রাত ১:২৪ | শনিবার | ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং | ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

প্রেমপত্রের একাল এবং সেকাল

আমাদের কৈশোরে ভাইবোন আর আশেপাশের লোকজনকে দেখতাম লুকিয়ে ভালোবাসার মানুষটিকে চিঠি লিখতো। সেই চিঠি লেখা বা পাঠানোর সময়ে কেউ যেন না দেখে তার জন্য কতো কসরতই না করতে দেখতাম তাদের। দূরের ভালোলাগার মানুষটিকে চিঠি লিখে জবাবের জন্য অপেক্ষা করতে হতো দিনের পর দিন। সেই খামে মোড়ানো অতিকাঙ্ক্ষিত চিঠির মধ্যেই লুকিয়ে ছিল ভালোবাসার সবটুকু। এখনকার প্রজন্ম চিঠির সেই স্বাদটা কি জানে?

নিজের হৃদয়ের কথা আর অভিব্যক্তি প্রকাশ করার একমাত্র মাধ্যম মানেই ছিল চিঠি। চিঠি যেন ছিল স্বর্গীয় এক দূতের মতো। কিন্তু সেই খাম আর কাগজে গোটা গোটা হাতের লেখা চিঠির কথা আমরা যেন ভুলতেই বসেছি। চিঠি লেখার সময়ই তো আজকাল তাদের নেই। কালের আবর্তে আর সময়ের স্রোতে চিঠির ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের জীবন থেকে। সেই খেয়াল তো আমাদের নেই। প্রযুক্তি যেভাবে আমাদের দাসত্বে বন্দি করে রেখেছে, সেটা ছিন্ন করে আমরা আর বের হই বা কী করে।

বিজ্ঞান আমাদের দিয়েছে নিত্য নতুন সব প্রযুক্তি। সেগুলো আশীর্বাদস্বরূপ অনেক কিছুই এনে দিয়েছে। আবার অনেক কিছু কেড়েও নিয়েছে। যেখানে মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই মেসেজ আর ফোন করা যায় সেখানে চিঠি লিখবে কেন প্রেমিক প্রেমিকারা? গত ১৫-২০ বছর আগেও তো প্রেমের মাত্রা এমন ছিল না।

আজ আমাদের আর যোগাযোগের সুবিধা বা বন্ধু খোঁজার জন্য কত প্রযুক্তিই তো রয়েছে। প্রেমিক প্রেমিকারা এখন আবেগ বিবর্জিত এক মানব মানবীতে পরিণত হচ্ছে। এটি আমরা বুঝতেও পারছি না। এখন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, মেসেঞ্জারের যুগে এখন কি আর চিঠি লিখতে হয়? সঙ্গীকে একগাদা সময় নিয়ে চিঠি লিখবেন, সেটা কতক্ষণে পৌঁছাবে, সঙ্গী আবার সময় নিয়ে সেটা পড়বে- এত আনুষ্ঠানিকতা আর আমাদের মাঝে নেই। অথচ এমন একটি সময় ছিল যখন সঙ্গীকে চিঠি লিখে তার উত্তর পাওয়ার জন্য তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতে হয়েছে।

চিঠিতে সারাদিনের কথা, মনের কথা, কষ্টের কথা, আনন্দের কথা সব লিখে ফেলা হতো। খামের মাঝে চিঠির সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হতো গোলাপের পাপড়ি। আগে বন্ধুও খুঁজে নেওয়া হতো চিঠি দিয়েই। পত্রমিতালীর ধারাটি তখন যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিল।

এখন একটু অন্যভাবে চেষ্টাও তো করলে চলে

এখন আর হয়ত আগের মতো মন ভরে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা চিঠি না লিখলেও চলবে। শুধু চিঠির ঐতিহ্য আর আবেগটাকে কিছুটা হলেও অনুভব করার জন্য চিঠির বিষয়টি একটু চর্চা করে দেখতেই পারেন। আগের দিনে তো ভালোবাসার মানুষটির চিঠি দেরিতে পেলে অভিমান হতো। এখন হয়তো ফোন বা মেসেজের উত্তর দেরিতে পেলে অভিমান হয়। সঙ্গীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন, ছোট্ট সুন্দর কাগজে ভালোবাসার কিছু কথা লিখে দিন। দেখবেন তার মুখে আলাদা হাসি ফুটে উঠবে। অভিমানও চলে যাবে।

আগের দিনে প্রিয়জনকে কোনো উপহার পাঠাতে হলে ডাকযোগেই পাঠাতে হতো। সঙ্গে একটা ছোট চিঠিও থাকতো। এখনও না হয় তেমন কিছু করুন। তাকে বিশেষ দিনে বা এমনিতে কোনো উপহার দিলে তার মধ্যে ছোট একটা চিঠি দিয়ে দিন। সেখানে নিজের সমস্ত আবেগের কথাও লিখে ফেলুন।

সেকালের চিঠিগুলোতে আবেগ পুরোপুরি ঢেলে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন গান, কবিতার লাইন তুলে দেওয়া হতো। এতে কখনোবা প্রিয়জনের চোখের কোণে আনন্দের অশ্রুও জমতো। এখনও তেমন করতেই পারেন তো। এই ধরুন দুটো মনের কথা লিখলেন। সেই সঙ্গে প্রিয়জনের পছন্দের কোনো গান বা কবিতার লাইন লিখে দিলেন। এই ভালোবাসা কি আপনি মেসেজ আর চ্যাটিংয়ের মধ্যে পাবেন? মনে হয় না।

চিঠি না হলেও ছোট চিরকুট দিন। ছোট্ট একটা কাগজে ভুল হলে সরি লিখে দিন, খুশি হলে ধন্যবাদ লিখে দিন। তার সঙ্গে কোনো কারণে দেখা হলো না, সেদিনের একটা চিরকুট রেখে দিন তার জন্য।

মহাদেব সাহা’র সেই ‘চিঠি দিও’ কবিতাটির কয়টা লাইন ধরে বলতে মন চাইলো-

করুণা করে হলে চিঠি দিও, খামে ভরে তুলে দিও

আঙুলের মিহিন সেলাই

ভুল বানানেও লিখো প্রিয়, বেশি হলে কেটে ফেলো তাও,

এটুকু সামান্য দাবি চিঠি দিও, তোমার শাড়ির মতো

অক্ষরের পাড়-বোনা একখানি চিঠি।-বাংলা ইনসাইডার

এই বিভাগে অন্যরা যে খবর পড়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook15Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল বারিক মেম্বারকে রেডিও মার্কায় ভোট দিন

» যে কারণে ভুলেও খাবেন না এই পাউরুটি!

» দেখুন মানুষ রুপী অমানুষের কাজ, গাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা

» বিশ্ব ইজতেমায় যাতায়াতের বিশেষ ট্রেন চলছে

» আমবয়ানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমা শুরু

» উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে টিফিন ক্যারিয়ার মার্কায় ভোট দিন

» মাটিতে বসে খাবার খাওয়ার বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা!

» বিশ্বরেকর্ড ইসলাম ধর্ম গ্রহণে!

» সেনাবাহিনীর গাড়ি খালে, ৩ সেনা নিহত

» বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময়সূচি

» আযান নিয়ে কটুক্তি করায় সোনু নিগমের এ কি হাল!

» একই ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিলে কমবে মৃত্যুর ঝুকি

» ৬টি ভুল আর আপনার প্রেমিকা হয়ে যাবে অন্যের

» ইমো অ্যাকাউন্ট খুলুন মোবাইল নম্বর ছাড়াই!

» ইসলামবিরোধী বই লিখতে গিয়ে মুসলিম হলেন ডাচ এমপি জোরাম ভ্যান ক্লাভেরেন

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

বাসা#৪৯, রোড#০৮, তুরাগ, ঢাকা।
বার্তা কক্ষ : 01781804141
ইমেইল : timesofbengali@gmail.com

 

© এ.আর খান মিডিয়া ভিশন এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

      সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার টাইমস্ অফ বেঙ্গলী .কম

কারিগরি সহযোগিতায় এ.আর খান হোস্ট

,

প্রেমপত্রের একাল এবং সেকাল

আমাদের কৈশোরে ভাইবোন আর আশেপাশের লোকজনকে দেখতাম লুকিয়ে ভালোবাসার মানুষটিকে চিঠি লিখতো। সেই চিঠি লেখা বা পাঠানোর সময়ে কেউ যেন না দেখে তার জন্য কতো কসরতই না করতে দেখতাম তাদের। দূরের ভালোলাগার মানুষটিকে চিঠি লিখে জবাবের জন্য অপেক্ষা করতে হতো দিনের পর দিন। সেই খামে মোড়ানো অতিকাঙ্ক্ষিত চিঠির মধ্যেই লুকিয়ে ছিল ভালোবাসার সবটুকু। এখনকার প্রজন্ম চিঠির সেই স্বাদটা কি জানে?

নিজের হৃদয়ের কথা আর অভিব্যক্তি প্রকাশ করার একমাত্র মাধ্যম মানেই ছিল চিঠি। চিঠি যেন ছিল স্বর্গীয় এক দূতের মতো। কিন্তু সেই খাম আর কাগজে গোটা গোটা হাতের লেখা চিঠির কথা আমরা যেন ভুলতেই বসেছি। চিঠি লেখার সময়ই তো আজকাল তাদের নেই। কালের আবর্তে আর সময়ের স্রোতে চিঠির ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের জীবন থেকে। সেই খেয়াল তো আমাদের নেই। প্রযুক্তি যেভাবে আমাদের দাসত্বে বন্দি করে রেখেছে, সেটা ছিন্ন করে আমরা আর বের হই বা কী করে।

বিজ্ঞান আমাদের দিয়েছে নিত্য নতুন সব প্রযুক্তি। সেগুলো আশীর্বাদস্বরূপ অনেক কিছুই এনে দিয়েছে। আবার অনেক কিছু কেড়েও নিয়েছে। যেখানে মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই মেসেজ আর ফোন করা যায় সেখানে চিঠি লিখবে কেন প্রেমিক প্রেমিকারা? গত ১৫-২০ বছর আগেও তো প্রেমের মাত্রা এমন ছিল না।

আজ আমাদের আর যোগাযোগের সুবিধা বা বন্ধু খোঁজার জন্য কত প্রযুক্তিই তো রয়েছে। প্রেমিক প্রেমিকারা এখন আবেগ বিবর্জিত এক মানব মানবীতে পরিণত হচ্ছে। এটি আমরা বুঝতেও পারছি না। এখন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, মেসেঞ্জারের যুগে এখন কি আর চিঠি লিখতে হয়? সঙ্গীকে একগাদা সময় নিয়ে চিঠি লিখবেন, সেটা কতক্ষণে পৌঁছাবে, সঙ্গী আবার সময় নিয়ে সেটা পড়বে- এত আনুষ্ঠানিকতা আর আমাদের মাঝে নেই। অথচ এমন একটি সময় ছিল যখন সঙ্গীকে চিঠি লিখে তার উত্তর পাওয়ার জন্য তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতে হয়েছে।

চিঠিতে সারাদিনের কথা, মনের কথা, কষ্টের কথা, আনন্দের কথা সব লিখে ফেলা হতো। খামের মাঝে চিঠির সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হতো গোলাপের পাপড়ি। আগে বন্ধুও খুঁজে নেওয়া হতো চিঠি দিয়েই। পত্রমিতালীর ধারাটি তখন যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিল।

এখন একটু অন্যভাবে চেষ্টাও তো করলে চলে

এখন আর হয়ত আগের মতো মন ভরে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা চিঠি না লিখলেও চলবে। শুধু চিঠির ঐতিহ্য আর আবেগটাকে কিছুটা হলেও অনুভব করার জন্য চিঠির বিষয়টি একটু চর্চা করে দেখতেই পারেন। আগের দিনে তো ভালোবাসার মানুষটির চিঠি দেরিতে পেলে অভিমান হতো। এখন হয়তো ফোন বা মেসেজের উত্তর দেরিতে পেলে অভিমান হয়। সঙ্গীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন, ছোট্ট সুন্দর কাগজে ভালোবাসার কিছু কথা লিখে দিন। দেখবেন তার মুখে আলাদা হাসি ফুটে উঠবে। অভিমানও চলে যাবে।

আগের দিনে প্রিয়জনকে কোনো উপহার পাঠাতে হলে ডাকযোগেই পাঠাতে হতো। সঙ্গে একটা ছোট চিঠিও থাকতো। এখনও না হয় তেমন কিছু করুন। তাকে বিশেষ দিনে বা এমনিতে কোনো উপহার দিলে তার মধ্যে ছোট একটা চিঠি দিয়ে দিন। সেখানে নিজের সমস্ত আবেগের কথাও লিখে ফেলুন।

সেকালের চিঠিগুলোতে আবেগ পুরোপুরি ঢেলে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন গান, কবিতার লাইন তুলে দেওয়া হতো। এতে কখনোবা প্রিয়জনের চোখের কোণে আনন্দের অশ্রুও জমতো। এখনও তেমন করতেই পারেন তো। এই ধরুন দুটো মনের কথা লিখলেন। সেই সঙ্গে প্রিয়জনের পছন্দের কোনো গান বা কবিতার লাইন লিখে দিলেন। এই ভালোবাসা কি আপনি মেসেজ আর চ্যাটিংয়ের মধ্যে পাবেন? মনে হয় না।

চিঠি না হলেও ছোট চিরকুট দিন। ছোট্ট একটা কাগজে ভুল হলে সরি লিখে দিন, খুশি হলে ধন্যবাদ লিখে দিন। তার সঙ্গে কোনো কারণে দেখা হলো না, সেদিনের একটা চিরকুট রেখে দিন তার জন্য।

মহাদেব সাহা’র সেই ‘চিঠি দিও’ কবিতাটির কয়টা লাইন ধরে বলতে মন চাইলো-

করুণা করে হলে চিঠি দিও, খামে ভরে তুলে দিও

আঙুলের মিহিন সেলাই

ভুল বানানেও লিখো প্রিয়, বেশি হলে কেটে ফেলো তাও,

এটুকু সামান্য দাবি চিঠি দিও, তোমার শাড়ির মতো

অক্ষরের পাড়-বোনা একখানি চিঠি।-বাংলা ইনসাইডার

এই বিভাগে অন্যরা যে খবর পড়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook15Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

বাসা#৪৯, রোড#০৮, তুরাগ, ঢাকা।
বার্তা কক্ষ : 01781804141
ইমেইল : timesofbengali@gmail.com

 

© এ.আর খান মিডিয়া ভিশন এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

      সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার টাইমস্ অফ বেঙ্গলী .কম

কারিগরি সহযোগিতায় এ.আর খান হোস্ট