রাত ৪:১৯ | রবিবার | ২৫শে আগস্ট, ২০১৯ ইং | ১০ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঝাড় ফুঁক দিয়েই নারী-শিশু ধর্ষণ করতেন ইমাম

মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক সুমন, উত্তরা প্রতিনিধিঃ রাজধানীর দক্ষিণখানের একটি মসজিদের ইমাম ইদ্রিস আহাম্মেদ (৪২)। পাশাপাশি স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষকও। গত ১৮ বছর ধরে স্থানীয় অনেকের অসুস্থতায় তিনি ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজ দিতেন। ঝাড়ফুঁক নেয়াদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি। বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে ঝাড়ফুঁক ও জিনের ভয় দেখিয়ে সুন্দরী মেয়েদের জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছিলেন তিনি। বাদ যায়নি মাদরাসা ও মসজিদে আসা শিশুরাও।

সম্প্রতি এক ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘসময় তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়ার পর গত রোববার মধ্যরাতে র‌্যাব-১ এর একটি দল রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন সৈয়দনগর এলাকা থেকে ইদ্রিস আহাম্মেদকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার মোবাইলফোন জব্দ করা হয়। ওই মোবাইলফোনে ধর্ষণ ও বলাৎকারের অনেক ভিডিও ও ছবি পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম। তিনি বলেন, দক্ষিণখানের স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি ও মাদরাসায় শিক্ষকতা এবং দীর্ঘদিন দক্ষিণখান এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিশেষ প্রভাব বলয় তৈরি করেন ইদ্রিস আহাম্মেদ। প্রভাবকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে ধর্ষণ ও বলাৎকারের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করে আসছিলেন তিনি।

র‌্যাব-১ এর সিও বলেন, অভিযুক্ত ইদ্রিস আহাম্মেদের বাড়ি সিলেট জেলায়। তিনি সিলেটের একটি মাদরাসা থেকে ১৯৯৮ সালে টাইটেল পাস করেন। এরপর সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের একটি মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি মাদরাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০০২ সালে ঢাকায় এসে দক্ষিণখানের ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৮ বছরের বেশি সময় ধরে এলাকায় ঝাড়ফুঁক এবং তাবিজ-কবজ বিক্রি করেন। তার সঙ্গে জিন আছে মর্মে প্রচার ও কুকর্মের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। এ সুযোগ কাজ লাগিয়ে তিনি সুন্দরী নারীদের মিথ্যা ঝাড়ফুঁক ও জিনের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে অনেক নারীই আত্মসম্মান এবং কুসংস্কারের কারণে তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা কাউকে বলেননি।

তিনি বলেন, ইদ্রিস মসজিদে তার কক্ষে খেদমতের অজুহাতে কিশোরদের জোরপূর্বক বলাৎকার করেন। এছাড়া তিনি যে মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন সেখানকার ছাত্রদের মসজিদে ডেকে এনে বলাৎকার করে কৌশলে মোবাইলফোনে অপকর্মের ভিডিও ধারণ করেন। ১২ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরদের বলাৎকার করেন বলে জানা যায়। জিন ও তাবিজ করার ভয় দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বলে পুনরায় ভিকটিমকে ধর্ষণে বাধ্য করেন। কোনো ভিকটিম অনৈতিক কাজে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখানো হয়। এতে বাধ্য হয়ে ভিকটিম অনিচ্ছা সত্ত্বেও বারবার বলাৎকারের শিকার হয়েছে।

গ্রেফতার ইদ্রিস আহম্মেদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, মসজিদের একটি বিশেষ কক্ষে তিনি ঘুমাতেন। তার সব অপকর্ম ওই কক্ষেই সম্পন্ন হতো এবং তার এই অপকর্মের ভিডিওগুলো সে তার খাদেমদের দিয়ে ধারণ করাতে বাধ্য করতেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» উত্তরায় ভুয়া র‌্যাব আটক

» উত্তরায় ডেঙ্গুতে মাইলষ্টোন স্কুল ছাত্রের মৃত্যু

» রাজধানীর তুরাগ থানায় জেন্ডার বেজড ভায়োলেন্স সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত

» ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে উত্তরা ট্রাফিক পুলিশের র‌্যালী

» তুরাগে পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণায় আটক-১

» ডিএনসিসি-৫১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরীফুর রহমানকে সংবর্ধনা

» ভর বর্ষায় খোড়াখুড়ি, দূর্ভোগে উত্তরার মানুষ

» জেনে নিন, ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার

» ঝাড় ফুঁক দিয়েই নারী-শিশু ধর্ষণ করতেন ইমাম

» সাংবাদিকদের মাঝে ঐক্যের বিকল্প নেই: বিএমএসএফ

» তুরাগে পড়ে যাওয়া ট্যাক্সিক্যাবের সন্ধান মেলেনি, উদ্ধার কাজ চলছে

» উত্তরায় কিশোর গ্যাং গ্রুপের ১৪ সদস্য আটক

» বাংলাদেশে অফিস চালু করছে ফেসবুক

» উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশ: পাসের হার ৭৩.৯৩%

» বিয়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নববধূকে তালাক যৌতুকে মোটরসাইকেল না পেয়ে

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

বাসা#৪৯, রোড#০৮, তুরাগ, ঢাকা।
বার্তা কক্ষ : 01781804141
ইমেইল : timesofbengali@gmail.com

 

© এ.আর খান মিডিয়া ভিশন এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

      সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার টাইমস্ অফ বেঙ্গলী .কম

কারিগরি সহযোগিতায় এ.আর খান হোস্ট

রবিবার, ১০ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, রাত ৪:১৯ ,

ঝাড় ফুঁক দিয়েই নারী-শিশু ধর্ষণ করতেন ইমাম

মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক সুমন, উত্তরা প্রতিনিধিঃ রাজধানীর দক্ষিণখানের একটি মসজিদের ইমাম ইদ্রিস আহাম্মেদ (৪২)। পাশাপাশি স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষকও। গত ১৮ বছর ধরে স্থানীয় অনেকের অসুস্থতায় তিনি ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজ দিতেন। ঝাড়ফুঁক নেয়াদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি। বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে ঝাড়ফুঁক ও জিনের ভয় দেখিয়ে সুন্দরী মেয়েদের জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছিলেন তিনি। বাদ যায়নি মাদরাসা ও মসজিদে আসা শিশুরাও।

সম্প্রতি এক ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘসময় তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়ার পর গত রোববার মধ্যরাতে র‌্যাব-১ এর একটি দল রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন সৈয়দনগর এলাকা থেকে ইদ্রিস আহাম্মেদকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার মোবাইলফোন জব্দ করা হয়। ওই মোবাইলফোনে ধর্ষণ ও বলাৎকারের অনেক ভিডিও ও ছবি পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম। তিনি বলেন, দক্ষিণখানের স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি ও মাদরাসায় শিক্ষকতা এবং দীর্ঘদিন দক্ষিণখান এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিশেষ প্রভাব বলয় তৈরি করেন ইদ্রিস আহাম্মেদ। প্রভাবকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে ধর্ষণ ও বলাৎকারের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করে আসছিলেন তিনি।

র‌্যাব-১ এর সিও বলেন, অভিযুক্ত ইদ্রিস আহাম্মেদের বাড়ি সিলেট জেলায়। তিনি সিলেটের একটি মাদরাসা থেকে ১৯৯৮ সালে টাইটেল পাস করেন। এরপর সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের একটি মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি মাদরাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০০২ সালে ঢাকায় এসে দক্ষিণখানের ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৮ বছরের বেশি সময় ধরে এলাকায় ঝাড়ফুঁক এবং তাবিজ-কবজ বিক্রি করেন। তার সঙ্গে জিন আছে মর্মে প্রচার ও কুকর্মের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। এ সুযোগ কাজ লাগিয়ে তিনি সুন্দরী নারীদের মিথ্যা ঝাড়ফুঁক ও জিনের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে অনেক নারীই আত্মসম্মান এবং কুসংস্কারের কারণে তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা কাউকে বলেননি।

তিনি বলেন, ইদ্রিস মসজিদে তার কক্ষে খেদমতের অজুহাতে কিশোরদের জোরপূর্বক বলাৎকার করেন। এছাড়া তিনি যে মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন সেখানকার ছাত্রদের মসজিদে ডেকে এনে বলাৎকার করে কৌশলে মোবাইলফোনে অপকর্মের ভিডিও ধারণ করেন। ১২ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরদের বলাৎকার করেন বলে জানা যায়। জিন ও তাবিজ করার ভয় দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বলে পুনরায় ভিকটিমকে ধর্ষণে বাধ্য করেন। কোনো ভিকটিম অনৈতিক কাজে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখানো হয়। এতে বাধ্য হয়ে ভিকটিম অনিচ্ছা সত্ত্বেও বারবার বলাৎকারের শিকার হয়েছে।

গ্রেফতার ইদ্রিস আহম্মেদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, মসজিদের একটি বিশেষ কক্ষে তিনি ঘুমাতেন। তার সব অপকর্ম ওই কক্ষেই সম্পন্ন হতো এবং তার এই অপকর্মের ভিডিওগুলো সে তার খাদেমদের দিয়ে ধারণ করাতে বাধ্য করতেন।

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

বাসা#৪৯, রোড#০৮, তুরাগ, ঢাকা।
বার্তা কক্ষ : 01781804141
ইমেইল : timesofbengali@gmail.com

 

© এ.আর খান মিডিয়া ভিশন এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

      সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার টাইমস্ অফ বেঙ্গলী .কম

কারিগরি সহযোগিতায় এ.আর খান হোস্ট