প্রকাশিত : Mon, Dec 18th, 2017

শেষ বিকেলের মেঘ- মৃত্যুঞ্জয় সরদার উচ্ছ্বাস (পার্ট-৬)

মলি-শুধু বলত পৃতিকে ভাল বাসি কিন্তু ওকে কোন দিন বলতে পারলাম না। পৃতির মাথা নিচু হয়ে গেল। প্রশ্ন করল নিজের কাছে। কি করবে সে। মেয়েদের বিষয় একটা কথা বলি-কথাটি হয়তো মিথ্যা হতে পারে তবে মেয়েরাই স্বিকার করে তাদের চিন্তা ভাবনার যায়গা টা একটু দূর্বল। একটু চিন্তায় অবতিন্ন হল,তারপর চিন্তার অবকাশ কাটিয়ে উত্তর পুব কোন দিক চিন্তা না করে পৃতি বললো, তাহলে চলনা মলি; ওকে একটু দেখে আসি। তোর কথা শুনে আমি খুব সন্তুষ্ট। কিন্তু ওর বাড়ির ঠিকানা পাবি কোথায়? সবাই চিন্তায় পড়লো। শেফালী বললো, আমরাতো উনার আরো বন্ধুরা আছে তাদের কাছ হতে ঠিকানাটা নিতে পারি। মলি বললো গুড আইডিয়া। যে কথা সেই কাজ ওরা রকির ঠিকানা নিয়ে মগবাজার বাটার গলি রকির বাসায় চলে গেল। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পেল রকির কেøাজ বন্ধু অনি ও রবিকে ও তার সাথে তার আরো অনেক বন্ধুরা। পৃথিবীতে কিছু বির্তর্কিত ঘটনা থাকে তার ভিতর মনে হয় এটা একটা ঘটনা। যে মেয়ের সাথে কোন প্রেম নয়,তার কাছ থেকে প্রত্যাখ্যান হওয়ার কোন বিষয় নয়, তার সাথে কোন পরিচয় নেই। একটু দেখাতেই তার প্রেমে পড়ে তার চিন্তায় রোগ গ্রস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হওয়া। এ কোন ধরনের পাগল,প্রেমে পাগল না ভবের পাগল যে পাগল হইছে সে ও বুঝি নিজে ও জানেনা। অনি এদের দেখে অবাক হয়ে গেল। মনষার বাড়ীতে চাঁদের প্রবেশ । সাজুর সাথে সামান্য হলে রকির সুবাদে পরিচয় আছে মলিদের। উভয়ের মধ্য কুষল বিনিময় হল। এক পর্যায়ে পৃতি বললো, রকি কেমন আছে জানেন ভাইয়া? সাজু যেন আকাশ থেকে পড়ল। আমি যা ভেবেছিলাম তার ব্যাতিক্রম দেখছি না। তবে তোমার জন্য বড় আপসোস লাগে আবার দোষ ও দেই না। শুধু জানি রকির যে রোগ তার ঔষধ নেই। পৃতি বিস্ময়ে বিহবাগ হয়ে বললো, মানে কি ?
– রোগটা চিন্তা রোগ হয়ত অবাক হচ্ছো তোমরা, তবে ডাক্তার একে সঠিক নাম বলতে পারিনি তবে তিনি মন্তব্য করেছেন এটা এক প্রকার মানসিক রোগ। কারো নিয়ে চিন্তা করতে করতে এটা এক সময় অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। অভ্যাস থেকে রোগে পরিনত হয়েছে। চলুন না ওর রুমে যাই। চল। ওরা সবাই সাজুর সাথে রকির রুমে প্রবেশ করল। অনি বাইরে রবির সামনে গোবর গনেশের মত বসে আছে। অনি বললো,ছোট বেলার কথা তোর মনে পড়ে রবি । তুই, আমি রকি ফিতা বাটুল নিয়ে যাইতাম হরিসাধন সরদারদের বাগানে। ওর ছোট ভাই হরে কৃষ্ণ কিন্তু মানুষ ভাল তার ব্যাবহারে মন ভরে যেত। কিন্তু একটু বদ মেজাজি স্বভাবের নিজে যাকে শত্রু মনে করে তার পক্ষে যদি হাজার ও লোক থাকে সে তার দিকে যায় না। যাইহোক লোকটির বাগানে রকি যে দিন দুই টি পাখি তার ফিতা বাটুলে মেরে ছিল আমরা কিন্তু সেদিন একটা ও পাইনি। ও আমাদের দুজন কে ওই ২ পাখি দিয়ে কি বলেছিল জানিস? মনে নেই বন্ধু, বললো রবি। বলেছিল এ ২ টা তোদের দিলাম। ও দিতে দিতে আরো কি বলেছিল মনে আছে তোর, আমি অনেক দিন বাঁচবো তোরা বেশিদিন বাঁচবিনা নে তোরা নে। তুই অবশ্য ওর উপর রেগে গিয়েছিলি। কিন্তু আমি রাগি নি। তবে এখন রেগে যাচ্ছি। রবি অভিমানে অনির কথা গুলো শুনছে। চোখ মুখ একে বারে লাল।
কেউ যদি তোমার ভালোবাসার মূল্য না বুঝে তবে নিজেকে নিঃস্ব ভেব না। জীবনটা এত তুচ্ছনা। বসন্ত বাউরি।
রুমে ঢুকতেই দেখা গেল গোটা সাতেক লোক বসে আছে। তাদের মধ্যে ২ জন নামি ডাক্তার। এক জন প্রদীপ মন্ডল আর একজন সাহাবুদ্দিন। রকিকে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কথা হচ্ছে। রকির পিতা শহিদুল সাহেব বুঝতে পারলেন যে রকির ভার্সিটি থেকে তার আরো কিছু সহপাঠীরা দেখতে এসেছে । উনি বললেন, সাজু তোমরা এস। সবাই রকির রুমে ভিতর প্রবেশ করল। কেবল সাজুর প্লান পরিকল্পনা মত পৃতি বাইরে দাঁড়িয়ে রইল। রকি খাটের ধারার গায়ে আধভাঙা শুয়া ভাবে শুয়ে আছে। তবে শহিদুল সাহেব রিতি মত বিস্ময়, ছেলেকে খাওয়ানোর জন্য তুলে বসাতে হয় সে ছেলে কিভাবে নিজে নিজে উঠে আধাশোয়া হয়ে শুয়ে রইলো। গায়ের তথা বুকের হাড় গুলো দেখা যাচ্ছে। চুল গুলো রুক্ষ খুবই পাতলা। মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছেনা এটা রকি। ওর মা দাড়িগুলো আজ সকালে কেটে দিয়েছে। গালের চোয়াল ভিতরে ঢুকে গেছে। সাথে চোখ দুটিও। গায়ের চামড়া একে বারে সাদা হয়ে গেছে। দেখে মনে হচ্ছে এক জন গায়ে হালকা বিদেশী রোগী। কথা বলে ফিস ফিস করে। সাজুর সাথে পৃতির বান্ধবীদের দেখে রকি যেন চোখ একটু বড় বড় চাইলো। কি বলবে তার কোন ভাসা নেই। সে খাড়া হয়ে বসার চেষ্টা করলো এবং বসলো আবেগ আপ্লুত হয়ে হাত পা মুখ কাঁপাতে কাঁপাতে বললো মলি-। রকি কে দেখে চোখে পানি ধরে রাখতে পারলো না মলি। ভেজা ভেজা কণ্ঠে মলি বললো, ভাল আছেন রকি ভাইয়া? রকি ফিস ফিস করে বললো, ভাল,বস বস তোমরা বস,তবে….। ডাক্তার কিছু টা হলেও আঁচ করতে পারলেন তার রোগের তাই তো শহিদুল সাহেব ও আর যারা ভিতরে ছিলেন তাদেরকে নিয়ে বাইরে চলে গেলেন।
যে ভালোবাসা পেলনা,যে কাউকে ভালোবাসতে পারলোনা,সংসারে তার মতো হতভাগা কেউ নেই। কিটস

ডাক্তার বুছি যাওয়ার সময় উপরের কথা গুলি বলার চেষ্টা করেছিল। যাইহোক রকির চেহারা দেখে বান্ধবীরা কেউ বিশ্বাস করতে পারছেনা এটা রকি। মলির চোখের পানি গড়িয়ে নিচে পড়ল। মলি বললো, তবে বলে থামলেন যে, রকি ফিস ফিস করে বললো, না মানে আমার দেখার জন্য তোমরা আসবে তা আমি ভাবতে পারিনি। বলার সাথে সাথে শুকনো বালি থেকে যেন দু’ফোটা জল শূন্য মরু উদ্যানে লুটিয়ে পড়ল রকির। রকির কথা গুলো ঠিক যেন ৮০ বছরের বুড়োর মত। বললো, আমি হয়ত আর বাঁচবো না। তবে এক জনের দেখার সাধ ছিল কিন্তু শরীর আর পারে না। আর বুঝি…….
দরজার বাইরে হতে ভিতরের সব কথা শুনছিল পৃতি । রকির এই কথা শোনা মাত্রই পৃতির চোখে পানি চলে আসল। ও যেন আর দাঁড়াতে পারছেনা ইচ্ছা করছে রকির বুকে দৌড়ে লুকায়ে ওর সকল ব্যাথা দুর করে দিতে। মলি বললো, চুপ করুন আপনি সে ব্যবস্থা হয়ে যাবে। সাজু নিজের চোখের জল মুছে বললো, তুই চুপ কর রকি। রকি একবুক আশানিয়ে বললো, ও কি আর কম্প্যাসে আসেনা মলি? রকির কথা বলার ভঙ্গি দেখে মলির কন্ঠস্বর যেন আরো স্তব্দ হয়ে গেল। দুঃখময় কন্ঠে শেফালী বললো, কেন ও আপনার জীবন বুঝি?
– জীবন না মরণ কি করে বুঝবো। শুধু বুঝি ও আমার অগ্নি শিখা যাতে মানুষ পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। তবু দমবার নয়। জানো মলি আমার ভালবাসায় কোন খাত আছে কি’না এটার পরীক্ষা করছেন আল্লাহ তালা। আশা করি এ পরীক্ষায় আমি পাশ করবো। তবে জান মলি, দোষ আমরাই হয়ত তোমরা বা অন্য লোকে শুনলে আমাকে পাগল বলবে । আসলে ওকে নিয়ে আমার সব সময় ভাবতে ভাল লাগে । তুই না একটু ও কথা বলতে পারিস না এখন গড় গড় করে কথা আসে কথা থেকে ? চুপ। আর ভাবতে ভাবতে কঠিন রোগ বাধিয়ে নিজে ও জলছিস সবাইকে জালাচ্ছিস একটু কান্না জড়িত কণ্ঠে বললো সাজু।
লুপিয়ানা-আপনি ওকে ভুলে যেতে পারেন না?
– ও কথা বলনা লুপি, তাহলে পৃতিকে আমার অশ্রদ্ধা করা হবে। আর আল্লাহ তালা আমাকে দুর্বল ভাববেন।
শেফালী বিষয়টা বুছতে পারলো যত গুলো বন্ধুরা ওরা এক সাথে মেশে তার ভিতর শেফালী খুব চালাক। কাউকে পরোয়া করেনা। একটু দর্জাল স্বভাবের। সে একটু চালাকী করে বললো, আচ্ছা রকি ভাই মনে করেন আপনার পৃতি আপনার সামনে এসে গেছে। তখন আপনি কি করবেন?
– কি করব? যদি দেখার সুযোগ দেয় তা হলে দু চোখ ভরে দেখব। যদি কথা বলার সুযোগ দেয় তবে বলব। কি বলবেন? বলব, জীবনে তো তোমাকে পেলাম না, তবে পরপারে তোমার যেন দেখা পাই। এটাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা । কারণ তুমি আমার ভোগের সমগ্রী নও, তুমি আমার মনের সামগ্রী। একথা বলার পরে রকি আর কোন কথা বলতে পারল না কষ্টে তার চোখ বন্ধ হয়ে গেল। কথা গুলো খুবই আবেগী কিন্তু এই কথা গুলো শোনার পর শেফালী মনে মনে ভাবলো আসলেই রকি ভাই পাগল হয়ে গেছে। ভিতরে ভিতরে হেসে ফেলল। এই কথা শুনে বাইরে আর দাঁড়াতে পারল না পৃতি দৌড়ে রকির সামনে আসার চেষ্টা করল কিন্তু এমন সময় রকির মা ভিতরে প্রবেশ করলো। পিছে পিছে অনি ও রবি প্রবেশ করলো। সবাই উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলো । ঠিক যেন শ্রেনী কক্ষে কোন মেম সাহেব প্রবেশ করেছে। সাজু বললো, কেমন আছেন আন্টি?একবুক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন ছেলে আমার ভাল নেই, আমি ভাল থাকি কিভাবে! তোমরা ভাল আছো তো? সমাবেত কষ্ঠে উচ্চারিত হল,ভাল। তিনি ছেলেকে ঔষুধ খাওয়ালেন। তারপর রবি একে একে সবার সাথে ওনার পরিচয় করিয়ে দিল। শেলিনা বেগম বললেন, একটা মেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে কেন? রকির বুকের ভিতর বিদ্যুতের মত তড়িৎ করে উঠল। ঠিক যেন বাড়ীর তেতুল গাছ থেকে কয়েক শ বক পাখি এক সাথে উড়ে যাওয়ার মত। বক পাখি যখন উড়া শুরু করে সেটা নিজের আনন্দে । কিন্তু যারা দর্শনার্থী থাকে তাদের পরান ফাঠে। সাজু ইনিয়ে বিনিয়ে বললো, আপনি একটু বইরে যান জান আ্যন্টি। কথার ধরণ শুনে মায়ের মন বুঝতে বাকি থাকে না কোথার পানি কোথায় যাচ্ছে। উনি বাইরে চলে আসলেন এক নজর পৃতির দিকে চাইলেন এবং মনে মনে বললেন মেয়েটা তো খুবই সুন্দরী। পৃতি হাত উঁচু করে সালাম দিতে যাবে এমন সময় মুখ ঘুরায়ে চলে গেলেন শেলিনা বেগম। মেয়েটা সালাম দিতে চাচ্ছিল না না হাত উঁচু করছিল বুঝতে ও পারলোনা। রকি ভেজা ভেজা কন্ঠে বললো বাইরে কে অনি ? দুয়ার থেকে এসে পৃতি বললো, আমি তোমার আমি।
ভালোবাসা এবং যতœ দিয়ে মরুভূমিতেও ফুল ফোটানো যায়। ডেভিড রস
হয়ত ডেভিড রসের কথা বাস্তবায়ন হতে চলেছে। পৃতি আবেগ আপ্লত হয়ে বললো, যে বোঝেনি তোমার সেই মনের ব্যাথা আমি সেই। তোমার এ রোগের জন্য আমি দায়ী। তুমি আমাকে মাপ কর না। কিছু কিছু ভাষা সেটা সিনেমার ডায়লগের মত। বাস্তব কে নিয়ে কিন্তু সিনেমা বা নাটক রচিত হয় যেটা আমরা উপলব্দি করলাম।
প্রেম শ্বাশত-পবিত্র কোথাও এর ঘোর পেচ থেকে যায়। রকি যেন পাথর হয়ে গেল। চোখ গুলো যেন দাঁড়িয়ে গেল। মুখে কোন কথা নেই। সে স্বপ্ন দেখছে না আগের মত কল্পনা করছে কিছুই বুঝতে পারছে না। ভাবনা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই দেখল পৃতির চোখ দিয়ে রকির মত জল ঝরছে। মুখে কোন কথা নেই শুধু ঝর্ণার নিকাশ। ব্যথা ভরা হৃদয় নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে আছে পৃতি। পৃতির ইচ্ছা করছে হাত দিয়ে ওর চোখের জল মুছে দিতে। কিন্তু সে তো অন্য সুরে গাঁথা তার কাছে রকি পরপুরুষ। কিন্তু পৃতি দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। পাশে বসে মুছে দিল চোখের পানি। রকির চোখের পানি রোধ করল ঠিকই কিন্তু নিজের চোখের পানি বাধা পেল না । রকি এক নয়নে তাকিয়ে আছে পৃতির দিকে। ইচ্ছা করছে হাত দিয়ে ওর চোখের পানি মুছে দিতে। কিন্তু বাহুতে সে শক্তি নেই । শুধু মুখ দিয়ে কথা বলতে পারে তাও আবার অস্পষ্ট।্্্্্্্্্্্্্ তাও আজ যেন বহু দিন পর বেশি কথা বলছে। আপসোসে আবার ও চোখে পানি এসে গেল। রকি শুধু বিড়বিড় করে বললো,পৃতি। পৃতি ফুপিঁয়ে কেঁদে উঠলো। আপনি এ কেমন হয়ে গেছেন? এমনটি কি কেউ করে। আপনি কেমন ছিলেন আর এ কেমন হয়ে গেছেন? সবাই তাকে তাকে শান্তনা দিতে থাকলো,সবার মুখ দিয়ে নানান কথার ফুল ঝুরি ঝরতে থাকলো। তাতে আর কিছু না হোক একটা বিষয় প্রতিয়মান হলো যে আসলে দুজন দুজনকে অনেক মিস করতো কিন্Íু রকির ব্যাটে বলে টাইমিং না হওয়ার কারণে সে উপস্থাপন করতে পারিনি। আর পৃতির কোথাও একটা বাধা আছে সেটা সে অপ্রকাশ করলো। রবি বললো, তোমরা যদি কিছু না মনে করো তাহলে চল সবাই আমারা একটু বাইরে যাই স্পেশাল কথা আছে। রবির কথা মত পৃতি ছাড়া আর সবাই বাইরে আসল। বাইরে আসার পর রবি বললো, আমার মন বলছে পৃতি যদি বেশ কয়দিন রকির পাশে থাকে তাহলে ওর রোগের অগ্রগতি হবে। কারণ রোগ টা সম্পূর্ণ মেন্টালিটি স্যাটিক্সফেকশন। শেফালী বললো, ঠিক বলেছেন এটা মেন্টালী ছাড়া আর অন্য কিছু নয় আমার ও মন তাই বলছে। সবাই আবার ভিতরে আসল। পৃতি, যা হওয়ার তো হয়ে গেছে, এখন তুই পারিস ওনাকে বাঁচাতে। সে জন্য এখানে তোর কয়েক দিন থাকা দরকার, বললো পলি।তা কি করে হয়, বাসায় কি জবাব দেব। মলি বললো, সে দায়িত্ব আমার। তুই আমাদের বাড়িতে কয়েকদিন আছিস এই বলে আমি তোর মায়ের কাছে ফোন করব।
কিন্তু…
কোন কিন্তু নয়, তুমি ওকে ভাল না হয় নাহি বাসলে তোমার কারণে আমার বন্ধুটা যদি বেঁচে যায়,এই মানব জীবনে তোমার এর চেয়ে বড় পাওয়া মনে হয় আর কিছু থাকবে না। হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টি করে কথা গুলো বললো অনি। অনি সে খাট করে মুখে দাড়ি আবুনূর আলম ভুলুর ছেলে। গ্রামের বাড়ী শ্যামনগর থানার রমজাননগর ইউনিয়নে, ইউনিয়নে যদি ধণি নির্নয় কারা হয় ওরা সেরা তিনে অবস্থান করবে। একটু কম কথা বলে তবে মাঝে মাঝে এমন মূল্যবান মূল্যবান কথা বলে যে কথার ফেলে দেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই। পৃতি আরো অনেক সময় ভাবান্বিত হল তার আস্তে আস্তে বললো, ঠিক আছে। রবি বললো, তাহলে কোন কথায় নেই আমার বন্ধু এবার চরম লেবেলের ভাল হয়ে যাবে। রবি কিন্তু খুব দুষ্টু প্রকৃতির কথা টা বলে গোপে একটা হাসি দিল। পৃতি কিছু বলতে পারলো না। বসে রইল রকির পাশে। সবাই বাইরে চলে গেল।
পৃতি ভেনেডি ব্যাগ হতে কমলা ও আঙ্গুর বের করল। রকি তাকিয়ে আছে অপলক দৃষ্টিতে, ভাসা সেখানে নিস্তব্দ, এখানে অন্য কিছু নেই আবেগ ছাড়া। যে আবেক সাগর সম। সেখানে পৃতি নদী হয়ে বয়ে গেলে সব দুঃখের তবেনা অবসান ঘটবে।
জীবন যেন একটা ফুল আর জীবনের ভালোবাসা হলো মধু স্বরুপ। সেকেনা
রকির জীবন যেন ফুলে পরিনত হয়েছে মধূ মাখা হয়েছে ভালোবাসা। শেফালী আর একবার রুমে ঢু মেরে বললো, পৃতি তুই এখানে থাক আমরা প্রতি দিন এখানে আসব। পরে সবাই রকির বাবা মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল। যাওয়ার আগে রকি ও পৃতির বিষয় টা বাস্তবিক কথার মাধ্যমে শহিদুল সাহেব ও শেলিনা বেগমকে বুঝিয়ে দিল অনি। স্বামী-স্ত্রী দুজন রকির রুমের দিকে এগিয়ে গেলেন। জানালার ফাঁক দিয়ে দেখলেন পৃতি রকিকে আঙ্গুর খাওয়াচ্ছে। শহিদুল সাহেব বললেন,দেখ আমার ছেলের সব রোগ ভাল হয়ে যাবে।
-তুমি বুঝলে কিভাবে?
-যে রোগের সেই ্ঔষধ পড়ছে।
-মানে
– ওদিকে তাকিয়ে দেখ।
ছেলের রুমের দিকে তাকিয়ে দেখে শেলিনা বেগম মুখে আঁচল দিয়ে ফিক করে হেসে পড়লেন। মায়ের মনে বহুদিন পর প্রশান্তির হাসি। মা বললেন, এখন তাদের সামনে যাওয়া যাবে না চল নিচে যাই । প্রেমের নেশা না মানে না লাজ লজ্জা, না বোঝে মান, না সম্মান, না মানে ভয়। তখনও রকির চোখ যেন ফেটে যাচ্ছে। সে যেন পৃতিকে দেখার নেশা কাটাতে পারছেনা। আসলে মেঘ না চাইতেই জল! কেনা হতাশ হয়। ও কি ভেবে উঠেছিল যার সাথে কথাবার্তা নেই, নেই কোন প্রেম-ভাল বাসা,অথচ তাকে এত নিবিড় করে কাছে পাবে। রোগের লক্ষণ দেখে ঔষধ দিলে দ্রত কাজ হয়। যেমন খরা যায়গায় হঠাৎ পানি পেলে মাটি গলে চাষের উপযোগি হয়ে যায়। রকি শরীরের দিক থেকে না হোক মনের দিক থেকে সুস্থ তা বোধহয় বোঝাই যাচ্ছে। আগের চেয়ে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। পুবের আলো পশ্চিমে যেতে না যেতেই ধীরে ধীরে আঁধার ঘনিয়ে আসল। রকির মা রুমে প্রবেশ করলেন। পৃতির সাথে অনেক সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হল। কথার বলার সময় উপলব্দি করলো তার ছেলের শরীরে আর কোনা রোগ নেই, দেখে মনে হচ্ছে সারাদিন খুব পরিশ্রম করছে তাই শুয়ে আছে। হঠাৎ রুমে প্রবেশ করল শহিদুল সাহেব। তাকে দেখে উড়নাটা মাথায় দিল পৃতি। মনে হচ্ছে নিজের হবু শ্বশুর মহাশয় ।
শেলিনা-কখন আসলে তুমি ?
শহিদুল সাহেব-কেবল তো আসলাম,রকি কি ঘুমিয়ে গেছে?
– হু।
-ও আচ্ছা চল খেতে দেবে।
– চল।
এর ভিতর কখন যে রাত ১১:৩০ বেজে গেল কেও খেয়াল করল না। শেলিনা বেগম বললেন,পৃতি মা চল খাবে। পৃতি বললো, রকি খাবে না? তুমি ভাত নিয়ে এসে যদি পারো রাতে একবার খাওয়াইও, হয়ত খাবে না তবে তুমি চেষ্টা করো। লজ্জায় মাথাটা আস্তে আস্তে নিচু করলো পৃতি।
ডাইনিং টেবিলে খাওয়া শুরু হল । খেতে খেতে শেলিনা বেগম বললেন, তুমি আমাদের একটা কথা রাখবে?
– বলুন ।
– তুমি কিন্তু ভাত খেতে খেতে বলছ।
– আচ্ছা ঠিক আছে বলুন।
– আমি জানি আমার ছেলে সুস্থ হওয়ার পথে। মা তুমি আমার ছেলের জীবন ফিরিয়ে দিয়েছ। তাই তুমি ওকে বিয়ে করবে…..। কথাটা শোনার পর পৃতির পৃথিবীটা যেন লাটিমের মত ঘুরতে থাকলো। গালে যেন ভাত আর উঠছে না হাত টা থর থর কাঁপতে শুরু করেছে। কি বলবে না কিছুই ভেবে পাচ্ছেনা। এক দিকে রকির অসুস্থতা এক দিকে স্বামি, মা-বাবা।
-আপনি আমার বিষয়ে কিছু জানেন না। জানলে আপনি আর……………
-কিছু জানতে চাইনা শুধু জানি আমার ছেলে তোমাকে ছাড়া বাঁচবে না। মা তুমি কিন্তু আমায় খেতে খেতে কথা দিয়েছ। যে তুমি আমার কথা রাখবে। শহিদুল সাহেব বললেন,পৃতি জীবনে চলার পথে অনেক ঘটনা ঘটে যায়। সব কিছু মনে রাখতে হয়না। তাহলে জীবন সুন্দর ভাবে চালনো যায় না। জীবনটাকে সুন্দর ভাবে গড়তে হলে অনেক সময় অনেক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়। তোমার কারণে যদি আমার ছেলে তার সুখ স্বপ্ন ফিরে পায়। তাহলে আমাদের মত খুশি আর কেহ হবে না। কে’না চায় তার সন্তানকে সুখি দেখতে। পৃতি আবার ভাবতে শুরু করল। কিছুক্ষণ ভেবে বললো আঙ্কেল-আন্টি আমি আপনার ছেলের বউ হব, আল্লাহ আমায় যে কয়দিন বাঁচিয়ে রাখে তার একদিন হলে ও আগে। শেলিনা বেগম ভাবলেন মেয়েটা পড়াশুনায় ভাল তাই পড়াশুনার জন্য ও তার আবেগের কথাই বলছে। তাই তিনি আর কিছু না বুঝে হাসতে হাসতে বললেন আচ্ছা ঠিক আছে। কিন্তু পৃতির কথাটি শহিদুল সাহেবের মনে খটকা লেগে গেল। তবে তিনি চেপে গেলেন। রাতে অন্য রুমে ঘুমালো পৃতি। ঘুমে যাওয়ার আগে রকি কে খাওয়ানোর খুব চেষ্টা করেছিল কিন্তু রকির ঘুম ভাঙাতে পারিনি। পরদিন সকালে ভোরের আগে ঘুম ভেঙ্গেছে রকির। তার বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা তার পাশে আছে। রাতে ভাবতে চাইলেও ভাবতে পারেনি রকি। এখন সে অনেকটা সুস্থ। খাটে বসে থাকার সক্ষম হয়েছে। কিন্তু হাঁটার ক্ষমতা নাই। পৃতি সকাল সকাল উঠেছে তখনও পাখি ভালোভাবে ডাকা শুরু করেনি। পৃতি রকির রুমের সামনে এসে দেখল রকি বসে আছে। পৃতি বললো গুড মরনিং -রকি বললো গুড মরনিং
– তুমি বসতে পারছো?
– তুমি পাশে থাকলে বসতে কেন, আমি উড়তে পারব। পৃতি রকির পাশে বসল। পৃতি বললো, তুমি খুব ভালো। নাও ব্রাশ কর। পৃতি তাকে নিজ হাতে ধরে ব্রাশ করাচ্ছে। রকি ওর মুখের পানে দাঁত বের করে ডাগর ডাগর চোখে চেয়ে আছে। পৃতি তার চোখের নেশা রাখতে পারল না বললো,অমন করে কি দেখছো। রকি কিছু বলেনা। কেন জানি রকিকে ছোট্ট করে চুমু একে দেয়ার চিন্তা করে, চোখের কাছ হতে মুখ ফিরিয়ে আনল। রকি বিহবলে আত্মহারা হয়ে গেল। তারপর পৃতি খুব ভাল করে মুখ ধৌত করে দিল । হাঁটি হাঁটি পা পা করে পৃতির দিন ফুরিয়ে এল। এই ভাবে কখন যে ৪ টা দিন কেটে গেল তা সে নিজে ও জানেনা।
রবীন্দ্রনাথের কথা -যেতে নাহি দিব হায়,তবু যেতে দিতে হয়।
বুক ফেটে কান্না আসছে পৃতির। এত দিন সে যে মায়া মমতায় ডুবে গিয়েছিল তা সে কি ভাবে ভুলবে। এ ভাষা, এ কথা, এ দৃশ্য কি ভোলার যা কোন নারী বিয়ের পরেও করার সুযোগ পায়না। বাড়ী যাওয়ার প্রশ্ন তুলতে রকির বুকটা পাথর হয়ে গেল। বিকালের অস্ত যাওয়া সূর্যের মত হয়ে গেল। বিস্ময়ে মুখটা যেন বিহলিত । ঠিক যেন রবীন্দ্রনাথের অপুর ন্যায়্ বারে বারে চায় । যেন এ দেখা তার শেষ দেখা আর বুঝি তার সাথে আর দেখা হবে না। মন মানে না অনেক কারণ। তবুও মানতে হয়। চলে যাওয়ার আগে পৃতি রকির পাশে বসল। কারও মুখে কোন কথা নেই। শুধু দুজনার চোখে জল টলমল। আবেগেই রকির বুকে ঝাপিয়ে পড়ল পৃতি। জড়িয়ে ধরল রকি পৃতিকে। কাঁদ কাঁদ সুরে পৃতি বললো কথা হবে দেখা হবে ভার্সিটিতে ঠিক মত এস। হঠাৎ রকির মা রুমে ঢুকার আওয়াজ পেয়ে দু’জন সরে বসল। এর পর সবার কাছ থেকে ব্যাথা ভরা বিদায় নিয়ে বাসার পথে পা বাড়াল পৃতি। যে ব্যাথায় মা বাবা দুজনই কাঁদতে হল । রকি নির্বাক।
*****
বাড়ীতে এসে উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সবকিছু ঠিক করে নিল পৃতি। সব কিছু ঠিক রাখতে তাকে বেশি সাহয্য করেছে তার বন্ধুরা। তবু পৃতিকে মা শাসনের সুরে বললো এত স্বাধীনতা ভোগ করা তোমার উচিৎ নয়। কারণ তুমি ভুলে যেওনা তুমি কারও ঘরের ঘরনী। কথা উঠতেই মনের ঘরে বিদ্যূতের মত তড়িৎ করে উঠল পৃতির। মনে পড়ে গেল ভাত খেতে বসে রকির মাকে দেওয়ার কথা। বাতাসের ঝড় এক সময় না এক সময় থামে। কিন্তু মনের ঝড় থামতে দেরি হয়। ঝড় বয়ে চলছে পৃতির বুকে। তাকে তার মা আনন্দের সহিত জানাল অচিরেই তার স্বামী তাকে দেখতে আসবে। এই আনন্দের সংবাদ তার অন্তর বেদনায় ক্ষত বিক্ষত হল।
রকি এখন পুরোপুরি সুস্থ। তবে তার স্বাস্থ্য এখনো ভালো ভাবে ঠিক হয়নি। সে ভাবতে লাগল রবিবার মানে আর দুদিন পর পৃতির কথা অনুযায়ী ভার্সিটিতে যাবে কথা হবে। পৃতির সাথে দেখা করার, অপেক্ষার দিনগুলি যেন ফুরাতে চায় না। রবিবার দিনটা ঠিক মত এসে গেল রকি ভার্সিটিতে চলে বন্ধু অনি ও রবিকে সাথে নিয়ে। কিন্তু ভার্সিটিতে এলনা পৃতি। আঘাতের ভাঙ্গা বুক যেন আরো ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেল। তার স্মৃতির কোষ গুলো যেন অকেজো হয়ে পড়ছে। দেখা হল শেফালী বাহিনীদের সাথে । মলি বললো, পৃতি আজ আসবে না। রকি বললো, কি কারণ? মলি বললো, তার নাকি কি কাজ আছে তাই আসতে পারবেনা। ক্ষত মন তার বিকল হয়ে গেল। রকি মলির কাছে পৃতির ফোন নাম্বার চাইল। মলি বললো, লাভ নেই কারণ ও ফোন ব্যাবহার করেনা।
-বড় বিশ্ময়কর বিষয় এযুগের মেয়েরা ফোন ব্যাবহার করেনা। এটা কোন কথা বললে মলি?
– কি বলবো বলেন রকি ভাই। এক জন আর এক জনের যতই ক্লোস হইনা কেন তার সম্পর্কে কিন্তু সব কিছু জানা যায়না। আর সব সময় হাসি খুশি থাকলে ও ওর ভিতর কোন এক সমস্যা মনে হয় আছে। যেটা সে আমাদের সাথে সেয়ার করেনা।
বন্যা-আমি যেন ওর হাসি খুশি দেখে মনে করি ও এসব জোর করে করছে।
অন্ধভাবে কাউকে ভালবাসলে তার ফল শুভ হতে পারেনা। কারলিন
রকির জীবনে তাই ঘটেতে চলেছে বুঝি- রকির আবার শুরু হল অপেক্ষা করার পালা। বেদনার নীল আকাশ আবার যেন তার জীবনে এসে ধরা দিল। যে আকাশে নেই কোন তারা। শুধু কালো আঁধারের ছড়াছড়ি। দিনের পর দিন রকি ভার্সিটিতে এসে ফিরে গেল। প্রতি দিন বনশ্রী ই বল্কে হতাশা গলির আস-পাশে ঘোরা ঘুরি করে কিন্তু একটি বারের জন্য ও পৃতিকে দেখতে পাইনি। আজ রকি ভার্সিটিতে আসেনি। কিন্তু পৃতি বাসার সবার বাঁধ অপেক্ষা করে ঠিক ভার্সিটিতে এসেছে। কিন্তু রকির দেখা পেল না। মলি বললো ও প্রতিদিন এসে ফিরে যাচ্ছে। তোর জন্য বেচারাটা পাগলের মত তুই কি রে পৃতি তোর সমস্যা কি? পৃতি কথা ঘুরায়ে বললো ও বুঝি আগের মত হয়ে যাচ্ছে। মলি বললো ঠিক তাই। তোরা এখনই ওর বাড়ীতে যেয়ে ওকে নিয়ে আয়। ওর বাড়ীতে না যেয়ে ওর কাছে ফোন করলেই তো হয় বললো শেফালী। মলি বললো, ওনার কাছে যে ফোন করবো ওনার নং আছে কারো কাছে? কেউ কোন কথা বলেনা। পৃতি বললো, ওর বাসায় যা এই নে টাকা ওকে নিয়ে আয়না দোস্ত। বন্যা বললো তোর কাছে কি টাকা চেয়েছি। মলি বললো, চল আমরা এক সাথে ওর বাসাতে যাই। আমি যেতে পারবোনারে আমার অনেক সমস্যা, বললো পৃতি। বন্ধুর কথা রাখতেই মলি ও বন্যা রকির বাড়ীতে গেল। সেখানে গিয়ে তাকে পেল না। রকির মা বললো রকি বাড়ী নেই, আজ কয়দিন হল ছেলে আমার যেন আবার কেমন হয়ে যাচ্ছিল। তাই ওর নানার বাড়ী পাঠিয়েছি। পৃতি মা কেমন আছে ও আসল না যে? বন্যা বললো, আন্টি ও আপনাদের এখানে বেশ কিছু দিন ছিল তো এই কারণে ওকে বাসা থেকে একটু চাপ দিয়েছে তাই আসতে পারিনি। মলি রকির ফোন নং নিয়ে রকির আম্মুর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ভার্সিটিতে আসল। বিস্তারিত সব খুলে বললো পৃতিকে। পৃতি বললো,ফোন নং নিয়ে এসেছিস ফোন কর। মলি বললো, সে কথা তোর বলা লাগে আমি কয়েক বার ট্রাই করেছি। কিন্তু নং বন্দ পাচ্ছি মনে সে নেটের বাইরে আছে।
পৃতি বাড়ী থেকে এখন বিনা হুকুমে বের হতে পারে না। একদিন এসে ও রকির দেখা পেল না। মনটা খারাপ করে বাড়ী ফিরল। দিন-দিন পৃতির চিন্তা যেন বেড়েই চলছে। রকির বাবা মাকে দেওয়া কথা ও কিভাবে রাখবে। বড় বোনের কথা চিন্তা করলে নিজের অসহায় মা বাবার কথা চিন্তা করলে ও যেন পাগল যায়। আবার তার স্বামীর পরিবার খুব ধার্মিক। তাদের মনে দুঃখ দেওয়ার কথা চিন্তা করলে, মনের মনি কোঠায় স্থানকারী রকির কথা চিন্তা করলে বারে বারে সে যেন দিক বিদিক হারিয়ে ফেলে। সে খুঁজে পায় না কোন দিকটা তার সঠিক দিক। এভাবে তার দিন কেটে যেতে থাকে। সে আবার ভার্সিটিতে য়ায়। দুদিন এসেও দেখা পেল না পৃতি রকিকে। দেখা পাবে কি করে। এদিকে মামার বাড়ীতে আটকা পড়ছে রকি। মামা তার ব্যাক্তিগত কাজে বাইরে গেছে; বাড়ীতে স্ত্রী ও মেয়ে ছাড়া কোন পুরুষ মানুষ নেই। তাই রকিকে থাকতে হবে বেশ কিছু দিন। রকিকে মামির খুব পচ্ছন্দ। সে নাইনে পড়ারত মেয়ে সুলতানা কে তার সাথে বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করে। সুলতানার ও মত সে মনে মনে খুব পছন্দ করে রকিকে। যা রকি, মা মেয়ের আচারনে বুঝতে পারে। কিন্তু রকি সুলতানাকে কোন পাত্তা দেয় না। বাড়ী আসার জন্য তার মন ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। মন মাঝে মাঝে কান্নায় দুঃখে ফুলে উঠে পৃতিকে নিয়ে। না জানি আজ সে কেমন আছে? আবারও দু’দুদিন ভার্সিটিতে এসে ফিরে গেছে পৃতি। শুধু যাওয়ার আগে বান্ধবীদের হাত ধরে কেঁদে বলে ওর সাথে দেখা করার খুবই প্রয়োজন। যা আমার জীবন মরণের। তবু ফেরে না রকি। কর্তব্য বোধে মামার জন্য দু সপ্তাহ পরে বাড়ী ফিরে আসে রকি। মায়ের কাছে খবর পেয়ে পাখির মত ছুটে যায় মটর নিয়ে ভার্সিটিতে। তাকে আবার নিষেধ করা হয়েছে। রকিকে দেখে মলি ছুটে এসে বললো – আপনি মানুষ না অন্য কিছু পৃতি আপনার জন্য প্রায় ভার্সিটে এসে এসে ফিরে । তার নাকি কি সমস্যা আপনার সাথে সেয়ার করবে যে কথা গুলো সে আমাদের ও বলেনা। আর আপনার নং বন্দ কেন? রকি বোকা মত হাবা গোবা সেজে গেল। কিছু সময় পর বললো,আমি নেটের বাইরে ছিলাম। পৃতির আসা যাওয়া এবং কান্নকাটির কথা সব খুলে বললো পলি। রকি পলির সমস্ত কথা শুনে ঝপ করে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল। মলি বললো কি হয়েছে রকি ভাই। রকির মুখে যেন ভাষা হারিয়ে গেছে। সে ভেবেই আকুল হচ্ছে কেন মামার বাড়ী গেলাম। রকির চোখে জল ভাসছে ঠোটটা দূর দূর করে কাঁপতে লাগল। সব খুলে বললো রকি। লুপিয়ানা বুঝে শুনে বললো, আমাদের যতদূর মনে হচ্ছে সব ্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্্আপনাদের ভাগ্যর দোষ। সব কথার শেষ নামিয়ে মলি বললো আপনি আজ থেকে ভার্সিটিতে আসা বন্ধ দেবেন না। কারণ আপনি তো জানেন আপনাদের বাসা থেকে ফেরার পর থেকে ও খুবই বিপদে আছে। ফোন তো দূরের কথা ওর লগে লগে এখন বডিগার্ড থাকে। কোন দিন ভার্সিটিতে আসবে সঠিক বলা যায় না। আর ও আমায় শেষের দিন বাসায় ফেরার সময় বলেছিল আপনার সাথে নাকি ওর জীবন মরণের কথা আছে।
ভালবাসা মানুষকে কারনে অকারনে কাঁদায়। তা না হলে যেন ভালবাসা পূর্ণ্যতা পায় না। রকির ভাবার অন্ত থাকে না। রোগ থেকে ফেরার পর আগের সেই চেহারা তাহার নেই। তার পরে চিন্তায় শরীরটা আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছে। ও ভেবেই পেল না এমন কি জীবন মরণের প্রশ্ন।
পৃতির স্বামী আসবে ৮ই সেপ্টেম্বর। আর মাত্র ১০ দিন বাকি। বর্তমান সময় অস্থিরতায় পূর্ণ্য হৃদয়। সব সময় বিরক্তিকর ভাব তার চোখে মুখে। হাসির মাঝে দেখা যায় বেদনার নীল। সব সময় চোখের মাঝে ভেসে থাকে রকির মায়া ভরা শ্রাবন ভরা মুখ। সে মুখ সারা জীবন ও ভোলা যায় না। মায়ের মন তো সে অচিরেই বুঝতে পারে। তার মেয়ে কি সমস্যায় ভুগছে। পৃতির এই অবস্থা দেখে তাকে জিজ্ঞাসা করল, আচ্ছা বলতো পৃতি তোমার কি হয়েছে? সব কিছু আমায় খুলে বল। পৃতি মনে মনে ভাবছে তার মা সব কিছু টের পেয়ে গেছে কি’না। মা ডোনা তো খুব শিঘ্রই আমাদের বাড়ি বেড়াতে আসবে। তা আমার………
– তা আমার বলে থামলি কেন? বল কি বলবি?
– বলছি আমার বন্ধুদের সাথে ওনার কথা বলেছিলাম। ওরা ওকে দেখতে আসতে চায়। বিদেশে থাকার কারনে দেখা হয় না। তাই উনি আসছেন তাই ওদের জানাতে চাই। তাই আমাকে ভার্সিটিতে যেতে হবে।
-ফোন দাও তোমার বন্ধুদের ।
– মা কথাটা মনে হয় ভুল করে বলে ফেলেছো।
– মানে?
– মানে তোমাকে কি বলবো এযুগ হল ফেসবুক,হটসআপ,ইন্টারনেটের যুগ, সেই যুগে তোমরা আমাকে ফোন পর্যন্ত ব্যবহার করতে দাওনা ।
-পৃতি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই তোমার জ্ঞান হয়েছে, তোমায় উপদেশ দেওয়া এবং শাষনে রাখা আমাদের করনীয় নয়। আমরা যা করেছি তোমার ভালর জন্যই করেছি। ভার্সিটিতে যেতে চাচ্ছো যাও বাধা
দেবনা। তবে তুমি সব সময় স্মরণ রেখ ডোনা তোমার স্বামী। আর তোমার বড় বোনের মত কোন কিছু করার আগে তোমার বাবাকে আর আমাকে এক ফোটা করে বিষ দিও। যেন এই পরিবারের তোমার বাপ দাদার গৌরবময় সম্মান থাকার আগে মরতে পারি ।
হঠাৎ হাজার চিন্তার ঘুন বের হতে থাকলো। বার বার মনে পড়তে লাগল বড় বোনের চলে যাওয়ার কথা। আর মা বাবার সেই হাহাকার করে কাঁদার কথা। অচিরেই পৃতি সিদ্ধান্ত নিল সব কিছু খুলে বলবে রকিকে। পৃতি তার মায়ের পাশে বসে মাথায় হাত রেখে বললো মা তুমি আমার উপর বিশ্বাস রাখ। আর আমার তো বিয়ে হয়ে গেছে। ডোনা আমার স্বামি। ওর মত ছেলে এই দেশে মিলবে! পৃতির ভাব দেখে ও কথা শুনে মা ভাবল পৃতি মনে হয় ডোনাকে নিয়ে চিন্তা করে। ওর কথা সবার সাথে বলে। মেয়ের কথা শুনে মায়ের মন তৃপ্তিতে ভরে গেল। মারুফা বেগম বললেন, তোর আর নিষেধ নেই। তুই ভার্সিটিতে যাবি। পৃতি বললো, মা ডোনা আসলে ওর সাথে করে নিয়ে কিন্তু ভার্সিটিতে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াব। তুমি কিন্তু কিছু বলতে পারবে না। মারুফা বিবি হাসতে হাসতে বললেন আচ্ছা, ঠিক আছে।
*****
যখনই মানুষ তার সুখের স্বর্ন শিখরে পৌঁছাতে চায় তখন তার জীবনে বারে বারে আঘাত পেতে থাকে। যে আঘাত আমাদের জীবনে সারা জীনমের জন্য দাগ কাটে। তেমনি ঘটনা ঘটে যেতে থাকলো দুজনার জীবনে। মাকে খুশি রাখার জন্য অনেক কথাই মাকে শোনালো কিন্তু সেটা মুখের কথা না মনের কথা নিজেই জানেনা। আজ পৃতি ভার্সিটির পথে পা বাড়াল। সে বাসা থেকে ভেবে বের হল রকিকে সব কথা খুলে বলবে। তাই তার মন খুব ভারাক্রান্ত। ড্রাইভার বললো, ভাবি আপনার কি মন খারাপ। পৃতি অসস্থি বোধ করে বললো আমি তোমাকে বলেছি না আমার বিষয় কিছু শুনবে না আর এখন ভাবি বলবে না, আগে ‘তার’ ঘরে যাইতো তার পর বল। জলদি চালাও ওরা আবার তোমাকে বকা দেবে। ড্রাইভার পৃতিকে ভার্সিটিতে নামিয়ে দ্রুত চলে গেল। ভার্সিটিতে সবার সাথে দেখা হল। দেখা হলো না সেই ব্যক্তির সাথে যার সাথে পৃতির কথা বলতেই হবে। দোতালার পরে বান্ধবীদের সাথে মিলিত হল। মায়া নামে বান্ধবী বললো তোদের প্রেম ব্যার্থ আছে। কিন্তু সফল হবি। পৃতি বললো কেনরে আমি আসলে ওর যে কি হয়! ওর জন্য আমার বুঝি মরণ হবে। আমি আসলে ও আসেনা ও আসলে আমি আসিনা। মায়া বললো,এই জন্যতো বললোাম তোদের কপালে শনি আছে।
মানুষের বিপদ বলে আসেনা। গতকাল রাতে রকির নানী মারা গেছেন। তাই ওর মাকে নিয়ে নানার বাড়ী যেতে হয়েছে। এই মরা বাড়ী কান্নার সুরের মাঝে রকি মনে করতে লাগল পৃতির কথা।
****
বিষয়টা আমার কাছে হাসি পায়। আমি যখন প্রথম প্রেমে পড়ি তখন অষ্টম শ্রেনীতে পড়ি। তখন পারমিতা রানী খনার প্রেমে হাবু ডুবু খাইতাম। আমার বাংলা গ্রামারের শিক্ষক নিহার স্যারের বাড়ীর সামনে স্বরস্বতী পূজা হত ।নিহার স্যারের বাড়ীর পাশেই আবার খনাদের বাড়ী। আমি সেখানে পূজাতে গিয়েছি,পূজাতো আসলে উদ্দেশ্য হল তাকে দেখা। পূজার সময় প্রনাম করে সবাই বিদ্যাপতি হতে পারে এই প্রার্থনা করে। আর আমি চাইলাম কি ‘হে মা আমি যেন খনা কে বউ হিসেবে পেতে পারি।’ রকির অবস্থা ঠিক আমার মত। নানির শোকের চেয়ে তার কাছে পৃতির শোক টাই বেশি।
বান্ধবীদের সাথে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ওর বান্ধবীদের বললো হঠাৎ করে আমার প্রানে যেন ধাক্কা দিল। মলি,মায়া তোরা যাই বলিসনা কেন, ওর কি কোন বিপদ হয়েছে? । মলি বললো, আরে পাগলি মন খারাপ করিস না। কিন্তু আমি একটা জিনিস কিছুতেই বুচ্ছিনা ও যখন ভার্সিটিতে আসে তুই আসিস না। তুই যখন আসিস ও আসে না। আমি চরম এক বোকার মত কাজ করেছি ওর মোবাইলন নং টা না রেখে । ওই বাদাম ছেলেটা যাচ্ছে চল বাদাম খাই…নেক্সট টাইম এই ভুলটা আর হবে না। কাল সব খবর পেয়ে যাবি। পৃতি বললো, সত্যি বলছিস? মলি বললো হ্যাঁ। পৃতি বললো ডাকদে ওকে। মায়া বাদাম ছেলেকে ডেকে উপরে তুলল। পৃতি বললো, এই খোকা তোর থলি সহ কত? ছেলেটি ভেবে বললো ৫০০। পৃতি বললো সব গুলো নে। মায়া এত কি করবি ভার্সিটিতে আমাদের পরিচিত সবাইকে কে খাওয়াবো। ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে টাকা বের করে দিল পৃতি। এতগুলো বাদাম থেকে পৃতি মাত্র দুটি বাদাম নিয়ে ব্যাগে রাখল। বান্ধবীরা বললো এই কি করছিস আরো নে। পৃতি বললো আমি খাব না। দুই টা রাখলাম একটা আমার জন্য অন্যটা ওর জন্য। ওর সাথে যদি দেখা হয় তবে সে দিন দেব। এর আগে কোন বাদাম খাব না। শুধু পরিচিত না,বাদাম গুলো সামনে যাকে পাবি দিতে থাকবি। প্রেমে অনেক ঘটনাই ঘটে তাই বান্ধবীরা জোরাজুরি না করে বাদামবয় কে সাথে রেখে পরিচিত সবার মাঝে বাদাম বিলাতে থাকল।
ভালবাসা মানুষকে কি দেয় যে তার জন্য মানুষ সারা জীবন ভোগে। এটা তো কঠিন পরীক্ষা। তবে কেন মানুষ এই পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। আজ মহা পরীক্ষার মাঝে দুজন দাঁড়িয়ে। না জানি এই পরীক্ষায় তাদের ফেল না’ পাশ হবে। পাশ করতে হলে ঠিকমত পড়াশুনা করতে হয়। তারা কি ঠিকমত পড়াশুনা করছে? ওরা কি পাশ করবে? পাশ ফেল পরের কথা প্রেমে হাসি আনন্দটাই প্রধান তারা সেটা ও করতে পারছে। তবে হোরেস এর কথা সত্যি ভোলার নয়-
প্রেম ও হাসি ছাড়া আমাদের জীবনে প্রকৃত কোন আনন্দ নাই।তাই যদি বাঁচার আনন্দ নিয়ে বাঁচতে হয় তবে প্রেম ও হাসির মধ্য দিয়ে বাচতে হবে। হোরেস

কি অবাক বিস্ময় তারা না করতে পারছে প্রেম না পারছে হাসতে। বাতাস তার আপন গতিতে বয়ে চলে। ঠিক রকি তার আপন সূরে পৃতিকে নিয়ে গান গেয়ে যায়। সে গানের কথা গুলো কি সার্থক হবে? বাস্তবায়ন হবে কি তার আবেগ? একা বসে ভাবে মরা বাড়ীতে রকি। এমন সমস্যা যে, দুদিন হয়ে গেল কর্তব্য পালনে বাড়ী ফিরতে পারল না রকি। রকির বন্ধু রাসেলের কাছ থেকে সংবাদ টা সংগ্রহ করে পৃতিকে খুলে বললো মলি। পৃতি নিউজটা শোনার পর একটু চিন্তা গ্রস্থ হয়ে পড়ল। আর কোন কথা না বাড়িয়ে ক্লাস শেষে কাওকে কিছু না বলে বাসা চলে গেল পৃতি। ওর সাথে দেখা নাই। অনেক কথা তাকে বলা প্রয়োজন। শুধুই মনে পড়ে যাচ্ছে রকির আব্বু আম্মুকে দেয়া কথাটা। চোখের কোনের পানি গুলো তাকে মাঝে মাঝে খুবই বিরক্ত করে। মাঝে মাঝে চোয়াল বেয়ে নিচে নেমে আসে। পৃতি তার বিবেক কে শুধু বলছে, কেন কথা দিলাম।
*****
মানুষ মরণশীল। মরতে তাকে হবেই। এই মরার আগে সে সুখ পেতে চায়। ভালবেসে সুখি হতে চায়। কিন্তু সুখ নামের পাখিটি যেন বারে বারে বহুদূরে চলে যায়। হন্ত দন্ত হয়ে দুদিন পরে ভার্সিটিতে হাজির হয় রকি। সাথে তার সেই হুন্ডাটা আছে। অসুস্থ হওয়ার পরে এটি খুব কম চালাত রকি। আজ আর ভার্সিটিতে আসেনি পৃতি। কারণ দুদিন পরেই তার স্বামী আসবে। এক ঝাঁক পাখির মত ছুটে এল মেয়েরা রকির কাছে। মলি খুব ভৎসনা করে বললো, আপনি হয়ত পৃতির মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াবেন। রকি যেন হতভম্ভ। পরিস্থিতি কি হয়েছে আন্দাজ করে ফেলে বললো, তোমরা কি বলছো আমি কিছুই বুচ্ছিনা।
– আমরা কি জন্য বলছি তা আপনাকে বলতে পারবো না। যা বলছি শুধু বান্ধবীর জন্যই।
রকি আবদার এবং অভিমানের সূরে বললো ও সব কথা বাদ দাও। আমি এই মুহূর্তে পৃতির সাথে কথা বলতে চাই। আর তোমরা যেভাবে হোক ওর বাড়ী গিয়ে ওকে নিয়ে আসবে। কিভাবে আনবে, কেমন করে আনবে সেটা তোমরা ভাল করে জান, আমি কিছুই বলতে পারবোনা। আমি শুধু অপেক্ষা করব জিয়া উদ্যানে এ টুকু জানি । মলি তার অন্য বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে বুঝলো বিষয়টিতে তারা সম্মতি আছে। তখন সে বললো, আমারা সাথে করে নিয়ে আসব যেভাবে হোক। রকির দিকে তাকিয়ে চার বান্ধবী আর কাল ক্ষেপন না করে চলে গেল পৃতির বাড়ীতে।

কথায় বলে বিদ্যার চেয়ে বুদ্ধি বড়,যদি সেটা প্রপার ভাবে কাজে খাটানো যায়। সেই বুদ্ধি আজ কাজে খাটালো মলি। প্রথমে পৃতি মলি, লতা, জবা,রূপাকে দেখে আনন্দে ফেটে পড়ল। বান্ধবীদের বাসার সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। টুক টাক খানা-পিনার কাজ গুলি ও শেষ। মলিরা পৃতির রুমে বসে রকির বিষয়ে সব কিছু খুলে বললো। পৃতি সব কিছু শোনার পর বললো, আমি এখনই যাব, তুই আমার মাকে ম্যানেজ কর। মলি বললো, আচ্ছা ঠিক আছে। মলি যেয়ে পৃতির মাকে বললো আন্টি এখন আমরা শিশু পার্কে যাব। তাই পৃতিকে নিয়ে যেতে এসেছি। পৃতির মা প্রথমে বাংলা সিনেমার রিনা বেগমের মত সবার দিকে একটু অন্য ভাবে তাকালো কিছু টা অন্য রকম কিছু ভাবার চেষ্টা করল,কিন্তু সবার হাসি খুশি আনন্দের ভাব দেখে পৃতির মা না করতে পারল না,বাইরে যাওয়ার সম্মতি দিল। শুধু দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো, মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে ভুল করেছি। কথা শোনা মাত্রই চার বান্ধবী আকাশ থেকে পড়ল। সাথে সাথে মাথা নিচু হয়ে গেল পৃতির এবং সাথে সাথে মলির গায়ে চিমটি কেটে বললো, এই তোদের সব বলছিলাম না। তোরা ভুলে গেলি না’কি?। মলি অচিরেই বুঝতে পারল পৃতি তার জীবনের মূল্যবান কথা টা এতদিন তাদের কাছে লুকায়েছে রেখেছে। তা তো পৃতির মাকে ব্যাপারটা বুঝতে না দিয়ে বললো,হ্যাঁ তুই তো বলেছিলি ব্যাপার টা ভুলেই গিয়েছিলাম। তখন পৃতি মাগে খুশি করতে গলা বাড়িয়ে জোর করে বললো, আরে ও তো দুদিন পরে আসবে। গাড়ীতে চল সব খুলে বলবো। মা ড্রাইভার কে গাড়ী বের করার কথা বলনা। মা বললো, তুই রেডি হয়ে নে ড্রাইভার মনে হয় গ্যারেজে আছে আমি ফোন করে দিচ্ছি। বান্ধবীরা খাটের উপর বসে আছে । আয়নার সামনে পৃতি নিজেকে অন্য ভাবে দেখছে। কোন সময় হাসিতে তার মুখ রক্ত রাঙার মত হয়ে যাচ্ছে। কোন সময় বিষাধে মায়া ভরা মুখটি যেন কালো হয়ে যাচ্ছে। বান্ধবীর এই মুখশ্রী দেখে লতার বাকি থাকে না তার জীবনে কি ঘটে যাচ্ছে। লতা বললো,বন্ধু তোর জীবনে কি একটা করুন কাহিনী আছে যা তুই আমাদের কাছে লুকায়েছিস? লতার কথা শোনার পর পৃতি লতার দিকে তাকিয়ে পড়ল,কি যেন বলতে গিয়ে বলতে পারলোনা। আর একটু অপেক্ষা করলেই বুঝি শ্রাবণ ঝপ করে ধারার বুকে ধাবিত হবে। চল আমরা বের হই,মানুষের জীবনে কত ঘটনা ঘটে যায়। সব ঘটনা খুলে বলা যায় না। ভেজা ভেজা কণ্ঠে বললো পৃতি।
*****
সবাই মিলে নিচে চলে আসল । ততক্ষনে ড্রাইভার স্ট্রায়ারিং ওয়ান করে বসে আছে। সবাই গাড়ীতে এসে ওঠে। পৃতি ড্রাইভারকে মুভ করার জন্য অর্ডার দেয়। গাড়ী চলতে থাকে। এদিকে পার্কে চাতক পাখির ন্যায় অপেক্ষা করতে থাকে রকি। একবার বাইক চালায়ে মেইন রোড বরাবর চলে আসে, আবার বাইক রেখে হাঁটা হাঁটি করে। আবার বাইকের উপর বসে কিছু সময় সবুজ ঘাসের উপর বসে ইস ফিস করতে থাকে।
ড্রাইভার জিয়া উদ্যানের দিকে গাড়ী চালাতে থাকে। পৃতি তার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো বন্ধুদের মাঝে বর্ণনা করতে থাকে। পৃতির জীবনী শোনার পর বন্ধুদের মাঝে যেন কোন কথা নেই। সবাই হতবাগ । কারো মুখের মাঝে কোন কথা নেই। শুধু নিস্তব্দতা। বন্ধুর জন্য সবার যেন ব্যাকুলিত পরাণ। সবাই চুপ তখন পৃতি বললো, জবা তোরা এবার আমার সৎ যুক্তি দে আমি কি আমার স্বামির কাছে ফিরে যাবো, না রকির হাত ধরবো?।
ভালবাসার জন্য যার পতন হয়,বিধাতার কাছে সে আকাশের তারার মত উজ্জল। বেন জনসন
কোন ভালবাসায় পতন হওয়া ভাল, ভালবাসার মানুষের, না স্বামীর? এখানে ভালবাসার মানুষ ও স্বামীর ভিতর তো পার্থক্য আছে। বন্ধুরা যেন কিছু বলতে পারেনা। মলি বললো,আমি একটা মেয়ে হয়ে আর একটা মেয়েকে কি উপদেশ দিতে পারি,তোর স্বামি ডোনার কথা শুনে আমার মন বলে তার কাছে তুই যাস না। আবার বাঙালী নারী আমাদের সম্মান অন্য রকম। আমরা মরে যেতে রাজি কিন্তু আমাদের স্বামি কে ছাড়তে রাজি নই। আর বিশেষ করে তোর বাবা মায়ের কথা চিন্তা করলে তোর স্বামির কাছে ফেরত যাওয়া ছাড়া আমি অন্য কিছু একে বারে ভাবতে পারিনা। আবার রকি ভাই এর কথা মনে উঠলে…যাক তোর জীবনের ভাল মন্দ তুই ভাল বুঝিস,জীবন তোর সিদ্ধান্ত টা তোরই নিতে হবে। আমি সিদ্ধান্ত অনেক আগে থেকে নিয়ে ফেলেছি। জবা বললো, কি সিদ্ধান্ত? চল আমরা মনে হয় চলে এসছি,আগে ওর ওখানে যাই প্রাকটিক্যালে দেখতে পাবি বললো,পৃতি। পৃতি ড্রাইভারকে সে না আসা পর্যন্ত ওয়েট করতে বললো। কিছুদূর সামনে যেয়ে একটু ব্যাক করে এসে আবার ড্রাইভার কে,যদি আমার আসতে দেরি হয় তাহলে তুমি সোজা বাসা চলে যাবে। যদি আন্টি আমাকে আপনার কথা জিগায় তখন কি কমু,একটু হতাসা হয়ে কথা গুলো বললো ড্রাইভার বিল্লাল।বিল্লাল তাদের বেশ পুরানো ড্রাইভার তার এবং তার পরিবারের অনেক কিছুই জানে সে । এই জন্যই তার সামনে কোন সংকোচ না করে কথা গুলো বন্ধুদের সাথে বলেছিল পৃতি।
*****

14,841 total views, 2 views today

Related Posts

Share

Comments

comments

রিপোর্টার সম্পর্কে

%d bloggers like this: