রাত ১:৫৬ | শনিবার | ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং | ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিয়ে করে একজন গরীবের মেয়েকে বউ করে এনেছিলাম, তারপর…

আমি একজন রিক্সা চালক। বিয়ে করেছিলাম আজ থেকে এক বছর আগে। আমার মতই এক গরীবের মেয়েকে বউ করে এনেছিলাম আমি! অভাবের সংসারটা খুব সুন্দর করে সাজিয়ে নিয়েছিলো ও

বুঝতে পারি বউ আমায় খুব ভালবাসে। আমি যখন রিকশা নিয়ে বাড়ি ফিরি, ও আমার জন্য গোসলের পানি তুলে দেয়। মাঝেমাঝে আমিও অবশ্য তুলে দেই। বাড়িতে কারেন্ট নাই, খেতে বসলে ও পাখা দিয়ে বাতাস করে। গরমের রাতে দুজনে অদল বদল করে পাখা দিয়ে বাতাস করি, ভবিষ্যৎটাকে সাজানোর গল্প করি দুজনে। গল্প করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে যেতাম বুঝতে পারতামনা।

রিক্সায় বড় বড় সাহেবরা তাদের বউকে নিয়ে উঠত। দুজনে মিলে অনেক গল্প করত। সাহেবদের কাছে শুনতাম তারা যেদিন বিয়ে করেছে সেদিন আসলে তারা নাকি অনুষ্ঠান, পার্টি না কি জানি করে। এই সব আমার জানা নেই যখন শুনতাম আমারো ইচ্ছে করত বউকে একটা শাড়ী কিনে দিতে। বউকে যে খুব ভালবাসি আমি। কিন্তু পারিনা। অভাবের সংসার, দিন আনি দিন খাই। তাই একটা মাটির ব্যাংক কিনেছিলাম। ওটাতে রোজ দু’চার টাকা করে ফেলতাম।

দেখতে দেখতে অভাবের সংসারে আজ একটা বছর হয়ে গেল। আজ সকালে রিক্সা নিয়ে বের হবার আগে বউ যখন রান্না ঘরে গেল তখন বউকে না জানিয়ে লুকিয়ে রাখা মাটির ব্যাংকটা বের করে ভেঙ্গে দেখলাম সেখানে প্রায় ৪৮০ টাকা হয়েছে।বাসা থেকে বের হবার আগে বউকে বলেছিলাম, আজ বাড়িতে ফিরতে দেরী হবে! বউ মাথা নাড়ে, বলে ভালো কইরা থাকবেন। চলে গেলাম রিকশা নিয়ে সারাদিন রিক্সা চালিয়ে সন্ধ্যা সাতটায় মার্কেটে গিয়েছিলাম বউয়ের জন্যে একটা শাড়ী কেনার জন্য। আজ রাতে বউকে দিব।

ঘুরে ঘুরে অনেক শাড়ীই দেখছিলাম, পছন্দ হয় কিন্তু দামের জন্য বলতে পারিনা। অবশেষে দোকানীকে বললাম, –ভাই এই কাপড়টার দাম কত? –১৫০০ টাকা। আমার কাছে তো আ ছে মাত্র ৪৮০ টাকা। তাই ফিরে আসলাম।

মার্কেট থেকে বের হয়ে বাহিরে বসে থাকা দোকানদারদের থেকে ৪৮০ টাকায় একটা শাড়ী কিনে নিয়ে বাড়িতে চলে আসি। মাঝে মধ্যে ভাবি, এই দোকানগুলো যদি না থাকত, তাহলে কত কষ্ট হত আমাদের মত গরিবদের! ফুরফুরে মেজাজে বাড়িতে ঢুকলাম। অনেকদিন পর বউকে কিছু একটা দিতে পারব, ভাবতেই বুকটা খুশিতে ভরে উঠছে বারবার। রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পরার ভান করে শুয়ে আছি। বারটা বাজার অপেক্ষায় চোখ বন্ধ করে আছি।

কল্পনার জগতে ভাসছিলাম, বউকে দেবার পর বউ কি বলবে, কতটা খুশি হবে? রাত বারটা বেজে গেল…। বউকে ডেকে তুললাম। ডেকে তুলে বউয়ের হাতে শাড়ীটা তুলে দিয়ে বললাম, বউ অভাবের তাড়নায় তোমায় কিছু দিতে পারিনা, তাই আজ তোমার শাড়িটা এনেছি। তোমার কি পছন্দ হয়েছে?? বউ চোখের জল ফেলে, আমায় জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো আমার কিছুই চাই না, আমি শুধু আপনার ভালোবাসা চাই। সত্যি এটাই হলো প্রকৃত ভালোবাসা…..

ফেসবুক থেকে সংগৃহী

এই বিভাগে অন্যরা যে খবর পড়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook30Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল বারিক মেম্বারকে রেডিও মার্কায় ভোট দিন

» যে কারণে ভুলেও খাবেন না এই পাউরুটি!

» দেখুন মানুষ রুপী অমানুষের কাজ, গাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা

» বিশ্ব ইজতেমায় যাতায়াতের বিশেষ ট্রেন চলছে

» আমবয়ানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমা শুরু

» উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে টিফিন ক্যারিয়ার মার্কায় ভোট দিন

» মাটিতে বসে খাবার খাওয়ার বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা!

» বিশ্বরেকর্ড ইসলাম ধর্ম গ্রহণে!

» সেনাবাহিনীর গাড়ি খালে, ৩ সেনা নিহত

» বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময়সূচি

» আযান নিয়ে কটুক্তি করায় সোনু নিগমের এ কি হাল!

» একই ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিলে কমবে মৃত্যুর ঝুকি

» ৬টি ভুল আর আপনার প্রেমিকা হয়ে যাবে অন্যের

» ইমো অ্যাকাউন্ট খুলুন মোবাইল নম্বর ছাড়াই!

» ইসলামবিরোধী বই লিখতে গিয়ে মুসলিম হলেন ডাচ এমপি জোরাম ভ্যান ক্লাভেরেন

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

বাসা#৪৯, রোড#০৮, তুরাগ, ঢাকা।
বার্তা কক্ষ : 01781804141
ইমেইল : timesofbengali@gmail.com

 

© এ.আর খান মিডিয়া ভিশন এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

      সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার টাইমস্ অফ বেঙ্গলী .কম

কারিগরি সহযোগিতায় এ.আর খান হোস্ট

,

বিয়ে করে একজন গরীবের মেয়েকে বউ করে এনেছিলাম, তারপর…

আমি একজন রিক্সা চালক। বিয়ে করেছিলাম আজ থেকে এক বছর আগে। আমার মতই এক গরীবের মেয়েকে বউ করে এনেছিলাম আমি! অভাবের সংসারটা খুব সুন্দর করে সাজিয়ে নিয়েছিলো ও

বুঝতে পারি বউ আমায় খুব ভালবাসে। আমি যখন রিকশা নিয়ে বাড়ি ফিরি, ও আমার জন্য গোসলের পানি তুলে দেয়। মাঝেমাঝে আমিও অবশ্য তুলে দেই। বাড়িতে কারেন্ট নাই, খেতে বসলে ও পাখা দিয়ে বাতাস করে। গরমের রাতে দুজনে অদল বদল করে পাখা দিয়ে বাতাস করি, ভবিষ্যৎটাকে সাজানোর গল্প করি দুজনে। গল্প করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে যেতাম বুঝতে পারতামনা।

রিক্সায় বড় বড় সাহেবরা তাদের বউকে নিয়ে উঠত। দুজনে মিলে অনেক গল্প করত। সাহেবদের কাছে শুনতাম তারা যেদিন বিয়ে করেছে সেদিন আসলে তারা নাকি অনুষ্ঠান, পার্টি না কি জানি করে। এই সব আমার জানা নেই যখন শুনতাম আমারো ইচ্ছে করত বউকে একটা শাড়ী কিনে দিতে। বউকে যে খুব ভালবাসি আমি। কিন্তু পারিনা। অভাবের সংসার, দিন আনি দিন খাই। তাই একটা মাটির ব্যাংক কিনেছিলাম। ওটাতে রোজ দু’চার টাকা করে ফেলতাম।

দেখতে দেখতে অভাবের সংসারে আজ একটা বছর হয়ে গেল। আজ সকালে রিক্সা নিয়ে বের হবার আগে বউ যখন রান্না ঘরে গেল তখন বউকে না জানিয়ে লুকিয়ে রাখা মাটির ব্যাংকটা বের করে ভেঙ্গে দেখলাম সেখানে প্রায় ৪৮০ টাকা হয়েছে।বাসা থেকে বের হবার আগে বউকে বলেছিলাম, আজ বাড়িতে ফিরতে দেরী হবে! বউ মাথা নাড়ে, বলে ভালো কইরা থাকবেন। চলে গেলাম রিকশা নিয়ে সারাদিন রিক্সা চালিয়ে সন্ধ্যা সাতটায় মার্কেটে গিয়েছিলাম বউয়ের জন্যে একটা শাড়ী কেনার জন্য। আজ রাতে বউকে দিব।

ঘুরে ঘুরে অনেক শাড়ীই দেখছিলাম, পছন্দ হয় কিন্তু দামের জন্য বলতে পারিনা। অবশেষে দোকানীকে বললাম, –ভাই এই কাপড়টার দাম কত? –১৫০০ টাকা। আমার কাছে তো আ ছে মাত্র ৪৮০ টাকা। তাই ফিরে আসলাম।

মার্কেট থেকে বের হয়ে বাহিরে বসে থাকা দোকানদারদের থেকে ৪৮০ টাকায় একটা শাড়ী কিনে নিয়ে বাড়িতে চলে আসি। মাঝে মধ্যে ভাবি, এই দোকানগুলো যদি না থাকত, তাহলে কত কষ্ট হত আমাদের মত গরিবদের! ফুরফুরে মেজাজে বাড়িতে ঢুকলাম। অনেকদিন পর বউকে কিছু একটা দিতে পারব, ভাবতেই বুকটা খুশিতে ভরে উঠছে বারবার। রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পরার ভান করে শুয়ে আছি। বারটা বাজার অপেক্ষায় চোখ বন্ধ করে আছি।

কল্পনার জগতে ভাসছিলাম, বউকে দেবার পর বউ কি বলবে, কতটা খুশি হবে? রাত বারটা বেজে গেল…। বউকে ডেকে তুললাম। ডেকে তুলে বউয়ের হাতে শাড়ীটা তুলে দিয়ে বললাম, বউ অভাবের তাড়নায় তোমায় কিছু দিতে পারিনা, তাই আজ তোমার শাড়িটা এনেছি। তোমার কি পছন্দ হয়েছে?? বউ চোখের জল ফেলে, আমায় জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো আমার কিছুই চাই না, আমি শুধু আপনার ভালোবাসা চাই। সত্যি এটাই হলো প্রকৃত ভালোবাসা…..

ফেসবুক থেকে সংগৃহী

এই বিভাগে অন্যরা যে খবর পড়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook30Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

বাসা#৪৯, রোড#০৮, তুরাগ, ঢাকা।
বার্তা কক্ষ : 01781804141
ইমেইল : timesofbengali@gmail.com

 

© এ.আর খান মিডিয়া ভিশন এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

      সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার টাইমস্ অফ বেঙ্গলী .কম

কারিগরি সহযোগিতায় এ.আর খান হোস্ট