প্রকাশিত : Wed, Feb 21st, 2018

ওয়েবসাইট করার আগে ভাবুন

domain-name

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক: ব্যবসা চালু করার সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবসাইট খোলা জরুরী। বিভিন্ন সমস্যা থেকে বাঁচতে কী কী বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত, সাইট তৈরির সময়ই কী কী বিষয় নিশ্চিত করা উচিত, ডোমেইন ও হোস্টিং নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কী কী মাথায় রাখতে হবে, কোন কোম্পানি থেকে নিবেন —এসব নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন মো: জসীম উদ্দীন, সম্পাদক টাইমস্ অফ বেঙ্গলী।
নাম নির্বাচন:
সাধারণত প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে মিল রেখে ডোমেইন কেনা হয়। যেমন—রবির ওয়েবসাইটের ঠিকানা www.robi.com। এই নামই একটি ওয়েবসাইটের ডোমেইন নাম। ডোমেইন নামের মধ্যেও বেশ কিছু ভাগ আছে; যেমন—সাধারণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ডোমেইন নাম সাধারণত .com দিয়ে শেষ হয় (যেমন—www.microsoft.com)। সরকারি ওয়েবসাইটগুলো .gov ও লোকাল ডোমেইন নাম দিয়ে শেষ হয় (যেমন—www.ictd.gov.bd)| আবার সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট সাধারণত .org (যেমন—www.undp.org) দিয়ে শেষ হয়। তবে ইন্টারনেটে .com ডোমেইনই জনপ্রিয়। ডোমেইন কেনার সময় ব্যবহারকারীর পছন্দই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ডোমেইন নাম প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে মিলিয়ে রাখা উচিত।
অনেকেই বিদেশি কোম্পানি থেকে ডোমেইন ও হোস্টিং নেয়ার কথা ভাবেন। এ ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সাপোর্টের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। আপনি চাইলেই তাদের সাপোর্ট পাবেন না। বিদেশি কোম্পানিগুলো থেকে ডোমেইন ও হোস্টিং কিনতে হলে লাগবে মাস্টার কার্ড। তাই বাংলাদেশি কোম্পানি ‘ইউনিক বিডি’ (www.unikbd.com) থেকে আপনারা ওয়েবসাইট এর জন্য ডোমেইন ও হোস্টিং নিতে পারেন।
ডোমেইন কেনার সময় সহজবোধ্য নাম নির্বাচন করতে হবে, যাতে ভিজিটর সহজেই নাম মনে রাখতে পারে। আর কোম্পানির হলে কোম্পানির নামেই কেনা উচিত। শুধু নামটি না পেলে সঙ্গে অন্য কিছু যুক্ত করে ডোমেইন কিনতে পারেন। তাড়াহুড়া করে কিংবা জনপ্রিয় কোনো কোম্পানির নামের সঙ্গে মিল রেখে ডোমেইন কিনতে যাবেন না। যার কাছ থেকে ডোমেইন কিনবেন তার সঙ্গে দাম নিয়ে আলোচনা করে নেবেন, রিনিউ চার্জ কত নেবে সেটিও জানবেন।অনেক কোম্পানি শুরুতে লোভনীয় অফার দেয়। পরবর্তীতে রিনিউ করতে গেলে তখন অনেক বেশি চার্জ করে। আর অবশ্যই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবেন।
ওয়েব হোস্টিং:
হোস্টিং মূলত অনলাইনে তথ্য আপলোড করার সার্ভার। এ ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের মালিক যত মেগাবাইট বা গিগাবাইট ওয়েব হোস্টিং কিনবেন তিনি ততটুক তথ্যই আপলোড করতে পারবেন। অনেকটা এ রকম—একজন ব্যবসায়ী যত বড় গোডাউন ভাড়া নিচ্ছেন, ততটুকুই মাল রাখার সুযোগ পাচ্ছেন। ব্যক্তিগত আর ছোট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে ১ থেকে ৫ গিগাবাইট হোস্টিংই যথেষ্ট। যেসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে একটু বেশি ছবি আপলোড করতে হবে সেগুলোর ক্ষেত্রে হোস্টিং ৫ গিগাবাইট থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী নেওয়াটাই ভালো। অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওয়েব হোস্টিং নিচ্ছেন। মনে রাখতে হবে, প্রয়োজনের বেশি ওয়েব হোস্টিং নিলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায় না; অতিরিক্ত কিছু টাকাই শুধু নষ্ট হয় । বিক্রয়োত্তর সেবার জন্য ব্যবহারকারীকে অতিরিক্ত কোনো টাকা পরিশোধ করতে হবে কি না বা হলেও তার পরিমাণ নির্দিষ্ট করে নিতে হবে ।
ওয়েবসাইটে কোনো পরিবর্তন আনার জন্য প্রয়োজন ওয়েবসাইট কন্ট্রোল প্যানেল । আবার ডোমেইনটি অন্য প্রতিষ্ঠানের সাইটে হোস্ট করার জন্যও ডোমেইন কন্ট্রোল প্যানেলের প্রয়োজন । এ জন্য যে প্রতিষ্ঠান থেকে সেবাটি নেবেন সেখান থেকে অবশ্যই ডোমেইন ও হোস্টিংয়ের পূর্ণ কন্ট্রোল প্যানেল (ইউজার নেইম, পাসওয়ার্ড) নিজের কাছে রাখবেন । অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের ধরে রাখার জন্য কন্ট্রোল প্যানেলে প্রবেশাধিকার দেয় না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে চলা উচিত । এক্ষেত্রে ইউনিক বিডি তাদের কাস্টমারদের ওয়েবসাইটের পুর্ণ নিয়ন্ত্রন দিয়ে দেয়। তাই নিশ্চিন্তে তাদের থেকে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য ডোমেইন হোস্টিং নিতে পারেন ।
হোস্টিং কেনার সময় আপনার বাজেট, হোস্টিংয়ের পরিমাণ, ব্যান্ডউইডথ, হোস্টিংয়ের আপটাইম অর্থাৎ সাইট কতক্ষণ লাইভ থাকবে, মানিব্যাক গ্যারান্টি, সাপোর্ট, কোম্পানির অবস্থা ও গ্রাহক সন্তুষ্টি, হোস্টিংয়ের ধরন, ফিচার, সার্ভার লোডিং টাইম, সার্ভার কনফিগারেশন, ই-মেইল সুবিধা, সাব-ডোমেইন বা একাধিক ডোমেইন ব্যবহার করার সুবিধা ইত্যাদি পাওয়া যাবে কি না বিষয়গুলো ভালোভাবে জেনে নেবেন।
ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট:
যাঁরা কম বাজেটের মধ্যে ডায়নামিক ওয়েবসাইট (প্রতিনিয়ত তথ্য পরিবর্তন করতে হয় এ ধরনের সাইট) তৈরি করতে চান, তাঁরা ওয়ার্ডপ্রেস এবং জুমলাসহ ওপেনসোর্স কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা সিএমএস ব্যবহার করতে পারেন। আর ওয়েবসাইট ডিজাইনের আগে অবশ্যই ডেভেলপারকে আপনার চাহিদা ভালোভাবে বলতে হবে। তাহলে ডেভেলপারই নিজ থেকে পছন্দ করে নিতে পারবে উপযুক্ত প্ল্যাটফর্মটি।
আপনি যাতে সহজেই ওয়েবসাইটের তথ্য আপডেট করতে পারেন, তার জন্য ডেভেলপার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বলবেন, যাতে সাইটটি ডায়নামিক করে। ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে যাতে সব কনটেন্ট পরিবর্তন করতে পারেন সেটি নিশ্চিত করবেন।
এ ছাড়া বর্তমানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। সব ডিভাইস ও ব্রাউজার উপযোগী (রেসপনসিভ) হতে হবে।
এক্ষেত্রেও ‘ইউনিক বিডি’ আপনাদের সাহায্য করবে। নাম মাত্র খরচে ওয়েবসাইট ডিজাইন সার্ভিস প্রদান করে।
ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা:
শুধু ওয়েবসাইট তৈরি করলেই হবে না, এর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। অনেকেই খরচ কমের কারণে নিম্নমানের কিংবা বেনামি ওয়েব হোস্টিং ব্যবহার করেন। এসব ওয়েব হোস্টিং সেবাদাতা প্রতিটি সাইটের জন্য ভালো নিরাপত্তা দিতে পারে না। প্রায়ই এসব হোস্টিংয়ে থাকা ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের শিকার হয়। তাই যেসব হোস্টিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ভালো ও সাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাদের সেবা নেওয়া উচিত।
♦ অনেকেই ওয়েবসাইট তৈরির সময় ইউজার নেইম হিসেবে অ্যাডমিন ব্যবহার করেন। তবে সাইটের নিরাপত্তায় অ্যাডমিন ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ হ্যাকাররা সাধারণত অ্যাডমিন দিয়েই সাইট হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করে।
♦ নতুন ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্রে অনেকেই বিনা মূল্যের থিম ব্যবহার করেন। এসব থিমে অনেক ক্ষেত্রেই লুকানো কোড থাকে, যেগুলো আপনার ওয়েবসাইটের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে নিতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, ফ্রি থিমের ওয়েবসাইটগুলো রিডাইরেক্ট হয়ে অন্য ওয়েবসাইটে চলে যাচ্ছে। আবার কখনো কখনো সাইটের বিভিন্ন স্থানে উল্টাপাল্টা কোড কিংবা বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। এসব ঝক্কিঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে বিনা মূল্যের থিম ব্যবহার না করাই ভালো। আর একেবারেই থিম কিনে ব্যবহার সম্ভব না হলে ওয়ার্ডপ্রেস বা অন্য সিএমএসগুলোর নিজস্ব থিম ব্যবহার করা যেতে পারে।
♦ হ্যাকাররা যাতে ইউজার নেইম ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে পাসওয়ার্ড দিয়ে বারবার লগইন করার চেষ্টা করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করা উচিত। এ ক্ষেত্রে প্লাগইন ব্যবহার করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে কেউ কতবার ভুল পাসওয়ার্ড দিয়ে চেষ্টা করার পর আইপি ব্লকড হয়ে যাবে সেটি চালু করা যায়। ফলে কেউ একাধিকবার ভুল পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার চেষ্টা করলে সে আর ওই আইপি থেকে লগইন করতে পারবে না।
♦ অনেকেই নানা সুবিধার জন্য কোনো প্লাগইন পেলেই সাইটে ইনস্টল করেন। এটি ঠিক নয়। কোনো প্লাগইন ইনস্টল করার সময় অবশ্যই সেটি নিরাপদ কি না, অফিশিয়াল প্লাগইন কি না কিংবা ওয়ার্ডপ্রেসের প্লাগইন গ্যালারিতে আছে কি না সেটি দেখে নেওয়া উচিত। কারণ ফ্রি থিমের মতোই এসব প্লাগইনে অনেক সময় হ্যাকিং কিংবা ট্র্যাকিং কোড বসানো থাকে, যা আপনার ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বল করতে পারে।
♦ হোস্টিং সমস্যা কিংবা হ্যাকিংয়ের কারণে যেকোনো সময় ওয়েবসাইটের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেহাত হয়ে যেতে পারে। তাই ভোগান্তি কিছুটা কমাতে নিয়মিত সাইটের ব্যাকআপ রাখা উচিত। কোনো কারণে সাইটের ডাটা মুছে গেলে এই ব্যাকআপ ফাইল দিয়েই সাইটকে রিকভার করা যাবে। সবচেয়ে ভালো হয় হোস্টিং প্রভাইডারকে নিয়মিত সাইটের ব্যাকআপ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা।
গ্রাহক সার্ভিসের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে পরিপূর্ণভাবে ওয়েব সেবা দিচ্ছে ইউনিক বিডি। ওয়েবসাইটের জন্য ডোমেইন এবং হোস্টিং প্রদানকারী সেবা প্রতিষ্ঠান ইউনিক বিডি ।
প্রয়োজনে ডোমেইন কেনা, হোস্টিং সার্ভিস নেয়ার জন্যে এসএমএস সার্ভিস কেনার জন্য তাৎক্ষণিক সেবা প্রদান করছে ইউনিক বিডি ।
বর্তমানে বাংলাদেশসহ ১০ টির বেশি দেশে গ্রাহকের ডোমেইন, হোস্টিং সহ বিভিন্ন আইটি সার্ভিস প্রদান করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ প্রসঙ্গে ইউনিক বিডি’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লিটন ফরাজী বলেন, ‘প্রি-সেল এবং আফটার সেল গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করা আমাদের উদ্দেশ্য। ২৪ ঘণ্টা গ্রাহকসেবা এবং গ্রাহক যেন তার প্রয়োজনের সময়ে সাপোর্ট পায় সেজন্য ২৪ ঘণ্টা সাপোর্ট টিম কাজ করবে। যেকোনো সার্ভিস সংক্রান্ত তথ্য কল সেন্টার থেকে পাওয়া যাবে। গ্রাহককে প্রফেশনাল সার্ভিস প্রদান করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এছাড়া গ্রাহকদের জন্য সব সময়ই থাকবে, কোনো না কোনো আকর্ষণীয় অফার। একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই, ইউনিক বিডি অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু করেছে। যেখানে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে বাড়তি আয়ের সুযোগ রয়েছে।
গ্রাহকদের সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে ইউনিক বিডি’র রয়েছে নিজস্ব সাপোর্ট টিম। কল সেন্টার সহ ২৪/৭ সাপোর্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। ইউনিক বিডি’র সেবা নিতে চাইলে তাদের ওয়েবসাইট (www.unikbd.com) থেকে সরাসরি সেবা নেয়া যাবে অথবা সরাসরি কল করতে পারেন- ০১৫১৬১৮৮৯৮৯ এই নাম্বারে।

1,810 total views, 3 views today

Related Posts

Share

Comments

comments

রিপোর্টার সম্পর্কে

%d bloggers like this: