প্রকাশিত : Mon, Dec 18th, 2017

শেষ বিকেলের মেঘ- মৃত্যুঞ্জয় সরদার উচ্ছ্বাস (পার্ট-৪)

ভালবাসা এক ধরনের মায়া। যেখানে পুরুষ এক নারীকে অন্য নারী থেকে আলাদা করে দেখে। আর নারী এক পুরুষকে অন্য পুরুষ থেকে আলাদা করে দেখে। লুইস ম্যাকেন
পৃতি সবার হাসা তামাসা শুনে মেজাজ খারাপ হতে থাকলো বললো মলি তোরা কথা বল আমি ভিতর থেকে আসছি। পৃতি ভিতরে চলে যেতে যেতে থেমে গিয়ে আবার ফেরত আসল বললো,মলি আমি উপরে আছি উনার সাথে কথা শেষ হলে আসিস তো। মলি সব বুঝতে পারলো পরিবেশটা মেন্টেন করে বললো,ঠিক আছে তুই যা আমরা আমাদের দুলাভাইকে আর একটু বাজায়ে উপরে আসছি, তোর সাথে আমার ও কিছু মজার এবং টেস্টিং কথা আছে। মলি ও শেফালী মিলে আবার নানান রঙের আলতু ফালতু কথা দিয়ে আড্ডা জমিয়ে দিল। আড্ডাটা চিংড়ি মাছের বাজারের মত বেশ জমেছে। হুররে!
বেশ কিছু সময় অতিবাহিত করে মলি তার বাহিনী নিয়ে উপরে চলে গেল। দেখল পৃতি মন খুব খারাপ করে বসে আছে। মলি বললো, মন খারাপ করে কি করবি তোর কপালে যা ছিল তাই তো ঘটেছে। তোকে উপদেশ দেওয়ার মত ভাষা আমার নেই। কারণ রকি ভাইয়ের কথা যদি চিন্তা করি তাহলে তোর সব কিছু র্হাতে হবে। আবার যদি তোর দিক টা চিন্তা করি তাহলে রকি ভাই এর জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে। এমত অবস্থায়..কথা আস্তে বল শুনতে পারে, বলে মুখের কথা থামিয়ে দিল পৃতি। এবার নিজে বলতে শুরু করলো। আমি এ কয় দিন ধরে চিন্তা করে যা ঠিক করে রেখেছি তাই করব। শুধু বিয়ের একদিন আগে অথ্যাৎ আগামী বুধবার আমি রকির সাথে দেখা করবো। তোরা রকিকে নিয়ে হাতির ঝিলে অপেক্ষা করবি আমি আসব। তখন সব সমস্যার সমাধান সেখানে করব। মলিবাহিনী মর্ধাণ্য ভোজন সমাপ্ত করে চলে আসল।
*****
মিনিট যায় ঘন্টা আসে, ঘন্টা যায় দিন আসে, বিয়ে বিষয়ক অনুষ্ঠানের দিনটা দৌড় গোড়ায়। এর ভিতর সকল আয়োজন সমাপ্ত। দূরের নিকটের আত্মীয় কম বেশী সবার আশা প্রায় সমাúÍ। আজ বাদে কাল পৃতির বিবাহ। পৃতি কি করবে না করবে সব জল্পনা কল্পনা কল্পনা শেষ। রকিকে বান্ধবীদের দেয়া কথা অনুযায়ী হাতির ঝিলের পূর্ব পাশের রোড ব্যালকোনিতে এসে উপস্থিত হল। দেখল রকির বন্ধুরা ও পৃতির বান্ধবীরা সহ প্রায় ১৫ জন সেখানে উপস্থিত। দূর হইতে মনে হচ্ছে এখানে ছোট খাট হট্টগোল অথবা আনন্দ আড্ডা হচ্ছে। পৃতি এইখানে তার ব্যাথ্যা ভরা হৃদয় ও সাহস নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। শুধু নির্বাক নয়নে রকির পানে তাকিয়ে রয়েছে । আজ কয়দিন যেন রকির কিছুই ভাল লাগছিলনা মনের ভিতর সর্বদা যেন কিসের জ্বালা পোড়া ছিল । তার একটা ভাবনা সর্বদা উদয় হচ্ছে। সে যেন কিছু না কিছু একটা হারাইতেছে। পৃতিকে দেখে কেন জানি তার সেই আশাঙ্খটা টা আরো তীব্র ভাবে দেখা দিয়েছে। সহসা উঠে দাঁড়িয়ে পৃতির নিকটে এসে বললো, তোমাকে এত বিষণœ দেখাচ্ছে কেন, পৃতি মাঝে মাঝে তোমার কি হয় ? পৃতি ভেজা ভেজা কন্ঠে বললো, আজ হয়ত বিষণœ অবস্থায় আমাকে দেখতে পাচ্ছো কিন্তু কাল হয়ত তাও দেখবে না।
– একি বলছ পৃতি; আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।
– আমি তোমাকে কি বলতে এসেছি কেন বলতে এসেছি এ কথা গুলো অনেক আগেই তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় বলতে পারিনি। সুযোগ পেয়েছি বটে; হয়ত সে সময় বললে আজ এখানে আমি তোমাকে দেখতে পেতাম না। তোমাকে দেখতে হলে আমাকে ও মরণ চাদর গায়ে দিতে হত।
– কি হয়েছে সব খুলে বলনা পৃতি।
-কেন, মলিরা তোমার সাথে কিছুই বলেনি বুঝি?
– কই, না তো!
– ও খুব ভাল করেছে। আজ আমি তোমাকে সব বলব। কিন্তু তার আগে আমাকে কথা দিতে হবে তুমি ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। তা হলে হয়ত আমাকে বলা হবে না। এক বুক ব্যথা নিয়ে চলে যেতে হবে। রকি কি ভাল কথা কি মন্দ কথা ঠাহর পাইলো না শুধু বললো, তুমিই আমার সব, আমি তোমার জন্য সব করতে পারি। আমার পৃথিবীতে তুমিই আমার এক মাত্র সব।
– তাহলে তোমাকে আমার দিব্যি রইল কথাগুলো নীরব হয়ে আগে শুনবে পরে আমার কাছ থেকে জবাব নিবে। রকির বুঝতে বাকি রইলো না পৃতি কি বলতে চায়। দুঃখ ভরাক্রান্ত মন নিয়ে বললো, বল তুমি কি বলবে।
পৃতি সবার উদ্দেশ্য করে বলতে থাকল। এখানে কিছু রকির বন্ধুরা ও কিছু আমার বন্ধুরা উপস্থিত আছে। আজ আামি খুবই দোষী। মা-বাবার ২য় সন্তান আমি; আমার বড় বোন যখন তার ভালবাসার মানুষটির হাত চলে যায় তখন আমি খুব ছোট। বড় আপু তার ভালবাসার মান রাখতে যখন চলে গিয়ে গিয়েছিল তখন আমার পিতা মাতা একে বারে পাগলের মত হয়ে গিয়েছিল। আব্বু খুব ভাল বাসতো আপুকে । বলতে গেলে আমার চেয়েও । অবশ্য এখানে আমার আপুর দোষটা খুব কম ছিল। রবিউল ভাই অথ্যাৎ আমার দোলা ভাই তিনি বারে বারে আব্বুর কাছে লোক পাঠিয়ে ছিল আপুর জন্য বিয়ের প্রপোজল নিয়ে কিন্তু আমার আব্বু অপমান করে বের করে দিয়েছিল। কারণ অনেক টা বলতে গেলে রবিউল ভাই আমাদের চেয়ে মান সম্মানে অর্থে বিত্তে অনেক কম ছিল। যাইহোক, আমার স্মৃতি আপুর চলে যাওয়া টা আব্বু কোন ভেবে মেনে নিতে পারিনি। আর এই ঘটনার সমস্ত চাপ এসে পড়ে আমার উপরে। তার প্রায়চিত্ত আমি এখনও করে চলেছি। কথা গুলো বলতে বলতে কন্ঠ নরম হয়ে যায় পৃতির। সে যখন কথা গুলো বলছিল তখন তার নজর হাতির ঝিলের দিকে। কারণ সে জানে যে কথা গুলো সে যে অনায়াসে বলে চলেছে। তা রকির মুখের দিকে তাকালে এ ভাবে বলতে পারবে না। রকির মুখে কোন ভাষা নেই। নেই কোন উচ্ছলতা যে উচ্ছলতা নিয়ে সে এখানে এসেছিল। সে শুধু পৃতির কথা গুলো শ্রবণ করে চলেছে। হৃদয়টা ভেঙে চুরমার হয়ে চলেছে। নদীর তীরে আচড়ে পড়া ঢেউ এর মত। চোখের মাঝে বাচ্চা ছেলের মত পানি চলে আসছে । কিন্তু সবাই বোঝার আগে চুপি সারে মুছে ফেলছে রকি। পৃতি তার না বলা কথা গুলো থেমে নেই। বলেই চলেছে।
আমি দশম শ্রেনীতে পড়া কালীন বিদেশ পড়ারত বাঙালী এক ছেলের সাথে আমার বিয়ে দেয়। আমার বিয়ের বয়স না হওয়ায় বা আইনের উপর শ্রদ্ধা জনাতে ছেলে পক্ষরা আমাকে ঘরে তুলে নেইনি। এখন সে সময় ঘনিয়ে এসেছে। কাল তারা আমাকে ঘরে তুলবে আমি বিদেশে চলে যাব। আমি জানি রকি এ কথা গুলো শোনার পর খুব কষ্ট পাবে। আমাকে কোন দিন ক্ষমা করতে পাববে না। রকি আর কান্না চেপে রাখতে পারেনা ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। কেঁদে ওঠে পৃতিও । এই পরিস্তিতে যারা দর্শনার্থী তারা কি আর চুপ থাকতে পারে। রকির কান্না দেখে সবার চোখে কান্না চলে আসে। তবে তাদের কান্না নিঃশব্দের। পৃতির কান্না দেখে তার বান্ধবীরা কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনা।।পৃতি কান্না জড়িত কন্ঠে কথা বলেই চলেছে। আমি তার সাথে জড়াতে চাইনি শুধু ওর জীবন বাঁচাতে আমি ওর সাথে জড়িয়ে গেছি। বারে বারে কথা গুলো ওকে বলতে চেয়েছি কিন্তু বলার আগে ও আমাকে আবেগ ঘন মুহত্বে জড়িয়ে ফেলেছে ফলে আমি ওকে কিছু বলতে পারিনি । রকি উচ্চস্বরে কেঁদে উঠে পৃতিকে জড়িয়ে ধরে হাউ হাউ করে কাঁদতে শুরু করলো। পাশের লোক জন এই দৃশ্য দেখে দাঁড়িয়ে গেছে। রকির বন্ধুরা পথচারীদের চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলো। পথচারী চলে যায়। তবে যাওয়ার সাথে এই প্রেম বিচ্ছেদের কাহিনী স্বচোখে আবার দেখার চেষ্টা করে। রকি কাঁদার সুরে সুরে বলছে-পৃতি তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারোনা। তোমাকে আমি কোন ভাবে যেতে দেবনা। আমি মারা যাবো তবুও তোমাকে যেতে দেবনা। তুমি তো আমার আত্মা আর আত্মা ছাড়া কোন জীব বাঁচে তুমি বল? তুমি আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবেনা। উচ্চস্বরে কান্নার কারণে তার কথা গুলো অস্পর্শ শোনা যাচ্ছে। রকির কান্নায় যে সব চেয়ে ভেঙে পড়েছে সে হল মলি। তার নিরবে বুক ভেসে যাচ্ছে । কাউকে কিছু বলতে ও পারছেনা। পৃতি রকির বুকের ভিতর ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। এক অন্য রকম পরিতৃপ্তির সাথে রকির বুকের সাথে মিশে আছে। অনুভব করলো সে যে বুকে লুকিয়ে আছে এটাই বুঝি তার স্থান। আর অন্য কিছুই তার মাথার ভিতর নেই নিমিশেই সিদ্ধান্ত নিল সে রকি কে ছেড়ে যাবেনা।

পৃথিবীতে বালিকার প্রথম প্রেমের মত সর্বগ্রাসী প্রেম আর কিছুই নাই। প্রথম যৌবনে বালিকা যাকে ভালোবাসে তাহার মত সুভাগ্যবান আর কেহই নাই। যদি ও সে প্রেম অধিকাংশ সময় অপ্রকাশিত থেকে যায়,কিন্তু সে প্রেমের আগুন সব বালিকাকে সারা জীবন পোড়ায়। রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর।
জানিনা রবি ঠাকুরের কথা দুজনের জীবন জুড়ে বয়ে চলে কি’না।
বুক থেকে মাথা উপরের দিকে উঠায়ে রকির চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষন পৃতি। যে সময় টুকুতে পৃতি রকির চোখের দিকে তাকিয়ে আছে সেই সময়ে রকির চোখের পানি তর তর করে পৃতির মুখের মাঝে পড়তে থাকলো। চোখের গরম পানিতে পৃতির মন আরো নরম হয়ে গেল। এবং রকির বুকে তার মুখ আবার ও লুকিয়ে ফেললো । বললো আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবোনা। চারিদিক হতে আনন্দের ফুল্ল্যধারা উত্তেলিত হতে লাগলো। করতালিতে মুখরিত হল। এই করতালি টা যেন পৃতির কানে মধুর সুরের মত মনে হল। সে আরো জোরে রকির বুকে সাথে নিজেকে জড়িয়ে ধরলো। এ মধুর আলিঙ্গনে দুজন দুজনকে জড়িয়ে থাকলো কিছুক্ষন। হঠাৎ রকির শার্টের ফাঁক দিয়ে পৃতির নজর টা সামনে পড়লো । দেখলো এক মহিলা হেঁটে আসছে যে মহিলা দেখতে হুবাহু তার বড় বোনের মত মানে পার্কের সেই মহিলার মত। রকির বুকের মাঝে থেকে আরো কিছু টা সময় মহিলাকে দেখার চেষ্টা করলো পৃতি। কেন জানি মনে হল গত দিন সে যে মহিলাকে দেখেছিল। সেই মহিলা আর এই মহিলা হুবাহু একই। রকির বুক থেকে মাথা সরায়ে পৃতি মহিলাটিকে দেখার চেষ্টা করলো। মহিলাটি একবার ফিরে তাকালো পৃতির দিকে। থেমে গেল মহিলাটি। হঠাৎ পাশ থেকে এক প্রাইভেট কার এসে থামলো। গাড়ীর ভিতর হতে একটি ছোট ৪ বছরের শিশু ডাকদিল, আম্মু ভিতরে এস। মহিলা টি আনমনা হয়ে গাড়ীর ভিতরে প্রবেশ করলো। গাড়ী চলতে থাকলো । মহিলাটিকে আনমনা হতে দেখে মহিলাটির স্বামি বললো,তোমাকে আনমনা লাগছে কেন? মহিলা কিছুই বললোনা। পিছন হতে বাচ্চাটি বললো আম্মু যে মেয়েটি তোমার দিকে তাকায়ে ছিল সে কিন্তু সেম তোমার মত দেখতে, সি লাইক ইউ। ড্রাইভিং সিট হতে রবিউল বললো,তোমার পৃতি আন্টির কথা বলছো সে এখানে আসবে কোথা থেকে তার তো অনেক আগে বিয়ে হয়ে গেছে। গাড়ী সামনে যেতে শুরু করলো।
পৃতির সমস্ত শরীর ঝড়ের মত কাঁপতে থাকলো। রকি বললো পৃতি এমন করছো কেন? পৃতি বললো আমি বাসায় চলে যাবো। রকি বললো বাসায় চলে যাবে মানে। তুমি কি বল না বল আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারিনা ? কোন আবেগে হঠাৎ পৃতি আবার ডুকরে কেঁদে উঠলো।
-রকি আমি আমার আব্বু-আম্মুর মনে আর কষ্ট দিতে চাইনা। আমার বড় আপু তাদের কনেক কষ্ট দিয়েছে,আমি যদি সেই কষ্ট দেই। তাহলে তাদের আত্ম হত্যা করা ছাড়া কোন পথ থাকবে না। আমার জন্য আর কষ্ট পেয়োনা প্লিস ভুলে যাও পৃতি নামে তোমার জীবনে কেউ এসেছিল। রকি যেন আবার বাক রুদ্ধ হয়ে গেল। কিছুটা স্থিমিত,যাকে বলে স্বাভাবিক হওয়ার বৃথা চেষ্টা । রকির বন্ধু অনি বললো,পৃতি দেখো জীবন টা ছেলে খেলা নয়। একটা জীবনের অনেক মূল্য,তুমি কখন কি বলছো সেটা একবারও কি ভেবে বলছো। মলি বললো,দেখ পৃতি তোর এই খাম খেয়ালীপনা আমার একদম অপছন্দ। কি করবি না করবি একে বারে বলে ফেল। পৃতি সবার মুখের দিকে অবালা শিশুর মত তাকায়। সবার মুখের উপর হতে যখন মুখটা ফিরায়ে নিয়ে যখন রকির মুখের দিকে তাকায় তখন কেন জানি সব কিছু তার এলোমোলো হয়ে যায়। ইচ্ছা করে ওই বুকে ঝাপিয়ে পড়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে। কিছু টা স্বাভাবিক এখন পৃতি, ভেবে চিন্তে ধীর স্থির ভাবে বলতে শুরু করলো। আমি মুসলমানের মেয়ে আমার এক জবান আমি ওর মাকে কথা দিয়েছি এবং ওকে কথা দিচ্ছি আমি এ জীবনে এক দিন না’এক দিন আমি ওর বউ হয়ে আসব। আর এর ভিতর ওর যদি ১০ টা বিয়েও করে তা কোন অসুবিধা নেই। শুধু আমার প্রতিজ্ঞা আমি পালন করব। আর আমি অবশ্যই চলে আসব ও যদি আমাকে গ্রহন না করে আমার কোন আপসোস থাকবে না। আমি একা একি জীবন যাপন করব । তবে স্বামির ঘরে ফিরে যাব না। শুধু আমার পিতা মাতার জন্য আমার স্বামির ঘরে ফিরে যেতে হবে। আমার কথা বলা শেষ; এবার রকি কিংবা আপনারা বা মলি তোরা কিছু যদি বলতে চাস বলতে পারিস।
রকি হতভম্ব হয়ে গেল চোখ দুটি স্থির হঠাৎ বেহুঁস হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।
ভালোবাসা যদি তরল পানির মত কোন বস্তু হত,তাহলে সে ভালবাসায় সমস্ত পৃথিবী তলিয়ে যেত। এমন কি হিমালয় পর্বত ও। হুমায়ূন আহমেদ
হিমালয় পবর্তের চেয়ে ও যদি বড় কিছু থাকে তাও রকির ভালসার কাছে তলিয়ে যাবে। বন্ধুরদের ভিতর হই চই পড়ে গেল । সবাই রকির কাছে চলে আসলো। মলি পানির বতল হতে পানি নিয়ে রকির মুখে ছিটে দিতে লাগলো আর পৃতিকে ভৎসনা করতে লাগল। সেময় পৃতি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলছিল। ততক্ষনে রকির ভ্রম ফিরল। পৃতির চোখের দিকে তাকিয়ে একটা কথা বললো,আমার কোন আপসোস নেই পৃতি তুমি যেতে পারো। পৃতি বললো, তুমি কথা গুলো রাগে অভিমানে বলছো আমি মনে হয় বুঝতে পারিনি মনে করছো’না। উপরে আল্লাহ আছে,এবং এখানে সবাইকে সাক্ষি করে বলছি আমার বিয়ে এক দিন না’এক দিন তোমার সাথে হবে। তুমি না চাইলে ও আমি তোমার কাছে ফেরত আসবো।
রকি কোন কথা বলছেনা কেউ কোন কথা বলছেনা।
সাক্ষি সবাই। এই তোমার মাথা ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করছি, আমি এক দিন তোমার বঊ হব।
অবশেষে পৃতি বিদায় নিল।
‘‘ সবাই তোমাকে কষ্ট দিবে,তোমাকে শুধু এমন এক জন কে খুঁজে নিতে হবে যার দেওয়া কষ্ট তুমি সহ্য করতে পারবে’’ হুমায়ুন আহমেদ
এই বিখ্যাত লোকের উক্তি যেন রকি মাথায় ধারন করল।
*****
বিয়ের দিন মন কষ্টে নিয়ে ও মলি সেখানে গিয়েছিল,মলি যাইতো না গিয়েছিল শুধু মাত্র রকির জোরা জুরিতে । কারণ সে মলিকে দিয়া একটি পেইনটিং উপহার দিয়েছিল তাতে লেখা ছিল
‘‘থাকব তোমার পথ চেয়ে
শেষ বিকেলের মেঘ হয়ে”
এই উপহার টুকু পৃতি বুকের ভিতরে নিয়ে গ্রহন করল অথ্যাৎ রকির উপহার টুকু পাওয়া মাত্রই বুকের সাথে চেপে ধরলো। রকি না আসায় পৃতি মলিকে জড়িয়ে খুব কান্না করতে থাকলো। এবং সবার অজান্তে একটা ডাইরি উপহার দিল রকির উদ্দেশে। ডাইরির প্রথম পাতায় লিখে দিল ।
‘‘আমি এক দিন আসব ফিরে
যদি মরে যাই তবে শঙ্ক চিল হয়ে।
বেঁচে থাকলে আসব ফিরে
শেষ বিকেলের মেঘ হয়ে ’’
দ্বিতীয় পাতায় লেখা ছিল। আমি তোমার কাছ থেকে চলে আসার পর থেকে আবার আমি তোমার জীবনে ফেরত আসা না পর্যন্ত যে কাহিনী ঘটবে তা অবশ্যই লিখে রাখবে। আমি ফেরত আসার পরে সে গুলো পড়ে সেই ঘটনা গুলো যেন নিজের সাথে মিলায়ে নিয়ে সুখে দুঃখে একাকার হয়ে যেতে পারি।
*****
মলি ডাইরিটা যে সময় রকির কাছে পৌঁছালো। সে সময় পৃতি বিমানে উড়তে ছিল। রকি পৃতির দেওয়া ডাইরি টা বুকে ধারন করে নিভৃতে নিরালয়ে বারি ঝরাতে লাগলো,ও আপন মহিমায় লেখা গুলো পড়তে থাকলো সাথে সাথে ডাইরিটাকে পরম যন্তে হাত বুলাতে থাকল।
সাংসারিক জীবন শুরু হয়েছে পৃতির । চলে দিন, কাটে আধার, আসে বছর, পুণ্য হয় যুগ।
////কেটে যায় ত্রিশ টা বছর///

**************************************************

মা হয় পৃতি বেগম। পৃতি বেগমের দু ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে জব করে । মেজ ছেলে অর্নাস থার্ড ইয়ার, মেয়েটা নবম শ্রেণীতে পড়ে। ছেলে মেয়ে স্বামী নিয়ে তার সুখের সংসার। কিন্তু রকিবুল হাসান রকির শুধু একটি মাত্র সংগী সেই পুরানো ডাইরি ও কিছু খাতা ও কলম। কয়েক বছর হলো রকির পিতা মারা গেছেন। অসুস্থ শরীরে বিছানায় পড়ে আছে মা। তিনি পুত্র বিবাহের ব্যার্থ প্রয়াস করে যাচ্ছে এই ৯০ বছর বয়সে ও। কিন্তু ফল হয় না।
পাগলী আমার ঘুমিয়ে পড়েছে মুঠোফোন তাই শান্ত,আমি রাত জেগে দিচ্ছি পাহারা মুঠো ফোনের এই প্রান্ত,এ কথা সে যদি জানতো’ । নির্মলেন্দু গুণ
‘নির্মলেন্দু গুনের কবিতার মত দিন গুলি অতি বাহিত করে আসছে রকিবুল হাসান রকি। রকি বর্তমান সময়ে সাড়া জাগানো কবি। আলোচনায় কয়েক জনের মধ্যে সে একজন। প্রেম বিষয়ক কথিকায় সে প্রথম। সে দেশের দামি দামি পত্রিকা গুলোর নিয়মিত লেখক। বাজারে বর্তমানে ১৫০ টার মত সফল উপন্যাস চলছে।
পৃতির সন্তানদের ভালবাসায় ও স্বামির মহিমায় প্রায় ভুলে ছিল এই ৩০টি বছর সে ভুলেই গিয়েছিল রকির কাছে ফিরে আসার কথা। একদিন নামাজ শেষে চোখ পড়লো দেওয়ালে ঝুলানো সেই পেইন্টিয়ের দিকে- লেখা গুলো এখন প্রায় অস্পষ্ট
‘‘থাকব তোমার পথ চেয়ে
শেষ বিকেলের মেঘ হয়ে”
লেখা গুলো প্রায় তার চোখে পড়ে কিন্তু আজ যেন তার চোখে অন্যভাবে পড়লো প্রার্থনার সময় মনে করলো রকির কাছে ফেরত যাওয়ার সময় হইছে। বিবেক বারে বারে নাড়া দিচ্ছে। অতিতে রকিকে কথা দেওয়ার জন্য স্বামি, সন্তান-সন্তুতি, আত্মীয় স্বজন সব ত্যাগ করতে হবে। আবার না করলে সে যে বিশ্বাস ঘাতকীনি হয়ে যাবে। আল্লাহ কথা বেখালাপকারী কে কোন দিন ক্ষমা করিবেন না।
তাই পৃতি সেই প্রথম জীবনের মত সব চিন্তা শেষ করে সন্তান সহ স্বামীকে বললো, দুই একের মধ্যে টিকিটের ব্যবস্থা করতে তার আশু বাংলাদেশে যাবার প্রয়োজন। মূল ঘটনাটা কেহ বুঝতে পারে না। স্বামী সহ সন্তানরা অনুভব করল। তার দেশের বাড়ীতে আত্মীয় স্বজনদের সাথে মেলা মেশার প্রয়োজন অনেক দিন দেখা হয়না তাদের হয়ত, তাদের দেখতে খুব ইচ্ছা করছে মনে হয়। সম্মতি জানায়ে বড় সন্তান টিকিটের পাওয়ার সকল ব্যবস্থা করলো। স্বামী দৌলত হোসেন ডোনা বললো, তোমার বড় ছেলে তোমার বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য টিকিট ফাইনাল করেছে। সন্তানরা যখন সামনে দিয়া সুখের উল্লাসে হেঁটে বেড়ায় ব্যাথায় তার বুক কেঁপে ওঠে। মনের অজান্তে পৃতি বলে ওঠে, সত্যই কি টিকিট কেটেছিস বড় ছেলে? বড় ছেলে রায়েল বলে আম্মু তুমি নানি বাড়ীতে যেতে চেয়েছো আর আমি টিকিট কাটবোনা এটা কি কখনও হয়। মেয়ে লিজা দৌড়ে এসে মায়ের মুখে চুমু খেয়ে বলে, তুমি আমার লক্ষি মাম। তুমি জলদি ফিরে আসবে। আমার এক্সজাম না থাকলে তুমি না চাইলে তোমার সাথে আমি জোর করে হলে ও যেতাম। স্বামী পরম সুখে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে, পৃতি তোমার শরীর খারাপ এমন করছ কেন, কারো কথা কি খুব মনে পড়ছে? কারও কথায় কোন জবাব দেয় না পৃতি বেগম। হাজার প্রশ্ন মনের মাঝে জমা হয়ে থাকে সমাধান পায়না। মনে প্রশ্ন জাগছে,সে কি রকির দেখা পাবে? সে বা কোন হালে আছে! সে যদি আবার গ্রহণ না করে? তাহলে সন্তানদের সামনে মুখ দেখাবে কেমন ভাবে। বা তার ছেলে মেয়ে স্ত্রী তার সেখানে যাওয়াটা যদি অন্য ভাবে দেখে।
পৃতির আত্মবিশ্বাস কোন দিন রকি হতে সে অসম্মানি হবে না। কিন্তু সে কি ভাবে স্বামী সন্তান রেখে চলে যাবে,চিন্তায় তার দু চোখের পাতা এক হয় না।
মাঝে মাঝে আত্মার সম্পর্ক রক্তের সম্পর্কেও অতিক্রম করে যায়। হুমায়ূন আহমেদ

তাই বুঝি পৃতি বেগম সব চিন্তার অবসান ঘটিয়ে গভীর রাত্রে স্বামি ও সন্তানদের উদ্দেশে একটা চিছি লেখা শুরু করে…
আমার বুকের মানিকেরা,
চিঠির শুরুতেই আমার বুকের সমস্ত ভালবাসা দিয়ে তোদের ভালবাসা জানালাম। আমি যে তোদের কত বড় পাষান মা, আমাকে যেন আল্লাহ ক্ষমা না করেন। তবে আমি নিষ্ঠুর বা পাষান নইরে! আল্লাহ কে ভালবেসে আমাকে হতে হয়েছে।
তোরা যখন আমার চিঠি পড়ছিস হয়ত আমি বিমানে । তোরা আমায় দোয়া করিস, আমি যেন বাংলার মাটি স্পর্শ করার আগে মরতে পারি। কারণ আমি এমনই এক নারী আমার স্বামি আছে,কলিজার টুকরার মত তিনটি বাচ্চা রয়েছে,সুখের সংসার রয়েছে; তা ছেড়ে আমি কোন এক পর পুরুষের উদ্দেশ্য পা বাড়িয়েছি; তবে তোদের মা সতী নারী। আমার প্রানের পাখিরা তোরা তোর পিতাকে খুব জন্ত করিস। উনি আমাকে খুব ভালবাসেন।
তোদের বাবাকে বলছি… তুমি তো জানো, আমার দেহে সেই কামনা বাসনা নেই, যে আমি তার জন্য ঘর ছেড়েছি। আমি যৌবনে এক ছেলের জীবন বাঁচাতে আল্লাহকে সাক্ষী করে এক প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ হয়েছিলাম যে, এই জীবনে তার কাছে এক বার ফিরে যাব। বিয়ের পর থেকে তার সাথে আমার কোন সংযোগ ছিল না। জানি না; সে তার কথা মত আমাকে গ্রহন করবে কিনা। তোমার ঘরে যাওয়ার পর থেকে আল্লার পথে মন নিবিষ্ঠ করে তাকে ভুলে থেকেছি। কিন্তু প্রেম পবিত্র আল্লাহর ইশারায় হয়ত তার কাছে যাওয়ার জন্য আমার মন ব্যাকুল হয়েছে। আবার বলছি তার কাছে যাচ্ছি দেহের টানে নয় মনের টানে।
আমার সন্তানেরা বড় মা পাগল, আমি কত বড় পিসাচ তাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছি। কিন্তু কি করব, ভার্সিটি জীবনে আমি মৃত্যু শ্যর্যায় থাকা রকির মাকে কথা দিয়েছিলাম, আমি একদিন তার ছেলের বউ হব।
আমার এক মাত্র মেয়েটা সে যে মায়ের হাতে খেতে ভালবাসে তাকেও ছাড়লাম। তোরা দুই ভাই যেন ওকে গাল মন্দ করিস না। আমি আমার ভালবাসার দাম দিতে যেয়ে এটা করেছি। এরপর ও যদি আমাকে ক্ষমা করিস তাহলে ঠিকানা দেব আশিস। অনেক স্বপ্ন থাকে মা বাবাকে নিয়ে। কিন্তু আমি তোদের পাষানী মা তোদের ভালবাসা চোখে সইতে পারলাম না। আমি তোদের ভালবাসা আজীবন স্মরণ রাখব। তোদের জীবনে শান্তির সিঁড়ি আকাশ ছোঁয়া হোক। বাবা কে দেখে রাখিস। তোরা ফুলের মত ফুটে থাকবি । যে ফুলের গন্ধে পৃথিবী বিমহিত হবে।
কেউ আমাকে ক্ষমা করিস না।
ইতি
তোদের মা

*****
আজ প্রায় ৩০ বছর পর এই বাংলার মাটিতে আবার পা রাখল পৃতি। সে যেন অনুভব করল এই সেই হাওয়া; যে হাওয়া তার কিশোরী বয়সে মনকে দোলা দিয়ে দিয়ে যেত। ঝিঝি পোকার শব্দ মনের বিনায় গান তুলতো। যে পাখি আকাশে উড়াল দিলে শান্তি আহবানে কন্ঠ বেজে উঠত গান। গাছে গাছে ফুল গুলি প্রেমের পরশ পাবার জন্য উম্মুখ হয়ে চেয়ে থাকত। সব কিছুই মর্মে মর্মে অনুভব করতে লাগল পৃতি। কিন্তু আজ তার অনুভব করার শক্তি আছে কিন্তু অনুভূতি নেই। বয়স তার প্রায় শেষ বিকালের রবির মত। সিএনজি তে বসে চেনা চেনা জায়গা গুলি দেখে স্মরণ করতে লাগল কোন জায়গায় রকির বাসা ছিল। অনেক বছর হয়েছে ঢাকার চেহারা পরিবর্তন হয়েছে। যায়গা গুলো সব অচেনা অচেনা মনে হচ্ছে পৃতি বেগমের কাছে। আসে পাশে শুনতে শুনতে এক সময় রকির বাসায় মগবাজার বাটার গলিতে পৌঁছাল পৃতি। বাসায় এসে পৃতি দারোয়ান কে জিজ্ঞাসা করলো এটা রকিবুল হাসান রকি সাহেবের বাসা ? দারোয়ান পরিচয় সব কিছু জেনে উপরে টেলিফোন করলো তারপর তাকে ভিতরে যাওয়ার অনুমতি দিল। রকির একটা ধারনা ছিল । এই মগবাজার বাটা গলি হতে রকি কোথায়ও যাবেনা। কারণ এটা তাদের নিজ্বস ফ্লাট। পৃতি বেগম বাসার ভিতর যখন প্রবেশ করলো তখন বাজে বিকাল ৩.০৫ মিনিট। বাসায় প্রবেশ করে পৃতি দেখতে পেল চুল পাকা একটা খুড় খুড়ে এক বুড়িকে। এনাকে দেখে পৃতির বুঝতে বাকি রইলো না যে, ইনিই রকির মা। এখনও বেঁচে আছেন! পৃতি কদম্মুচি করে বললো, মা দেখেনতো আমাকে চিনতে পারেন কিনা। দাঁড়ি কাঁপাইতে কাঁপাইতে বুড়ি কলল, কই নাতো দারোয়ান তোমার নাম কি জানি বললো ভুলে গেছি, তুমি কে বলছ?’’ বয়স দেখে মনে হচ্ছে ১০০ এর স্বনিকটে হবে। বৃদ্ধা আবার বললো, ‘‘বয়স হয়ে গেছে চোখে কম দেখি। কে গো তুমি মা?’’ পৃতি বললো, বলছি তার আগে বলেনতো ওই যে বাঁধানো ছবিতে দাড়িওয়ালা মানুষটি, কে ?
– ওর কথা বলিওনা। ও আমার ছেলে রকিবুল।
পৃতি যে দাড়ি ওয়ালা ছবি দেখে মানুষ টিকে চিনতে পারিনি এমন টি নয়। মানুষের যতই বয়স হোক যৌবনের কিছু আকৃতি কিন্তু মুখের মাঝে থেকে যায় যা আজীবন ভোলা যায়না। শুধু মনের ভ্রান্তি দূর করার জন্য প্রশ্নটি করা। পৃতি বললো, কেন আপনার, ছেলের কি সমস্যা?
– তার আগে বলত তুমি কে?
– আচ্ছা মা আমি বলছি। তার আগে বলুন আপনার ছেলে বিয়ে করেছে? বুড়ি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো ওই জন্য হয়ত আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। পৃতি নামের এক মেয়ে তাকে ও ভার্সিটি জীবনে বিয়ে করতে চেয়েছিলো। তার অপেক্ষায় এত দিন ও বিয়ে করেনি। ওর বাপটা ওই শোকেই মারা গেল। আল্লাহ যে কেন আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন?
– মা, যদি বলি আামি সেই মহিলা যার জন্য আপনার ছেলে এখনও বিয়ে করিনি।
বুড়ি অবাক নয়নে তাকিয়ে রইল। তারপর পৃতি তার জীবনে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা পূঙ্খানো পূঙ্খানু ভাবে রকির মা কে বলতে লাগলো। এর ভিতর কাজের মহিলা এটা এসে কখন নাস্তা দিয়ে গেছে তা কেউ বলতে পারেনা। কথা বলার এক পর্যায়ে বুড়িমা বললো, এই খালেদা আমার বৌমা আসছে নাস্তা নিয়ে আয়। ঘর হতে বাইরে এসে খালেদা বললো,আমি চাচির লাইগা সেই কখন নাস্তা দিয়া গেছি আপনারা কথা বলার মধ্যি ছিলেন তো এর লাইগা ট্যার পান নাই। পৃতি বললো,এই খালেদা তুমি কি আমারে চেন যে আমাকে চাচি বলে সাম্বোধন করলে? আপনারে চাচি কইলাম হ্যার লাইগা চাচার ঘরে ওয়ালের চারি পাশে যে মাইয়ার ছবি টাঙানো হ্যার চেহারা অনেকটা আপনার লাহান দেখতে। তয় আপনার এহন বয়স হইছে চোলে পাক ধরছে। পৃতি এবার উঠে দাঁড়ালো খুব উৎসুক ভাবে প্রশ্ন করলো তোমার চাচার রুম টা কই? খালেদা বললো,আমার লগে আহেন চাচি আম্মা। খালেদার সাথে পৃতি রকির রুমে প্রবেশ করলো। রকি রুমে প্রবেশ করার পরে পৃতি অবাক হয়ে গেল। রকির রুম টা দেখে মনে হল সে ছোট খাটো কোন এক মিউজিসিয়ামে প্রবেশ করেছে। রুমটা একে বারে পরিপাটি। রুমের চারিপাশ দিয়ে পৃতির ভার্সিটি লাইফের ছবি ঝুলানো। বেশি অবাক হল এই ছবি গুলো সে কিভাবে ম্যানেজ করলো। সে তো কোন দিন তাকে ছবি দেইনি। এমনটি তার বিয়ের আসরের ছবি ও এখানে ঝুলানো। সব ছবির নিচ দিয়ে রকির নিজের ছবি ঝুলানো। সেই ভার্সিটি লাইফ হতে আজ অবধী সব বয়সের ছবি। পৃতি মনের মাধূরী মিশিয়ে দেখতে থাকলো। চোখের পলক পড়ছে না। একটার পর একটা ছবিতে চোখ বুলাতে থাকলো । খালেদা বললো, চাচি এত দিন পরে আসলেন আগে নাস্তা কইরা লন। তার পরে দেইখেন। এত দিন পরে এলেন মানে? অবাক হয়ে বললো পৃতি। খালেদা বললো, হায় আল্লা! চাচি আপনি কন কি? এই বাসায় ৩ বছর ধইরা কাম করতাছি আপনার যৌবন কালের ছবি দেইখা আমি চাচারে জিগাইতাম চাচা এত সুন্দর চাচিরে আপনে কই হারাইছেন? চাচা আমারে কয়, কেডা কইছে তোর চাচিরে হারাইছি। তোর চাচি আমার জন্য বিদেশে গ্যাছে দেখিছ ও একদিন ফিইরা আইবো। আপনার ফেরত আইতে আইতে তিন বছর কাইটা গেল। পৃতি খালেদার কথা শুনে কিছুই বললো না। অনুভব করলো আসল ভালবাসা কাকে বলে। ভালবাসার শক্তি কত প্রখর যে একজন তার জীবন এভাবে শেষ করে দিতে পারে। পৃতির চোখ পড়লো একটা টেবিলের দিকে। তার পাশেই বইয়ের তাক। তাকে শত শত বই। দূর হতে একটা বই এর কাভারে পেজে তার ছবি চোখে পড়ল। রকির এই গভীর ভালবাসায় মনে পড়ে গেল রবি ঠাকুরে সেই বিখ্যাত পঙ্কিতি দুটি ।
আমি তোমাকে অসংখ্য ভাবে ভালবেসেছি,অসংস্য বার ভালবেসেছি,এক জীবনের পর অন্য জীবনে ও ভালবেসেছি,বছরের পর বছর সর্বদা সব সময়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পৃতি আস্তে আস্তে যেয়ে বইটি হাতে নিল। বই টির নাম‘শেষ বিকেলের মেঘ’ বই এর পিষ্ঠা গুলো উল্টায়ে পল্টায়ে দেখতে লাগলো। দেখা শেষ করে তাকের অন্যান্য বই গুলো নেড়ে চেড়ে দেখতে থাকলো। যে বইটি ধরে সব গুলো বই এর লেখক রকিবুল হাসান। এবং আরো একটি মজাদার ঘটনা। প্রতিটা বইয়ে কোন না কোন পেজে পৃতির ছবি আছেই। এক সময় খালেদা কে প্রশ্ন করলো খালেদা তোমার চাচা কি লেখক? খালেদা এক গাল হেসে কয় খালা আমার লগে ফাজলামি করেন না? চাচা দ্যাশের নাম করা কবি আর চাচি আমারে সমকরা কইরা জিগাই চাচা লেখক কিনা। ওই দিকে তাকিয়ে দ্যাখেন পুরস্কারের গাদা সব লিখে লিখে পাইছে চাচায়। পৃতি রুমের দক্ষিনে তাকিয়ে দেখলো অনেক বড় একটা কাচের শোকেস । পৃতি শোকেস টার পাশে গেল দেখলো সেখানে অনেক গুলো মেডেল ও ক্রেজ। পৃতির বুঝতে বাকি রইলো না। সে গুলো সাহিত্যের জন্য সেরা উপার্জন। এ এগুলো সে আপন হাতের পরম চোঁয়ায় পরগ করে করে দেখলো। পৃতি এবার চলে আসলো টেবিলটার কাছে। দেখলো টেবিলে অনেক গুলো ডায়েরী খাতা কলম সাজানো। হঠাৎ মনে পড়ে গেল। তার উপহার দেওয়ার সেই ডায়েরীর কথা সে এই ডায়েরী গুলোর ভিতর তার দেওয়া ডায়েরী খুঁজতে লাগলো। কিন্তু কোথাও খুঁজে পেলনা। খুব তিক্ষèভাবে মনে করতে থাকলো উপহার টুকু সে তো মলির কাছে দিয়েছিল। মলি তার কাছে না দিলেও দিতে পারে। এক দুপা করে খালেদার সাথে বাইরে আসলো। বললো দাও নাস্তা দাও। খুব ক্ষুধা পাইছে। খালেদা বললো চাচি আম্মা ভাত আছে ভাত দেই। প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এল এখন কেউ কি আর ভাত খায়। এখন নাস্তা রাতে ভাত খাবো। বললো পৃতি বেগম।
নাস্তা করতে করতে পরে বুড়ি মা কে শুধালো আম্মা রকি কোথায়? বুড়িমা বললো, ও সব সময় লেখা লিখি করে। নোবেল লেখে, বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালিখি করে। হয়ত সেখানে আছে। তবে খুব বেশি বাইরে থাকে না আমাকে রেখে । এক্ষনি চলে আসবে। এমন সময় দারোয়ান এসে দরজায় নক করলো । খালেদা এসে দরজা খুলে দিল। দারোয়ান থর থর কাঁপছে চোখ মুখ লাল হয়ে আছে। দারোয়ান খালেদা কে বললো, দাদি আম্মা কোনহানে? ওই তো ভিতরে। ক্যান কি হইছে বাইরে কিসের শব্দ হইতাছে বললো খালেদা। দারোয়ান বললো, পরে শুইনো তুই দাদি আম্মারে লইয়া একটু গ্যারেজে আয়। আর কোন কথা না বাড়িয়ে দারোয়ান নিচে চলে গেল। খালেদা বুড়িমা ও পৃতিকে নিয়ে গ্যারেজে আসলো। দেখলো অনেক গুলো মানুষ একটা লাসকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। বুড়িমা বললো তোমরা কাঁদছো কেন, ওটা কার লাস? এখানে যারা দাঁড়িয়ে আছে সবাই কবি সাহিত্যিক। সমাজের উঁচু মাথা। কিন্তু কেউ কোন কথা বলছে না। দারোয়ান হাউ হাউ করে কেঁদে বললো দাদি আম্মা এটা চাচার লাশ বিকাল তিনটার সময় নাকি চাচা ঢাকা লাইব্রেরিতে ষ্ট্রোক করে মারা গেছেন। বুড়ি মা ছেলের মুখটা বের করে মায়ের পাগলামী বিলাপ করতে লাগলো। কি অবাক বিষয় যে তিনটার সময় পৃতি রকির বাসায় প্রবেশ করলো সেই সময় রকি গত হলো। আহারে! পৃতি বিহবল হয়ে গেল অবাক নয়নে তাকিয়ে আছে রকি মায়া ভরা সেই মুখের পানে। চেহারার উপর থেকে কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার কয়েটা চয়ন যেন প্রতিধ্বনী হচ্ছে-
বিশ্বাস করুন আমি কবি হতে আসিনি,আমি নেতা হতে আসিনি,আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম,প্রেম পেতে এসেছিলাম,সে প্রেম পেলাম না বলে এই প্রেমহীন নীরস পৃথিবী থেকে নীরব অভিমানে চিরদিনের জন্য বিদায় নিলাম।
পৃতি বেগমের কোন ভাষা নেই । চোখে ও নেই কোন পানি। যেন নিষ্প্রান এক বস্তু দাঁড়িয়ে আছে। চোখে পানি থাকবে কি করে সে তো নিথর। কত কথা স্মৃতি পটে ভেসে উঠছে। কি হলো কেন হলো সব উত্তর তার জানা নেই। লাসের সৎগতি হল। কেটে গেল দুই দিন। বুড়িমা পৃতিকে বললো তুমি তোমার ছেলে মেয়ের কাছে ফিরে যাও। পৃতি বললো তা হয়না। এত দিন সে আপনাকে আগলে রেখেছিল আজ সে নেই। আমি গেলে আপনাকে দেখবে কে। বলে আস্তে আস্তে রকির রুমের দিকে প্রবেশ করলো। দেখলো তার নাক বরাবর আলমারির উপর কোরান শরীফ, তার পাশে একটা ডায়েরী। ডায়েরী হাতে নিল । হাতে নিতেই বুছতে পারলো তার দেওয়া ডায়েরী। ডায়েরীর কোন পেজ খালি নেই। সব গুলো পেজ লেখা। নজর পড়লো একে বারে শেষের পিষ্ঠায়। সেখানে লেখা..
পৃতি, কেন জানি মনে হয় তুমি আমার জন্য এক সময় না এক সময় চলে আসবে। কিন্তু আমার সাথে তোমার দেখা হবে না। সেই ভাবনা হতে একটা উপন্যাস লিখেছি। উপন্যাসের নাম “শেষ বিকেলের মেঘ।” আর এই শেষ বিকেলে মেঘ আমি। যদি হঠাৎ দমকা হাওয়া আসে যেখানে আধার জমে গেছে সেখানে চলে যাব। আর সূর্য ডুবলেই তো আমি নিরুদ্দেশ। অবাক হবে! এই উপন্যাস টি লিখে আমি একুশে পদক পুরস্কার পেয়েছি। বই টি পড়। ইতি রকি।।

সমাপ্ত

লেখক পরিচিতি
মৃত্যুঞ্জয় সরদার উচ্ছ্বাস জন্ম গ্রহন করেন- সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার ভেটখালী গ্রামে। মাদার নদীর তীরে। তিনি রমজাননগন ইউনিয়নের ভেটখালী গ্রামের সবচেয়ে বৃহৎ গোষ্টি (সরদার বংশ) বংশীয় সরদার পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার বাবা বিমল সরদার এক জন ব্যবস্যায়ী। মা প্রমিলা রানী সরদার একজন গৃহিনী । তার প্রাইমারি স্কুলের নাম-নতুন ঘেরী সরকারী প্রাইমারী স্কুল। হাইস্কুলের নাম- ভেটখালী এ করিম হাই স্কুল। ইন্টারমিডেট পাশ করেন মুন্সিগঞ্জ কলেজ থেকে। ড্রিগ্রি পাশ করেন- শ্যামনগর মহাসিন ড্রিগ্রি কলেজ থেকে। এবং ডাকা কলেজ হতে ইতিহাস বিভাগে সবচেয়ে বেশি নং পেয়ে মাস্টার্স পাশ করেন। ছোট ভাই অনাদি সরদার খুলনা ইউনিভার্সিটি হতে ম্যাতে অনার্স মাস্টাস ফাস্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে পাশ করেন। ছোট বোন রতœা রানী সরদার কালিগঞ্জ, রোকেয়া মুন্সুর মহিলা কলেজে রাষ্টবিজ্ঞান ফাইনাইল পরীক্ষার্থি।
]
আচ্ছা বলুন তো, শেষ বিকেলের মেঘের রং কেমন হতে পারে? কেমন হবে, যদি মেঘ সাদা হয়ে হয়ে থাকে- তাহলে তো সাদাই। আর সাদার ভিতর সূর্য মামা ডুবে যাওয়ার পূর্ব মূহুত্বে যদি হালকা করে তার রুপ টা ছড়ায় তখন আর কেমন হবে লালচেই হবে বা সোনালীই হবে। আর মেঘ যদি সাদা কালো মিক্সড থাকে তাহলে সাদাকালো মেঘ। আর এই সাদা কালোর ভিতর সূর্য মামার লাল আভা যদি পড়ে তখন তার রুপ হবে সাদা কালো লালি। আর মেঘ গুলি যদি ধরণীর বুকে তার ধারন কৃত পানি ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়,তার তার রুপ আবার কেমন হবে জল ভরা সাদা কালো মেঘ। মনুষ্য সৃষ্টি কোন স্যাটালাইটের আলো বা আগ্নেগিরির কোন লাভা বা ঘন কুয়াশার রেখা মেয়ের উপর পতিত হয় তখন মেঘটা ভিন্ন ভিন্ন রুপে আবর্তিত হবে। যদি মেঘ টা মেড় মেড়ে কালো হয়। আর তখন যদি সূর্য মামা ডুবে যায় তখন তার রং আবার কেমন হবে সে মেঘ না কালো আঁধার সেটাই তো বোঝা বড় দায় বা সূর্য মামা ডুবতে বসেছে কিন্তু মেঘের রং ধবধবে সাদা। সাদা হলে কি তার সাদা ধরে রাখতে পারবে!
আমার গল্পের রুপ রেখাটা সেই ধরনের। বাকীটা পড়ে বুঝবেন।

উৎসর্গ
জীবনে প্রথম উপন্যাসটি উৎসর্গ করলাম আমার জমন দুঃখী বাবা-মা কে। তারাই আমার স্বর্গ। তাদের সুখি রাখার বিকল্প ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারিনা।
শতকোটি প্রনাম
যাদের কোলে বেড়ে উঠেছি,যারা আমার জন্য কত যায়গা পরিভ্রমন করেছে, কত রাত না জেগে থেকেছে তার কোন শেষ নেই। তারা আমার ঠাকুর মা শুশিলা রানী সরদার ও আমার ছোট পিসিমা শ্রীমতি নমিতা রানী জোয়াদ্দার । তাদের চরণে রইলো আমার শত কোটি প্রনাম।

কৃতজ্ঞতা স্বিকার

যাদের আজীবন যেন না ভুলে যাই।
আজীবন স্বরণ রাখবো বন্ধু সালাউদ্দিন আহমেদ অনি। দুঃসময়ের বন্ধু।
নাট্য পরিচালক গুরু জি.এম সৈকতের হাত ধরে অভিনেতা ডি এ তায়েব এর এস জি প্রডাকশনের মাধ্যমে মিডিয়াতে পর্দাপন।
সাফল্যের দ্বার উন্মেচন হতে শুরু হয় দেশের বর্তমান জনপ্রিয় লেখক আকাশ রঞ্জন এর হাত ধরে দর্শক নন্দিত ডিরেক্টর ফরিদুল হাসান এর মাধ্যমে।
ভুমিকা
আমি লেখা শুরু করি যখন আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি। একদিন আমি আমাদের মুদিখানা দোকানের চাল ধরে দাঁড়িয়ে আছি। ঠিক সে সময় আমার মায়ের সন্ধ্যাবেলার উলুদ্ধনী শুনতে পাচ্ছি আবার সাথে সাথে দূরে আযানের ধ্বনী ও শুনতে পাচ্ছি । আমি দোকানের পিছে চলে গেলাম, দেখলাম নদী (মাদার নদী) তার আপন গতীতে বয়ে চলেছে। মন স্থির করলাম একটা কবিতা লিখবো । সাথে সাথে খাতা কলম নিয়ে লিখে ফেল্লাম ‘‘সন্ধ্যাবেলা’’ নামক একটা কবিতা। সেই থেকে লেখা-লিখি শুরু। এর পর থেকে শুধুই লিখতাম। যখন ক্লাস নাইনে পড়ি। তখন আমার ১৬ তম উপন্যাস লেখা শেষ। আর কবিতা লিখেছি প্রায় এক হাজারের মত । ছোট গল্প,ছন্দের বই ও অন্যান্য মিলে এক শত এর মত হবে। সব সময় চেষ্টা পাইতাম উপন্যাস পাবলিস্ট করার জন্য। একদিন এক উপন্যাসিকের ঠিকানা নিয়ে তার কাছে ফেরত খাম সহ চিঠি লিখলাম, কিভাবে উপন্যাস পাবলিস্ট করবো এবিষয়ে হেল্প নেওয়ার জন্য বা বিস্তারিত জানার জন্য। উনি আমার ফেরত খামে যে কথা গুলো লিখেছিলেন-তার ভাষা ছিল এই এরকম, মৃত্যুঞ্জয় তুমি কেবল ক্লাস নাইনে পড়ো। এ বয়সে উপন্যাস পাবলিস্ট করতে চাচ্ছো, এক কথার উত্তর দিও তো। তুমি এই পর্যন্ত কি শিখেছো যে মানুষকে তথা সমাজকে দিতে চাচ্ছো। একাডেমী লেবেল শেষ করে এসব চিন্তা ভাবনা করো।
সেই থেকে পাবলিস্ট করবো। এ কথা মাথায় কম ঘুরপাক খাইতো। তবে লেখা লিখি বন্ধ রাখিনি। ২০১২ সালের কথা, আমি তখন ডিগ্রি ফাইনাল ইয়ার পড়ি । পড়া কালিন সৃজনী বাংলাদেশ নামক এক সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানী তে সোলার প্রমোটর পদে পড়াশুনার পাশি পাশি চাকরী করতাম নলতাতে। নলতা বাজারের এক ল্যাম্পপোস্টের গায়ে একটা বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। যার হেড লাইন লেখা থাকে ‘‘তারকাদের তারকা হও’’। এখানে অভিনয়,নাচ,গান ও গল্প লেখার চার টা বিষয় থাকে। এই চারটি বিষয়ে সেরা তিন বিজয়ী বাংলাদেশের মিডিয়াতে চান্স পাবে। আমি গল্প লেখায় এ্যাডমিশন দিলাম। তিন বার এ্যাডমিশন দিতে হলো তিনবারই প্রতিবারই ১ম হলাম। ঢাকা কচি কাচার মেলায় আমাকে সেরা পুরস্কারের মুকুট ও গলে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হল। সাথে সার্টিফিকেট এবং ক্রেজ । মাথার মুকুট পরিয়ে দিয়েছিলেন নাট্যকার মাহবুবা শাহরীন ( অভিনেতা ডি এ তায়েব এর স্ত্রী )। গলে উত্তরীয় পরায়ে দিয়েছিলেন খাইরুন কাদের ।( অভিনেতা আব্দুল কাদের স্ত্রী) অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন। অভিনেতা ডি এ তায়েব,খালেদা আক্তার কল্পনা,মমো আলী,মাসুদুল আলম মিঠু,আব্দুল কাদের এবং অনুষ্টানের পরিচালক ছিলেন গুরু জি এম সৈকত।( আমার গুরু। যার কারণে আমার মিডিয়াতে বিচরণ।) পুরস্কার টি নিয়ে আবার গ্রামে ফিরে এলাম। তারপর ০১/০২/২০১২ চাকরীটা ছেড়ে দিয়ে মিডিয়াতে কাজ করার জন্য ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হলাম। যেদিন ঢাকা আসলাম তার পরের দিন অথ্যাৎ ০২/০৮/২০১২ ওস্তাদের সাথে শুটিংয়ে গেলাম। যেয়েই ক্যামেরার সামনে তখন ঈদের এক ঘন্টার নাটক শুট চলছিল। নাটকের নাম ‘‘আমাদের টুনটুনি’’ অভিনেতা অভিনেত্রী ছিলেন ডি এ তায়েব,লামিয়া মিমো,স্বাগতা,মিরা ও টুনটুনি (ডি এ তায়েব এর এক মাত্র মেয়ে) ডিরেক্টর ছিলেন জি এম সৈকত নাটকটির রচিয়েতা ছিলেন মাহবুবা শাহ্রিন।
আসলাম নাট্যকার হতে আত্ম প্রকাশ হল অভিনেতা হিসেবে। এর পর হতে ওস্তাদের সাথে তার প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করতে থাকলাম। বলতে গেলে তার প্রতিটা এবং অন্যান্য পরিচালকের নাটকে অভিনয় করতাম। সেই ধারাবাহিকতায় ওস্তাদ সহ অন্যান্য পরিচালকের সাথে প্রায় এই পর্যন্ত প্রায় ৮০ টি মত (২০১৭ সালের শেষ অবধী) নাটকে প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে এবং অভিনয়ে ১০০টির উপরে নাটকে কাজ করেছি। অদ্যবধি করে যাচ্ছি। বর্তমান অভিনেতা ও প্রধান সহকারী পরিচালক ‘‘কমেডী ৪২০’’ ( সম্প্রচার বৈশাখী টিভিতে প্রতি শনি,রবি সোম রাত ৮.৪৫) এবং ‘‘বাসন্তিপুর” চ্যানেল আই ( প্রতি রবি সোম মঙ্গল বিকাল ৫.২০ মিনিটে। )ধারা বাহিক নাটকে কাজ করে যাচ্ছি। দুটি নাটকের পরিচালক ফরিদুল হাসান। কমেডী ৪২০ নাটকটি বর্তমানে জনপ্রিয়তার শির্ষে অবস্থান করছে।

আমার লেখা নাটক গুলো এর ভিতরে খন্ড নাটক/টেলিফিল্ম শুটিং হয়েছে ১৬ টি সম্প্রচার হয়েছে ১০ টি। দুটি ধরাবাহিক নাটক সম্প্রচার হয়েছে ১টি চ্যানেল আই য়ে নাম ‘‘পরাণ কোকিলা’’ পরিচালক ছিলেন পিযুস সেন বেনু । অন্যটির নাম নতুন ভোর বি টি ভিতে পরিচালক ছিলেন নোমান খান এবং সহযোগী পরিচালক জুয়েল শরীফ ।
এত বছর পরে (২০১৭ এর ফেব্রয়ারী মাসে) উপন্যাসিক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। চেষ্টা করছি ভাল কিছু দেওয়ার । বাকি টা আপনাদের উপর। আমি আমার মিডিয়ার কথাই বলি। কেউ বছরের পর বছর থিয়েটার করে যাচ্ছে। টিভিতে ধুমায়ে অভিনয় করে যাচ্ছে তাদের কেউ চেনে না। আবার অনেকে অল্প দিনিই স্টার হয়ে যায়। সারা বাংলাদেশের মানুষ তাদের চেনে। এটা কপাল বলবো না মানুষের ভালবাসা বলবো সেটাই তো বুচ্ছিনা। কপাল হোক আর মানুষের ভালবাসা হোক আমি কেন চাইবো না’ যে আমার উপর বত্তায়মান না হোক। আমার চাওয়া দুইটা ভাল অভিনেতা ও ভাল লেখক হওয়া।

শেষ বিকেলের মেঘ- মৃত্যুঞ্জয় সরদার উচ্ছ্বাস (পার্ট-৫)

7,389 total views, 2 views today

Related Posts

Share

Comments

comments

রিপোর্টার সম্পর্কে

%d bloggers like this: