রাত ১০:১৮ | মঙ্গলবার | ১৮ই জুন, ২০১৯ ইং | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এসব কারণে স্ট্রোক হতে পারে!

মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালী ফেটে গেলে অথবা বন্ধ হয়ে গেলে মস্তিষ্ক অক্সিজেনের অভাবে যে পরিণতিতে ভুগে তাকে স্ট্রোক হিসেবে অভিহিত করা হয়। স্ট্রোকে মস্তিষ্কে ড্যামেজ হতে পারে অথবা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

স্ট্রোকের ক্লাসিক লক্ষণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- গাল বেঁকে যাওয়া, বাহুতে দুর্বলতা বা অসাড়তা ও কথা বলতে সমস্যা। কিন্তু অন্যান্য লক্ষণগুলো সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। ধূমপান, স্থূলতা ও স্ট্রোকের পারিবারিক ইতিহাসের মতো বড় বিষয়গুলো কোনো ব্যক্তির স্ট্রোকের ঝুঁকি উচ্চ করে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় স্ট্রোকে ভোগার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে এমন কিছু বিস্ময়কর বিষয়ও পাওয়া গেছে। এ প্রতিবেদনে স্ট্রোকের ৮ বিস্ময়কর রিস্ক ফ্যাক্টর (ঝুঁকির বিষয়) সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

* ডায়েট ড্রিংকস
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ৮০,০০০ নারীর ওপর চালানো গবেষণায় কৃত্রিম মিষ্টি পানীয় ও স্ট্রোকের বর্ধিত ঝুঁকির মধ্যে সংযোগ আবিষ্কৃত হয়েছে। গবেষকরা বলেছেন যে তারা এ গবেষণা শুধুমাত্র সেসব প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ওপর চালিয়েছেন যাদের ঋতুবন্ধ হয়েছে এবং তারা সুনির্দিষ্টভাবে ডায়েট সোডাকে দায়ী হিসেবে অভিযুক্ত করেননি। কিন্তু তারপরও ডায়েট ড্রিংকসের প্রতি তীব্র আসক্তি থাকলে এ অভ্যাসের মাত্রা কমানো উচিত। ‘আমাদের গবেষণা ও কিছু পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় পাওয়া গেছে যে সীমিত কৃত্রিম মিষ্টি পানীয় তেমন ক্ষতিকর না হলেও এ পানীয় উচ্চমাত্রায় পান করলে স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে’- ইউএস টুডেকে বলেন প্রধান গবেষণা লেখক ইয়াসমিন মোসাভার-রাহমানি।

* ফ্লু
কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকরা পেয়েছেন যে ফ্লু বা ফ্লু’র মতো উপসর্গ আবির্ভাবের কিছু সপ্তাহ পর স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, দুটি প্রাথমিক গবেষণা অনুসারে। পূর্বের একটি গবেষণায়ও একই যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা- স্কটল্যান্ডে চালিত এ ছোট গবেষণায় শ্বাসপ্রশ্বাসের ভাইরাসে ভোগা লোকদের এক মাস পর স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল। এ বর্ধিত ঝুঁকির জন্য কিছুটা দায়ী হতে পারে ফ্লু’র সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রদাহ। যদি আপনার ফ্লু হয়ে থাকে, তাহলে হাঁটতে সমস্যা-কথা বলতে সমস্যা-দেখতে সমস্যা-অথবা স্ট্রোকের অন্যান্য লক্ষণ দেখলে অবহেলা করবেন না। এ প্রসঙ্গে মিশিগানের গ্রান্ড রেপিডসে অবস্থিত হাউয়েনস্টেইন নিউরোসায়েন্স সেন্টারের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ফিলিপ বি. গরিলিক মেডিক্যাল নিউজ টুডেকে বলেন, ‘আপনার ছেঁড়া ধমনী অথবা স্ট্রোকের অন্যান্য কারণ থাকতে পারে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ফ্লু জনিত এ উচ্চ ঝুঁকি এক বছর পর্যন্ত থাকতে পারে।

* খুব বেশি পরিশ্রম
ল্যানসেটে প্রকাশিত ২০১৫ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, যেসব লোক প্রতিসপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টারও বেশি কাজ করেন তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি যারা স্ট্যান্ডার্ড ৪০ ঘণ্টা কাজ করেন তাদের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। এটা সত্য যে বেশি কাজ করা লোকদের স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত ও শরীর চর্চার জন্য যথেষ্ট সময় থাকে না, কিন্তু গবেষকরা উচ্চ রক্তচাপ, শরীর চর্চার ঘাটতি ও উচ্চ কোলেস্টেরলে মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করার পরও তাদের স্ট্রোকের উচ্চ ঝুঁকি ছিল। এ বিষয়টি থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে, এ বর্ধিত ঝুঁকির কারণ হলো অত্যধিক পরিশ্রম সম্পর্কিত অন্যকিছু। ২০১৩ সালে ডেনমার্কের একটি বড় গবেষণায় পাওয়া যায়, যেসব লোকদের জীবনে উচ্চমাত্রায় কাজের চাপ ছিল তাদের প্রাণনাশক স্ট্রোকের ঝুঁকি তেমন কাজের চাপ নেই এমন লোকদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি ছিল।

* অবৈধ ড্রাগ
কোকেন বা মিথ্যাম্পিট্যামাইনের মতো উদ্দীপক ও স্ট্রোকের মধ্যে যোগসূত্র পাওয়া গেছে, এমনকি সুস্থ-সবল তরুণদের মধ্যেও। জার্নাল অব ফরেনসিক সায়েন্সে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় ৪৫ বছরের নিচের প্রাপ্তবয়স্কদের ২৭৯টি কেস তদন্ত করা হয় এবং এতে উদঘাটিত হয় যে ২০ শতাংশ ভিক্টিম ছিল মিথাম্পিট্যামাইন অথবা কোকেন ব্যবহারকারী। ৪৫টি মৃত্যুর প্রতিবেদনে বিষের উল্লেখ রয়েছে এবং ৭১ শতাংশ ভিক্টিমের রক্তপ্রবাহে মিথ পাওয়া গেছে। এ সকল মৃত্যু ছিল প্রতিরোধযোগ্য, বলেন প্রধান গবেষণা লেখক ও অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের অধ্যাপক শেন ডার্কি। তিনি যোগ করেন, ‘এসব ড্রাগের ব্যবহারকারীরা স্ট্রোকের ঝুঁকির ব্যাপারে সচেতন থাকেন না। সাইকোস্টিমিউল্যান্ট ব্যবহারকারী ও তাদের চিকিৎসকদের স্ট্রোকের বর্ধিত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে, অন্যথায় প্রাণঘাতী পরিণতি হতে পারে।’

* শব্দ দূষণ
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন প্রচুর কোলাহলময় পরিবেশে কাজ বা বাস করার সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করছে। শব্দ দূষণ ও স্ট্রোকের ওপর গবেষণাগুলো ছোট হলেও ফলাফলসমূহ বেশ দুশ্চিন্তার: উদাহরণস্বরূপ- ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত ২০১৫ সালের একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, যানবাহনের উচ্চমাত্রার শব্দের সঙ্গে সে স্থানে বসবাসকারী লোকদের স্ট্রোকের বর্ধিত ঝুঁকির সম্পর্ক ছিল।

* আলোর ঝলকানি দেখা
কিছু মাইগ্রেন ভুক্তভোগী মাথাব্যথা শুরু হওয়ার পূর্বে আলোর ঝলকানি অথবা ব্লাইন্ড স্পট (কোনো অংশ না দেখা) দেখেন। এ ঘটনাকে বলে মাইগ্রেন উইথ অরা। ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, অরা সহকারে মাইগ্রেন ভুক্তভোগীদের ধমনীর প্রতিবন্ধতা জনিত স্ট্রোক বা ইস্কেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি অরাবিহীন মাইগ্রেন ভুক্তভোগীদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি। গবেষণা লেখক ও কলাম্বিয়ায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনা স্কুল অব মেডিসিনের নিউরোসার্জন সৌভিক সেন আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনকে বলেন, ‘যদি আপনার অরা সহকারে মাইগ্রেনের ব্যথা অনুভূত হয়, তাহলে আপনার স্ট্রোকের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ একজন বিশেষজ্ঞকে মূল্যায়ন করতে দিন।’

* মাড়ির রক্তক্ষরণ
হার্ভার্ড হার্ট লেটারের প্রতিবেদন বলছে, মাড়ির রোগে ভোগা লোকদের স্ট্রোক বা কার্ডিওভাস্কুলার ঘটনার ঝুঁকি দুই গুণেরও বেশি। যদিও মাড়ির রোগ ও কার্ডিওভাস্কুলার/রক্তনালির স্বাস্থ্যের মধ্যে প্রকৃত যোগসূত্র ভালোভাবে বোঝা যায়নি, তারপরেও অনেক বিশেষজ্ঞ ধারণা করছেন যে মাড়িতে অবস্থানকারী ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট প্রদাহ উভয়ের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনে অবদান রাখতে পারে। শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে, যেমন- ধমনীকে শক্ত করে স্ট্রোকের দিকে নিয়ে যাওয়া। পেরিয়োডোন্টিস্ট হাতিসে হাস্তুর্ক হার্ভার্ড হার্ট লেটারকে বলেন, ‘পেরিয়োডোন্টাল রোগ শরীরে প্রদাহের মাত্রা বৃদ্ধি করে।’ মাড়ির রোগের লক্ষণের মধ্যে মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ, মাড়ির ফোলা, মাড়ি লাল হয়ে যাওয়া, মাড়িতে ব্যথা, দুর্গন্ধময় শ্বাস, দাঁত পড়ে যাওয়া অথবা মাড়ি রেখায় হলুদের আস্তরণ অন্তর্ভুক্ত।

* মদপানের অভ্যাস
মদপানের অভ্যাস আপনার স্বাস্থ্যকে নানাভাবে বিপর্যস্ত করতে পারে। সার্কুলেশন নামক জার্নালে প্রকাশিত ২০১৬ সালের একটি গবেষণা রিভিউ অনুসারে, এক রাতে ছয় থেকে নয়টি ককটেল সেবন হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোকের মতো কার্ডিওভাস্কুলার/রক্তনালির ঘটনার ঝুঁকি ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। এতদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরিমিত মদপানে ঝুঁকি নেই বলা হলেও ২০১৮ সালের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে যে, মদপানের কোনো নিরাপদ সীমা নেই। হার্ভার্ড টি.এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষণা প্রধান এলিজাবেথ মোস্তফস্কি বলেন, ‘অ্যালকোহলের প্রভাবে হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোকের ঝুঁকি কতটুকু বৃদ্ধি পাবে তা নির্ভর করছে আপনি কতটুকু ও কতবার ড্রিংক করছেন তার ওপর।’

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» �BANGLADESH vs WEST INDIES Live Comentry । বাংলাদেশ বনাম �ওয়েস্ট ইন্ডিস সরাসরি ধারাভাষ্য�

» উত্তরা পশ্চিম থানার ‘নাগরিক তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহ-২০১৯’ র‌্যালি

» দুই শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে এক্সওয়ার ঈদ উপহার 

» ঈদ উপলক্ষে উত্তরার আবাসিকে নিরাপত্তা জোরদার

» উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে এখন ঘর মুখো মানুষের ভিড় 

» শুভ আলোর বিশিষ্টজনদের সম্মানে ইফতার মাহফিল

» স্বপ্ন মাল্টিমিডিয়া ব্যানারে আসছে থমাস সরকার লিওনার্দ্যে এর রোমান্টিক গানের মিউজিক ভিডিও ”মেঘলা আকাশ ”

» স্বপ্ন মাল্টিমিডিয়া ব্যানারে আসছে শিবলু মাহমুদ এর রোমান্টিক গানের মিউজিক ভিডিও ”ধোঁকা ”

» শিন শিন জাপান হসপিটালে এ বিনামূল্যে চিকিৎসা

» ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাঝে অনুদান বিতরণ সম্পন্ন ডিএনসিসি ৫০নং ওয়ার্ড

» হুমকির মুখে চা শিল্প , দাবীতে আপসহীন চা শ্রমিক !!

» শাহজালালে ৩৪ শত ইয়াবাসহ একযাত্রী আটক

» উত্তরা ৫১ নং ওর্য়াড যুবলীগের ইফতার মাহফিল

» এবার উত্তরায় চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু

» টঙ্গী সাংবাদিক ক্লাবের কার্য নির্বাহী কমিটি ঘোষনা সভাপতি নোয়াব আলী ও সম্পাদক হালিম রিজভী

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

বাসা#৪৯, রোড#০৮, তুরাগ, ঢাকা।
বার্তা কক্ষ : 01781804141
ইমেইল : timesofbengali@gmail.com

 

© এ.আর খান মিডিয়া ভিশন এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

      সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার টাইমস্ অফ বেঙ্গলী .কম

কারিগরি সহযোগিতায় এ.আর খান হোস্ট

,

এসব কারণে স্ট্রোক হতে পারে!

মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালী ফেটে গেলে অথবা বন্ধ হয়ে গেলে মস্তিষ্ক অক্সিজেনের অভাবে যে পরিণতিতে ভুগে তাকে স্ট্রোক হিসেবে অভিহিত করা হয়। স্ট্রোকে মস্তিষ্কে ড্যামেজ হতে পারে অথবা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

স্ট্রোকের ক্লাসিক লক্ষণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- গাল বেঁকে যাওয়া, বাহুতে দুর্বলতা বা অসাড়তা ও কথা বলতে সমস্যা। কিন্তু অন্যান্য লক্ষণগুলো সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। ধূমপান, স্থূলতা ও স্ট্রোকের পারিবারিক ইতিহাসের মতো বড় বিষয়গুলো কোনো ব্যক্তির স্ট্রোকের ঝুঁকি উচ্চ করে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় স্ট্রোকে ভোগার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে এমন কিছু বিস্ময়কর বিষয়ও পাওয়া গেছে। এ প্রতিবেদনে স্ট্রোকের ৮ বিস্ময়কর রিস্ক ফ্যাক্টর (ঝুঁকির বিষয়) সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

* ডায়েট ড্রিংকস
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ৮০,০০০ নারীর ওপর চালানো গবেষণায় কৃত্রিম মিষ্টি পানীয় ও স্ট্রোকের বর্ধিত ঝুঁকির মধ্যে সংযোগ আবিষ্কৃত হয়েছে। গবেষকরা বলেছেন যে তারা এ গবেষণা শুধুমাত্র সেসব প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ওপর চালিয়েছেন যাদের ঋতুবন্ধ হয়েছে এবং তারা সুনির্দিষ্টভাবে ডায়েট সোডাকে দায়ী হিসেবে অভিযুক্ত করেননি। কিন্তু তারপরও ডায়েট ড্রিংকসের প্রতি তীব্র আসক্তি থাকলে এ অভ্যাসের মাত্রা কমানো উচিত। ‘আমাদের গবেষণা ও কিছু পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় পাওয়া গেছে যে সীমিত কৃত্রিম মিষ্টি পানীয় তেমন ক্ষতিকর না হলেও এ পানীয় উচ্চমাত্রায় পান করলে স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে’- ইউএস টুডেকে বলেন প্রধান গবেষণা লেখক ইয়াসমিন মোসাভার-রাহমানি।

* ফ্লু
কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকরা পেয়েছেন যে ফ্লু বা ফ্লু’র মতো উপসর্গ আবির্ভাবের কিছু সপ্তাহ পর স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, দুটি প্রাথমিক গবেষণা অনুসারে। পূর্বের একটি গবেষণায়ও একই যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা- স্কটল্যান্ডে চালিত এ ছোট গবেষণায় শ্বাসপ্রশ্বাসের ভাইরাসে ভোগা লোকদের এক মাস পর স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল। এ বর্ধিত ঝুঁকির জন্য কিছুটা দায়ী হতে পারে ফ্লু’র সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রদাহ। যদি আপনার ফ্লু হয়ে থাকে, তাহলে হাঁটতে সমস্যা-কথা বলতে সমস্যা-দেখতে সমস্যা-অথবা স্ট্রোকের অন্যান্য লক্ষণ দেখলে অবহেলা করবেন না। এ প্রসঙ্গে মিশিগানের গ্রান্ড রেপিডসে অবস্থিত হাউয়েনস্টেইন নিউরোসায়েন্স সেন্টারের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ফিলিপ বি. গরিলিক মেডিক্যাল নিউজ টুডেকে বলেন, ‘আপনার ছেঁড়া ধমনী অথবা স্ট্রোকের অন্যান্য কারণ থাকতে পারে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ফ্লু জনিত এ উচ্চ ঝুঁকি এক বছর পর্যন্ত থাকতে পারে।

* খুব বেশি পরিশ্রম
ল্যানসেটে প্রকাশিত ২০১৫ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, যেসব লোক প্রতিসপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টারও বেশি কাজ করেন তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি যারা স্ট্যান্ডার্ড ৪০ ঘণ্টা কাজ করেন তাদের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। এটা সত্য যে বেশি কাজ করা লোকদের স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত ও শরীর চর্চার জন্য যথেষ্ট সময় থাকে না, কিন্তু গবেষকরা উচ্চ রক্তচাপ, শরীর চর্চার ঘাটতি ও উচ্চ কোলেস্টেরলে মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করার পরও তাদের স্ট্রোকের উচ্চ ঝুঁকি ছিল। এ বিষয়টি থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে, এ বর্ধিত ঝুঁকির কারণ হলো অত্যধিক পরিশ্রম সম্পর্কিত অন্যকিছু। ২০১৩ সালে ডেনমার্কের একটি বড় গবেষণায় পাওয়া যায়, যেসব লোকদের জীবনে উচ্চমাত্রায় কাজের চাপ ছিল তাদের প্রাণনাশক স্ট্রোকের ঝুঁকি তেমন কাজের চাপ নেই এমন লোকদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি ছিল।

* অবৈধ ড্রাগ
কোকেন বা মিথ্যাম্পিট্যামাইনের মতো উদ্দীপক ও স্ট্রোকের মধ্যে যোগসূত্র পাওয়া গেছে, এমনকি সুস্থ-সবল তরুণদের মধ্যেও। জার্নাল অব ফরেনসিক সায়েন্সে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় ৪৫ বছরের নিচের প্রাপ্তবয়স্কদের ২৭৯টি কেস তদন্ত করা হয় এবং এতে উদঘাটিত হয় যে ২০ শতাংশ ভিক্টিম ছিল মিথাম্পিট্যামাইন অথবা কোকেন ব্যবহারকারী। ৪৫টি মৃত্যুর প্রতিবেদনে বিষের উল্লেখ রয়েছে এবং ৭১ শতাংশ ভিক্টিমের রক্তপ্রবাহে মিথ পাওয়া গেছে। এ সকল মৃত্যু ছিল প্রতিরোধযোগ্য, বলেন প্রধান গবেষণা লেখক ও অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের অধ্যাপক শেন ডার্কি। তিনি যোগ করেন, ‘এসব ড্রাগের ব্যবহারকারীরা স্ট্রোকের ঝুঁকির ব্যাপারে সচেতন থাকেন না। সাইকোস্টিমিউল্যান্ট ব্যবহারকারী ও তাদের চিকিৎসকদের স্ট্রোকের বর্ধিত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে, অন্যথায় প্রাণঘাতী পরিণতি হতে পারে।’

* শব্দ দূষণ
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন প্রচুর কোলাহলময় পরিবেশে কাজ বা বাস করার সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করছে। শব্দ দূষণ ও স্ট্রোকের ওপর গবেষণাগুলো ছোট হলেও ফলাফলসমূহ বেশ দুশ্চিন্তার: উদাহরণস্বরূপ- ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত ২০১৫ সালের একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, যানবাহনের উচ্চমাত্রার শব্দের সঙ্গে সে স্থানে বসবাসকারী লোকদের স্ট্রোকের বর্ধিত ঝুঁকির সম্পর্ক ছিল।

* আলোর ঝলকানি দেখা
কিছু মাইগ্রেন ভুক্তভোগী মাথাব্যথা শুরু হওয়ার পূর্বে আলোর ঝলকানি অথবা ব্লাইন্ড স্পট (কোনো অংশ না দেখা) দেখেন। এ ঘটনাকে বলে মাইগ্রেন উইথ অরা। ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, অরা সহকারে মাইগ্রেন ভুক্তভোগীদের ধমনীর প্রতিবন্ধতা জনিত স্ট্রোক বা ইস্কেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি অরাবিহীন মাইগ্রেন ভুক্তভোগীদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি। গবেষণা লেখক ও কলাম্বিয়ায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনা স্কুল অব মেডিসিনের নিউরোসার্জন সৌভিক সেন আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনকে বলেন, ‘যদি আপনার অরা সহকারে মাইগ্রেনের ব্যথা অনুভূত হয়, তাহলে আপনার স্ট্রোকের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ একজন বিশেষজ্ঞকে মূল্যায়ন করতে দিন।’

* মাড়ির রক্তক্ষরণ
হার্ভার্ড হার্ট লেটারের প্রতিবেদন বলছে, মাড়ির রোগে ভোগা লোকদের স্ট্রোক বা কার্ডিওভাস্কুলার ঘটনার ঝুঁকি দুই গুণেরও বেশি। যদিও মাড়ির রোগ ও কার্ডিওভাস্কুলার/রক্তনালির স্বাস্থ্যের মধ্যে প্রকৃত যোগসূত্র ভালোভাবে বোঝা যায়নি, তারপরেও অনেক বিশেষজ্ঞ ধারণা করছেন যে মাড়িতে অবস্থানকারী ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট প্রদাহ উভয়ের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনে অবদান রাখতে পারে। শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে, যেমন- ধমনীকে শক্ত করে স্ট্রোকের দিকে নিয়ে যাওয়া। পেরিয়োডোন্টিস্ট হাতিসে হাস্তুর্ক হার্ভার্ড হার্ট লেটারকে বলেন, ‘পেরিয়োডোন্টাল রোগ শরীরে প্রদাহের মাত্রা বৃদ্ধি করে।’ মাড়ির রোগের লক্ষণের মধ্যে মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ, মাড়ির ফোলা, মাড়ি লাল হয়ে যাওয়া, মাড়িতে ব্যথা, দুর্গন্ধময় শ্বাস, দাঁত পড়ে যাওয়া অথবা মাড়ি রেখায় হলুদের আস্তরণ অন্তর্ভুক্ত।

* মদপানের অভ্যাস
মদপানের অভ্যাস আপনার স্বাস্থ্যকে নানাভাবে বিপর্যস্ত করতে পারে। সার্কুলেশন নামক জার্নালে প্রকাশিত ২০১৬ সালের একটি গবেষণা রিভিউ অনুসারে, এক রাতে ছয় থেকে নয়টি ককটেল সেবন হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোকের মতো কার্ডিওভাস্কুলার/রক্তনালির ঘটনার ঝুঁকি ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। এতদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরিমিত মদপানে ঝুঁকি নেই বলা হলেও ২০১৮ সালের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে যে, মদপানের কোনো নিরাপদ সীমা নেই। হার্ভার্ড টি.এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষণা প্রধান এলিজাবেথ মোস্তফস্কি বলেন, ‘অ্যালকোহলের প্রভাবে হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোকের ঝুঁকি কতটুকু বৃদ্ধি পাবে তা নির্ভর করছে আপনি কতটুকু ও কতবার ড্রিংক করছেন তার ওপর।’

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

বাসা#৪৯, রোড#০৮, তুরাগ, ঢাকা।
বার্তা কক্ষ : 01781804141
ইমেইল : timesofbengali@gmail.com

 

© এ.আর খান মিডিয়া ভিশন এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

      সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার টাইমস্ অফ বেঙ্গলী .কম

কারিগরি সহযোগিতায় এ.আর খান হোস্ট