সকাল ৮:৪৭ | বৃহস্পতিবার | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নগর জুড়ে ২য় দিনে ছিন্নমূল পথ মানুষের জন্য শান্ত’র কম্বল ॥ বিনিময়ে কবিতা উপহার

বিল্লাল হোসেন প্রান্ত ॥
বিদ্যাময়ী স্কুলের সামনে ঘুমিয়ে ছিলেন লোকটা। তিনি যে কবিমানুষ তা বুঝা যায়নি। যখন তার উপর কম্বল চাপিয়ে দেয়া হয় তখন রাত ১টা ৩০ মিনিট। ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘুমভাঙ্গা চোখে বিস্ময়। তীক্ষè দৃষ্টিতে তাকালেন সামনে। গভীর কুয়াশার রাত ছিল কাল। মঙ্গলবার। ছানাবড়া চোখে লোকটি বলে উঠলেন-‘স্বপ্ন পূরণ হইলো’। একটা শীতের কাপড় খুব দরকার আছিল। যা শীত পড়ছে এবার।
‘ঠিক আছে’। বললেন দেবাষীশ পান্না। ‘এখন গরমের সাথে ঘুমান’। বলে চলে আসছিলেন পান্না ও তার টিম। শীততাড়–য়ার দল। কিন্তু পিছু ডাকলেন সেই লোকটা। জানতে চাইলেন-‘আপনেরা কেড়া! কম্বল দিলাইন,কইয়া গেলাইন না।’ পান্না বললেন-শান্ত ভাই। :ও-জনতার দু:খের ফেরিওয়ালা।


সাধারণ একজন মানুষ। পথবাসী। তিনিও তাহলে জানেন মহানগর আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত সম্পর্কে। কিছুটা আশ্চার্য হয়েই লোকটার দিকে কৌতুহল বাড়ে পান্না।
লোকটা বলে- আমি কবি মানুষ। রাজু আমার নাম। তারপর। রাজু আহমেদ তার পলিথিনের ব্যাগ হাতড়ে একটা কাগজ বের করলেন। বললেন-‘কম্বলের বিনিময়ে আমার পক্ষে শান্ত ভাইকে কবিতা উপহার দিলাম। নেন। তাকে দিয়েন।আমার লেখা কবিতার বই। নাম-ঘুমরাজার গল্প কাহিনী। লেখক কবি রাজু আহমেদ।
গোলাপী, নীল, হলুদ, ফিরোজা রঙ্গের কাগজে ফটোষ্ট্যাট করা ১২ পৃষ্টার ‘কবিতার বই’। কবিতার শুরুর লাইন হলো-একরাজ্যে এক ঘুমরাজা/বসবাস করতো/সেই ঘুমরাজা দিনরাত ঘুমিয়ে কাটাতো/ঘুমরাজার ঘুমের উদ্দেশ্য ছিল…/জাগ্রত থাকা…./
ভিজে কুয়াশার অদ্ভুত আঁধারে একজন পথবাসী আজ্ঞাতনামা মানুষ কবিমানুষ হিসেবে যখন তার কল্পনাতীত প্রাপ্তির গল্পমুনায় আর উপহার দেয় কবিতা তখন সেটা হয়ে যায় শীত বাক্য।
‘প্রত্মতাত্ত্বিকের চোখ খুঁজে পেলো প্রাগৈতিহাসিক জীবাশ্মের স্মৃতিচিহ্নি। তেমনি সে তাকালো’..কবি মানুষ। কাল্পনিক বিস্ময় নয়। একটি কম্বল প্রচুর শীতের রাতে তাকে বাস্তবতায় এনে দেয়।
রাজনীতি নয়। শীতের রাতে, তীব্র শৈত্যপ্রবাহে‘অরিজিনাল অসহায় মানুষজনকে খুঁজে নিতে হবে।’ তাদের কষ্টের সাথী হতে হবে। দু:েখের রাতে হতে হবে সমব্যথী। প্রচারসর্বস্ব ক্যামেরা ট্রায়াল নয়। মানবতার জন্য মানবিকতার প্রয়োজনে পাশে দাড়ানোই লক্ষ্য। কম্বল বিতরণ টিমকে এই মূলমন্ত্র বলে দিয়েছিলেন নগরনেতা জননেতা শান্ত। সেই সূত্রে সোম ও মঙ্গলবার রাতে উদ্বাস্তÍ, ছিন্নমূল, অসহায়, হতদরিদ্র, পথমানুষের সন্দানে মাঠে নামে শান্তর অনুসারীরা। প্রায় ৫ শাতাধিক মানুষ পেলেন উষ্ণতার ছোঁয়া।


জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পান্না ও তার টিম কাজ করেছেন মহানগর জুড়ে। কখনো ঘুমন্ত মানুষের উপর টেনে দেয়া হয় কম্বল। কেউ কেউ ভোরে ঘুম ভেঙ্গে নিজেকে আবিস্কার করনে কম্বলের ভেতর। খন্ড খন্ড চিত্র। খন্ড খন্ড গল্প কাহিনীর।
তারুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় নেতা মোহিত উর রহমান শান্ত। জনতার জননেতা। রাজনীতিতে তিনি সংযোজন করেছেন- আর্ট অব পলিটিক্স। শুধু রাজপথে বা তৃণমূলে নয় তিনি প্রান্তিক বলয়ে প্রাকৃত জনের পাশে থাকেন। বিপদে আপদে, দু:খ-কষ্টে, অভাবে-অনটনে নীরবে মানুষের পাশে দাড়ানোর সহজাত প্রবণতা রয়েছে তার। মানুষের কল্যানই তো জনসেবা। সে জন্যই তো রাজনীতি। শান্তর রাজনীতি সেই মাটি ও মানুষের জন্য নি:শর্ত, নিস্বার্থ এবং উদার।
প্রচন্ড শীত আঘাত হানছে এবার ব্রহ্মপুত্র উপকণ্ঠে। ময়মনসিংহ মহানগরে ব্রহ্মপুত্র পাড়ে এবার চলছে শীতের বিভীষিকা। সোমবার শীতরাতের অক্ষরে লেখা হলো উষ্ণতার গল্প। অসম্ভব সুন্দর সেই রাতে শান্তর দেয়া কম্বল হয়ে উঠে ‘সুপারমুন’। কুয়াশামাখা ধূসর সেই রাতে যে সব নরনারী শীত বস্ত্র পেয়েছেন-তারা খুব খুশী হয়েছেন। কেননা-এটা ছিল সময়ের প্রয়োজন। না চাইতেই সেই প্রয়োজন মিটিয়েছেন নগরনেতা শান্ত।
এটা সেই সময় যখন-শীতে কষ্ট পাওয়া মানুষের পাশে কেউ নেই বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে কেউ, তখন ব্যতিক্রম শান্ত। মানবিকতার আবেদনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ উপকারভোগী মানুষগুলোর কাছে তার সময়োপযোগী অবদান বড় দৃষ্টান্ত হয়ে আসে।


মঙ্গলবার। রাতের ময়মনসিংহ। ময়মনসিংহ জংশনের অদূরে অন্ধাকারে যে এক বৃদ্ধ মহিলা থাকে। নগর দারিদ্র্যের নির্মম কশাঘাতে জর্জরিত নারীর প্রচ্ছদমুখ তিনি। নাম জানা হয়নি তার। তাকে শীতকাপা শরীরে কম্বল জড়িয়ে দেয়া হলে, তিনি বলে উঠেন‘আল্লাহ তোমাগরে ভালা রাখবো’।
সিটি স্কুলের সামনে বিদ্যাময়ী স্কুলের যাত্রী ছাউনিতে এক চিলতে জায়গায় এক পাগলী থাকে। মশার হাত থেকে সে নিজেকে বাঁচাতে পারে। কিন্তু কনকনে শীতের ঠান্ডা থেকে নিজেকে বাঁচাবে কিভাবে? মঙ্গলবারের দেয়া কম্বল তার জীবনে মঙ্গলকাব্য।
শীতেররাজ্য গদ্যময়। ষ্টেশনের প্লাটফরমের ঠিকানাহীন মানুষের ঠিকানায় সে রাতে যারা হিম উৎসবে থরথর করে কেঁপেছিল। এবং কুয়াশার চাঁদর গায়ে জড়িয়ে শুয়েছিল ভীষন হাড়কাপুনিতে যন্ত্রনার্ত-সেই শীতার্তদের জন্য কম্বল-কল্পনা করা যায়; তা অসম্ভব নয়-যখন একজন শান্ত আছেন এই মহানগরে। যিনি ছিন্নমূল নাগরিকদের কম্বল পাঠান; নিছক মানুষকে ভালোবাসার দায়বদ্ধতায়।


মালগুদাম বস্তি, কৃষ্টপুর প্রাইমারী স্কুল, পাটগোদাম ব্রীজ মোড় বাসষ্ট্রান্ড, ২ নং স্টেশন গেইট, রেলির মোড়, চরপাড়া, বালুচর বস্তি, ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের নদীতীরবর্তী গরীব ঘর, স্টেশন এলাকা, দূর্গাবাড়ি, নওমহলসহ বিভিন্ন এলাকায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ;দু:স্থ, আসুস্থ, সবার জন্য এই শীতে মোহিত উর রহমান শান্ত’র দেয়া শীতবস্ত্র। নীরব কিন্তু অসামান্য এক প্রয়অস। সেই প্রবাদ বাক্যকে সমর্থন করে মানুষ মানুষের জন্য। মান্ত মানুষের জন্য।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» অবশেষে দখল মুক্ত হলো উত্তরা আব্দুল্লাহপুরের পাউবোর জমি

» উত্তরায় জব্দবৃতক ইয়াবা বন্টনকালে ৫ পুলিশ সদস্য আটক

» উত্তরায় রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত

» জেনে নিন, ডোমেইন নেম নিয়ে কিছু প্রশ্ন এবং তার উত্তর

» জেনে নিন, ডোমেইন পার্ক নিয়ে কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর

» জেনে নিন, ডোমেইন পার্কং কি? এটা কি বিক্রয়যোগ্য? কোথায় এবং কিভাবে ডোমেইন পার্ক থেকে আয় করা যায়?

» জেনে নিন, ডোমেইন কেনার আগে যে বিষয় গুলো জানা জরুরী

» ডট .বাংলা ডোমেইন কি? কিভাবে কিনবেন…

» ই-কমার্স কি? কিভাবে ই-কমার্স ওয়েবসাইটের জন্য ডোমেইন ও হোস্টিং কিনবেন ? ভিডিওসহ

» সাব ডোমেইন কি এবং সাব ডোমেইনের সুবিধা ও অসুবিধা গুলো কি কি ?

» উত্তরায় ৫নং সেক্টর কল্যান সমিতির উদ্যেগে জাতীয় শোক দিবসের দোয়া ও আলোচনা

» বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণাঃ ৭ প্রতারক গ্রেফতার

» চুয়াডাঙ্গা জেলার শফিকুল ইসলাম ডিএমপি’র নতুন কমিশনার

» র‌্যাবের অভিযানে তুরাগ ও দক্ষিন খানে আটক ৮

» উত্তরায় ভুয়া র‌্যাব আটক

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

বাসা#৪৯, রোড#০৮, তুরাগ, ঢাকা।
বার্তা কক্ষ : 01781804141
ইমেইল : timesofbengali@gmail.com

 

© এ.আর খান মিডিয়া ভিশন এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

      সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার টাইমস্ অফ বেঙ্গলী .কম

কারিগরি সহযোগিতায় এ.আর খান হোস্ট

বৃহস্পতিবার, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:৪৭ ,

নগর জুড়ে ২য় দিনে ছিন্নমূল পথ মানুষের জন্য শান্ত’র কম্বল ॥ বিনিময়ে কবিতা উপহার

বিল্লাল হোসেন প্রান্ত ॥
বিদ্যাময়ী স্কুলের সামনে ঘুমিয়ে ছিলেন লোকটা। তিনি যে কবিমানুষ তা বুঝা যায়নি। যখন তার উপর কম্বল চাপিয়ে দেয়া হয় তখন রাত ১টা ৩০ মিনিট। ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘুমভাঙ্গা চোখে বিস্ময়। তীক্ষè দৃষ্টিতে তাকালেন সামনে। গভীর কুয়াশার রাত ছিল কাল। মঙ্গলবার। ছানাবড়া চোখে লোকটি বলে উঠলেন-‘স্বপ্ন পূরণ হইলো’। একটা শীতের কাপড় খুব দরকার আছিল। যা শীত পড়ছে এবার।
‘ঠিক আছে’। বললেন দেবাষীশ পান্না। ‘এখন গরমের সাথে ঘুমান’। বলে চলে আসছিলেন পান্না ও তার টিম। শীততাড়–য়ার দল। কিন্তু পিছু ডাকলেন সেই লোকটা। জানতে চাইলেন-‘আপনেরা কেড়া! কম্বল দিলাইন,কইয়া গেলাইন না।’ পান্না বললেন-শান্ত ভাই। :ও-জনতার দু:খের ফেরিওয়ালা।


সাধারণ একজন মানুষ। পথবাসী। তিনিও তাহলে জানেন মহানগর আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত সম্পর্কে। কিছুটা আশ্চার্য হয়েই লোকটার দিকে কৌতুহল বাড়ে পান্না।
লোকটা বলে- আমি কবি মানুষ। রাজু আমার নাম। তারপর। রাজু আহমেদ তার পলিথিনের ব্যাগ হাতড়ে একটা কাগজ বের করলেন। বললেন-‘কম্বলের বিনিময়ে আমার পক্ষে শান্ত ভাইকে কবিতা উপহার দিলাম। নেন। তাকে দিয়েন।আমার লেখা কবিতার বই। নাম-ঘুমরাজার গল্প কাহিনী। লেখক কবি রাজু আহমেদ।
গোলাপী, নীল, হলুদ, ফিরোজা রঙ্গের কাগজে ফটোষ্ট্যাট করা ১২ পৃষ্টার ‘কবিতার বই’। কবিতার শুরুর লাইন হলো-একরাজ্যে এক ঘুমরাজা/বসবাস করতো/সেই ঘুমরাজা দিনরাত ঘুমিয়ে কাটাতো/ঘুমরাজার ঘুমের উদ্দেশ্য ছিল…/জাগ্রত থাকা…./
ভিজে কুয়াশার অদ্ভুত আঁধারে একজন পথবাসী আজ্ঞাতনামা মানুষ কবিমানুষ হিসেবে যখন তার কল্পনাতীত প্রাপ্তির গল্পমুনায় আর উপহার দেয় কবিতা তখন সেটা হয়ে যায় শীত বাক্য।
‘প্রত্মতাত্ত্বিকের চোখ খুঁজে পেলো প্রাগৈতিহাসিক জীবাশ্মের স্মৃতিচিহ্নি। তেমনি সে তাকালো’..কবি মানুষ। কাল্পনিক বিস্ময় নয়। একটি কম্বল প্রচুর শীতের রাতে তাকে বাস্তবতায় এনে দেয়।
রাজনীতি নয়। শীতের রাতে, তীব্র শৈত্যপ্রবাহে‘অরিজিনাল অসহায় মানুষজনকে খুঁজে নিতে হবে।’ তাদের কষ্টের সাথী হতে হবে। দু:েখের রাতে হতে হবে সমব্যথী। প্রচারসর্বস্ব ক্যামেরা ট্রায়াল নয়। মানবতার জন্য মানবিকতার প্রয়োজনে পাশে দাড়ানোই লক্ষ্য। কম্বল বিতরণ টিমকে এই মূলমন্ত্র বলে দিয়েছিলেন নগরনেতা জননেতা শান্ত। সেই সূত্রে সোম ও মঙ্গলবার রাতে উদ্বাস্তÍ, ছিন্নমূল, অসহায়, হতদরিদ্র, পথমানুষের সন্দানে মাঠে নামে শান্তর অনুসারীরা। প্রায় ৫ শাতাধিক মানুষ পেলেন উষ্ণতার ছোঁয়া।


জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পান্না ও তার টিম কাজ করেছেন মহানগর জুড়ে। কখনো ঘুমন্ত মানুষের উপর টেনে দেয়া হয় কম্বল। কেউ কেউ ভোরে ঘুম ভেঙ্গে নিজেকে আবিস্কার করনে কম্বলের ভেতর। খন্ড খন্ড চিত্র। খন্ড খন্ড গল্প কাহিনীর।
তারুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় নেতা মোহিত উর রহমান শান্ত। জনতার জননেতা। রাজনীতিতে তিনি সংযোজন করেছেন- আর্ট অব পলিটিক্স। শুধু রাজপথে বা তৃণমূলে নয় তিনি প্রান্তিক বলয়ে প্রাকৃত জনের পাশে থাকেন। বিপদে আপদে, দু:খ-কষ্টে, অভাবে-অনটনে নীরবে মানুষের পাশে দাড়ানোর সহজাত প্রবণতা রয়েছে তার। মানুষের কল্যানই তো জনসেবা। সে জন্যই তো রাজনীতি। শান্তর রাজনীতি সেই মাটি ও মানুষের জন্য নি:শর্ত, নিস্বার্থ এবং উদার।
প্রচন্ড শীত আঘাত হানছে এবার ব্রহ্মপুত্র উপকণ্ঠে। ময়মনসিংহ মহানগরে ব্রহ্মপুত্র পাড়ে এবার চলছে শীতের বিভীষিকা। সোমবার শীতরাতের অক্ষরে লেখা হলো উষ্ণতার গল্প। অসম্ভব সুন্দর সেই রাতে শান্তর দেয়া কম্বল হয়ে উঠে ‘সুপারমুন’। কুয়াশামাখা ধূসর সেই রাতে যে সব নরনারী শীত বস্ত্র পেয়েছেন-তারা খুব খুশী হয়েছেন। কেননা-এটা ছিল সময়ের প্রয়োজন। না চাইতেই সেই প্রয়োজন মিটিয়েছেন নগরনেতা শান্ত।
এটা সেই সময় যখন-শীতে কষ্ট পাওয়া মানুষের পাশে কেউ নেই বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে কেউ, তখন ব্যতিক্রম শান্ত। মানবিকতার আবেদনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ উপকারভোগী মানুষগুলোর কাছে তার সময়োপযোগী অবদান বড় দৃষ্টান্ত হয়ে আসে।


মঙ্গলবার। রাতের ময়মনসিংহ। ময়মনসিংহ জংশনের অদূরে অন্ধাকারে যে এক বৃদ্ধ মহিলা থাকে। নগর দারিদ্র্যের নির্মম কশাঘাতে জর্জরিত নারীর প্রচ্ছদমুখ তিনি। নাম জানা হয়নি তার। তাকে শীতকাপা শরীরে কম্বল জড়িয়ে দেয়া হলে, তিনি বলে উঠেন‘আল্লাহ তোমাগরে ভালা রাখবো’।
সিটি স্কুলের সামনে বিদ্যাময়ী স্কুলের যাত্রী ছাউনিতে এক চিলতে জায়গায় এক পাগলী থাকে। মশার হাত থেকে সে নিজেকে বাঁচাতে পারে। কিন্তু কনকনে শীতের ঠান্ডা থেকে নিজেকে বাঁচাবে কিভাবে? মঙ্গলবারের দেয়া কম্বল তার জীবনে মঙ্গলকাব্য।
শীতেররাজ্য গদ্যময়। ষ্টেশনের প্লাটফরমের ঠিকানাহীন মানুষের ঠিকানায় সে রাতে যারা হিম উৎসবে থরথর করে কেঁপেছিল। এবং কুয়াশার চাঁদর গায়ে জড়িয়ে শুয়েছিল ভীষন হাড়কাপুনিতে যন্ত্রনার্ত-সেই শীতার্তদের জন্য কম্বল-কল্পনা করা যায়; তা অসম্ভব নয়-যখন একজন শান্ত আছেন এই মহানগরে। যিনি ছিন্নমূল নাগরিকদের কম্বল পাঠান; নিছক মানুষকে ভালোবাসার দায়বদ্ধতায়।


মালগুদাম বস্তি, কৃষ্টপুর প্রাইমারী স্কুল, পাটগোদাম ব্রীজ মোড় বাসষ্ট্রান্ড, ২ নং স্টেশন গেইট, রেলির মোড়, চরপাড়া, বালুচর বস্তি, ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের নদীতীরবর্তী গরীব ঘর, স্টেশন এলাকা, দূর্গাবাড়ি, নওমহলসহ বিভিন্ন এলাকায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ;দু:স্থ, আসুস্থ, সবার জন্য এই শীতে মোহিত উর রহমান শান্ত’র দেয়া শীতবস্ত্র। নীরব কিন্তু অসামান্য এক প্রয়অস। সেই প্রবাদ বাক্যকে সমর্থন করে মানুষ মানুষের জন্য। মান্ত মানুষের জন্য।

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

বাসা#৪৯, রোড#০৮, তুরাগ, ঢাকা।
বার্তা কক্ষ : 01781804141
ইমেইল : timesofbengali@gmail.com

 

© এ.আর খান মিডিয়া ভিশন এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

      সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার টাইমস্ অফ বেঙ্গলী .কম

কারিগরি সহযোগিতায় এ.আর খান হোস্ট