প্রকাশিত : Mon, Dec 18th, 2017

শেষ বিকেলের মেঘ- মৃত্যুঞ্জয় সরদার উচ্ছ্বাস (পার্ট-১)-

শেষ বিকেলের মেঘ

মৃত্যুঞ্জয় সরদার উচ্ছ্বাস
আচ্ছা বলুন তো, শেষ বিকেলের মেঘের রং কেমন হতে পারে? কেমন হবে, যদি মেঘ সাদা হয়ে হয়ে থাকে- তাহলে তো সাদাই। আর সাদার ভিতর সূর্য মামা ডুবে যাওয়ার পূর্ব মূহুত্বে যদি হালকা করে তার রুপ টা ছড়ায় তখন আর কেমন হবে লালচেই হবে বা সোনালীই হবে। আর মেঘ যদি সাদা কালো মিক্সড থাকে তাহলে সাদাকালো মেঘ। আর এই সাদা কালোর ভিতর সূর্য মামার লাল আভা যদি পড়ে তখন তার রুপ হবে সাদা কালো লালি। আর মেঘ গুলি যদি ধরণীর বুকে তার ধারন কৃত পানি ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়,তার তার রুপ আবার কেমন হবে জল ভরা সাদা কালো মেঘ। মনুষ্য সৃষ্টি কোন স্যাটালাইটের আলো বা আগ্নেগিরির কোন লাভা বা ঘন কুয়াশার রেখা মেয়ের উপর পতিত হয় তখন মেঘটা ভিন্ন ভিন্ন রুপে আবর্তিত হবে। যদি মেঘ টা মেড় মেড়ে কালো হয়। আর তখন যদি সূর্য মামা ডুবে যায় তখন তার রং আবার কেমন হবে সে মেঘ না কালো আঁধার সেটাই তো বোঝা বড় দায় বা সূর্য মামা ডুবতে বসেছে কিন্তু মেঘের রং ধবধবে সাদা। সাদা হলে কি তার সাদা ধরে রাখতে পারবে!
আমার গল্পের রুপ রেখাটা সেই ধরনের। বাকীটা পড়ে বুঝবেন।
উৎসর্গ
জীবনে প্রথম উপন্যাসটি উৎসর্গ করলাম আমার জমন দুঃখী বাবা-মা কে। তারাই আমার স্বর্গ। তাদের সুখি রাখার বিকল্প ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারিনা।
শতকোটি প্রনাম
যাদের কোলে বেড়ে উঠেছি,যারা আমার জন্য কত যায়গা পরিভ্রমন করেছে, কত রাত না জেগে থেকেছে তার কোন শেষ নেই। তারা আমার ঠাকুর মা শুশিলা রানী সরদার ও আমার ছোট পিসিমা শ্রীমতি নমিতা রানী জোয়াদ্দার । তাদের চরণে রইলো আমার শত কোটি প্রনাম।

কৃতজ্ঞতা স্বিকার

যাদের আজীবন যেন না ভুলে যাই।
আজীবন স্বরণ রাখবো বন্ধু সালাউদ্দিন আহমেদ অনি। দুঃসময়ের বন্ধু।
নাট্য পরিচালক গুরু জি.এম সৈকতের হাত ধরে অভিনেতা ডি এ তায়েব এর এস জি প্রডাকশনের মাধ্যমে মিডিয়াতে পর্দাপন।
সাফল্যের দ্বার উন্মেচন হতে শুরু হয় দেশের বর্তমান জনপ্রিয় লেখক আকাশ রঞ্জন এর হাত ধরে দর্শক নন্দিত ডিরেক্টর ফরিদুল হাসান এর মাধ্যমে।
ভুমিকা
আমি লেখা শুরু করি যখন আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি। একদিন আমি আমাদের মুদিখানা দোকানের চাল ধরে দাঁড়িয়ে আছি। ঠিক সে সময় আমার মায়ের সন্ধ্যাবেলার উলুদ্ধনী শুনতে পাচ্ছি আবার সাথে সাথে দূরে আযানের ধ্বনী ও শুনতে পাচ্ছি । আমি দোকানের পিছে চলে গেলাম, দেখলাম নদী (মাদার নদী) তার আপন গতীতে বয়ে চলেছে। মন স্থির করলাম একটা কবিতা লিখবো । সাথে সাথে খাতা কলম নিয়ে লিখে ফেল্লাম ‘‘সন্ধ্যাবেলা’’ নামক একটা কবিতা। সেই থেকে লেখা-লিখি শুরু। এর পর থেকে শুধুই লিখতাম। যখন ক্লাস নাইনে পড়ি। তখন আমার ১৬ তম উপন্যাস লেখা শেষ। আর কবিতা লিখেছি প্রায় এক হাজারের মত । ছোট গল্প,ছন্দের বই ও অন্যান্য মিলে এক শত এর মত হবে। সব সময় চেষ্টা পাইতাম উপন্যাস পাবলিস্ট করার জন্য। একদিন এক উপন্যাসিকের ঠিকানা নিয়ে তার কাছে ফেরত খাম সহ চিঠি লিখলাম, কিভাবে উপন্যাস পাবলিস্ট করবো এবিষয়ে হেল্প নেওয়ার জন্য বা বিস্তারিত জানার জন্য। উনি আমার ফেরত খামে যে কথা গুলো লিখেছিলেন-তার ভাষা ছিল এই এরকম, মৃত্যুঞ্জয় তুমি কেবল ক্লাস নাইনে পড়ো। এ বয়সে উপন্যাস পাবলিস্ট করতে চাচ্ছো, এক কথার উত্তর দিও তো। তুমি এই পর্যন্ত কি শিখেছো যে মানুষকে তথা সমাজকে দিতে চাচ্ছো। একাডেমী লেবেল শেষ করে এসব চিন্তা ভাবনা করো।
সেই থেকে পাবলিস্ট করবো। এ কথা মাথায় কম ঘুরপাক খাইতো। তবে লেখা লিখি বন্ধ রাখিনি। ২০১২ সালের কথা, আমি তখন ডিগ্রি ফাইনাল ইয়ার পড়ি । পড়া কালিন সৃজনী বাংলাদেশ নামক এক সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানী তে সোলার প্রমোটর পদে পড়াশুনার পাশি পাশি চাকরী করতাম নলতাতে। নলতা বাজারের এক ল্যাম্পপোস্টের গায়ে একটা বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। যার হেড লাইন লেখা থাকে ‘‘তারকাদের তারকা হও’’। এখানে অভিনয়,নাচ,গান ও গল্প লেখার চার টা বিষয় থাকে। এই চারটি বিষয়ে সেরা তিন বিজয়ী বাংলাদেশের মিডিয়াতে চান্স পাবে। আমি গল্প লেখায় এ্যাডমিশন দিলাম। তিন বার এ্যাডমিশন দিতে হলো তিনবারই প্রতিবারই ১ম হলাম। ঢাকা কচি কাচার মেলায় আমাকে সেরা পুরস্কারের মুকুট ও গলে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হল। সাথে সার্টিফিকেট এবং ক্রেজ । মাথার মুকুট পরিয়ে দিয়েছিলেন নাট্যকার মাহবুবা শাহরীন ( অভিনেতা ডি এ তায়েব এর স্ত্রী )। গলে উত্তরীয় পরায়ে দিয়েছিলেন খাইরুন কাদের ।( অভিনেতা আব্দুল কাদের স্ত্রী) অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন। অভিনেতা ডি এ তায়েব,খালেদা আক্তার কল্পনা,মমো আলী,মাসুদুল আলম মিঠু,আব্দুল কাদের এবং অনুষ্টানের পরিচালক ছিলেন গুরু জি এম সৈকত।( আমার গুরু। যার কারণে আমার মিডিয়াতে বিচরণ।) পুরস্কার টি নিয়ে আবার গ্রামে ফিরে এলাম। তারপর ০১/০২/২০১২ চাকরীটা ছেড়ে দিয়ে মিডিয়াতে কাজ করার জন্য ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হলাম। যেদিন ঢাকা আসলাম তার পরের দিন অথ্যাৎ ০২/০৮/২০১২ ওস্তাদের সাথে শুটিংয়ে গেলাম। যেয়েই ক্যামেরার সামনে তখন ঈদের এক ঘন্টার নাটক শুট চলছিল। নাটকের নাম ‘‘আমাদের টুনটুনি’’ অভিনেতা অভিনেত্রী ছিলেন ডি এ তায়েব,লামিয়া মিমো,স্বাগতা,মিরা ও টুনটুনি (ডি এ তায়েব এর এক মাত্র মেয়ে) ডিরেক্টর ছিলেন জি এম সৈকত নাটকটির রচিয়েতা ছিলেন মাহবুবা শাহ্রিন।
আসলাম নাট্যকার হতে আত্ম প্রকাশ হল অভিনেতা হিসেবে। এর পর হতে ওস্তাদের সাথে তার প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করতে থাকলাম। বলতে গেলে তার প্রতিটা এবং অন্যান্য পরিচালকের নাটকে অভিনয় করতাম। সেই ধারাবাহিকতায় ওস্তাদ সহ অন্যান্য পরিচালকের সাথে প্রায় এই পর্যন্ত প্রায় ৮০ টি মত (২০১৭ সালের শেষ অবধী) নাটকে প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে এবং অভিনয়ে ১০০টির উপরে নাটকে কাজ করেছি। অদ্যবধি করে যাচ্ছি। বর্তমান অভিনেতা ও প্রধান সহকারী পরিচালক ‘‘কমেডী ৪২০’’ ( সম্প্রচার বৈশাখী টিভিতে প্রতি শনি,রবি সোম রাত ৮.৪৫) এবং ‘‘বাসন্তিপুর” চ্যানেল আই ( প্রতি রবি সোম মঙ্গল বিকাল ৫.২০ মিনিটে। )ধারা বাহিক নাটকে কাজ করে যাচ্ছি। দুটি নাটকের পরিচালক ফরিদুল হাসান। কমেডী ৪২০ নাটকটি বর্তমানে জনপ্রিয়তার শির্ষে অবস্থান করছে।

আমার লেখা নাটক গুলো এর ভিতরে খন্ড নাটক/টেলিফিল্ম শুটিং হয়েছে ১৬ টি সম্প্রচার হয়েছে ১০ টি। দুটি ধরাবাহিক নাটক সম্প্রচার হয়েছে ১টি চ্যানেল আই য়ে নাম ‘‘পরাণ কোকিলা’’ পরিচালক ছিলেন পিযুস সেন বেনু । অন্যটির নাম নতুন ভোর বি টি ভিতে পরিচালক ছিলেন নোমান খান এবং সহযোগী পরিচালক জুয়েল শরীফ ।
এত বছর পরে (২০১৭ এর ফেব্রয়ারী মাসে) উপন্যাসিক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। চেষ্টা করছি ভাল কিছু দেওয়ার । বাকি টা আপনাদের উপর। আমি আমার মিডিয়ার কথাই বলি। কেউ বছরের পর বছর থিয়েটার করে যাচ্ছে। টিভিতে ধুমায়ে অভিনয় করে যাচ্ছে তাদের কেউ চেনে না। আবার অনেকে অল্প দিনিই স্টার হয়ে যায়। সারা বাংলাদেশের মানুষ তাদের চেনে। এটা কপাল বলবো না মানুষের ভালবাসা বলবো সেটাই তো বুচ্ছিনা। কপাল হোক আর মানুষের ভালবাসা হোক আমি কেন চাইবো না’ যে আমার উপর বত্তায়মান না হোক। আমার চাওয়া দুইটা ভাল অভিনেতা ও ভাল লেখক হওয়া।
পৃতি ও তার বড় বোন স্মৃতি। স্মৃতি ভার্সিটি পড়–য়া মেয়ে। দুই বোন প্রথম বারের মত রাতে মার্কেটিং করতে এসে পথ হারিয়ে ফেলেছে। তারা এসেছে ঢাকা নিউমার্কেটে। সাথে অবশ্য তাদের আব্বু-আম্মু এসেছিল কিন্তু তারা জুরুরী এক কাজে সাভার গিয়েছে। স্মৃতির মা স্মৃতিকে জিজ্ঞাসা করেছিল,তোরা কি বাসা যেতে পারবি?স্মৃতি বলেছিল,কেন পারবোনা আমি পৃতির মত ছোট নাকি যে ওকে নিয়ে বাসা যেতে পারবো না। তোমারা যাও আমরা আর একটু কেনা কাটা করে গাড়ীতে উঠবো। কেনা কাটা তাদেও শেষ এখন বাসায় যাওয়ার পালা। এখন তারা কোন দিক হতে গাড়ীতে উঠবে, কোন গাড়ীতে উঠবে ঠিক করতে পারছেনা। রিতি মত শরীর দিয়ে টপ টপ করে ঘাম ঝরছে স্মৃতির। পৃতি ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। তার পা ভয়ে কাঁপছে,যেন ঝড়ে ভিজে যাওয়া শালিক পাখির মত। পৃতি স্মৃতিকে জড়িয়ে ধরে বললো, আপু আমরা কিভাবে বাসায় যাব? স্মৃতিদের বাসা রামপুরা বনশ্রী ই ব্লোকে। তারা খুব পুরানো বাসিন্দা নয়। কাছে তাদের মোবাইল সেট আছে। ইচ্ছা স্বত্তে কাওকে প্রশ্ন ও আব্বু-আম্মুকে কল করল না স্মৃতি। খুব উদাসিন ভাবে ঘোরাঘুরি করছে । ইজি বিষয়টা কঠিন ভাবে নেওয়ার মত। তখন বাজে রাত ১০ টা। কারো কাছে শুনলে বিষয় টা পরিস্কার হয়ে যায়, কিন্তু সেটা মাথায় আসছেনা স্মৃতির। এটাকে মতিভ্রম বলা যায়। চায়ের দোকান থেকে বেরিয়ে এসে রবিউল বললো, কি হয়েছে স্মৃতি ওভাবে ঘোরাফেরা করছ কেন উদাসিন লাগছে কেন কি হয়েছে? রবিউল হলো স্মৃতির সিনিয়র,তারা একই সাথে আফতাব নগরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পড়ে । সে পড়ে অনার্স ৩য় বর্ষে আর স্মৃতি ২য় বর্ষে। ভার্সিটির শুরু থেকেই সে স্মৃতির পিছে লেগে আছে কিন্তু স্মৃতি ওকে পাত্তা দেয়না। তবু বিপদের সময় তাকে পেয়ে খুব ভাল লাগছে স্মৃতির। স্মৃতি অনায়াসে বললো, আপনি এখানে,আর আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি। একগাল হেসে দিল রবিউল। ঠিক যেন হরিণের কাছে বাঘ মামার নত হওয়ার মত। বললো ও তাই আমার বাসা তো এখানে- চল আমার সাথে। তিনজন একটা সি এন জি নিল। রবিউল ও স্মৃতি পাশা-পাশি বসা। রবিউলের মনে স্বর্গ সম সুখ অনুভূত হচ্ছে। দীর্ঘ মরুমাঠে এক ফসলা বৃষ্টির মত। রবিউল কোন দিন কল্পনা করতে পারিনি যে সে স্মৃতির এত কাছে আসবে। যে কিনা এই ছেলে কে কোন পাত্তাই দিত না। চলতে চলতে পৃতি বললো, আপু গাড়ীর জন্য টেনশন না করে সি এন জি নিলেই তো আমাদের বাসার সামনে নামিয়ে দিত। উকুন মারার মত টুসকানি কেটে বললো,ওরে আমার পাকনি বুড়িরে তখন মনে করিসনি কেন?। “ইসরে তখন মাথায় যে কেন আসলো না!’’বললো, পৃতি। রবিউল হেসে দিয়ে বললো, সেটা যদি হত তাহলে আমি কি তোমাদের সঙ্গি হতে পারতাম- পারতাম না! তোমার বড় আপুর এত কাছে আসতে পারতাম, পারতাম না! স্মৃতি আড় চোখে রবিউলের চোখের দিকে তাকাতে যেয়ে তাকাতে পারলো না। তবে মুখ টা বেজায় খুশি খুশি।

কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন-‘‘গিন্নির চেয়ে শালী ভালো’’ রবিউলের ক্ষেত্রে ভালো আর কি গিন্নি ও হয়নি শালী ও হয়নি। তবে পৃতির মিষ্টি মিষ্টি কথা তার মন কেড়ে নিয়েছে। পৃতি একবার রবিউলের মুখের দিকে একবার স্মৃতির মুখের দিকে তাকায়। উভয়ের ভিতর কথা চলতে থাকে। এক সময় তারা বাসার সামনে চলে আসে। রবিউল তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসল। স্মৃতির রবিউল কে বিদায় দেওয়ার সময় খুব কষ্ট হচ্ছিল, ও বলতে পারিনি-চলেন বাসায় যাই। রাতে কেন জানি স্মৃতির ঘুম আসিনি। সকালে ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারলো সে রবিউলকে ভালবেসে ফেলেছে। তা না হলে কেন সারারাত স্বপ্নে রবিউল তাকে ঘুমাতে দেইনি। দুষ্ঠামি না করে শুধু হাত ধরে পাশে বসে থাকলে তার এমন কি মহাভারত অশুদ্ধহত। যাক সে কথা, এখন দুজনের ভিতর গভীর প্রেম।
প্রেম, এক স্বর্গীয় সূধা কে কখন কিভাবে পান করবে বা অনিচ্ছা থাকতে ও হয়ে যায় তা কেই বলতে পারেনা। এ এক অন্য জিনিস অন্য মোহ অন্য রকম ভস্ম জাতীয় কিছু ।
যাকে দেখা যায়না ছোঁয়া যায়না। শুধু অনুভব করা যায়। -মৃত্যুঞ্জয়
তারা এখন আর কেউ কাউকে না দেখলে থাকতে পারেনা। এ যেন আকাশ ও জমিনের মত, দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকতেই হবে। স্মৃতির কথা মত রবিউল প্রস্তাব পাঠালো স্মৃতির বাসায়। স্মৃতির বাবা মিঃ ছাদেক আলী খুব সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। তার তুলনায় রবিউলের বাবা কিছুই না। সব কিছু জেনে শুনে প্রস্তাব অপমানের সহিত প্রত্যাখ্যান করলেন । ঠিক যেন বাংলা সিনেমার কোটিপতি বাবা রাজিবের কাছে গরীব বাবা রাজ্জাকের মত । যার কারনে সবার অজান্তে স্মৃতি রবিউলের ভালবাসার মর্যাদা দিতে গিয়ে পালাতক। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে তাদের কোন খোঁজ খবর নেই। ভালাবাসার কথা রাখতে মা-বাবাকে রেখে পালালি,মা বাবার কথা একটু ও ভাবলি না,তাদের সম্মানের দিকে একটু ও তাকালিনা,কেঁদে কেঁদে কথা গুলো বলে চলেছে পৃতির মা মারুফা। সাদেক আলী গম্ভীর। ঠিক যেন পৃত্রী হারা হরিসাধনের মত।এই প্রভাবটা এসে পড়ল পৃৃতির উপর। বাড়ীতে সবার মাঝে মনমরা ভাব। পৃতির সামনে তার বাবা-মা কাঁদে আর বলতে থাকে, তোর বড় বোন আমাদের মান সম্মান সব কিছু ডুবিয়ে রেখে চলে গেছে। তুই আমাদের সব, তুই যেন…….মা বাবার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে মা-বাবাকে শান্তনা দেয় পৃতি। বলে,এমন টি তার দ্বারা কখনও হবে না। তবু মারুফা ও সাদেক চিন্তা ভাবনা করে- যে পৃতিকে বিয়ে দিয়ে দেবে। কিন্তু শহরে অল্প বয়সে বিয়ে নি¤œ পরিবারে ছাড়া উচ্চ বৃত্ত বা মধ্যম পরিবারে দেখাই যায় না। এখন নি¤œ আয়ের মানুষ গুলো ও অনেক সচেতন তাদের মেয়েদের ১৮ বছরের আগে বিয়ে দিতে চায় না। সেই দিক থেকে চিন্তা ভাবনায় আছে স্বামী-স্ত্রী দু-জন। পাত্র খুঁজতে থাকে পৃতির জন্য। ও দিকে স্কুলে যেয়ে মন খারাপ করে বসে থাকে পৃতি। আগের মত তার ছেলে বন্ধু বা বান্ধবীদের সাথে তত হেসে খেলে কথা বলে না। শুধু চিন্তা করে আপু কি করতে কি করল। যখন কেউ কিশোর/কিশোরী থেকে যৌবনে পর্দাপন করে। তখন তার মনে কিছু আশা ভরসা জাগে। এই বয়স আশা ভরসা জাগার বয়স। মনে হাজার স্বপ্ন বোনার বয়স। এই স্বপ্ন গুলো মনের ভিতর প্রবেশ করে যখন যৌবন নামের কোন এক মধুর রস শরীরের ভিতর ঐশ্বরিক ভাবে প্রবেশ করে তখন। কত স্বপ্ন যে মনের ভিতর আনা গোনা করে তা অবর্ণনীয়। পৃতি আশা করেছিল সে যখন ক্লাস নাইনে উঠবে তখন সে একটি তার মনের মত ছেলের সাথে প্রেম করবে।
যৌবনে যার প্রেম এলোনা তার জীবন বৃথা। শঙ্কর

প্রেম সবার আসে কিন্তু সবাই সেটা প্রস্ফূটিত করতে পারেনা। বিভিন্ন কারণ এসে দানা বাধেঁ। সে আশার গুড়ে বালি। স্মৃতি চলে যাওয়ার দু বছর কেটে গেল। সে এবার নিউ টেনে কিন্তু মনের চিন্তা মনেই রয়ে গেল। একাধিক প্রেমের প্রস্তাব পাওয়া সত্তে ও প্রেম করা সাহসে কুলালো না। এখন তার চিন্তা ভাবনা এস,এস,সি পাশ করে কলেজে পড়া। যেন প্রেম সে বোঝেনা। জীবন চলার গতিবিধি শুধু প্রেমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সে চায় অন্যভাবে তার জীবনটাকে সাজাতে। সে রকম স্বপ্ন সবার মনে থাকে। স্বপ্ন নিয়েতো মানুষের বাঁচা। ঠিক তেমনি স্বপ্ন ছিল সাদেক ও মারুফার মনে। কিন্তু তাদের স্বপ্ন তার বড় মেয়ে ভেঙ্গে খান খান করে দিয়েছে। ২ বছর পরে ছেলের সন্ধান মিলেছে তাদের। গোপনে গোপনে তাদের ছেলে দেখা শেষ। ছেলের বাড়ী গুলশান নিকেতন ২ নং রোডে, গ্রামের বাড়ী অবশ্য খুলনা ডুমুরিয়া। ছেলের পরিবারের অনেকে অষ্ট্রেলিয়ায় থাকে। ছেলেও অষ্ট্রেলিয়ায় পড়াশুনা করে। সে বর্তমান সেখানের সিটিজেন। ছেলের মা শোভা বেগম তার সাথে মারুফা পড়াশুনা করেছে। তারা কলেজ জীবনের বান্ধবী। চার ছেলের ২য় ছেলে ডোনা ছুটিতে বর্তমান দেশের বাড়িতে। ছেলের বিয়ে নিয়ে ডোনার বাপি ইসাক- ছেলের পড়াশুনার ক্ষতির কারনে একটু দ্বিমত পোষন করেছিলেন। কিন্তু সব মিমাংসার পরে সিদ্ধান্ত হলো বিয়ের । পৃতির বয়স আর ডোনার পড়া শুনার দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হলো;তারা বিয়ের পরে যে যার বাসা-বাড়ীতে থেকে পড়াশুনা করবে। বিয়ের দিন ধার্য করা হলো পহেলা মে । পহেলা মে’ র একদিন আগে পৃতি কে জানানো হলো তার বিয়ের কথা। সে অবাক হলে ও কোন প্রশ্ন ছুড়তে পারলো না বাবা মার মুখের উপর। সারা রাত কেঁদে বুক ভাসালো সে। তার জীবনের চাওয়া পাওয়া ম্লান হতে চলেছে। চাইলেও বন্ধুদের মত উন্মুক্ত ভাবে ঘোরা ঘুরি করতে পারবে না,পারবে না শঙ্ক চিলের মত উড়ে উড়ে এ ডালে ও ডালে বসতে। পারবে না কাটখট্টা দুপুরে অনাকাঙ্খিত ভাবে রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে। পারবে না শীত কালে হঠাৎ প্রচন্ড বৃষ্টিতে ভিজে নিজেকে কাঁপাতে। এখন আর লেকে উলঙ্গ শিশুকে ঝাপ দিতে দেখে মজা নিতে পারবেনা। মুখটা ঘোমটার আড়ালে লুকায়ে চলে যেতে হবে। আইনকে কে ফাঁকি দিয়ে শুক্রবার মালা বদল হয়ে গেল। পৃতির এখনও ১৮ বছর বয়স পুরা হয়নি,সবে ১৫ বছর। বিয়ের পরে তাদের এক ঘরে কথা বলার জন্য দেওয়া হল। কিন্তু একবার ও তাকাইনি পৃতি ডোনার দিকে। ডোনা অষ্ট্রেলিয়াতে বড় হওয়া ছেলে। সে বিবাহের জন্য খুব ইমপ্রভ। সে পৃতিকে সহজ করার জন্য বললো, হায় ডারলিং কিছু বলছো না যে? ডোনা পৃতির ঘাড়ে হাত রেখে বললো, সত্যি ডারলিং জীবনে অষ্ট্রেলিয়ায় অনেক মেয়ের সাথে সংগ দিয়েছি কিন্তু তোমার মত সুন্দরী দেখিনি। পৃতি তার কথা শুনে বুকটা হা হা করে কেদেঁ উঠল। সে তার হাতটি ঘাড় থেকে নামিয়ে দিল। ডোনা বললো, হায় ডারলিং তুমি বসে আছ ? অর্ষ্টেলিয়ার মেয়েরা হলে এত সময় আমাকে কিস দিতে দিতে পাগল করে ফেলত। পৃতি কিছু বলেনা। চোখের কোনে না হোক মনের কোনে পানি জমে পুকুর সমান হয়ে গেছে। ডোনা নেশাতুর ভাবে পৃতির হাত ধরল। পৃতি হাত ছাড়িয়ে বাইরে চলে গেল। বাড়ী ভর্তি মেহমান সে জন্য নিজেকে সামাল দিয়ে মায়ের পাশে যেয়ে বসল। মারুফা বললো,যা জামাইর সাথে কথা বল। সে কাল পরশু অষ্ট্রেলিয়া চলে যাবে। মা দুঃখ পাবে তাই মনের কথা খুলে বললো না, মা-বাবার উপর চাপা রাগ নিজের ভিতর নিবৃত করে। যার দায়ী স্বরুপ মনে মনে ধিক্কার দিতে থাকে বড় আপুকে। ঠিক দু’দিন পর ডোনা অষ্ট্রেলিয়া চলে গেল। এ দু’দিনে পৃতি তার গায়ে ঘেঁষতে দেয়নি ডোনাকে। দুইটা দিন তার বিষের মত কেটেছে। মর্ডান মেয়েদের স্বপ্ন থাকে মর্ডান। এক গাদা টাকা পয়সার মাঝে সুখ খুঁজে পাওয়া যায় না। সুখের জন্য চাই মন। সে মন পেল না পৃতি। পৃতি তার নব্য স্বামীর কথা চিন্তা করে, চিন্তা করে তার খারাপ দিক নিয়ে। চিন্তা করে তার ভবিষৎ নিয়ে।
*****
পৃতির এস. এস. সি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে রেজাল্টও বের হয়েছে। পৃতি পেয়েছে এ গ্রেট-। যার জন্য মা-বাবা সহ শ্বশুর-শ্বাশুড়ি কেউ খুশি নয়। ডোনা থাকে বিদেশে সে দেশে ফিরতে চায় না। শ্বশুর-শ্বাশুড়ী তাকে গুলশানের বাড়ী নিয়ে যেতে চায় কিন্তু তাতে মত পোষন করে না পৃতি। দুই পরিবারের সাথে সমান ভাবে তাল রেখে। এইচ এস সি পাশ করে আবতাবনগর ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি তে ম্যানেজমেন্টে ভর্তি হল পৃতি। দুই বছর তার এক বারে ঘরেই কেটেছে বললেই চলে । শুধু পরীক্ষার সময় পরীক্ষা দিতে কলেজে গিয়েছিল। ভার্সিটি হল স্বাধীন জীবন। যে জীবনের স্বর্ণ চাওয়া খুব সামান্য নয়। কিন্তু পৃতির নিজস্ব কোন চাওয়া পাওয়া নেই। তার মন থাকে পড়ন্ত বিকালে চুপসে যাওয়া ফুলের মত! মন থেকে ডোনার বাড়ীর জিনিস পত্র ব্যবহার করতে অনাগ্রহি। তবুও মা-বাবার চাপে ব্যবহার করে। শ্বশুর-শ্বশুড়ীর জন্য তাকে বোরকা পরতে হয়। তার পরে শ্বশুর বাড়ীর প্রাইভেট কারটি তাকে ঠিক সময় ভার্সিটিতে নামিয়ে দিয়ে যায় আবার নিয়ে যায়। পৃতি যে খুব বড় লোক ঘরের বউ তা তার চাল-চলন পোষাক-আশাক, ব্যবহারে বোঝা যায়। ভার্সিটিতে হাজার হাজার ছেলে। একই ইয়ারে হলেও সাবজেক্ট বিহীন কেহ কারও খোঁজ রাখেনা। ভার্সিটির ক্লাস শুরু হয়েছে। আজ কালকের যুগে পড়াশুনা হোক না হোক প্রেম হরদম চলে। সত্যি কথা বলতে কি কলেজ-ভার্সিটি জীবনে কত ঘটনা ঘটে যায়। শুধু সে ঘটনা গুলো মনপটে ইতিহাস হয়ে রয়ে যায়। মনে পড়ে যায় সমরেশ দার সেই বিখ্যাত উক্তি-
ছেলেরা ভালবাসার অভিনয় করতে করতে যে কখন সত্যি সত্যি ভালোবেসে ফেলে তারা তা নিজেও জানেনা..মেয়েরা সত্যিকার ভালোবাসতে বাসতে যে কখন অভিনয় শুরু করে তারা তা নিজেও জানেনা..সমরেশ মজুমদার।
পৃতি যখন হেঁটে যায় তখন তার দিকে ছেলেরা উজাড় হয়ে তাকিয়ে থাকে। যেন বলাকা সিনেমায় শাকিব খানের ছবি দেখছে! তাকিয়ে থাকাবে বা না’ কেন – চাঁদ সুন্দর তাই তার দিকে সবাই তাকায়,সাগর সুন্দর তাই তার দিকে তাকিয়ে সাবাই তৃপ্তি নিতে চায়! হরদম অফার আসে পৃতির। কিন্তু পৃতির সাদ আছে সাধ্য নেই। এখন তার যৌবন টগবগে ফুলের মত ফুটে আছে। কিন্তু না সেটা খোলা আকাশের নিচে কোন ফুল নয়। টবে ফুটে থাকা ফুল। মন তো চায় ভ্রমর তার উপর বিচরণ করুক। কিন্তু কোথায় যেন বাধা! ভ্রমরেরা সবাই বেদনার কাল মুখ নিয়ে পিছু হাঁটে। মানুষ যখন কোন কিছুতে আবদ্ধ হয়, তখন কিছু করতে তার ভয় লাগে। কিন্তু পৃতি প্রত্যাখান করে ঠিকই কিন্তু তার বদ স্বামির কথা চিন্তা করে মন চায় কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে যেতে। কিন্তু বড় বোন ও মা-বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে পিছু হটে। পৃতির বান্ধবীরা তাকে খুব ভালবাসে। ভালবাসে তার নিদারুন ছেলেমীপনা কে। বর্তমানে পৃতি পুরানো স্মৃতি ভুলে থাকার জন্য সব সময় হাসি খুশি থাকে। যা তার রুপের সাথে বেশ মানায়। তার রুপ যেন বদ্ধ দিঘীতে ফুটে থাকা সাধা ধবধবে শাপলার মত। চোখের গড়ন টা ঠিক মারবেলের মত হরেক রঙে রাঙানো । তাকালেই মনে হয় এক এক সময় বিভিন্ন রং ধারণ করছে। তাই তো বন্ধু লুপিয়ানা হেসে হেসে বলে বন্ধু তোর চোখ দুটি আমারে দিবি আমি তোকে আমার জীবন দিয়ে দিবো। চোখের ভূরুতে যেন শিল্পির আপন হাতের মাধূরী মিশিয়ে চিকন করে ওই মেঘমালার কাছ থেকে কালো রং ধার করে নিয়ে একটু আঁচড় দেওয়া। যা সত্যি লোভনীয়। কথায় বলে নাকের গড়ন যাদের বাশির মতন তাদের নাক নাকি সব চেয়ে সুন্দর। কিন্তু নাকটা ওই বাশির গড়ন ঠিক রেখে যদি একটু খাড়া ধরনের হয় তখন সেটি টা কেমন দেখা যাবে। ঠিক পৃতির নাকটা খাড়া চিকন বাশির মত। কোন কারনে নাকের উপর যখন ঘাম জমে তখন মনে হয় গুটি গুটি মুক্তা দানা নাকের উপর ঝোপ বেঁধেছে। কিছু মানুষের ঠোঁট দেখলে মনে হয় সব সময় পদ্মফুল ফুটে আছে। কিন্তু পৃতির ঠোঁট দেখলে মনে হয়। সর্বদা যেন একটা টকটুকে লাল জবা ফুল ফুটে আছে। কি মলিন, মসৃন। তার ঠোঁটে হাসি ফুরায় না। যাদের হাসলে টোল পড়ে তাদের দুই চোয়ালে পড়ে। কিন্তু পৃতির ক্ষেত্রে ভিন্ন । তার হাসলে ডান গালে টোল পড়ে কপালের চামড়া ভাজ হয়ে যায়। সে এক অপরুপ সৌন্দর্যের একটা মেয়ে। সব মিলিয়ে পৃতির সব চেয়ে কাছের বন্ধু মিসেস মলি পৃতির অবর্তমানে সবাইকে বলে-আমাদের ভার্সিটির সেরা সুন্দরী কিন্তু পৃতি।
*****
নিরলস পৃথিবীতে এমনই মানুষ থাকে যারা খুবই ধর্ম ভীরু। তাকে তার স্মার্টনেস অন্যদের তুলনায় ছাড়িয়ে যায়। সে থাকে সৎ, চরিত্রবান। তার চরিত্রে কালির ছাপ পর্যন্ত পাওয়া যায় না। এ সব গুলো অনেক পারিবারিক বা পরিবেশগুনে হয়ে থাকে। তেমনি এক বিকল্প মুখি যুবক রকি। রকির একটা বাড়ী গ্রামে। সেটা হল সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার ভেটখালী গ্রামে। আর ও মাধ্যমিক পর্যন্ত সেখানে কাটিয়েছে, তার প্রাইমারি কেটেছে নূতন ঘেরী সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ে। হাই স্কুল জীবন কেটেছে ভেটখালী এ করিম হাই স্কুলে ,তার কলেজ শ্যামনগর মহাসিন ডিগ্রি সরকারী কলেজ। এখন সে পড়ে ঢাকার ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিতে। ঢাকাতে তার বাবা ফ্লাট কেনায় বলতে গেলে সে এখন ঢাকার স্থায়ী। তার দেহের আকৃতি, হালকা করে একটু বেশী লম্বা। ঘাড়ের চুলগুলো মাথার সামনের চুলের চেয়ে লম্বা। ঠিক যেন চিত্র নায়ক আমিন খানের ১ম জীবনের“ অবুজ দুটিমন ”ছবির মত। খুব সুন্দর দেখতে সে। চেহারার মাঝে আকর্ষণ আছে। যে আর্কষনে কিছু সময় তাকিয়ে দেখতে হয়। সে অনার্স ২য় বছরে পড়ছে। সে মটর বাইক নিয়ে আসে ভাসিটিতে। যখন রকি মটর নিয়ে ভার্সিটির ভিতর ঢুকে মেয়েরা তার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। পৃতি যাদের সাথে খোশ গল্প করছে মনোরম হাসি হেসে সেই দিকে চোখ পড়লো রকির। পৃতির পাশের বান্ধবীরা তাকিয়ে আছে রকির দিকে, কিন্তু পৃতি অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। সে ছেলেদের দিকে কমই তাকায়। রকি মটর থামিয়ে লক্ষ্য করলো সব মেয়েরা কম বেশি তার দিকে তাকিয়ে আছে বা তাকাচ্ছে। কেবল পৃতি ছাড়া। রকি তাকে ব্যতিক্রম ধর্মী মেয়ে মনে করল। কারণ চলার পথে সে অনুভব করে এমন কেহ নেই যে তার দিকে একবার তাকিয়ে ২য় বার আর একটু তাকিয়ে দেখবে না। তাই সে পুরুষ হোক আর মহিলা হোক। তার ইচ্ছা হল মেয়েটি দেখার। রকি তার বন্ধুদের সাথে বললো, যে ভাবে হোক ঐ মেয়েটাকে আমাকে দেখতে হবে। পৃতি বাঁকা চোখে তার বন্ধুদের ও আসপাশের সব মেয়েদের দিকে তাকিয়ে দেখলো সবাই ঐ ছেলের দিকে তাকিয়ে আছে। তখন পৃতি ঘাড় ফিরিয়ে ছেলেটাকে দেখার মত পোষন করল। যেই মাত্র পৃতি ফিরল ঠিক সেই মুর্হুতে রকি তার বন্ধুদের দিকে ফিরল। পৃতি তাকে ভালোভাবে দেখল। আর মনে মনে তার তারিফ করে বললো, এ জন্য কোন মেয়েদের পলক পড়ছে না। রকির বন্ধুরা বললো ঐ দেখ সে ফিরেছে, রকি যেই ফিরল, সেই পৃতি মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে চলে গেল। কি দুভাগ্য তার মুখ দেখার সুভাগ্য হলো না। রকি বললো, ফুলটা দেখতে কেমন রে? ওরা যখন মেয়েদের নিয়ে কোন আড্ডায় আলোচনা করে কোন সময় তাদের পাখি,ফুল না হয় নদী বলে সম্বোধন করে। এই তিনটির একটি বললে তারা বুঝতে পারে কোন মেয়েকে কেন্দ্র করে কিছু বলা হচ্ছে। রকির বন্ধু রবি বললো, দোস্ত এই ফুলটি পরমা সুন্দরী। রকির আরেক বন্ধু বললো পরমা বললে ভুল হবে। ও আমার লাইফে দেখা সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে। রকি বললো-
এ জন্য এত দেমাক খুব সহজে কারও দিকে ফিরতে চায় না। রকি আপসোসে করে বললো- ইস মেয়েটা কেমন একটু আমি দেখতে পেলাম না। রকি তাকে দেখার নেশায় পাগল হয়ে গেল।
মাতাল হওয়া ভাল বদ্ধ পাগল তাও ভাল কিন্তু পাগল না হয়ে পাগলামী করা ভাল নয়, তার ফল অশুভ হতে পারে। মৃত্যুঞ্জয়
এটা জাস্ট বয়সের পাগলামী। রকি আরো অনেক সময় অপেক্ষা করল কিন্তু ক্লাস শেষে এক পাজেরু গাড়ী এসে পৃতিকে নিয়ে গেল। তাকে দেখার নেশা মেলান হয়ে গেল। আকাশে বিন্দু বিন্দু মেঘ জমেছে, সাথে ঠান্ডা হাওয়া। শহরের বালু ও দগ্ধ ময় হাওয়া যেন একটু শিতল হয়েছে। এই আবহাওয়ায় প্রেমিক মনে কত জল্পনা কল্পনা দানা বাধে। রকি রাতে শোয়ার ঘরে শুয়ে পৃতির কথা কল্পনা করতে লাগল। কেমন হবে মেয়েটি! না জানি কেমন হবে তার চেহারা! ভাবতে ভাবতে তার আর চোখে ঘুম আসল না। আসলে অতিরিক্ত চিন্তা করলে চোখে ঘুম না আসতে পারে। তবু এই ঠান্ডা আবহাওয়া তাকে ঘুমাতে সাহয্য করলো, খুব কষ্টে ঘুমিয়ে গেল রকি। মানুষ কত বোকা স্বভাবের হয় না! দেখা নেই,শুধু বন্ধুদের কথা শুনে কাউকে নিয়ে ভাবতে শুরু করে দিয়েছে। সে কি প্রেমে পড়েছে। প্রেমে যদি পড়ে থাকে তবে কার প্রেমে পড়েছে। খুব সকালে ঘুম ভেঙে গেল। ওই বোরকা পড়া মেয়েটার কথা সে মোটে ও ভুলতে পারছে না। সে খুব বিচলিত । আগে তো কখনও কোন মেয়ের জন্য তার এমন ঘটনা ঘটেনি। কত মেয়েরা না তার জন্য পাগল থাকে। আজ যাকে ভাল করে দেখেনি,শুধু বন্ধুদের মুখে তার গল্প শুনেছে তার জন্য এত পাগল! মনকে সান্তনা দিল, আজ যেভাবে হোক তার সাথে দেখা করব। মানুষ মানুষের নেশায় মাতাল হয়। তবে টাইমে হুন্ডা নিয়ে বের হয়ে গেল রকি, সাথে দুই ক্লোজ বন্ধু অনি ও রবি। ঢাকা শহরে বাইকে তিন জন চলা বেআইন । কিন্তু এই বয়সের পোলাপান সব সময় আইন মেইন্টেন করে পারেনা। বাইক চালিয়ে চালিয়ে গেটের ভিতর ঢুকে পড়ল তিন জন। ঠিক ওই সময় বান্ধবীদের নিয়ে ঠিক ওই একই স্থানে দাড়িঁয়ে আড্ডা দিচ্ছিল পৃতি। পৃতির বান্ধবী শেফালী পৃতি কে ডেকে বললো দেখ, সেই ছেলে তিনটি বাইকে আসছে। আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। পৃতি মনে মনে ভাবল তাদের মনোভাব খারাপ। হয়ত হা করে তাকেই বারংবার ফলো করবে। গত দিনের মত একবার চেয়ে ভিতরে চলে গেল। কিন্তু এবারও দেখতে পায়নি রকি। কারণ সে ড্রাইভিং করছিলো। পিছন থেকে ওর দুই বন্ধু ভাল রকম দেখেছে। দেখতে পারলিনা রকি, পাখিটা চরমরে বললো অনি। আপসোসের জুড়ি থাকেনা রকির।অনি ও রবি, চল উপরে যাই নদীটাকে ওখান থেকে দেখে আসব।
চল। কথামত তিনজন উপরে উঠে গেল। আমাদের ঢাকাইয়া মেয়েদের একটা সুনাম না করে পারা যায় না। সবাই যে সুন্দর সেটা তো নয়। তবে তাদের বেশভূষা চাল চলন অনেক সুন্দর যার জন্য অসুন্দর মেয়েদেরকে ও সুন্দর দেখা যায়। মানুষ কখনও অসুন্দর হয় না। চোখের ভ্রান্তি। দেখা মিলল না সেই সুনয়নার। কারণ পৃতি বসে আছে কমন রুমে, বলা বাহুল্য সেখানে ছেলেদের প্রবেশ নিষেধ। রকি কমন রুমের পাশে দাঁড়িয়ে থাকায় মেয়েরা একের পর এসে রকিকে কে দেখতে থাকলো। কিন্তু ভুল করে একটি বার বাইরে আসলো না পৃতি। রকি চিন্তা করল আজ আবার ছুটি হওয়ার পরে যখন সে বাইরে বের হবে তখন তাকে দেখবে। সেই মোতাবেক তারা গেটের বাইরে অপেক্ষা করছে। কিন্তু দুর্ভ্যাগ্য পৃতি জীবনের প্রথম বারের মত নেকাব দিয়ে মুখটা ঢেকে গাড়ীতে উঠল। একবারে ভিতর থেকে পৃতিকে তুলে নিয়ে আসল শ্বশুর বাড়ীর সেই কার টি। রকি বললো গাড়ি থামিয়ে তাকে দেখবে। কিন্তু তার বন্ধুরা নিষেধ করল। অনি বললো,পাগল হয়ে গেলি নাকি?
কালো কাঁচের ভিতর থেকে সব কিছু, ভাব ভঙ্গি দেখতে লাগল এবং দুষ্টুমির হাসি হাসতে লাগল পৃতি। রকি কিছুই দেখতে পারছে না শুধু কারটির পিছন পিছন ডস দিয়ে গাড়ী চালাতে থাকে। রকির উদ্দেশ্য মেয়েটার বাড়ী কোথায় সেটা ফলো করা। গাড়ীর চলন্ত হওয়ায় যখন রকির লম্বা লম্বা চুল গুলো উড়ছিলো আর বাতাসে বুকের জামার বোতাম খুলে যখন বুকের চুলগুলো দেখা যাচ্ছিল। তখন সে দৃশ্য পৃতির কাছে খুবই ভালো লাগছিল। পৃতি চোরাই কাঁচের ভিতর থেকে চোরাই ভাবে দেখছিলো ছেলেটিকে। ভালই লাগছে ছেলেটিকে । আবার একটু ভাবাপন্ন হল এরকম ছেলে তো বসে থাকার কথা নয় কারো না করো সাথে জড়িয়ে যাওয়ার কথা । কিন্তু এভাবে আমার পিছে ঘুরছে কেন,আর আমার পিছে ঘুরে কি লাভ আছে। পৃতির সাধ আছে কিন্তু সাধ্য নেই। একটা বড় ধরনের দীর্ঘশ্বাস বারে বারে যেন মুখ দিয়ে বের হয়ে আসছে। কেন জানি চোখ বারে কাঁচ ভেদ করে বাইরের ওই ছেলেদের দিকে চলে যাচ্ছিল। হঠাৎ তাদের আর দেখতে পেল না। মন টা খারাপ হয়ে গেল। যখন দেখতে পাচ্ছে না তখন যেন আরও বেশি খারাপ লাগছে। পৃতি নিজের মাথায় নিজে একটা চড় মেরে নিজে নিজে বললো, আমি কি পাগলী হয়ে গেছি ওর জন্য আমার খারাপ লাগছে কেন। যাইহোক তাদের আর দেখতে পেলনা। দেখবে কি করে তারা সিগনালে পড়ে কয়েকটা গাড়ীর পিছে পড়ে গেছে। এক সময় পৃতির বাড়ির সামনে কারটি থামল। পৃতি নেমে ভিতরে চলে গেলে । রকি তত সময় সিগন্যাল ছেড়ে এসে চিনে রাখল পৃতির বাড়িটা। মনোরম পরিবেশ যুক্ত বাড়িটা। আসলে বনশ্রী ই ব্লকের বাড়ী কয়টা দেখতে সত্যি অনেক সুন্দর। এই অঞ্চলের মানুষ হয়ত বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়ী,তবে রুচির মাধুর্য্য একই সুত্রে মিলিত হয়েছে। এখানে তারা নিরিবিলি শান্তিতে বসবাস করে। রকি আরো অনেক সময় অপেক্ষা করলো পৃতিকে দেখার জন্য ঠিক হতাশা গলীর ভিতর থেকে। হতাশা গলী হল ই ব্লকের শেষ প্রান্তে অবস্থিত । এখানে এই অঞ্চলের পোলাপান সন্ধ্যার পর মিলিত হয়। তারা কেহ বেকার কেউ চাকরি করে,কেউ ব্যবস্যায়ী কেউ কেউ স্টুডেন্ট। সন্ধ্যাবেলা তাদের মিলন মেলা হয়। সেখানে সবার সব সুখ দুঃখের কথা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনা হয়। যে বেকার বা স্টুডেন্ট তারা তো কিছু না কিছু হতাশায় থাকে। তার সাথে যারা চাকরীজীবি বা ব্যবস্যায়ী তাদের ও তো কিছু না কিছু হতাশা আছেই, সব মিলিয়ে এর নাম করণ হয়েছে হতাশা গলী। এই হতাশা গলীতে আসলে তো হতাশা হবেই। এই হতাশা গোলির প্রিয় পাত্র হল মাসুদুল হাসান সোহাগ। হতাশ হয়ে পৃতিকে দেখতে না পেয়ে ফেরত চলে গেল রকি।
*****
মনের স্বপ্ন মনে রয়ে গেল। কোন কিছু পেতে হলে কোন কিছু দিতে হয়। ব্যাপক প্রতিক্ষায় পড়ে গেল । নিজেকে নিজে ধিক্কার দিতে লাগলো,আমি পাগলের মত এ কি করছি,কেন আমি একটা ছায়ার পিছে দৌড়াচ্ছি। সে রাতে শুয়ে ভাবছে হয়ত তাকে প্রেমের পরীক্ষায় পা দিতে হয়েছে। লাল নীল গোলাপী সবুজ এই তো দুনিয়া। এই দুনিয়ার মাঝে কত মানুষ আছে। আবার মন আছে কিন্তু অনেকের পবিত্রতা নেই। কিন্তু রকির মনটা খুবই পবিত্র। যে পবিত্রতার ভিতর থেকে হৃদয়ের গভীরতা থেকে অদেখাতেই পৃতিকে ভাল বেসে ফেলেছে। রকির মনে হয় একটা কথা জানা নেই-
‘প্রেম হল সিগারেটের মতো,যার আরম্ভ হলো অগ্নি দিয়ে আর শেষ পরিণতি ছাইয়েতে..বার্নার্ড শ।
সবার এটা জানার দরকার হয় না। জানলে ও মানুষ প্রেমে পড়বেই। এ যে সৃষ্টির দেওয়া । রকির ভালবাসার কোন খাদ নেই। একেবারে খাটি সোনা। রকি মনে মনে ভাবছে, ’’ভার্সিটিতে কেউ বোরকা পরে না ও কেন বোরকা পরে, মেয়েটা হয়ত অন্য কারো সাথে সম্পর্ক বা বিবাহিতা নয় তো! না খুব ইসলামি শাষনের মাঝে বেড়ে উঠছে? বিভিন্ন চিন্তায় তাকে চিন্তিত করে তোলে। রকি তার মনের বাঁধা বাঁধতে পারছে না। না পাওয়ার বেদনা কত বেদনাদায়ক তা বলে শেষ করা যায় না। পাওয়া তো পরের কথা তাকে ভাল করে এখনও দেখতেই পেল না। যে ভালবাসা প্রকাশ করা যায় না সে ভালবাসা খুবই মর্মাহত। যে মর্মাহতের কোন শেষ থাকে না। বিভিন্ন চিন্তায় সে ঘুমিয়ে পড়ে। নিষ্ঠুর প্রেম খুবই বেদনা দায়ক। প্রেমের জন্য মানুষ কে সারা জীবন জ্বলে মরতে হয়। যে জ্বালা জলে-ভেজে না। অপেক্ষায় থাকে তার জন্য।
হাজত খাটা সহজ কিন্তু অপেক্ষা করা কঠিন। মৃত্যুঞ্জয়
-এত সকালে কোথায় যাচ্ছিস?
-ভার্সিটিতে।
– খাবিনা?
-না।
– তোর দিন দিন এরকম অবস্থা কেন হচ্ছে আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।
-আম্মু তুমি আমাকে নিয়ে চিন্তা করো না আমি বাইরে নাস্তা করে নেব। আজ আমাদের ক্লাস সকাল সকাল শুরু হবে।
-সাবধানে যাস।
-ওকে।
আম্মুর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হুন্ডা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে রকি।
চপলা মন,কখনও কবুতরের মত কখনও তিব্র গতিতে আকাশ পথে ছুটে চলে রকেট সম তালে। কখন আবার এক কোনে বসে ঝিমাতে ভাল লাগে। মনের ভিতর নানা চিন্তা ভর করেছে পৃতির। চিন্তায় শরীর টা ঝিম ধরেছে স্বামী,বড় বোন,মা বাবা। নিজের অল্প একটু ভাললাগাকে ও বিসর্জন দিয়ে কয়েক দিনের জন্য ভার্সিটি বন্ধ করে দিল পৃতি। রকি চলে রকেটের মত। ভেসে চলে পৃতির সন্ধানে হাওয়ার বেগে। ঘুরে ঘুরে পায়না কোন দিক। মনের জ্বালা তত বেড়ে যায়। পড়া শুনায় তার মন বসে না। মন হয়ে যায় চঞ্চলা। ভালবাসা তার উপর ভর করেছ এটি বুঝতে আর বাকি থাকে না । সে যেন কিছুটা উদ্মাত। কেটে যায় বেশ কিছু দিন।
চঞ্চল হয়ে ওঠে পৃতি, ঠিকমত ক্লাস করতে না পেরে। বন্ধুদের সাথে ঠিকমত মিশতে না পেরে, মনের কথা তাদের না জানাতে পেরে। পৃতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাল থেকে ভার্সিটি করবে। ঠিক টাইমে সংবাদ দেয়া কারটি তার বাড়ীর সামনে এসে পৃতিকে নিয়ে ইস্ট ওয়েস্টের দিকে রওনা হল । ভার্সিটির সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে গেল কারটি। পৃতি ঢুকতেই তার বান্ধবীদের দেখল ঠিক ওরা যেখানে আড্ডা জমায় অর্থাৎ দোতলায় সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। পৃতি দূর থেকে তাদের টাটা জানিয়ে সন্বোধন করল। বান্ধবীদের মধ্যে মলি তাকে ফ্লাইং কিচ করল। তার প্রতি উত্তর করল পৃতি। দোতলার নিচে দিকে তাকিয়ে দেখল সেই সুদর্শন যুবক। সে পৃতি থেকে একটু দূরে ওয়ালের গা ঘেসে বসে আছে। মাথার চুলগুলো আগের খুঁজে বেড়াচ্ছে। তাকে দেখেই কিছু সময় পর মাথা নুয়ে হাঁটতে লাগল পৃতি। আর ভাবতে লাগল- ছেলেটি কি সারাক্ষন অমায় ফলো করে। পৃতি আবারো ভাবতে লাগল সে কি আর কাওকে না শুধু আমাকেই… । তার উদাসীন মুখের পানে তাকেই তাই তো মনে হল। রকির চোখ যেন চার চোখ হয়ে গেছে। এ কি সেই পরমা সুন্দরী যার জন্য সে পাগল। তার মরা নদীতে যেন জোয়ারের সঞ্চার হলো। নিরাশার মাঝে আশার সঞ্চার হল। তার গ্রহণ লাগা চাঁদের অন্ধকার যেন ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। রকি চোখ নামাতেই পারছে না। রকি উঠে দাঁড়ালো। বহু প্রতিক্ষার স্বপ্ন; তাকে বসে সম্মান জানালে হয়ত অবজ্ঞা করা হবে। গুটি গুটি পায়ে আসতে আসতে আরেকবার তার সামনে এসে বাকা চোখে তাকাল পৃতি। যে তাকানোর মাঝে যেন কোন রহস্য লুকিয়ে আছে। মায়াভরা চাহনি হুদয়ভরা গানে আখি ভরা টান। যে টানেই যে কোন যুবক করবে আনচান। এমন সময় উপর থেকে তার বান্ধবীরা বললো হায় পৃতি, কেমন আছিস। হায়! ভাল তোরা ? নামের সাথে রূপের মিল দেখে পাগল রকি। আরো পাগল হতে থাকল তার মিষ্টি সুর শুনে। সে সুর বা কথা মানুষকে রুপ লাগেনা তবু আকর্ষন করে। কোন দিক ঘাটতি নেই পৃতির। দু হাত উঁচু করে একে বারে হা করে তাকিয়ে রইলো রকি। কিছু বলতে সাহস করলো না । কারন আজকে সে একা। বান্ধবী হেনা হেসে বললো,‘‘ ওই দেখ তোর দিকে কি ভাবে সেই ছেলেটি তাকিয়ে আছে তোকে দেখে মনে হয় খেয়ে ফেলবে রে হা হা । আবার পিছে ফিরে তাকলো পৃতি। দেখলো ছেলেটি মনপুরা ছবির একেবারে শেষ দৃশ্যে চঞ্চল চৌধুরীর মত মাথার উপর হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে কেন যেন মায়া হল পৃতির । দোতলায় ওঠার পরে বন্ধুদের সাথে চলে যাওয়ার সময় আবার একটু মায়াবী চোখে তাকালো পৃতি। এতে আরো উন্মাৎ হয়ে গেল রকি।
প্রেম হলো বৈদ্যুতিক বাতি যা ফিউজ বা সুইচ অফ না করা অবধী জ্বলতে থাকে। মৃত্যুঞ্জয়
রকির বাতি জ্বলতে শুরু করেছে সেই কবে থেকে। কিন্তু তখন ছিল ৬০ পাওয়ারের, আজ সেই বাতি যেন ১০০ পাওয়ার বাতির ন্যায় ফকফকা হয়েছে। রকির যতই সাহস থাক, একা একা কিছু বললো না। সামনে যা কিছু দেখছে সব যেন পৃতি। দীর্ঘশ্বাস ফেলছে আর মাথাটা উচু করে আকাশের দিকে চেয়ে বলছে ‘‘পৃতি“। তার মনে যেন রঙের ফেনা আগের চেয়ে বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ঠিক যেন সিমাহীন সাগরের মাঝে একটা বুলবুলির দেখা।
-তুই এতদিন আসিস নি কেন?
– কারন তোরা নিশ্চয় বুঝতে পারছিস।
– কারন! কই কিছুইতো বুঝতে পারছি না।
– ব্যাপার হলো ওই ছেলেটা যেভাবে পিছে লেগেছে হয়ত কিছু একটা করবে। সে জন্য আসিনি।
বান্ধবী বন্যা বললো, ওই ছেলেটা সেই দিন থেকে এখনো আমাদের ফলো করা বন্ধ করেনি।
মলি- ও তো অন্য কাউকে ভালোবাসতে পারে।
পলি-ওর ভাব দেখে সেটাতো বোঝা যায় না।
পৃতি- কেউ না বুঝলে আমি বুঝি ও আর কাউ কে নয় আমাকেই ভালোবাসে।
বাংলা সিনেমার অপু বিশ্বাসের বান্ধবীদের মত করে পলি বললো, তাহলে তুই ওর প্রেমে রাজি হয়ে যা।
মলিÑতুই পাগল হয়ে গেলি নাকি পলি! ছেলে টি আগে প্রস্তাব পেষ করুক তার পর ভেবে দেখা যাবে। না কি বলিশ পৃতি।
পৃতি- বাদদে ওসব কথা। ছেলেটি প্রস্তাব দিলে ও কি না দিলে কি। আমার এসব একদম ভাল লাগে না। আমি এ সবের ভিতর একেবারে নাই।
পলি-ওরকম ছেলে হাতে পেয়ে ছেড়ে দিবি?
পৃতি- তুাই জানিস না পলি আমার অনেক সমস্যা আছে। যা তোরা শুনলে দুঃখ পাবি।
মলি-না বললে বুঝব কেমন করে, তোর দুঃখটা ।

শেষ বিকেলের মেঘ- মৃত্যুঞ্জয় সরদার উচ্ছ্বাস (পার্ট-২)-

8,350 total views, 3 views today

Related Posts

Share

Comments

comments

রিপোর্টার সম্পর্কে

%d bloggers like this: