প্রকাশিত : Sun, Jun 3rd, 2018

সালাহ যেভাবে আজ বিশ্ব তারকা

নিউজ ডেস্ক: মোহাম্মাদ সালাহ বিশ্বকাপ খেলবেন কিনা, সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। যদিও সালাহ নিজে এবং মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আশাবাদী তার রাশিয়ায় যাওয়া নিয়ে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে কাঁধে পাওয়া চোটই তাকে ২৮ বছর পর দেশটির বিশ্বকাপে খেলা অনিশ্চিত করে দিয়েছে। বিশ্বকাপে খেলতে প্রথমে তাকে ফিট হতে হবে। এরপর ফর্মে থাকতে হবে। ইনজুরি কাটিয়ে বিপক্ষ দলের কড়া মার্কিং এড়িয়ে তাকে বিশ্বকাপে ভালো করার আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে।
মধ্য মিসরের নীল বদ্বীপ অঞ্চলের ন্যাগরিগ গ্রামের সন্তান মোহাম্মদ সালাহ। এখন এই গ্রামের সব ছেলেদেরই লক্ষ্য একটাই। তারা সালাহ’র মতো ফুটবল তারকা হতে চায়। এই গ্রামে ফুটবল খেলেই সালাহ এখন বিশ্বখ্যাত ফুটবল তারকা। মিসরের গন্ডী পেরিয়ে এখন পুরো আফ্রিকারই মডেল ফুটবলার তিনি। ন্যাগরিগ গ্রামও এখন এ কারনে সবার আলোচনায়।
অবশ্য অনেক কস্ট করেই আজকের এই স্থানে আসতে হয়েছে সালাহকে। দলের সাথে অনুশীলনে যেতে দিনে ১০ ঘন্টা বাসে বসেই কাটাতে হয়েছে তাকে। যাকে বলা হতো নিদারুন কস্টের ভ্রমন। জানান ন্যাগরিক গ্রামের মেয়র মাহের শাথিয়া।

১৪ বছর বয়সে সালাহ যোগ দেন রাজধানী কায়রোর এক আরব ঠিাকাদারের ক্লাবে। তখন ন্যাগরিগ গ্রাম থেকে কায়রো যেতে আসতে প্রতিদিন ১০ ঘন্টা বাসে বাসেই কাটাতে হতো সালাহকে। বাসউন শহরের গ্রাম ন্যাগরিগ। এই শহরের ইয়ুথ সেন্টারে ফুটবলে হাতে খড়ি তার। ইয়ুথ সেন্টারটি এখন সালাহ’র নামে নামকরন করা হয়েছে। মেয়র শাথিয়ার দেয়া তথ্য,ন্যাগরিগ থেকে বাসউন। এরপর তানতা সিটি। যা আল ঘারবিয়া প্রদেশের রাজধানী।
ওখান থেকে আরেক বাসে চড়ে কায়রোর উপকন্ঠে পৌঁছা। শেষে আরেক বাসে করে নসর সিটিতে যেতে হতো সালাহকে। যার একটু দূরেই আরব ঠিকাদারের ক্লাব। ন্যাগরিগ ক্লাবের জুনিয়র দলের কোচ ঘামরি আবদেল হামেদ এল সাদনি জানান , ছোট বেলা থেকেই প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছিলেন সালাহ। বর্তমান অবস্থায় তিনি পৌঁছতে পেরেছেন শুধু প্রতিভার জোরে নয়। চেষ্টা এবং একাগ্রতাও এর নেপথ্য।
সালাহ প্রথমে খেলতেন বাসউন শহর দলে। এরপর যোগ দেন তানতা সিটি টিমে। পরে যান আবর ঠিকাদারের ক্লাবে। অনূর্ধ্ব-১৫ বছর বয়সে এই ক্লাবে যোগ দিয়ে ছিলেন পাঁচ বছর। এরপর দেশের সীমা ছাড়িয়ে পাড়ি জমান সুইজারর‌্যান্ডের ক্লাব এফসি বাসেলে। বাসেল ছেড়ে চেলসিতে গেলেও ব্যর্থ হয়ে ফের বাসেলে আসা। অবশ্য পরে ইতালির ক্লাব রোমাতে যোগ দেয়ার পর লিভারপুল অফিসিয়ালদের চোখে পড়েন সালাহ। তখন ৬০.৮ মিলিয়ন ডলারে রোমা ছেড়ে লিভারপুলে যোগ দেন এই মিশরীয় স্ট্রাইকার। এবার লিভারপুলের হয়ে ৩৮ ম্যাচে ৩২ গোল করে তিনি জয় গোল্ডেন বুট।
ক্রীড়া পরিবারেই জন্ম সালাহ’র। তার বাবা এবং দুই চাচা ন্যাগরিগ যুব দলে খেলেছেন। তার বাবা মা দুই জনই সরকারী চাকুরী করতেন। বাবা একই সাথে বেলী ফুলের ব্যবসায়ীও । তাদের অঞ্চল সুগন্ধী তৈরীর উপাদান বেলী ফুল উৎপাদন ও রপ্তানীর জন্য বিখ্যাত। অবশ্য তার বাবা এবং গ্রাম বাসীদের কেউই মিডিয়ার সাথে কথা বলেননি সালাহ প্রসঙ্গে।
২০ বছর বয়সে বিয়ে করা সালাহ এখন এক কন্যা সন্তানের জনক। মেয়ের নাম রেখেছেন মক্কা। সৌদি আরবের মুসলমানদের পবিত্র শহরের নামে। ছুটি পেলেই তিনি চলে আসেন নিজ গ্রামে। জানান মেয়র। সালাহ’র অনুদানে বাসউন শহরের সেন্ট্রাল হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট স্থাপিত হয়েছে।

3,571 total views, 9 views today

Related Posts

Share

Comments

comments

রিপোর্টার সম্পর্কে

%d bloggers like this: