথা গুলো বন্ধুদের সাথে বলেছিল পৃতি।
*****
বন্ধুরা তার দিকে রহস্য ভরা চোখে তাকাতে তাকাতে হাঁটতে থাকলো।
এই জায়গাটা রহস্য ঘেরা। প্রকৃতির যে রুপ তা এখানে আসলে অবলোকন করা যায়। এক সময় আমরা কোন জগতে ছিলাম। আমাদের জীবন জীবিকা কেমন ছিল। আঁচ করা যায় মানুষ আদিম কালে কেমন ছিল। প্রকাশ্যে তার গোপন জীবন চরিতার্থ করত এখন এযুগে এসে তার কিছু প্রতিছব্বি দেখা যায় টিন এজ দুইটা ছেলে-মেয়ে এক অপরকে চুমু খাচ্ছে। বিষয় টা তাদের চেহারা ও ড্রেস আপ দেখে আন্দাজ করা যায়। পৃতি বললো,মলি তুই আমায় কোথায় নিয়ে আসলি। মলি হেসে বললো,তুই যেন ঢাকা শহরে এই নতুন! এটাই তো যুবক যুবতিরদের পবিত্র স্থান,দেখছিস কেমন খেলা চলছে। বুচ্ছি তো আদিম যুগের কিছুটা ছোঁয়া এখানে এসে পরখ করা যায়। মলি আরো একটু রঙ্গ রসে বললো, তুই মনে হয় একটু ও তোর স্বামির কাছ থেকে এই আদিম ছোঁয়া পাসনি? একটুও না সে সিচুয়েশন আমি কখনও মেক করতে দেইনি,গাম্ভীর্য্যওে সাথে উত্তর দিল পৃতি। বালতি ভরা গোলাপ থেকে একটা গোলাপ সামনে এনে একটি ৬/৭ বছরের ছোট্ট মেয়ে বললো, আপু একটা ফুল নেন আপনার বয় ফ্রেন্ডকে দেবেন। পৃতি অবাক হয়ে গেল মেয়েটার কথা শুনে,সে বিস্ময় কর ভাবে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বললো,আমার যে বয় ফ্রেন্ড আছে সেটা তুমি বুঝলে কি করে? মেয়েটা বললো, আপা এখানে যারা আসে তাদের বয় ফ্রেন্ডের সাথে আসে আবার সাথে না আসলে ও দেখা করতে আসে। পৃতি বললো, আমার কোন বয় ফ্রেন্ড নেই নেব না ফুল। মেয়েটিকে ফিরিয়ে দিল পৃতি। পৃতির কথা শুনে অবাক হল বান্ধবীরা । কোন সময় কোন কথা বলছে ও মনে হয় নিজেই জানেনা মনে মনে বললো মলি। মলি বললো,নে’না একটা ফুল। মেয়েটি আবার বললো এই ফুল টি আপনার জীবনের ভুলটি শুদ্ধ করে দিতে পারে। নেন না ফুলটি। মেয়েটির কথা শুনে হতবাক হয়ে গেল পৃতি। কিছুক্ষন মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকলো হ্যাঁ না কিছু বললো না। শুধু বললো কত তোর ফুলের? ১০ টাকা,মায়া ভরা চোখে বললো মেয়েটা। ১০ টাকা দিয়ে ফুল নিয়ে ভ্যানেটি ব্যাগে রাখল পৃতি। কিছুদূর যেতেই শহীদ জিয়ার মাজারের পুব কর্ণারে একটি ছেলেকে লক্ষ করল পৃতি। ছেলেটির পাশে একটি মটর সাইকেল দাঁড় করানো। দেখে মনে হয় এই মানুষটি কার অপেক্ষায় চাতক পাখির ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটার বুকটা যেন শুকনা মরুভূমি। শুধু বৃষ্টির দরকার। যে বৃষ্টিতে তপ্ত মরুভুমি ঠান্ডা হবে বুঝি। ছেলেটার চুলগুলো রুক্ষ এলোমেলো। ছেলেটা আর কেহ নয় রকি। শুকনা চেহারায় পৃতি প্রথমে চিনতে পারলোনা যে এটা রকি। কাছে যেয়েই হাত দুয়েক সামনে দাঁড়িালো পৃতি এবং দৃষ্টি পতিত হল রকির চোখের দিকে। অপলক নয়নে তাকিয়ে আছে রকি। এমন ভাবে তাকিয়ে আছে মনে হয় এই মেয়েটিকে সে আগে কখন ও দেখিনি। এই প্রথম দেখছে তাকে । চোখের চাহনি টা এমন মায়া ভরা যে অতি সহযেই যে কাউকে কাছে টানতে পারে। ভালবাসতে পারে আমৃত্যু। রকির দিকে তাকিয়ে সব কিছু ভুলে গেছে পৃতি। ইচ্ছে করছে ঐ তৃষ্ণাত্ব বুকে এক ফোটা জল হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে। ভাবনাটা নিজের ভিতর নিবৃত রাখার প্রয়াস ব্যাক্ত করল। নিঃশব্দ মুখে দুবাহু তুলে ধরল রকি। আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না পৃতি। সকল ভাবনার অবসান ঘটিয়ে এক ফোটা জল হয়ে মিলে গেল ঐ তৃষ্ণাত বুকে। শুকনো সাগর আজ যেন তার বারি ফিরে পেয়েছে। চারিদিকে বাতাস মৃদু সুরে বওয়া শুরু করেছে,অফুটান্ত ফুল গুলো কিসের অপেক্ষায় ফোটা থেকে বিরত ছিল, তারা যেন ফুটতে শুরু করেছে। তারা যেন এই দিন টার জন্য অপেক্ষা করছিল। এত দিন পর পাখিরা কিচির মিচির শুরু করেছে। তাদের কাছে মনে হচ্ছে তারা এত দিন কোন জালে বন্দি ছিল সেখান থেকে তারা মুক্তি পেয়েছে। চারিদিকে আকাশে বাতাসে যেন আনান্দের সুর ধ্বনি ভেসে আসছে। যাহা বড়ই সুমধূর। বুকেতে বুক মিলিয়ে আছে দীর্ঘক্ষন, মুখের মাঝে তাদের নিরবতা। কোন আবেগে আপ্লুত হয়ে পৃতি তার বাহু আরও জোরে চেপে ধরল রকিকে। গভীর ভাবে লুকায়ে গেল রকির বুকের ভিতরে। সে ভুলে গেল সে এখন আদিম যুগে না কোন যুগে আছে। বান্ধবীরা অপলক ভাবে তাদের বন্ধন দৃষ্টিগোচর করতে লাগলো। এমন সময় রকির চোখ থেকে একফোটা জল গড়িয়ে পড়ে পৃতির পিঠে। উষ্ম রান্না করা কড়াতে যদি হঠাৎ যদি পানি পড়ে,তখন যেমন স্যাৎ করে একটি শব্দ হয় ধোয়া উড়ে যায় নীল আকাশে। তেমনি যেন স্যাৎ করে উঠল পৃতি। মুখ দিয়ে নিঃসৃত ধোয়ার নেয় গরম হাওয়া বের হয় পৃতির মুখ থেকে। বুক থেকে বুক সরিয়ে রকির চোখের পানে চায় পৃতি। তার চোখ দিয়ে তার জল গড়িয়ে পড়ছে। ঠোঁট টা আবেগে থরথর কাঁপছে। পৃতি আবেগে আরো আপ্লুত হয়ে গেল, আবার জড়িয়ে ধরে রকিকে। এই কেবলই রকি মুখ দিয়ে একটা বাক্য উচ্চারন করল, তোমার জন্ম শুধু আমার জন্য। আমি তোমায় ছাড়া কিছুই ভাবতে পারিনা। বান্ধবীরা তাদের আলিঙ্গনে মুগ্ধ হয়ে আর একটু সুযোগ করে দেওয়ার জন্য একটু দূরে সরে দাঁড়ালো। রকি মধুর আলিঙ্গনে চুমু এঁকে দিল পৃতির কপালে। জীবনে প্রথম বারের শরীরে কোন পুরুষের চুমুর পরশ। লজ্জাবতী গাছের পাতার মত তার শরীরের সমস্ত লোম খাড়া হয়ে গেল। সারা শরীর দূর দূর কাঁপতে শুরু করেছে। কিসের একটা তাড়ানা শরীরের ভিতর দিয়ে নদীর ¯্রােত প্রবাহের মত তরঙ্গ খেলে চলেছে। রকি যখন তাকে আরো একটু শক্ত করে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল। তখন তরঙ্গ আরো দ্বিগুন বেগে প্রবাহিত হতে থাকলো। হয়ত এই ¯্রােতে কিছুর একটা আঘাত পেলেই নদীর বাঁধ ভেঙে গিয়ে উপসে পড়বে তার ¯্রােত ধারা। আবেগ আপ্লুতে সবুজ ঘাসটার উপর বসে পড়লো দুজন।
কে কাকে কি বলবে তার কোন ভাষা দুজনের মুখে আসছে না। চাতক পাখির মত আবার ও রকি পৃতির মুখের দিকে তাকায়ে আছে। এবার যেন পৃতি লজ্জা পেল। নাথা নোয়াতে নোয়াতে পৃতি বললো,অমন করে কি দেখছো? রকি কোন কথা না বলে ধাম করে পৃতির কোলে শুয়ে পড়ল । ছল ছল নয়নে তাকিয়ে আছে পৃতির চোখের দিকে। পৃতি তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারলোনা। লাজুক ভরা হাসিতে চোখ ফিরায়ে অন্য দিকে চাইলো। হঠাৎ তার চোখে পড়ল দূর হতে একটা মহিলা হেঁটে আসছে। যে মহিলা টি দেখতে কিছুটা তার বড় বোনের মত। কিন্তু মহিলা টি একটু ভারি। মহিলাটি যতই কাছে আসছে ততই পৃতির মন আদিম যুগ থেকে একাবিংশ যুগে ফিরে আসছে। পৃতি যেন নিস্তব্দ হয়ে গেল। হঠাৎ যেন পাহাড় হতে একটা পাথর তার বুকে এসে বিধল। কোথা থেকে ঝড় – বাতাস এসে যেন তার খেলা ঘর টি ভেঙে চুরমার করে দিয়ে গেল। গেয়ে যাওয়া পাখির কন্ঠে তীর এসে বিধল। ফুল গুলো অঝরে ঝরে পড়তে লাগল। পৃতি যেন অন্য জগতে চলে গিয়েছিল। সে বুঝতে পারিনি সে আবেগ ঘন মুহত্বে জড়িয়ে ছিল। মহিলাটি কাছা কাছি আসলেই সে তার পুরা চেতনা ফিরে পাইল। সে মহিলাটিকে চিনতে পারিনি তবে মহিলাটির আর কিছু ঠিক না থাকলে তার ফিক করে হাসার স্টাইল ও হাঁটার গতি ঠিক তার বড় আপু স্মৃতির মত। তার শরীর টা আগে কাঁপছিল অন্য আবেগে এখন কাঁদছে অন্য আবেগে। মহিলা টি তাদের অতিক্রম করে চলে গেল। রকিকে কে কোল থেকে উঠায়ে দিয়ে এক পাসে সরে বসল।
-কি হল পৃতি ?
-কিছু না।
– হঠাৎ এমন করছো?
– বললাম তো কিছুইনা। আমি যাই।
– আমি যাই মানে,আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা। তোমার কি হয়েছে বল?
না আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে অন্য দিন বলব আমি এখন যাই। তার পর মলি মলি বলে ডাকতে ডাকতে মলিদের কাছে চলে গেল। তাড়াহুড়া করে বললো,চল আমি বাসায় যাব।
তোদের কথা বল শেষ,দুষ্টুমির হাসি দিয়ে বললো মলি।
হ্যাঁ শেষ চল বাসায় যাব। বলেই পৃতি জোরে জোরে গাড়ীর দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। বান্ধবিরা কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। রকির কাছে কিছু জিগাতে তার ও কোন অপশন পেলনা পৃতির পিছু পিছু হাঁটতে থাকতে লাগলো।
গাড়ীর কাছে আসলে ড্রাইভার দরজা খুলে দিল। সবাই গাড়ীতে উঠে পড়ল। ড্রাইভার বললো,আপা আমরা এখন কোথায় যাব?
-সোজা বাসার দিকে। পৃতির মন মাইন্ড দেখে বান্ধবীরা কিছুই বলার সাহস পেল না। কিছু দূর যাওয়ার পর পৃতি একটু স্বাভাবিক হলে মলি বললো,বলত কি হয়েছে তোর এভাবে চলে আসলি? কিছু কথা বলা যায়না আবেগ আপ্লুত হয়ে বললো পৃতি। শুধু এত টুকু জেনে রাখ ২ দিন পর আমার হাজব্যান্ড আসবে। বান্ধবীরা অবাক হয়ে গেল। মলি বললো,কিন্তু রকি! চুপ,কোন কথা নয়,বলে মলিকে থামিয়ে দিল পৃতি।
আজ রাতে পৃতি মোটেও ঘুমাতে পারলোনা। যখনই রকি কথা, রকির আলিঙ্গনের কথা চোখের সামনে ভেসে ওঠে তখন সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেনা। ভাবে সব কিছু ছেড়ে দিয়ে রকির কাছে চলে যেতে। আবার যখন মা,বাবা, বড় বোনের কথা মনে ওঠে তখন আর তার কোন কিছু ভাল লাগেনা। মনটা বিষাধে ভরে ওঠে।
*****
ডোনা এসেছে। কথায় বলে টাকায় অনেক কিছু হয় না। মন থাকলে অনেক কিছু হয়ে যায়। মানুষের মত পরিবর্তন হয়। সেরকম পরিবর্তন বুঝি ডোনা হয়েছে। তার চাল চলন হাব ভাব এখন একটু ভিন্ন ধরনের। বলতে গেলে ভদ্র স্বভাবের। তার মনে পরিবর্তন এসেছে সে ভালবেসে পৃতির জন্য অনেক কিছু নিয়ে এসেছে। সে পৃতির রুমে যেয়ে বললো,কেমন আছ পৃতি? আপনি আমার অনুমতি না নিয়ে আমার রুমে প্রবেশ করলেন কেন? ডোনা পরিবেশটা সিথিল করার চেষ্টা করলো সুন্দর করে মধু মাখা কণ্ঠে বললো। হয়ত রেগে যাবে তার পরে ও সত্যি একদিন তোমার রুম আমার হবে আমার রুম তোমার হবে তাই। রাগে রাগে ঠাস করে ডোনার চোখের পানে তাকায়ে পড়লো । আমি আপনার রুম আমার রুম এক করতে চাইনা,এই কথা টি বলতে গিয়েও বলতে পারলো না পৃতি। মাথা নোয়ায়ে ফেলল। জানিনা তুমি আমাকে হয়ত তোমার মন থেকে এখনও মেনে নিতে পারোনি। তবে আমি আগের আমি আর এখন এর আমি এর ভিতর অনেক পার্থক্য। আমি তোমাকে বিয়ে করার পর আর দ্বিতীয় কোন মেয়ের দিকে চোখ তুলে তাকাইনি। প্রতিটা মুহুত্ব তোমার প্রতিছব্বি বুকের ভিতর লালন করেছি। বিশ্বাস না হয় এই দেখ। বলে ডোনা তার মানি ব্যাগ হতে পৃতির ছবি বের করার চেষ্টা করলো। পৃতি না দেখার মত করে এক নজর ছবিটার দিকে তাকালো। তাকালো এক নজর স্বামীর মুখ পানে। দেখতে পেলো স্বামীর চোখে আগের সেই ডোনা স্বরুপ রেখা নেই। পৃতি মাথা যখনই নিচু করল তখনই ডোনা বললো,আমি তোমার জন্য অনেক উপহার এনেছি কি নেবে না? পৃতি হ্যাঁ’না কিছুই বললো না। হ্যাঁ এবং না হল +,- = – এর উল্টাটা। এখানে হ্যাঁ না এর মাঝা মাঝি মনে হয় হ্যাঁ,তাই ভেবে ডোনা পৃতির জন্য আনা সব উপহার গুলো পৃতির রুমে রেখে চলে গেল।
রাত্রিতে নানাদিক ভেবে দু চোখে ঘুম আনতে পারল না। তার ইচ্ছা হচ্ছে গলা ছেড়ে কান্না করতে। বার বার রকির সেই আবেক জড়ানো ভালো বাসা তাহার শিহরিত করতে থাকল।কিসের এক প্রতিচ্ছবি তাকে বারেবারে বলছে’তুই কি করে রকিকে ছাড়া থাকবি?কি করে ভুলবি রকির আলিঙ্গনে বাধা সেই ভাল বাসার কথা। যখনই হয়ত ঝরা পাতা ঝর ঝর করিয়া মাটিতে ঝরিয়া পড়ে তখনই প্রেমের মরা ডালে পাতা গজায়।সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগতে লাগলো। আর সহ্য করতে পারলো না সবাই যখন গভীর ঘুমে মগ্ন সে তখন গলা ছেড়ে কাঁদতে শুরু করল। ইচ্ছা করছে আত্ম হত্যা করতে। কিন্তু সেটা ও সম্ভব হলোনা। হাজার চিন্তার অবসান ঘটিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করল।
ভোর বেলায় উঠে ভাবল আজ যেভাবে হোক রকির সাথে দেখা করতে হবে । আজকে দেখা হলে আমার সাথে ওর আর দেখা হবে না। যদি দেখা হয় তাহলে সেটা হবে আমার মত্যুর পরে।
*****
আজ দুজন মিলিত হল আফতাপ নগর এর শেষপ্রান্তে কাশফুল ও বালু মাঠে। পৃতি মলিকে ম্যানেজ করে রকির সাথে দেখার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। সেখানে পিজুস সেন বেনুর পরিচালনায় এবং মৃত্যুঞ্জয় সরদার উচ্ছ্বাস এর রচনায় প্রান কোকিলা নামের ধারাবাহিক নাটকে শুটিং চলছে। সেখানে অভিনয় করছেন- ডিবি ইন্সেপ্টকর ডি এ তায়েব ও হুমাইরা হিমু। নাটকের শুটিং চলছে। শুটিং দেখার দিকে একটু মনোনিবেশ করলো রকি। ডি এ তায়েব এবং হুমাইরা হিমুর অভিনয় করছে। মুগ্ধ হয়ে রকি দেখছে। এর ভিতর পৃতি যে কখন এসে দাঁড়িয়ে আছে তা সে জানেনা। আমরা যারা বাঙালী আমরা খুবই সংস্কৃতি মনা কোথায় গান গজল চলতে থাকলে আমরা হাজার কাজ সামনে থাকলে একটুর জন্য পা টা থেমে যায়,মনটা নিবিত্ত হয় অনুষ্ঠানটির দিকে। আর শুটিং এর কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না ।এমন কোন মানুষ দেখা যায় না শুটিং চলতে থাকলে সেখানে একটু ঢু না মারে। কিন্তু পৃতির সে দিকে খেয়াল নেই। ছল ছল নয়নে তাকিয়ে আছে রকির দিকে। তার চাহনির ভাষা বুঝে ওঠা খুব মুশকিল,কোন সময় মনে হচ্ছে সে সারা জীবনের জন্য এক বার দেখে নিচ্ছে আর হয়ত দেখবে না। আবার মনে হচ্ছে হয়ত সারা জীবনের জন্য রকিকে দেখতে এসেছে। মিডিয়ার ভাষায় প্রতিটা ডায়লগ ধরন বা মনের ভিতর লালিত ভাষ্য অনুযায়ী মুখের এক্সপ্রেশন পরিবর্তন হয়। একটু উদাহরনে বলা যায় কারো উপর যদি ক্রোধ জন্মে তাহলে রাগে দুঃখে নিজের চোয়াল টা শক্ত হয়ে যায়। মুখটা রাঙা হয়ে যায়। আবার কারো উপর যদি অভিমান হয় তাহলে দেখা যায় মুখটা ভারি হয়ে যায়। চোখে পানি ছল ছল করে। এবার তো আমারা বুঝতে পারলাম পৃতির মনের ভিতর কি খেলে চলেছে। তার মন কখনও ভাবছে সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে রকির কাছে চিরজীবনের মত থেকে যেতে। আবার মন চাইছে তার এক কাছ থেকে একেবারে বিদায় নিয়ে চলে যেতে।
রকি আচমকা চোখ ফেরাতে চোখ পড়ল পৃতির দিকে। সাথে রকি বাইকের কাছ থেকে উঠে একেবারে পৃতির কাছে চলে গেল। বাম হাত দিয়ে পৃতির মাথা টা বুকের সাথে চেপে ধরে বললো,আরে আমার ময়না পাখি তুমি কখন এলে। কিছু সময় নিস্তব্দ হয়ে রকির চোখের দিকে তাকিয়ে থাকার পর বললো,এই তো কিছু সময় ছাড় মানুষ শুটিং রেখে তোমাকে আমাকে দেখছে,ভেজা ভেজা কণ্ঠে কথা গুলো বললো পৃতি। রকি আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো,তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসেনা। আমি আমার ময়নাকে জড়িয়ে ধরবো তাতে কার কি যায় আসে। দুই পাশে দুই শুটিং চলছে পাবলিক বুঝতেই পারছে না কোন শুটিং টা তারা দেখবে। ক্যামেরার সামনের টা, না পিছের টা। দর্শকের লক্ষ্য করলো ক্যামেরার সামনে ডি এ তায়েব হুমাইরা হিমুরে জড়ায়ে ধরে আছে। ক্যামেরার পিছে রকি পৃতিকে জড়ায়ে ধরে আছে। দেখা গেল ডি এ তায়েবের বুক থেকে হিমু নিজেকে সরিয়ে দূরে চলে গেল,দর্শকেরা দেখল ঠিক তখনই পৃতি রকির বুক থেকে সরে যেয়ে রকির বাইকের কাছে এসে দাঁড়ালো । দর্শক হাতে তালি দিয়ে উঠল। শর্ট এনজি হয়ে গেল। রকি ভাবল এখানে আর থাকা ঠিক হবে না। রকি বাইকে চেপে বসল এবং পিছে পৃতিকে উঠতে ইঙ্গিত করলো। পৃতি উঠে বসলো । গাড়ী হাওয়ার বেগে ছুটে চলল। পৃতির চুল গুলো কালো মেঘের সাথে মিশে যাচ্ছে। খেলা করছে বাতাস ও ওই নীল আকাশের সাদা কালো মেঘ গুলোর সাথে। যদি আর একটা বাইক দিয়ে পৃতির চুলকে সামনে রেখে নীল আকাশের আভা গুলো ধারন করা হয়। তবে একটা রুপ কথার গল্প হবে। আকাশ থেকে নেমে আসা নীল পরীর গল্প। এই পরিবেশে ব্যাক গ্রাউন্ডে যদি ১৯৬১ সালের সপ্তপদী সিনেমাতে মহানায়ক উত্তম কুমার এবং মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের মুখ মেলানো হেমান্ত মুখপাধ্যায় এবং সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় গাওয়া এবং গৌরিপ্রসন্ন মুজমদারের লেখা সেই বিখ্যাত গান“এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হত বলত’’ এই বিখ্যাত গান বাজে তবে কেমন হবে? খুব বেশি ভাল হবে না। কারণ দুজনের রোমান্টিজম এক হচ্ছে না। রকি ফুর ফুরে সেই ১৯৬১ সালের মেজাজে আছে কিন্তু পৃতি আছে বাংলাদেশের নায়িকা ববিতা চরিত্রে। লাইফের অধিকাংশ দিন তার কাঁদতে কাঁদতে গেছে। তারা হাতির ঝিলে মহানগর প্রজেক্ট এর সামনে চলে আসলো। অনেক সময় পৃতি কিছু বলছে না,চুপ চাপ বসে আছে। কিছুটা উদাসিন।
-কি হল তোমার মুড অফ হয়ে গেল কেন পৃতি?
পৃতি আচমকা কি বলবে না বলবে ভেবে পাচ্ছেনা। তার জীবনের বড় ধরনের ওই ঘটনার কথা কি বলে ফেলবে না বলবে না এই নিয়ে মনের মধ্যে আবার দ্বিধা দ্বন্দে জড়িয়ে পড়ল। চল্লিশ সেরের এই মন কখন যে কি খেলে সে নিজেই জানেনা। সিদ্ধান্ত হিনতার মাঝে আমতা আমতা করে পৃতি বললো,না কিছু না এমনি।
-না কিছু তো একটা ঘটনা ঘটেছে । আমি যে প্রানবন্ত মহোময়ী পৃতি কে দেখেছি এই পৃতি আর সেই পৃতি অনেক পার্থক্য। বল তোমার কি হয়েছে?
– না আমার কিছুই হয়নি। বল তোমার আব্বু-আম্মু কেমন আছে?
-খুবই ভাল আছে। আব্বু মাঝে মাঝে তোমার কথা জিজ্ঞাসা করে। কিন্তু আম্মু প্রতি নিয়ত তোমার কথা জিজ্ঞাসা করে। বলতে পারো দিনে আমার কথা সে এত বার জিজ্ঞাসা করেনা। বল তুমি আমার আম্মুকে কি জাদু করেছো? বুচ্ছি ওই ঘরের ঘরনী হবে তো এই জন্য আগে ভাগে যাদু করে ফেলেছো।
এই কথার উত্তর কি হতে পারে,কি বলবে কিছুই ভেবে পাচ্ছেনা। তবু ও হ্যাঁ না এর সুরে বললো,হয়তবা। রকি পৃতির কাঁধে হাত রাখল। পৃতি সাথে সাথে হাত সরিয়ে দিয়ে বললো,হাত সরাও দেখনা কত কত লোক। লজ্জা করেনা তোমার?
মিষ্টি হাসি দিয়ে রকি বললো,আমার কলিজার গায়ে আমি হাত দিব এতে লজ্জার কি? আমার ভালবাসার মানুষের আমি ছুঁয়ে দেব তাতে কার কি? আমার হবু স্ত্রীর গায়ে আমি হাত দিব তাতে কার কি?
-আমার স্ত্রী মানে,স্ত্রী হয়েছি নাকি? কড়া ভাবে বলতে গিয়ে সাথে সাথে মুখ মিষ্টি করে বললো পৃতি।
– না তবে হবে তো একদিন । বল হবেনা, বল কলিজা তুমি আমার বউ হবেনা?
মুখের মাঝে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো পৃতি । এখন তার চেহারা দেখলে মনে হবে বাকরুদ্ধ কুমারী হা করে তার প্রেমিকের দিকে তাকায়ে আছে। আহারে কি চমৎকার মধু মাখা চাহনী দেখলে নয়ন জুড়ায়।
থুতনি নেড়ে আলত আদর করে রকি বললো, কি দেখছো অবাক নয়নে?
-তোমাকে।
-আমাকে আবার দেখার কি হল,দেখনা চেহারা নষ্ট হয়ে গেছে।
-সে তো আমার জন্য হয়েছে?
-ভাল হয়েছে,যার কারণে আমি তোমাকে পেয়েছি।
-বাসায় যাব।
-বাসায় যাবে মানে এখন? না এখন না আরো পরে যাও। আর তুমি না জুরুরী কি বলবে?
-সেটা পরে বললো,তুমি আমাকে বাসায় দিয়ে আস। বাসায় না বাসার আস পাশে রেখে এলে চলবে। আর তুমি না কি গুরুত্ব পূর্ণ কথা বলতে চেয়ে ছিলে? আরো একটু পরে যাওনা জান পাখি,দেখনা চারিদিকের পরিবেশটা কত সুন্দর । একটু মোটা গলায় পৃতি বললো,বললাম না আমি বাসা যাব। কেন জোর করো।
রকি পৃতির ব্যবহারে অবাক হয়ে গেল। ঠিক যেন কলকল বৃষ্টির মাঝে হঠাৎ বজ্রপাত। রকি আর কোন কথা না বাড়ায়ে বাইক স্ট্রাট দিল। পিছে বসল পৃতি এক সময় বাইক টি বনশ্রী এলাকাতে এসে থামলো। বি ব্লকে আসার পর পৃতি বললো,আমার এখানে নামিয়ে দাও। বাইক থামানোর পর পৃতি বাইক থেকে নেমে রকির একেবারে গা ঘেসে দাঁড়িয়ে বললো,সরি। আমার না বাড়ীর অনেক সমস্যা যা আমি তোমাকে বলতে যেয়ে বলতে পারছিনা। তুমি আমার উপর কোন দিন অভিমান বা রাগ করবে না,তাহলে তোমার চেয়ে আমি বেশি কষ্ট পাবো। বলেই চলে যায় পৃতি। মন টা আবার ফুর ফুরে হয়ে গেল রকির। মনে হচ্ছে কলকলে বৃষ্টির মাঝে হাঁঠাৎ উত্তরীয় দমকা হাওয়া। আহা!
বেদনার নীলে লাল রং শোভা পায় না। তেমনি কোন কিছুই ভাল লাগেনা পৃতির । বাড়ীতে আনন্দের ফুল্লধারা চলছে। আত্মীয় স্বজন লোকজনে ভরপুর। চারিদিকে হই হই রই রই। এই হই হই রই রই এর মাঝে পৃতির মনে হায়! হায়! অবস্থা। যে অবস্থা বুঝতে পারলো তার স্বামি ডোনা। ডোনা দুঃচিন্তা যুক্ত মনে করল পৃতিকে। সে খুব নিকটে এসে অতি সংগোপনে বললো, তোমার কি কিছু হয়েছে পৃতি? মন খারাপ কেন? কোন কিছু হলে আমাকে বলতে পারো। পৃতি ডোনার কথা স্বর শুনে অনুভব করলো আগের ডোনা আর এখন এর ডোনার ভিতর অনেক পার্থক্য। এই কয়দিন তার আচার আচারণে বুঝতে বাকি রইলোনা তার স্বামী তাকে কত ভালবাসে।
পৃতি বললো, না কিছু হইনি বন্ধুদের কথা খুব মনে পড়ছে। তাদের আসার কথা; কেন জানি কেউ এখনো আসছে না। ও তাই তোমার এত চিন্তা, না জানি ওদের ছেড়ে থাকবে কি ভাবে! মিষ্টি মিষ্টি করে কথা গুলো বললো ডোনা।
– সে চিন্তাতো অহরহ আমাকে দংশন করছে।
কথা বলতে না বলতেই দল বেধে উদয় হইল মলি বাহিনী। বান্ধবীর পাশে বসা অচেনা মানুষটিকে দেখে বান্ধবীদের বুঝতে বাকি থাকল না মানুষটি কে। পৃতির সাথে কুশল বিনিময় করার পর মলি বলিল, আমরা যার জন্য এসেছি,সেই মানুষটি বুঝি ওই। ডোনা একটা স্মার্ট ছেলে সব সময় ফ্রাঙ্কলি কথা বলতে ভালবাসে। সেই ডোনার যেন লজ্জা পেল । মাথাটা নিচু হয়ে গেল।
শেফালী – তা আমাদের বান্ধুর বর কি বোবা? মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না।
সবাই মিলে হেসে দিল। ডোনা বললো, শুনবেন, কেন বের হচ্ছে না? আপনাদের দেখে আমার খুব হিংসা হচ্ছে।
পলি – কেন আমরা কি করলাম?
– মহাক্ষতি করেছেন। কারণ আমার পৃতি আমার কথা না ভেবে দিনে রাতে ভাবে শুধু আপনাদের কথা।
মলি পৃতির দিকে তাকিয়ে দেখল বুঝল,দিন রাত সে কাকে নিয়ে ভাবে। কারে নিয়ে চিন্তামগ্ন থাকে সারাক্ষন। প্রসঙ্গ সামলে নিয়ে মলি বললো, দেখতে হবে না বান্ধুটা কাদের।
– আপনাদের বন্ধু যখন দুদিন পরে আমার ঘর-বন্ধু হবে, তখন কি হবে?
ওরে বাপরে পৃতির বর মনে করলাম বোবা স্বভাবের হবে ওরে বাবা এ দেখি পাকা আছে- বললো মলি।
– শুধু পাকা নয়রে মলি এ একেবারে রাম পাকা বললো বান্ধবী বন্যা। তারপর সবাই হো হো করে হেসে উঠল।
-আমাকে কিন্তু নিত্যান্ত অপমান করা হচ্ছে। আমি কিন্তু কেঁদে ফেলবো। তখন কিন্তু কেউ থামাতে পারবেনা হা হা হা।
-কান্না থামানোর জন্য মানুষ তো দিলাম। আপনি শুধু কাঁদবেন আর সে শুধু থামাবে হা হা হা বললো লু পিয়ানা। এখন ডোনা উপলব্দি করলো-

18,451 total views, 2 views today

Related Posts

Share

Comments

comments

রিপোর্টার সম্পর্কে

%d bloggers like this: