সকাল ১১:৫২ | শুক্রবার | ২২শে মার্চ, ২০১৯ ইং | ৮ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জমায়াত-শিবির বিএনপির ছাঁয়ায় হাটে- যুবলীগ ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে মোহিত উর রহমান শান্ত

বিল্লাল হোসেন প্রান্ত ॥
আগামী নির্বাচনে যদি আপনারা আওয়ামী লীগকে ভোট না দেন। যদি শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা না রাখেন। যদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আবার মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি আসে। তাহলে ২০০১ সালের পুন:রাবৃত্তি হবে। কারণ এবার বিএনপির সাথে আছে একাত্তরের নরঘাতক জামায়াতিরা। আমি জামায়াত শিবিরকে চোখে দেখি না তারা বিএনপির ছাঁয়ার উপর দিয়ে হাটে। হাজারো জনতার ঢলে পরিনত জনসমুদ্রের সম্মেলনে এ কথা বলেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত।

তিনি সোমবার ২৫ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৪নং পরাণগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগ ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

৪ নং পরাণগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি হারিজ উদ্দিন এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন বাচ্চু, সম্মেলন বক্তা ছিলেন জেলা যুবলীগ আহবায়ক এড. আজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা যুবলীগ যুগ্ম আহবায়ক শাহরিয়ার মো: রাহাত খান, রফিকুল ইসলাম পিন্টু, আখেরুল ইমাম সোহাগ, ৪ নং পরাণগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মমরুজ আলী, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস আলী মাস্টার, জেলা আওয়ামী লীগ সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক, মহানগর আওয়ামী লীগ প্রস্তাবিত কমিটির সহ সভাপতি ও চেয়ারম্যান মোরশেদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর,রেজাউল জাসান বাবু, লেয়াকত আলী সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক জেলা ছাত্রলীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগ প্রস্তাবিক কমিটির শিক্ষা ও মানবসম্পাদ বিষয়ক সম্পাদক সাব্বির ইউনুস বাবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পান্না, সাবেক জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম উদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সরকার মো: সব্যসাচী, মহানগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ফয়জুর রাজ্জাক উষাণ প্রমুখ।

বক্তব্যের প্ররম্ভে মোহিত উর রহমান শান্ত বিগত সরকারের নির্যাতন জেল জুলুম অত্যাচারে চরাঞ্চলবাসীর সামনে আসতে না পারার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন ৭টি বছর অতি কষ্টে কেটেছে আমার। আমার এই ব্যার্থতার জন্য আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

তিনি বলেন, আমার বাবা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এই চরাঞ্চলের প্রতিটি ঘরের সাথে অতোপ্রতোভাবে জড়িত। কারণ এই চরাঞ্চবাসীর ভোটেই বাবা এমপি হয়েছিলেন। সে সুবাধে ছোট বেলা থেকেই চরাঞ্চল আমার বুকের গভিরের আত্মস্থল। আমি আপনাদের সামনে না আসলেও আড়ালে বাবার পাশে থেকে কাজ করেছি।

তিনি বলেন, চরের মানুষ ভোট দিলেই ময়মনসিংহ সদরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়। পৌরসভা বা নদীর উপারের ভোটে কখন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়নি।
তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের জন্য কি করেছেন সেটি আমার মত আপনারাও উপলব্ধি করতে পারেন। আমি শুধু তার একজন নগন্য কর্মী।
শান্ত বলেন, আমার বাবা আপনাদের দোয়ায় ধর্মমন্ত্রী হবার পর সাড়া দেশের তুলনায় চরাঞ্চলের মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। আর এর পেছেনে বাবার সাথে কাজ করেছি আমি।

তিনি বলেন, জননেত্রী চরাঞ্চলের মানুষের জন্য কি করেছেন তা শুধু একটু মনে করিয়ে দেই। উনি তার প্রথম শাসন আমলে শম্ভুগঞ্জ থেকে কাচারী বাজার পর্যন্ত একটি রাস্তা করে দিয়েছেন। আগে যে রাস্তা যেতে লাগতো ঘন্টার পর ঘন্টা এখন সেখানে সময় লাগে ৪০ মিনিট। এলাকায় একটি ব্রীজ করে দিয়েছেন। তিনি এখানে একটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ব্যবস্থা করেছেন। এটি চালু হওয়ার পথে আছে। শম্ভুগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট থেকে রামভদ্রপুর পর্যন্ত একটি ২৭ কিলো রাস্তা করে দিয়েছেন। এখন চরাঞ্চলের শষ্য, ফসল শহরের মেছুয়া বাজারে বিক্রি হয়।
তিনি ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নে ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের পাওয়ার প্লান্ট করেছেন যা বর্তমানে জাতীয় গ্রিটে সংযুক্ত। সেটি এখন ৩৬০ মেগাওয়াটে বৃদ্ধি করছেন।
শান্ত বলেন, চরাঞ্চলে আগামী এক বছরে বিদ্যুতের সকল সমস্যা শেষ হয়ে যাবে। খরিচা, সিরতা স্কুলের ভবণ নির্মান হয়েছে। আম্লিতলা স্কুলের ভবন নির্মানের প্রক্রিয়া চলছে। এ সকল উন্নয়ন অবশ্যই জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার আমলের উন্নয়ন আর এর সাথে আমার পিতা আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের আবেগ জড়িত।
মোহিত উর রহমান শান্ত বলেন, আমার ছোট ভাই মুশফিকুর রহমান শুভকে আপনারা আমার চাইতে বেশি চেনেন। কারণ সে আমার বাবার নির্বাচনে আপনাদের প্রতিটি ঘরে ঘরে এসেছিল। আজকে আমার সেই ছোট ভাইটি ঁেবচে নেই। আমার বাবা তার বুকের ধনকে হারিয়েও আপনাদের দিকে তাকিয়ে বেঁচে আছে। আমার সেই ভাইয়ের নামে আব্বা তার মন্ত্রনালয় থেকে আপনাদের চরাঞ্চলের বুকেই একটি হাসপাতাল করার ব্যবস্থা করেছে।

তিনি বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহন করবে আমরা এটাই আশা করি। আপনার যারা চরাঞ্চলের মানুষ , যারা নৌকা পাগল মানুষ, যারা বঙ্গবন্ধু পাগল মানুষ, যারা শেখ হাসিনা পাগল মানুষ তারা যদি ভূল করেন তাহলে আমরা নি:শেষ হয়ে যাব।
কিভাবে নি:শেষ হয়ে যাব? আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনা একজনকে প্রার্থী দিলেন, দিক সে আওয়ামী লীগ বিরুদ্ধ কোন মানুষকে দিলেন । আবারও যদি আমরা ১৯৯১ সালে যে ভূল করেছিলাম,২০০১ যে ভুল করেছিলাম সে ভুলের যদি পুনরাবৃত্তি হয়, সে ভুল যদি আমরা আবারও করি। ময়মনসিংহ সদর থেকে যদি আওয়ামী লীগের প্রার্থী বের না হয়। বিএনপির প্রার্থী যদি বের হয় তাহলে আমাদের কি লাভ।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে যদি আপনারা আওয়ামী লীগকে ভোট না দেন। যদি শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা না রাখেন তাহলে ২০০১ সালে জামাত বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর যেভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, যেভাবে ধর্ষনলীলা চালিয়েছে, যেভাবে জ্বালাও পোড়াও করে মানুষ পুড়িয়েছে, যেভাবে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে, যেভাবে লাখ লাখ মামলা দিয়ে নেতাকর্মীকে নির্যাতন করেছে। তার চেয়েও ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করবে তারা। কারণ এবার একাত্তরের নরঘাতক জামাত শিবির তাদের পাশে আছে প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে। ওরা বিএনপির ছায়ার উপর দিয়ে হাটে।
শান্ত বলেন, ওরা যদি আবার ক্ষমতায় আসে আমার যারা শহরের রাজনীতি করেছি তাদের কি হবে জানিনা, আপনারা যারা এ প্রজন্মের আওয়ামী লীগ, এ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে গ্রামে চরাঞ্চলে রাজনীতি করছেন তাদেরকে ধরে ধরে মারবে। আবার ৭১ এর স্বাধীনতা বিরোধী নিজামী, সাঈদী, মুজাহিদদের মতো কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের উত্তসুরীর গাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা উঠবে। আমরা আবার পেছনে চলে যাব।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন বিগত বিএনপির শাসনামলে খালেদা জিয়া ছিল নামে মাত্র প্রধানমন্ত্রী । খালেদা জিয়ার আড়ালে তার সন্তান তারেক জিয়া বাংলাদেশ শাসন করেছিল। তারেক জিয়া জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা করিয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে লাশ করেছে। দেশকে পৌছে দিয়েছিল বিশ্বের সামনে দুর্নীতিতে ১ নম্বর স্থানে।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তারেক রহমান দেশে আসেন না জেল খাটার ভয়ে। যে নেতা জেল খাটার ভয়ে দেশে না এসে লাখ নেতাকর্মীকে বিপন্ন করছেন সে নেতা হবার যোগ্য কিনা আপনারাই বলেন? আপনারা বিগত শাসনামলে এদের সন্ত্রাসবাদের,দুর্নীতিবাজের উত্থান দেখেছেন।
তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনার আমার ভোটে নির্বাচিত হয়ে আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবেন। যে স্বপ্ন উনি বাংলাদেশের মানুষকে দেখিয়েছেন, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশে পরিনত হবে। একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিনত হবে।
শান্ত বলেন, আসুন জননেত্রী শেখ হাসিনার সে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি ঐক্যবদ্ধভাবে এখন থেকেই সম্মিলিতভাবে কাজ শুরু করি।
তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা নৌকা মার্কা যার গলায়ই ঝুলিয়ে দিবেন আমরা তার পক্ষেই থাকবো।

এই বিভাগে অন্যরা যে খবর পড়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে শিশুদের  হেলমেট বিতরণ

» শাহজালালে সোনার বারসহ ২নারী ক্রু আটক

» এসএসসির মতো এইচএসসিতেও রাতে পরীক্ষা

» তুরাগে কলেজ ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

» উত্তরায় স্পা’ র নামে অসামাজিক কার্যকলাপ, গ্রেফতার ৮

» জেনে নিন, আপনার অজান্তেই প্রতিদিন কত প্লাস্টিক খাচ্ছেন!

» পুরো ডিম খাবেন নাকি সাদা অংশ- কোনটা বেশি স্বাস্থ্যকর?

» তুরাগে বাসের ধাক্কায় মটরসাইকেল আরোহী নিহত

» তুরাগে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

» তালায় ঘের সংক্রান্ত বিরোধে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা : আটক-৩

» রাজধানীর উত্তরায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেজে প্রতারণা-  প্রতারক মহিলা আটক

» গার্মেন্টস ব্যবসায়িকে খুনের দায়ে-নারী গ্রেফতার

» স্বপ্নমাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে আসছে এ.কে. অয়নের “এভাবে কাটবে কত কাল” গানের মিউজিক ভিডিও

» রাজধানীর তুরাগের এসডিজি মডেল প্রকল্প এলাকায় দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরন

» বঙ্গবন্ধু ছিলেন শ্রমিক প্রিয় মানুষ,আলহাজ্ব শুক্কুর মাহমুদ

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

বাসা#৪৯, রোড#০৮, তুরাগ, ঢাকা।
বার্তা কক্ষ : 01781804141
ইমেইল : timesofbengali@gmail.com

 

© এ.আর খান মিডিয়া ভিশন এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

      সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার টাইমস্ অফ বেঙ্গলী .কম

কারিগরি সহযোগিতায় এ.আর খান হোস্ট

,

জমায়াত-শিবির বিএনপির ছাঁয়ায় হাটে- যুবলীগ ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে মোহিত উর রহমান শান্ত

বিল্লাল হোসেন প্রান্ত ॥
আগামী নির্বাচনে যদি আপনারা আওয়ামী লীগকে ভোট না দেন। যদি শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা না রাখেন। যদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আবার মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি আসে। তাহলে ২০০১ সালের পুন:রাবৃত্তি হবে। কারণ এবার বিএনপির সাথে আছে একাত্তরের নরঘাতক জামায়াতিরা। আমি জামায়াত শিবিরকে চোখে দেখি না তারা বিএনপির ছাঁয়ার উপর দিয়ে হাটে। হাজারো জনতার ঢলে পরিনত জনসমুদ্রের সম্মেলনে এ কথা বলেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত।

তিনি সোমবার ২৫ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৪নং পরাণগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগ ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

৪ নং পরাণগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি হারিজ উদ্দিন এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন বাচ্চু, সম্মেলন বক্তা ছিলেন জেলা যুবলীগ আহবায়ক এড. আজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা যুবলীগ যুগ্ম আহবায়ক শাহরিয়ার মো: রাহাত খান, রফিকুল ইসলাম পিন্টু, আখেরুল ইমাম সোহাগ, ৪ নং পরাণগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মমরুজ আলী, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস আলী মাস্টার, জেলা আওয়ামী লীগ সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক, মহানগর আওয়ামী লীগ প্রস্তাবিত কমিটির সহ সভাপতি ও চেয়ারম্যান মোরশেদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর,রেজাউল জাসান বাবু, লেয়াকত আলী সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক জেলা ছাত্রলীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগ প্রস্তাবিক কমিটির শিক্ষা ও মানবসম্পাদ বিষয়ক সম্পাদক সাব্বির ইউনুস বাবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পান্না, সাবেক জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম উদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সরকার মো: সব্যসাচী, মহানগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ফয়জুর রাজ্জাক উষাণ প্রমুখ।

বক্তব্যের প্ররম্ভে মোহিত উর রহমান শান্ত বিগত সরকারের নির্যাতন জেল জুলুম অত্যাচারে চরাঞ্চলবাসীর সামনে আসতে না পারার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন ৭টি বছর অতি কষ্টে কেটেছে আমার। আমার এই ব্যার্থতার জন্য আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

তিনি বলেন, আমার বাবা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এই চরাঞ্চলের প্রতিটি ঘরের সাথে অতোপ্রতোভাবে জড়িত। কারণ এই চরাঞ্চবাসীর ভোটেই বাবা এমপি হয়েছিলেন। সে সুবাধে ছোট বেলা থেকেই চরাঞ্চল আমার বুকের গভিরের আত্মস্থল। আমি আপনাদের সামনে না আসলেও আড়ালে বাবার পাশে থেকে কাজ করেছি।

তিনি বলেন, চরের মানুষ ভোট দিলেই ময়মনসিংহ সদরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়। পৌরসভা বা নদীর উপারের ভোটে কখন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়নি।
তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের জন্য কি করেছেন সেটি আমার মত আপনারাও উপলব্ধি করতে পারেন। আমি শুধু তার একজন নগন্য কর্মী।
শান্ত বলেন, আমার বাবা আপনাদের দোয়ায় ধর্মমন্ত্রী হবার পর সাড়া দেশের তুলনায় চরাঞ্চলের মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। আর এর পেছেনে বাবার সাথে কাজ করেছি আমি।

তিনি বলেন, জননেত্রী চরাঞ্চলের মানুষের জন্য কি করেছেন তা শুধু একটু মনে করিয়ে দেই। উনি তার প্রথম শাসন আমলে শম্ভুগঞ্জ থেকে কাচারী বাজার পর্যন্ত একটি রাস্তা করে দিয়েছেন। আগে যে রাস্তা যেতে লাগতো ঘন্টার পর ঘন্টা এখন সেখানে সময় লাগে ৪০ মিনিট। এলাকায় একটি ব্রীজ করে দিয়েছেন। তিনি এখানে একটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ব্যবস্থা করেছেন। এটি চালু হওয়ার পথে আছে। শম্ভুগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট থেকে রামভদ্রপুর পর্যন্ত একটি ২৭ কিলো রাস্তা করে দিয়েছেন। এখন চরাঞ্চলের শষ্য, ফসল শহরের মেছুয়া বাজারে বিক্রি হয়।
তিনি ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নে ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের পাওয়ার প্লান্ট করেছেন যা বর্তমানে জাতীয় গ্রিটে সংযুক্ত। সেটি এখন ৩৬০ মেগাওয়াটে বৃদ্ধি করছেন।
শান্ত বলেন, চরাঞ্চলে আগামী এক বছরে বিদ্যুতের সকল সমস্যা শেষ হয়ে যাবে। খরিচা, সিরতা স্কুলের ভবণ নির্মান হয়েছে। আম্লিতলা স্কুলের ভবন নির্মানের প্রক্রিয়া চলছে। এ সকল উন্নয়ন অবশ্যই জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার আমলের উন্নয়ন আর এর সাথে আমার পিতা আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের আবেগ জড়িত।
মোহিত উর রহমান শান্ত বলেন, আমার ছোট ভাই মুশফিকুর রহমান শুভকে আপনারা আমার চাইতে বেশি চেনেন। কারণ সে আমার বাবার নির্বাচনে আপনাদের প্রতিটি ঘরে ঘরে এসেছিল। আজকে আমার সেই ছোট ভাইটি ঁেবচে নেই। আমার বাবা তার বুকের ধনকে হারিয়েও আপনাদের দিকে তাকিয়ে বেঁচে আছে। আমার সেই ভাইয়ের নামে আব্বা তার মন্ত্রনালয় থেকে আপনাদের চরাঞ্চলের বুকেই একটি হাসপাতাল করার ব্যবস্থা করেছে।

তিনি বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহন করবে আমরা এটাই আশা করি। আপনার যারা চরাঞ্চলের মানুষ , যারা নৌকা পাগল মানুষ, যারা বঙ্গবন্ধু পাগল মানুষ, যারা শেখ হাসিনা পাগল মানুষ তারা যদি ভূল করেন তাহলে আমরা নি:শেষ হয়ে যাব।
কিভাবে নি:শেষ হয়ে যাব? আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনা একজনকে প্রার্থী দিলেন, দিক সে আওয়ামী লীগ বিরুদ্ধ কোন মানুষকে দিলেন । আবারও যদি আমরা ১৯৯১ সালে যে ভূল করেছিলাম,২০০১ যে ভুল করেছিলাম সে ভুলের যদি পুনরাবৃত্তি হয়, সে ভুল যদি আমরা আবারও করি। ময়মনসিংহ সদর থেকে যদি আওয়ামী লীগের প্রার্থী বের না হয়। বিএনপির প্রার্থী যদি বের হয় তাহলে আমাদের কি লাভ।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে যদি আপনারা আওয়ামী লীগকে ভোট না দেন। যদি শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা না রাখেন তাহলে ২০০১ সালে জামাত বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর যেভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, যেভাবে ধর্ষনলীলা চালিয়েছে, যেভাবে জ্বালাও পোড়াও করে মানুষ পুড়িয়েছে, যেভাবে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে, যেভাবে লাখ লাখ মামলা দিয়ে নেতাকর্মীকে নির্যাতন করেছে। তার চেয়েও ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করবে তারা। কারণ এবার একাত্তরের নরঘাতক জামাত শিবির তাদের পাশে আছে প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে। ওরা বিএনপির ছায়ার উপর দিয়ে হাটে।
শান্ত বলেন, ওরা যদি আবার ক্ষমতায় আসে আমার যারা শহরের রাজনীতি করেছি তাদের কি হবে জানিনা, আপনারা যারা এ প্রজন্মের আওয়ামী লীগ, এ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে গ্রামে চরাঞ্চলে রাজনীতি করছেন তাদেরকে ধরে ধরে মারবে। আবার ৭১ এর স্বাধীনতা বিরোধী নিজামী, সাঈদী, মুজাহিদদের মতো কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের উত্তসুরীর গাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা উঠবে। আমরা আবার পেছনে চলে যাব।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন বিগত বিএনপির শাসনামলে খালেদা জিয়া ছিল নামে মাত্র প্রধানমন্ত্রী । খালেদা জিয়ার আড়ালে তার সন্তান তারেক জিয়া বাংলাদেশ শাসন করেছিল। তারেক জিয়া জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা করিয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে লাশ করেছে। দেশকে পৌছে দিয়েছিল বিশ্বের সামনে দুর্নীতিতে ১ নম্বর স্থানে।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তারেক রহমান দেশে আসেন না জেল খাটার ভয়ে। যে নেতা জেল খাটার ভয়ে দেশে না এসে লাখ নেতাকর্মীকে বিপন্ন করছেন সে নেতা হবার যোগ্য কিনা আপনারাই বলেন? আপনারা বিগত শাসনামলে এদের সন্ত্রাসবাদের,দুর্নীতিবাজের উত্থান দেখেছেন।
তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনার আমার ভোটে নির্বাচিত হয়ে আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবেন। যে স্বপ্ন উনি বাংলাদেশের মানুষকে দেখিয়েছেন, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশে পরিনত হবে। একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিনত হবে।
শান্ত বলেন, আসুন জননেত্রী শেখ হাসিনার সে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি ঐক্যবদ্ধভাবে এখন থেকেই সম্মিলিতভাবে কাজ শুরু করি।
তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা নৌকা মার্কা যার গলায়ই ঝুলিয়ে দিবেন আমরা তার পক্ষেই থাকবো।

এই বিভাগে অন্যরা যে খবর পড়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

বাসা#৪৯, রোড#০৮, তুরাগ, ঢাকা।
বার্তা কক্ষ : 01781804141
ইমেইল : timesofbengali@gmail.com

 

© এ.আর খান মিডিয়া ভিশন এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

      সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার টাইমস্ অফ বেঙ্গলী .কম

কারিগরি সহযোগিতায় এ.আর খান হোস্ট